বাংলাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল সরকারি সংস্থার নির্দেশে। ই-মেইল পাঠিয়ে ও খুদে বার্তা দিয়ে মোবাইল, আইএসপি ও আইআইজি অপারেটরদের ইন্টারনেট বন্ধ রাখতে বলা হয়। যদিও ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ শুরু হলে ১৭ জুলাই (বুধবার) রাত থেকে মোবাইল ইন্টারনেট এবং ১৮ জুলাই (বৃহস্পতিবার) রাত নয়টার দিকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যায়।
১৭ জুলাই দেশে বিক্ষোভ হলেও কেউ মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে ১৮ জুলাই ব্যাপক সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা ঘটে। ওই দিন রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশনা পায় একটি ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্দেশনা পেয়ে তাঁরা গ্রাহকপর্যায়ে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান আইএসপিগুলোকে ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ বন্ধ করে দেন।
আইআইজি প্রতিষ্ঠানগুলো আইএসপিদের ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ করে। তারা ব্যান্ডউইডথ বন্ধ করলে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায় না। গ্রাহকেরা বাসায় ব্রডব্যান্ড সংযোগ নেন আইএসপিদের কাছ থেকে।
ব্রডব্যান্ডের আগে বন্ধ হয়েছিল মোবাইল ইন্টারনেট। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মোবাইল অপারেটরদের ই-মেইল পাঠিয়ে ইন্টারনেট বন্ধের জন্য বলা হয়েছিল। তবে ই-মেইলটি জুনাইদ আহ্মেদের ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীন কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে পাঠানো হয়নি। ই-মেইলের পর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) থেকেও বার্তা পাঠানো হয়েছিল।
১৭ জুলাই মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের পরদিন এ বিষয়ে টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ এক অনুষ্ঠানে বলেন, জাতীয় ও নাগরিক নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
ইন্টারনেট বন্ধ করায় গ্রামীণফোনের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছিলেন বিক্ষোভকারীরা। ২০ জুলাই গ্রামীণফোনের মালিক প্রতিষ্ঠান টেলিনর এশিয়া এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা হয়েছে। গ্রামীণফোন তাঁদের জানিয়েছে, বাংলাদেশে থ্রি-জি ও ফোর-জি ইন্টারনেট ১৭ জুলাই বন্ধের নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।
পাঁচ দিন পর ২৩ জুলাই রাতে দেশে সীমিত পরিসরে ব্রডব্যান্ড সেবা চালু করে দেওয়া হয়। আজ রোববার বেলা ৩টা থেকে চালু করা হয় মোবাইল ইন্টারনেট। তবে বন্ধ রাখা হচ্ছে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টিকটকসহ বিভিন্ন সেবা।
প্রথম আলো
সরকারই ইন্টারনেট বন্ধ করেছিল
