নবীজী (স) ভিক্ষাবৃত্তিকে সবসময় নিরুৎসাহিত করেছেন। অভাবগ্রস্ত এবং ভিক্ষুক কিন্তু এক নয়। আসলে ইসলামসহ অন্যান্য সকল ধর্মে দান এবং তার মাহাত্ম্য সম্পর্কে যে কথা বলা হয়েছে, আমাদের সমাজে প্রচলিত ভিক্ষাব্যবসা কোনোভাবেই তার আওতায় পড়ে না। সাপ্তাহিক ২০০০, দৈনিক যায়যায়দিন ও দৈনিক ইত্তেফাকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ সংক্রান্ত কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য।

ভিক্ষাব্যবসায়ী নেটওয়ার্ক’শিরোনামের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ভিক্ষুকদের ঘিরে ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে এক বিশাল নেটওয়ার্ক। এ নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করছে পেশাদার ভিক্ষুক-গডফাদাররা। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে তারাই পরিচালনা করছে রাজধানীর ভিক্ষাভিত্তিক ‘ব্যবসা’কে। ভিক্ষুক-গডফাদাররা সারাদেশ থেকে ভিক্ষুক সংগ্রহ করে ভিক্ষার নানা কৌশল শিখিয়ে তাদের ছেড়ে দিচ্ছে রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে। সাধারণভাবে ১০০ টাকায় ৫০ টাকা, কখনো কখনো ৪০/৪৫ টাকা পায় ভিক্ষুকেরা, বাকিটা চলে যায় ভিক্ষুক-গডফাদারদের পকেটে।
ভিক্ষাবৃত্তিতে ঢাকা শহরে বছরে প্রায় ৩০ কোটি টাকা আয় করে সঙ্ঘবদ্ধ ভিক্ষুকের দল। এদের প্রতিদিনের আয় গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। মাসিক আয় নয় হাজার টাকা এবং বছরে আয় এক লাখ টাকার ওপর।
এর মধ্যে দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত হয় কয়েকজন পেশাদার ভিক্ষুকের বিলাসবহুল জীবনযাপনের কথা। একজন ভিক্ষুক জমির আলী, তার জমি আছে ৩৫ বিঘা। ভিক্ষার টাকা জমিয়ে প্রতিবছর রংপুরে তার গ্রামের বাড়িতে এক বিঘা করে জমি কেনেন। ছেলে-মেয়েদের জন্মদিনে পাঠান ঢাকার অভিজাত কনফেকশনারির কেক। ১২টি বেবিট্যাক্সি ও দুইটি মাইক্রোবাসের মালিক ভিক্ষুক জালাল মোল্লার মাসিক আয় ৬০ হাজার টাকা। গ্রামের বাড়িতে তার দোতলা বিল্ডিংয়ের নাম দিয়েছেন মুসাফিরখানা। ভিক্ষুক করম আলী শেখের আছে সুদের ব্যবসা। শহরে ভিক্ষুক সেজে ভিক্ষা করলেও গ্রামে রয়েছে তার আলিশান বাড়ি, প্রাইভেট রিকশা। রিকশাওয়ালার বেতনই দেন মাসে আড়াই হাজার টাকা। (দৈনিক ইত্তেফাক, ১৩.০১.২০০৭)
ভিক্ষাবৃত্তির একাধিক কলাকৌশল ছাড়াও কখনো কখনো ভিক্ষুকরা হয়ে ওঠে আতঙ্ক। একশ্রেণীর মাদকসেবী ভিক্ষুক হাতে ব্লেড নিয়ে ভয় দেখিয়ে রিকশা কিংবা বেবিট্যাক্সি যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে। মাঝে মাঝে ছিনতাইও করে। আরেকদল ভিক্ষার নামে মলমূত্র ছিটিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করে পথচারী বা রিকশাযাত্রীদের কাছ থেকে। ভিক্ষায় আরো বেশি আয়ের জন্যে পঙ্গু বা বিকলাঙ্গ হতে ডাক্তারের কাছেও ধরনা দেয় এদের কেউ কেউ।
বিভিন্ন খবরের কাগজের এ রিপোর্টগুলো পড়ার পর এখন আপনি সিদ্ধান্ত নিন ভিক্ষুকদের ভিক্ষা দেয়া সৎ দানের মধ্যে পড়ে কি না।
