ইতিহাসের পাতায় ৭ নভেম্বর

গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে আজ বছরের ৩১১তম (অধিবর্ষে ৩১২তম) দিন। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা বিশিষ্টজনের জন্ম ও মৃত্যুদিনসহ আরও কিছু তথ্যাবলি।

ঘটনাবলি
১৬৫৯ : ফ্রান্স ও স্পেনের মধ্যে ঐতিহাসিক পাইরনসিস শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
১৬৬৫ : ব্রিটেনের সরকারি প্রকাশনা ‘দ্য লন্ডন গেজেট’ প্রথম প্রকাশিত হয়।
২০২০ : বিশ্বের প্রথম ৬জি উপগ্ৰহ উৎক্ষেপণ করে চীন।

জন্ম
১৭২৮ : ক্যাপ্টেন জেমস কুক, ব্রিটিশ নৌ-সেনাপতি ও আবিষ্কারক।
১৮৫৮ : বিপিন চন্দ্র পাল, ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী।
১৮৬৭ : মারি ক্যুরি, নোবেলবিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী ও রসায়নবিদ।
১৮৮৮ : স্যার চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রমন, নোবেলজয়ী ভারতীয় পদার্থ বিজ্ঞানী।
১৯০৩ : কনরাড লরেঞ্জ, অস্ট্রিয়ান প্রাণিবিদ্যাবিদ, নোবেলবিজয়ী আর্থলজিস্ট ও পক্ষীবিদ।
১৯১৩ : আলবেয়ার কামু, নোবেলজয়ী আলজেরীয় বংশোদ্ভূদ ফরাসি সাহিত্যিক।
১৯২৯ : এরিক ক্যান্ডেল, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অস্ট্রিয়ান বংশোদ্ভূত আমেরিকান স্নায়ুবিজ্ঞানী ও সাইকোলজিস্ট।
১৯৩১ : আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশি চিত্রশিল্পী।
১৯৫৪ : কমল হাসান, ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা।

মৃত্যু
১৮৬২ : মুঘল সাম্রাজ্যের শেষ সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর।
১৯২৩ : বাঙালি রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক এবং লেখক অশ্বিনীকুমার দত্ত।
১৯৭৫ : বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত বাংলাদেশি মুক্তিযোদ্ধা, সেক্টর কমান্ডার এ.টি.এম. হায়দার।
২০১৯ : বাঙালি কবি, লেখিকা এবং শিক্ষাবিদ নবনীতা দেবসেন।

অশ্বিনীকুমার দত্ত
অশ্বিনীকুমার দত্ত ছিলেন বাঙালি রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক ও লেখক। বিভিন্ন সমাজহিতৈষী ও কল্যাণমূলক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি সুপরিচিত ছিলেন। সহিষ্ণু সমাজসেবার কারণে স্থানীয় জনগণের কাছে তিনি জনপ্রিয়তা লাভ করেন।

জন্মগ্রহণ করেন বরিশালের গৌরনদীর বাটাজোর গ্রামে। বাবা ব্রজমোহন দত্ত ছিলেন সাব-জজ। ব্যাচেলর অব আর্টস এবং মাস্টার্স অব আর্টস বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ডিগ্রিধারী অশ্বিনীকুমার দত্ত তাঁর জীবনের পেশা হিসেবে শিক্ষকতাকে বেছে নেন।

দুর্নীতি, সামাজিক গোঁড়ামি, কুসংস্কার ইত্যাদির বিরুদ্ধে ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিবেদিত প্রাণ ছিলেন তিনি। দুর্ভিক্ষে অতুলনীয় সেবাদান, চা বাগান শ্রমিকদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে তিনি ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ, ক্লান্তিহীন নেতা। চারণকবি মুকুন্দ দাস ও রাজনীতিবিদ আবুল কাশেম ফজলুল হকের খ্যাতি ও প্রতিষ্ঠায় তার সর্বাত্মক অবদান ছিল।

সমাজের কল্যাণ এবং উন্নয়নের প্রতি গভীরভাবে নিবেদিত হয়ে তিনি বরিশাল শহরের মধ্যে নিজের দান করা এলাকায় ব্রজমোহন বিদ্যালয় ও ব্রজমোহন কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। শিক্ষার্থীদের শারীরিক এবং নৈতিক দিকসমূহ বিকাশের জন্যে তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দীর্ঘ বিশ বছর বিনা বেতনে কলেজে শিক্ষাদান করেন। তিনি বরিশাল শহরে একটি বালিকা বিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রামের জন্যে তিনি ‘পিপলস্‌ অ্যাসোসিয়েশন’ স্থাপন করেন। ১৮৮৭ সালে তাঁর প্রচেষ্টায় বরিশাল ডিস্ট্রিক্ট বোর্ড স্থাপিত হয়। একই বছর নারী শিক্ষা প্রসারের জন্যে ‘বাখরগঞ্জ হিতৈষিণী সভা’ করেন তিনি।

জনগণের সদিচ্ছা এবং পরিবারের সম্পদ ও প্রভাবের কারণে তিনি এমন জনসমর্থন লাভ করেন; যা তাঁকে ১৯০৫-১৯১১ সালের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় সংকীর্ণ জেলা পর্যায় থেকে বৃহত্তর প্রাদেশিক রাজনৈতিক অঙ্গনে নিয়ে যায়। তিনি ব্রিটিশ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে ১৯১০ সাল পর্যন্ত লক্ষ্মৌ জেলে বন্দিও থাকেন।

লেখালেখিতেও তিনি ছিলেন সক্রিয়। রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ভক্তিযোগ, কর্মযোগ, প্রেম, দুর্গোৎসবতত্ত্ব, আত্মপ্রতিষ্ঠা, ভারতগীতি ইত্যাদি। কলকাতায় রাজনারায়ণ বসুর প্রভাবে ১৮৮২ সালে তিনি ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করেন।

অশ্বিনীকুমার দত্ত ১৯২৩ সালের ৭ নভেম্বর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

সূত্র: সংগৃহীত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *