পরিবার টিকে আছে নারীর জন্যে

নারী যেন পুরো প্রকৃতি জগতের এক ছোট্ট প্রতিকৃতি। প্রাণকে টিকিয়ে রাখার জন্যে প্রকৃতির মাঝে যেমন সব উপকরণ আছে, ঠিক তেমনি নারীর গর্ভে যেন সন্তানের জন্ম হতে পারে, সেজন্যে নারীর মাঝেও জীবনের অনেক উপকরণ দেওয়া আছে। প্রকৃতিতে বেঁচে থাকার জন্যে যেমন আছে মায়া, নারীর মাঝেও তেমনি আছে মায়া, প্রেম, এবং ভালোবাসা। তা না হলে তাকে ঘিরে সংসার গড়ে উঠবে না এবং সন্তানের যত্ন হবে না। সে অর্থে নির্দ্বিধায় বলা যায় টাকাপয়সা সম্পত্তি নয়, মানুষের জীবনে একমাত্র সম্পদ একজন নারী, নারী মানেই যেন জীবনের চালিকাশক্তি।

সবসময়ই মনে রাখবেন, মেয়েদের কাছে সংসার বা পরিবারটা হচ্ছে তার জীবন। ছেলেদের কাছে পরিবারটা জীবন না, জীবনের আনন্দ। আনন্দ ছাড়া জীবন হয়। কিন্তু জীবন ছাড়া জীবন থাকতে পারে না।

একটা আনন্দ নেই জীবনে, ঠিক আছে, আনন্দ নেই। তো কী আছে- নিরানন্দ! ঠিক আছে। অন্য আরো দেখি কোথাও আনন্দ পাওয়া যায় কিনা।

মেয়েদের কাছে সংসারটা তার জীবন

কিন্তু মেয়েদের কাছে এই সংসারটা হচ্ছে তার জীবন। কারণ মেয়েরা সংসারটাকে ধরে রাখতে চায় এবং এটাকে ঘিরেই তার সমস্ত স্বপ্ন লালিত হয়।

একটা মেয়ে তার পেশাজীবন ছেড়ে দিতে পারে তার সংসারের জন্যে। কিন্তু কোনো ছেলে সংসারের জন্যে তার পেশাজীবন ছাড়বে না। কারণ তার পেশাজীবন আছে বলেই তার সংসার আছে।

আয় করার দায়িত্ব ছেলের

কারণ একটা মেয়েকে বিয়ের শর্তই হচ্ছে তার ভরণপোষণের যাবতীয় দায়িত্ব নিয়ে…, ভরণপোষণ মানে তার সকল প্রয়োজন, এই প্রয়োজন পূরণের সমস্ত দায়িত্ব নিয়ে একটি ছেলে তাকে বিয়ে করে। এবং যে কারণে তাকে বাইরে যেতেই হবে। তাকে তো এটা আয় করতে হবে। এই আয় করার দায়িত্ব তার।

আবার আদিবাসী সমাজে আছে, সেখানে মেয়েরা কী করে- মেয়েরা আয় করে। ছেলেদেরকে তারা বিয়ে করে। আদিবাসীদের মধ্যে কিন্তু মেয়ে বিয়ে করে ছেলেকে তার বাড়িতে তুলে নেয়। তারপরে বাচ্চা কাচ্চা লালন পালন কিন্তু মেয়েই করে, ছেলে কিছুই করে না। ছেলেরা সাধারণত তাস খেলে আর তারি খায়। এই হচ্ছে তাদের জীবন।

কিন্তু আমাদের জীবনে তো সেটা না। আমাদের জীবনে ছেলেদেরকে উপার্জন করতে হয়। এবং ছেলের পেশাজীবন হচ্ছে তার কাছে প্রথম অগ্রাধিকার। সংসার হচ্ছে তার কাছে দ্বিতীয় অগ্রাধিকার।

একজন নারীর কাছে সংসার হচ্ছে প্রথম অগ্রাধিকার। পেশাজীবন হচ্ছে দ্বিতীয়। সে দ্বিতীয়টি ছাড়তে পারে কিন্তু দ্বিতীয়টির জন্যে কেউ প্রথম অগ্রাধিকার ছাড়তে পারে না তো। এজন্যে নারীর এত অবদান সংসারের জন্যে।

বাস্তবতার জন্যেই নারী সম্মানিত

আমি যেহেতু এই বাস্তবতাটাকে বুঝেছি, এজন্যেই নারীকে আমি এত সম্মান করি যে, সংসার বা পরিবার টিকেই আছে নারীর জন্যে।

যেখানে যে নারী যতটা সহনশীল বা সমমর্মী হতে পারবেন, তার সংসার ততটা ভালো হবে। একজন নারী যে-রকম তার ছেলেকে ক্ষমা করে দিতে পারেন বা ছেলের যে দোষগুলোকে ক্ষমা করে দিতে পারেন, স্বামীর সে দোষগুলোকে যদি ক্ষমা করে দিতে পারেন, সংসার অনেক সুন্দর হবে।

আমি খুব বাস্তব কথা বলছি। কারণ সংসার তো লড়াইয়ের জায়গা না। সংসারটা হচ্ছে সমঝোতা বা বোঝাপড়ার জায়গা।

আবার ব্যতিক্রম আছে। ব্যতিক্রম যে নাই, তা-না। কোনো কোনো সংসার টিকে আছে ছেলের জন্যে বা স্বামীর জন্যে, স্ত্রীর জন্যে না। স্বামী স্ত্রীকেও দেখে, চাকরিও দেখে, বাচ্চাও দেখে, সব দেখে। সেটা খুব বিরল এবং ব্যতিক্রম!

নারী তো ভালোবাসবেই, একজন মানুষ খারাপ হোক, ভালো হোক, তাকে ভালোবাসার মতো অন্তত একজন হলেও নারী থাকবেই, এটাও আমার বিশ্বাস! আর নারীর প্রতি একজন ব্যক্তি মানুষের অভিব্যক্তি বদলাতেও শিক্ষা জরুরি! নারীর মাঝে স্বর্গ খুঁজে নিতেও শিক্ষার ভীষণ দরকার।

আবার এটাও ঠিক, সবাই সবার মাঝে স্বর্গ খুঁজে পেতে পারে না, মানুষের মাঝে এই ব্যর্থতা না থাকলে মানুষ কীভাবে শিক্ষার গুরুত্ব বুঝবে! আবার অনেকে স্বর্গ পেয়েও এর গুরুত্ব না বুঝে সেই স্বর্গ ছেড়ে আসতে পারে। ফিরে আসার পর বুঝতে পারে, তার জীবনে স্বর্গ ছিল, এটাও জীবনেরই একটি শিক্ষা, তখন তাদের পক্ষে নারীকে নিয়ে গুছিয়ে লেখা খুব সহজ হয়ে যায়! যে লেখা নারী এবং পুরুষ দুজনের শিক্ষাতেই বিশেষ অবদান রাখতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *