মনছবির ব্যাপারে আমাদের বিভ্রান্তিটা যে কতখানি!
বয়স ৫০+ ও আয়ের নাই উৎস, এমতাবস্থায় গাড়ি-বাড়ি-হেলিকপ্টারের মনছবি দেখা কি হাস্যকর?
আমাদের ২১ ব্যাচের একজন প্রো-মাস্টার মহিলা, তার বয়স ফিফটি প্লাস।
এবং তিনি লিখছেন যে, আমি খুব সাধারণ মনের মানুষ, সাধারণ বিএ পাশ, ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা নাই। আমার আয়ের কোনো উৎস নাই। কিন্তু আমি ধনী হতে চাই এবং ভাগ্যের পরিবর্তন চাই।
আমি মনছবি দেখি- কোনো একদিন সুদৃশ্য বহুতল ভবনের দামি আসবাব দ্বারা সজ্জিত প্রশস্ত রুমের অফিসারের চেয়ারে বসে অফিস করছি। এটি একটি বেসরকারি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। প্রতিমাসে আমি লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করছি। আমার নিজের গাড়ি আছে, বাড়ি আছে এবং হেলিকপ্টার আছে। আমি সমস্ত পৃথিবী ঘুরে বেড়াচ্ছি।
গুরুজী, আমার বয়স এবং সামাজিক অবস্থা অনুযায়ী এরকম মনছবি দেখা কি আমার জন্যে অবাস্তব অথবা হাস্যকর? আমি কী করতে পারি? কী অটোসাজেশন দেবো?
অনুগ্রহ করে এই প্রশ্নটির উত্তর দিলে আমি খুব মানসিক তৃপ্তি পাব।
এটা মনছবি নয় বরং, আকাশকুসুম কল্পনা!
এটা হচ্ছে নিছক আকাশকুসুম কল্পনা। এটা মনছবি না।
বলবেন যে, কেন মনছবি না? আপনি নিজেই প্রশ্ন করছেন, আমার সামাজিক অবস্থা অনুযায়ী এরকম মনছবি দেখা কি আমার জন্যে অবাস্তব অথবা হাস্যকর? ইউ আর ইন ডাউট! কারণ আপনার জিনিসটা যে হাস্যকর এটার ব্যাপারে আপনি নিজেই মোটামুটি নিশ্চিত।
এই যে আসবাব দ্বারা সজ্জিত প্রশস্ত রুমে অফিসারের চেয়ারে বসে অফিস করছি। এখন আপনি তো অফিসারের চেয়ারে বসে অফিস করছেন। আপনার আসলে কনসেপ্টটা, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান আপনি কীভাবে ওখানে যাবেন? হাউ? এখন ফিফটি প্লাস বয়স। আপনি সম্ভবত খুব কিছু একটা করছেনও না।
মনছবির শর্ত তাহলে কী?
মনছবির শর্ত কী? পাঁচটা শর্ত। তার মধ্যে একটা হলো- লক্ষ্যস্থির। লক্ষ্যটা আপনার ভাসাভাসা। আপনি যে ছবি দেখছেন এটা এরকম এরকম এরকম। আপনার কিন্তু লক্ষ্য নাই। জিনিসটা কী? জিনিসটা হচ্ছে যে, আপনাকে বিশ্বাস করতে হবে, এক।
দুই হচ্ছে, সেটার জন্যে নিরলস পরিশ্রম করতে হবে এবং সংশয়ের প্রশ্রয় দেয়া চলবে না। হাঁ, ৫০ বছর বয়সেও হতে পারে, অসম্ভব না। কিন্তু সেটার জন্যে মেহনত পরিশ্রম দরকার।
আপনি কী করছেন? আপনি মনছবি দেখছেন যে লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করছেন এবং গাড়ি বাড়ি হেলিকপ্টার। হেলিকপ্টারটা ঢুকে গেছে। কী করবেন হেলিকপ্টার দিয়ে আপনি? সেটা আপনার কাছে ক্লিয়ার আছে?
আকাশকুসুম কল্পনা করবেন না। প্রত্যেকটা লক্ষ্যের পেছনে কাজ থাকতে হবে। হতে পারে যখন আপনি মনছবি দেখলেন যখন আপনি লক্ষ্যস্থির করলেন যখন পারার সংকল্প নিলেন, তখন পারার যোগ্যতা বা পারার ক্ষমতা কিছুই নাই আপনার। কিন্তু আছে বিশ্বাস।
আর সে বিশ্বাসের জন্যে মেহনত করা পরিশ্রম করা ঘাম ফেলা, রক্তকে পানি করার সংকল্প। যোগ্যতা সৃষ্টি হবে ক্ষমতা সৃষ্টি হবে দক্ষতা সৃষ্টি হবে।
অলস চিন্তা-ভাবনা সেই গোয়ালিনির রানি হওয়ার মতোই!
শুধু বসে বসে চিন্তা করা ভাবা একটু অলস সময় ভাবা, সেটা ঐ গোয়ালিনীর রানি হওয়ার মতোই। যে রাজার ছেলে এসে প্রস্তাব দেবে বিয়ের। আর সে বলবে যে, শাদী নেহি করেঙ্গা। নাহি করেঙ্গা বলে দুধের ঘটি সেটাও পড়ে ভেঙে গেল।
অতএব সবসময় মনে রাখবেন, কোনো লক্ষ্যই বড় নয়, যদি সেটা যুক্তিসঙ্গত হয় যদি সেটা আপনি বিশ্বাস করতে পারেন। যদি সেটার সাথে একাত্ম থাকতে পারেন এবং সেজন্যে নিরলস পরিশ্রম করতে পারেন। বাকি সবকিছু সৃষ্টি হবে।
কিন্তু আপনার এটা হচ্ছে একটা আকাশকুসুম কল্পনা। আমরা যেন এই অহেতুক অকারণ কল্পনা না করি। মনছবি সেটাই যেটাতে আপনার কোনো সন্দেহ থাকবে না। যেখানে আপনার কোনো দ্বিধা থাকবে না। যেখানে শুরু করবেন আপনি ছোট থেকে।
তাই শুরুটা করতে হবে বিশ্বাস নিয়ে…
আমরা কিন্তু লামাতে শুরু করেছিলাম। সাতটি বাচ্চাকে নিয়ে ২০০১ সালে। এখন দুই হাজার বাচ্চা। প্রথম দিনই যদি চিন্তা করতাম দুই হাজার বাচ্চা।
চিন্তা ছিল অনেক। হাঁ আল্টিমেটলি হবে কিন্তু শুরুটা করতে হবে তো। শুরুটা সবসময় ছোট থেকে হয়। সেটা সমাজসেবা বলেন সেটা কর্মজীবনে উন্নতি বলেন সেটা ব্যবসা বলেন। শুরু করতে হবে।
এবং শুরুটা করতে হবে বিশ্বাস নিয়ে, যত ছোট হোক। শুরু করার পরে তাতে বরকত আসতে শুরু করবে, যদি আপনার একান্ত প্রয়াস থাকে। যদি আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকে বরকত আসতে শুরু করবে।
অতএব যে কোনো লক্ষ্য স্থির করেন লক্ষ্য আপনার ভেতরে কর্মপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে কিনা? সেটা হচ্ছে ইম্পর্টেন্ট।
[সজ্ঞা জালালি, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯]
