ঢাকা: অনলাইনে আকর্ষণীয় অফার ও বড় ডিসকাউন্টের প্রলোভন দেখিয়ে মোবাইল ফোন বিক্রির নামে সংঘবদ্ধ প্রতারণার নতুন লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে সাধারণ গ্রাহকরা। সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের অভিযোগের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো সতর্কতা জারি করেছে।
প্রতারণার কৌশল:
শিকার হওয়া বেশ কয়েকজন গ্রাহকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতারকরা প্রধানত ফেসবুক পেজ, বিভিন্ন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম এবং মোবাইল-বিষয়ক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কাজ করে। তারা জনপ্রিয় ও দামি স্মার্টফোনগুলি বাজার মূল্যের তুলনায় ৩০-৫০% কোন কোন ক্ষেত্রে ৭০% কম দামে অফার করে। গ্রাহকরা আগ্রহ দেখালে তাদের একটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয় এবং অগ্রিম টাকা (সাধারণত বিকাশ, নগদ, রকেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে) পাঠানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। টাকা পাঠানোর পর তারা ফোন নম্বর বন্ধ করে দেয় অথবা আরও বিভিন্ন অজুহাতে টাকা চাইতে থাকে।
শীর্ষে ‘মোবাইল জোন বিডি’:
এ ধরনের অসংখ্য অভিযোগের শিকার একটি প্রতিষ্ঠানের নাম বারবার উঠে আসছে, তা হলো ‘মোবাইল জোন বিডি’। ভুক্তভোগীদের দাবি, এই নামে ফেসবুকে সক্রিয় একটি পেজ এবং সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে তারা আকর্ষণীয় অফার দেখে প্রতারিত হন। টাকা পাঠানোর পর তারা কোনো ফোন পাননি, কিংবা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফেসবুকে পেজটি এখনও সক্রিয় থাকলেও সেখানে অসংখ্য ব্যবহারকারী তাদের প্রতারণার অভিযোগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
একজন ভুক্তভোগী রিয়াদ হাসান জানান, “স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৩ আল্ট্রা ফোনটির দাম তখন বাজারে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার কাছাকাছি। ‘মোবাইল জোন বিডি’ পেজে দেখলাম মাত্র ৭০ হাজার টাকায় অফার করা হচ্ছে। যোগাযোগ করতেই তারা বলল, অফার সীমিত সময়ের, দ্রুত অগ্রিম ২৫ হাজার টাকা পাঠাতে। টাকা পাঠানোর পর থেকে তারা ফোন ধরছে না।” আর একজন ভুক্তভোগী মোহাম্মাদ মাইনুদ্দিন জানান, ভিবো ৩০মডেলের ৩৫৫০ টাকা অফার করে যার বাজার মূল্য ৪৯০০০ টাকা , আমাকে ৫৫০ টাকা অগ্রিম এই বিকাশ নাম্বারে পাঠাতে বলে আমি যথারীতি বিকাশ করি যার নম্বর ০১৮৬০২২৭২৪৩ , এর পর একজন বলে আমি ডেলিভারি ম্যান বলছি আপনার পার্সেল নিতে হলে ও টি পি লাগবে ০১৪০৬৪৭৬১৬৩ , ও টি পির জন্য আমি যোগাযোগ করি ০১৮৫৮৬৯৩৫৭৫ তিনি আমাকে বাকি টাকা দিলে ও টি পি দিব, আমি বাকি টাকা পরিশোধ করি ৩০৪৯ টাকা তার পর একটা ও টি পি দেন ARB232822 এবং ডেলিভারি ম্যান কে দিলে তিনি আমাকে ১০ মিনিট পর বলেন এই নম্বর মিল না থাকায় প্রডাক্ট দেয়া যাবে না । এর পর অনেক বার যোগযোগ করেছি সকলের সাথে আমার ফোন রিসিভ করেন নাই।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে কাজ করা Aktiv Jibon Foundation-এর একজন প্রতিনিধি বলেন, “অনলাইনে কেনাকাটায় অতিরিক্ত সতর্কতা জরুরি। কোনো পণ্যের দাম বাজার মূল্যের তুলনায় অস্বাভাবিক কম দেখলে সন্দেহ করতে হবে। অগ্রিম টাকা পাঠানো থেকে বিরত থাকুন, বিশেষ করে মোবাইল ফিন্যান্স সার্ভিসে। কেনাকাটা করতে হবে বিশ্বস্ত ও ভেরিফাইড ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম থেকে।”
তিনি আরও পরামর্শ দেন, প্রতারণার শিকার হলে নিকটতম থানায় জিডি/এফআইআর করতে হবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের হটলাইন ১৬২৪৭-এ ফোন করে সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফিন্যান্স অ্যাকাউন্টটি ব্লক করার জন্য জানাতে হবে।
সাইবার ক্রাইম সম্পর্কিত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অনলাইন প্রতারণা রোধে প্ল্যাটফর্ম কর্তৃপক্ষ (যেমন: ফেসবুক), টেলিকম অপারেটর এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি, ডিজিটাল লেনদেনে সচেতনতাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
সতর্কবার্তা: আকর্ষণীয় ডিসকাউন্টের লোভে পড়ে অজানা বা অভেরিফাইড কোনো সোশ্যাল মিডিয়া পেজ বা ওয়েবসাইটে আস্থা রাখবেন না। কেনাকাটার আগে প্রতিষ্ঠানের সত্যতা যাচাই করুন এবং ক্যাশ অন ডেলিভারি (COD) সার্ভিসকে অগ্রাধিকার দিন।
