1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ০৬:২০ অপরাহ্ন

শুরু হলো বিজয় ও গৌরবের মাস ডিসেম্বর

  • সময় সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০
  • ৯৩১ বার দেখা হয়েছে

আজ ১ ডিসেম্বর। শুরু হল বিজয়ের মাস। ১৯৭১ সালের এ মাসেই অর্জিত হয় মহান স্বাধীনতা। বিশ্বের মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে পর্যুদস্ত করে অর্জিত এ বিজয় ছিল আনন্দ ও গৌরবের। একই সঙ্গে ছিল প্রিয়জন হারানো শোকের।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

২৫ মার্চের নির্মম নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর তারা রুখে দাঁড়িয়েছিল শোষণের বিরুদ্ধে। এক সাগর রক্ত, ৩০ লাখ প্রাণ আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বীর বাঙালি বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল ১৬ ডিসেম্বর। তবে এ মাসের প্রতিটি দিনই ছিল ঘটনাবহুল। স্বাধীনতাকামী বাঙালির হৃদয়ে বৈজয়ন্তী উড়িয়ে এসেছিল সেই সোনাঝরা গৌরবের দিনগুলো।

১৯৭১ সালে ডিসেম্বরের শুরু থেকেই বাঙালি বীর সন্তানদের সঙ্গে যুদ্ধে একের পর এক পরাজিত হতে থাকে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী। মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণ আর ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর জল, স্থল ও আকাশপথে সাঁড়াশি অভিযানের মুখে ক্রমাগত পরাজিত হতে থাকে তারা। হয়ে পড়ে দিশেহারা।

১৯৭১ সালের ১ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ভেতরে গেরিলা আক্রমণ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তাদের নির্দেশে সেনাবাহিনী আরও ভয়াবহভাবে নিরীহ জনগণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। বুড়িগঙ্গা নদীর অপর পারে জিঞ্জিরায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে একদিনেই হত্যা করা হয় ৮৭ জনকে।

এ সময় বাঙালির জন্মভূমি শত্রুমুক্ত করার লড়াইকে আড়ালে রাখতে পাক-ভারত যুদ্ধ শুরু হয়েছে বলে বেতারে ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান। কিন্তু সেদিন কোনো ষড়যন্ত্রই বাঙালিকে বিজয় অর্জন থেকে পিছিয়ে দিতে পারেনি। মাতৃভূমিকে হানাদারমুক্ত করতে তারা মরণপণ লড়াই চালিয়ে যান।

প্রাণ বাঁচাতে পাকিস্তানি হানাদাররা বীর বাঙালির কাছে আত্মসমর্পণের পথ খুঁজতে থাকে। বাংলাদেশ দ্রুত মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দিকে এগিয়ে যায়। একপর্যায়ে সেই রেসকোর্স ময়দানেই পাকিস্তানি বাহিনী নতি স্বীকারে বাধ্য হয়। রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পথ বেয়ে আসে পরম কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা।

করোনার এই সময়েও মাসব্যাপী উৎসাহ-উদ্দীপনায় এবং নানা কর্মসূচির মাধ্যমে বিজয়ের ৪৯ বছর উদযাপন করবে এ দেশের মানুষ। শিল্প-সাহিত্য-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘পদক্ষেপ বাংলাদেশ’ ডিসেম্বরের প্রথম দিনে ‘বিজয় মাসের প্রথম প্রভাত’ অনুষ্ঠানটি ১০ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বরে উদযাপন করছে।

বৈশ্বিক মহামারীর মধ্যে এবার অনলাইন ব্রডকাস্টে ধারাবাহিকতা ধরে রাখছে সংগঠনটি। রাত ১২টা ০১ মিনিটে ‘বিজয় মাসের প্রথম প্রহর’ এবং সকাল ৭টায় ‘বিজয় মাসের প্রথম প্রভাত’ অনুষ্ঠানের কর্মসূচি হাতে নেয় তারা। এতে ছিল আলোচনা, ঘোষণাপত্র পাঠ, একক নৃত্য, দলীয় নৃত্য, একক সঙ্গীত, একক আবৃত্তি, কবিকণ্ঠে বিজয়ের কবিতাপাঠ ইত্যাদি আয়োজন।

বিজয়ের মাস উপলক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। তিনি বলেন, করোনা মহামারীর কারণে এ বছর বিজয় র‌্যালিসহ অন্যান্য কর্মসূচি পালন করা সম্ভব হচ্ছে না।

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM
Translate »