ইতিহাসের পাতায় ২৯ জানুয়ারি

গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে আজ বছরের ২৯তম দিন। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম ও মৃত্যুদিনসহ আরও কিছু তথ্যাবলি।

ঘটনাবলি
১৭৮০ : জেমস আগাস্টাস হিকির সম্পাদনায় প্রথম ভারতীয় ইংরেজি সাপ্তাহিক ‘বেঙ্গল গেজেট’ আত্মপ্রকাশ করে।
১৮৪৫ : এডগার অ্যালন পো’র ‘র্যা ভেন’ প্রথম প্রকাশিত হয়।

জন্ম
১৮৪৩ : উইলিয়াম ম্যাকিন্লি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫তম রাষ্ট্রপতি।
১৮৬০ : আন্তন পাভলোভিচ চেখভ, রুশ চিকিৎসক, ছোটগল্পকার এবং নাট্যকার।
১৮৬৬ : রঁমা রোলাঁ, নোবেলজয়ী ফরাসি লেখক।
১৮৯৬ : স্বামী প্রণবানন্দ, ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রতিষ্ঠাতা হিন্দুযোগী ও সন্ন্যাসী।
১৮৯০ : ড. সুশীল কুমার দে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী শিক্ষক ছিলেন।
১৯২৬ : আব্দুস সালাম, নোবেলবিজয়ী একজন পাকিস্তানি তত্ত্বীয় পদার্থবিজ্ঞানী।
১৯৪৭ : লিন্ডা বি. বাক, নোবেলজয়ী আমেরিকান জীববিজ্ঞানী।
১৯৫৪ : অপরাহ উইনফ্রে, মার্কিন টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব।

মৃত্যু
১৮৩৭ : কবি আলেকজান্ডার পুশকিন।
১৯৩৪ : রসায়নে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জার্মান রসায়নবিদ ফ্রিৎস হেবার।
১৯৬৩ : আমেরিকান কবি রবার্ট ফ্রস্ট।
১৯৭৬ : বাঙালি সাহিত্যিক অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত।

অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক ও সম্পাদক। রবীন্দ্রনাথ ও শরৎচন্দ্রের পরবর্তী সময়ে ‘কল্লোল যুগে’ যাঁরা সাহিত্য জগতে বিশেষ আলোড়ন তুলেছিলেন অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত তাঁদেরই একজন। তিনি তার লেখনির মধ্য দিয়ে স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে অনন্য হয়েছেন। ‘নীহারিকা দেবী’ ছদ্মনামেও তিনি লিখতেন।

জন্মগ্রহণ করেন ১৯০৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর নোয়াখালী শহরে। তাঁদের আদি বাড়ি ছিল মাদারীপুরে। শৈশব কাটে নোয়াখালীতে। বাবা রাজকুমার সেনগুপ্ত নোয়াখালী আদালতের আইনজীবী ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর তিনি কলকাতায় বড় দাদার কাছে চলে যান। সেখানকার সাউথ সাবার্বান স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, আশুতোষ কলেজ থেকে আইএ এবং ইংরেজি সাহিত্যে অনার্সসহ বিএ পাস করেন। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে এমএ ও পরে বিএল ডিগ্রি অর্জন করেন।

তিনি ‘কল্লোল’ পত্রিকা প্রকাশের দায়িত্বে নিযুক্ত হন ১৯২৫ সালে। বিচিত্রায়ও কিছুদিন কাজ করেছেন। ১৯৩১ সালে মুন্সেফ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে পরবর্তী সময়ে সাবজজ, জেলা জজ এবং ল কমিশনের স্পেশাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে অবসর নেন ১৯৬০ সালে।

কলেজে পড়াকালীন সাহিত্যচর্চা শুরু করেন অচিন্ত্যকুমার। তখন তাঁর লেখা ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় পাঠাতে শুরু করেন। কিন্তু লেখা তো আর প্রকাশ হয় না। বারবার নাকচ হয়ে যায়। এরপর কৌশল করে এক বন্ধুর কথামতো নারীর নামে কবিতা পাঠান। তিনি নিজের নাম রাখেন ‘নীহারিকা দেবী’। এরপর তাঁর ‘প্রভাতে’ কবিতাটি পত্রিকায় পাঠালেন ওই ছদ্মনামে। আশ্চর্যজনকভাবে এবার তাঁর কবিতাটি পত্রিকার আশ্বিন সংখ্যায় প্রকাশিত হলো। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর।

সত্তরটি গ্রন্থ রচনা করেছেন অচিন্ত্যকুমার। ‘বেদে’ উপন্যাস তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া ‘কাকজ্যোৎস্না’, এবং ‘প্রথম কদম ফুল’ তাঁর উল্লেখযোগ্য দুটি উপন্যাস। গল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘অকাল বসন্ত’, ‘যতনবিবি’, ‘হাঁড়ি মুচি ডোম’ ইত্যাদি। ছোটগল্পগুলোতে লেখক নিপুণভাবে এঁকেছেন সমাজ জীবনের নানা চালচিত্র। কবিতায়ও তিনি ছিলেন অনবদ্য। ‘আমরা’, ‘প্রিয়া ও পৃথিবী’, ‘নীল আকাশ’ প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থে তাঁর রোম্যান্টিক ভাবালুতার পাশাপাশি গণমুখী চেতনার প্রভাবও প্রতীয়মান। স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ ‘কল্লোলযুগ’ সুখপাঠ্য একটি রচনা। চার খণ্ডে রচিত রামকৃষ্ণের জীবনী ‘পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ’ গ্রন্থটিও পাঠকপ্রিয়।

অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত ১৯৭৬ সালের ২৯ জানুয়ারি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

সূত্র: সংগৃহীত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *