1. admin@hostpio.com : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
  2. azmulaziz2021@gmail.com : Azmul Aziz : Azmul Aziz
  3. musa@informationcraft.xyz : musa :
শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০৮:০৮ অপরাহ্ন

করোনাকালে কোয়ান্টাম!

  • সময় রবিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২১
  • ৫১ বার দেখা হয়েছে

ডিসেম্বর, ২০১৯-চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে অজানা ভাইরাসে কিছু মানুষের সংক্রমিত হওয়ার খবর গণমাধ্যমে আসতে থাকে। পরবর্তীতে ভাইরাসের নামকরণ হয় নভেল করোনাভাইরাস।

৩০ জানুয়ারি ২০২০-পৃথিবীর ১৯টি দেশে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জারি করে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা (Public Health Emergency) ।

৮ মার্চ ২০২০-বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়।

 

১১ মার্চ ২০২০-কোভিড-১৯ কে ‘প্যান্ডেমিক’ (অতিমারি) ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

 

 

লকডাউনে জনশূন্য রাজধানীর ব্যস্ত সড়ক (ছবিসূত্র- দৈনিক ইনকিলাব)

 

১৭ মার্চ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আর ২৫ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণার সাথে সাথে দেশব্যাপী কার্যত শুরু হলো লক ডাউন।

 

সকাল দুপুর রাত- মিডিয়ায় শুধু আতঙ্ক আর ভয়েরই খবর।

 

বিশ্ববাসীর মতো দেশের জনজীবনেও নেমে আসে চরম হতাশা, আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা, অস্থিরতা!

 

ঠিক সেই সময় কোয়ান্টামের দৃপ্ত উচ্চারণ শুধু এর হাজার হাজার সদস্যকেই ভরসা যোগায় নি, আশ্বস্ত করেছে দেশ-বিদেশের লাখো বাংলাভাষীকে-

 

“আমরা কী করেছি ২৮ বছরে?

 

হতাশ, বিভ্রান্ত, হতোদ্যম, নিরাশ, আতঙ্কগ্রস্ত- মানুষকে আমরা বিশ্বাসের শক্তিতে উজ্জীবিত করেছি। মানুষের যতরকম ভয়ভীতি, সেই ভয়ভীতি কাটিয়ে সে যেন নিজের শক্তিকে বিকশিত করতে পারে- সেইজন্যে আমরা কাজ করেছি।

 

এখন আমাদের চারপাশে যে পরিস্থিতি এই পরিস্থিতিতে আমাদের কাজ করার প্রয়োজন হচ্ছে এখন সবচেয়ে বেশি। কারণ আমাদেরকে আল্লাহ মানুষকে সেবা করার, তার মনে বিশ্বাস সৃষ্টি করার, তাকে সিরাতুল মুস্তাকিম- সাফল্যের সরলপথে আনার দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছেন।

 

এবং সেই দায়িত্ব আমরা পুরোপুরি পালন করতে চাই যেন আল্লাহকে বলতে পারি যে, না, আমরা কোনোকিছুতেই পিছিয়ে যাই নি! কোনো ভয় আমাদেরকে তাড়িত করে নাই। কোনো আতঙ্কে আমরা কখনো ছিলাম না। কারণ আমরা তোমার ওপরে বিশ্বাসী এবং তোমার ওপরে আস্থাশীল।”

 

ডেটলাইন ১৯ মার্চ : সবার কাছে পৌঁছে গেল চিঠি- ‘আতঙ্ক নয়, সতর্ক হোন’

 

পারিপার্শ্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে কোয়ান্টাম যখন বুঝতে পারল- পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আমাদেরও হয়তো ‘লকডাউনের’ সম্মুখিন হতে হবে, তখনই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হলো চিঠি- আতঙ্কিত নয়, সতর্ক হোন। যাতে কোভিড-১৯ নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে এর মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সতর্কতা এবং করণীয়-বর্জনীয় সম্পর্কে বলা হলো।

 

বলা হলো- মেডিটেশন, যোগ ব্যায়াম ও প্রাণায়ামের কথা যা করলে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উজ্জীবিত হয়। স্মার্ট ফোন ও টিভির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার থেকে সাবধান হতে বলা হলো।

 

মিডিয়ায় উপর্যুপরি প্রচারিত আতঙ্কের খবরগুলো যে মানসিক শক্তিকে কমিয়ে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেই চাপে ফেলছে তা বল হলো।

 

হাতে হাতে, মেইলে এবং অনলাইন মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে এ চিঠি পৌঁছে গিয়েছিল কোটি মানুষের কাছে।

 

বাসায় সাদাকায়ন, গুরুজীর কণ্ঠে ২৯টি আলোচনা, ১৩৪ দিনের প্রায় প্রতিদিনই চিঠি!

 

কর্তৃপক্ষীয় সিদ্ধান্তের কারণে বন্ধ হয়ে গেল শাখা-সেল-সেন্টারের ভেন্যু সাদাকায়ন। গুরুজী ঘোষণা দিলেন, ঘরে ঘরে হবে সাদাকায়ন। ২০ মার্চ থেকে শুরু হলো বাসায় সাদাকায়ন। ফলে সাদাকায়নে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়ে গেল কয়েকগুণ।

 

আগে হয়তো পরিবারের একজন বা দুজন মিলে সাদাকায়নে যেতেন। এখন সবাই এমনকি ছোটশিশু, গৃহকর্মী বা বয়স্ক পরিজনরাও অংশ নিতে পারলেন সাদাকায়নে।

 

 

লকডাউনের গৃহবন্দী সময়ে ঘরে ঘরে সাদাকায়নে একাত্ম হয়েছে সব শ্রেণী-পেশার মানুষ

 

২৭ মার্চ থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত বাসায় সাদাকায়নের ১৭টি আয়োজনের প্রতিটিতেই ফাউন্ডেশন থেকে প্রেরণ করা হয়েছে গুরুজীর সাদাকায়ন আলোচনার রেকর্ডকৃত অডিও।

 

সাথে শবে বরাত, শবে কদর, মাহে রমজান ও আখেরি দোয়ার বিশেষ আলোচনাসহ গুরুজীর মোট ২৯টি আলোচনার অডিও মেইল করা হয় হাজার হাজার সদস্যের কাছে।

 

আর শুদ্ধাচার, সিরাত এবং খতমে কামালির দৈনিক অডিও তো ছিলই। অর্থাৎ ১৩৪ দিনের প্রতিদিনই গিয়েছে শ্রদ্ধেয় গুরুজীর নতুন নতুন বাণী-অডিও সংবলিত চিঠি!

 

করোনাভাইরাস সম্পর্কিত সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়াও এতে সমসাময়িক নানা বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা হয়। তুলে ধরা হয় মিডিয়া-প্রচারণার সঠিক ও যৌক্তিক বিশ্লেষণ।

 

আসলে প্রজ্ঞা দিয়ে এসময় যে সত্যকে ফাউন্ডেশন অনুভব করেছে, নিঃসঙ্কোচ-নির্ভীক প্রকাশে তাতে মোটেই কুণ্ঠাবোধ করে নি!

 

কেন এই আতঙ্ক প্রচার?

 

১৯ মার্চ, ২০২০ গুরুজী তার প্রথম আলোচনাতেই কথা বলেন ‘আতঙ্কের গ্রামার’ নিয়ে। বলেন, “আসলে আতঙ্কের একটা গ্রামার আছে।

 

প্রথম জিনিসটা যে কত ভয়াবহ, কত লোক মারা গেছে, কত ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে, মানুষ কত অসহায় হয়ে গেছে- এটাকে প্রচার করা হয়। এবং এটাকে শুধু ফোলাতে ফাঁপাতে থাকা হয়।

 

যখন বেশি ফুলতে ফুলতে জিনিসটা ফেটে যায়, যখন আসল সত্যটা বেরিয়ে আসে, তখন আবার বলা শুরু হয় যে আসলে কত ভয়াবহ হতে পারে ভবিষ্যতে!

 

যাতে বাস্তব সত্য জানার পরও আতঙ্ক থেকে সে বেরিয়ে আসতে না পারে।

 

২০০৯ সালে সোয়াইন ফ্লু-র উদাহরণ দিয়ে গুরুজী বলেন, সেসময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞসহ পাশ্চাত্যের শীর্ষ ধনী দেশগুলোর স্বাস্থ্য বিষয়ক যেসব কর্মকর্তারা একযোগে মিডিয়াকে ব্যবহার করেছিলেন আতঙ্ক প্রচারের জন্যে, তাদের প্রায় সবাই কোনো না কোনোভাবে সুবিধা ভোগ করছিলেন হফম্যান লা রশে এবং গ্ল্যাক্সো স্মিথক্লাইন বিচাম নামে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দুটি ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে। যারা ছিল ‘টেমি ফ্লু’ নামে একটি ওষুধ বা তার মূল উপাদানের প্রস্তুতকারক। এই ওষুধটিকেই সোয়াইন ফ্লু নিরোধে কার্যকর বলে রায় দিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

 

টিকা, ওষুধ বিক্রি শেষ, পৃথিবীতে সোয়াইন ফ্লু আতঙ্ক বলেও আর কিছু থাকল না।

 

এবং এবার করোনাভাইরাসকে ঘিরেও একই আতঙ্ক, একই ভীতির প্রচার করা হয়েছে।

 

প্রায় প্রতিটি দেশকে ঘিরেই ছিল মৃত্যুর পূর্বাভাস যে আমেরিকায় ২২ লক্ষ, বৃটেনে ৫ লক্ষ, অমুক দেশে অমুক লক্ষ, এমনকি বাংলাদেশেও এক লক্ষ মানুষ মারা যাবে বলে বলা হলো।

 

ভারতে নাকি সুনামির মতো ধেয়ে আসবে করোনা, ৩০ কোটি মানুষ আক্রান্ত হবে।

 

অথচ আজ এক বছরের মাথায় এসে এসব ভবিষ্যদ্বাণীর কোনোটাই বাস্তব হয় নি।

 

গুরুজী খুব স্পষ্ট করে বলেন, আতঙ্ক প্রচার থেকে যারা লাভবান হবে তারাই এই আতঙ্কের প্রচার করছে।

 

এদের মূল উদ্দেশ্য সারা পৃথিবীর মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া, একা করে দেওয়া যে সে যাতে কানেক্টেড না থাকতে পারে। আপনজন যেন আপনজন থেকে দূরে সরে যায়। তাহলে যারা ভোগবাদী যারা বিলাসী পণ্যের ব্যাপারী ভার্চুয়াল জগতের যারা ব্যাপারী তারা ভালো ব্যবসা করতে পারবে।

 

 

 

 

 

লকডাউন ছিল! আমেরিকাতে কি বেজোসের ফ্যাক্টরি বন্ধ ছিল না তার ট্রান্সপোর্ট বন্ধ ছিল, না তার মাল সরবরাহ বন্ধ ছিল?

 

আমাজন বন্ধ ছিল? বরং আমাজন ফুলে ফেঁপে উঠেছে।

 

মানুষ নাকি মারা যাবে! আমাজন কর্মীদেরকে তো ছুটি দেয়া হয় নি। যে যাও, ঘরে ঘরে যাও, ডেলিভারি দিতে হবে তোমাকে। না দিলে ইউ আর ডিসমিসড।

 

 

করোনায় অফিস কামাইয়ের সুযোগ ছিল না আমাজন কর্মীদের (ছবিসূত্র- ফিন্যান্সিয়াল টাইমস)

 

তো এই বেজোসদের-গেটসদের পকেট ভারী করার জন্যেই এই আতঙ্ক প্রচার করা হয়েছে। এবং মিডিয়া বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া বলেন তাদেরই নিয়ন্ত্রণে।

 

যে মানুষ টিভি দেখত না, যে মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করত না, তাকেও স্মার্টফোন/টিভির আসক্ত বানিয়ে ফেলেছে আরকি।

 

কারণ মানুষ তো বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে না। মানুষ সবসময় যোগাযোগ করতে চায়।

 

যদি সে বাস্তবে করতে না পারে তখন সে বিকল্প খুঁজবে। তখন সে নেটফ্লেক্স অমুক ফ্লেক্স তমুক ফ্লেক্স চলে যাবে।

 

এবং পুরো পৃথিবীর মানুষের চরিত্রহনন করাই ছিল এই আতঙ্কবাদীদের মূল লক্ষ্য। তাকে একা করা এবং তাকে শয়তানের বাক্সে আবদ্ধ করে তার চরিত্র নাশ করা।

 

আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

 

প্রথম দিনই গুরুজী বলেন, বাঙালির সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে আমাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা। আট বছরের বালকের যে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, ইউরোপ-আমেরিকার ২৫ বছরের যুবকেরও সেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নাই।

 

ভাইরাস বাইরে থেকে এসে এখানে সুবিধা করতে পারবে না। কারণ আমাদের যে বাতাস আমাদের যে আবহাওয়া এবং আমাদের ধুলো এবং বালি- এটা হচ্ছে এই করোনাভাইরাসের সবচেয়ে বড় শত্রু।

 

যেখানে আমাদের ইতিহাস হচ্ছে বছর বছর বন্যা মোকাবেলার ইতিহাস, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলার ইতিহাস, সিডর মোকাবেলার ইতিহাস- সেখানে আমরা একটা করোনা নিয়ে আতঙ্কিত কেন হবো! বরং করোনার আমাদেরকে দেখে আতঙ্কিত হওয়া উচিত যে না কোথায় যাচ্ছি।

 

এই বক্তব্যের সাত মাস পর গত ১২ অক্টোবর, ২০২০ বাংলাদেশ উদরাময় রোগ গবেষণা কেন্দ্র এবং আইইডিসিআর পরিচালিত এক যৌথ গবেষণায় জানা যায়, জুলাইয়ের মধ্যেই ঢাকার অর্ধেক জনগোষ্ঠীর দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছিল এবং তাদের দেহে গড়ে উঠেছে করোনার এন্টিবডি।

 

উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো এই পজিটিভদের ৮০ ভাগেরই কোনো উপসর্গ ছিল না।

 

ওদিকে বস্তি এলাকার ৭৪ ভাগ মানুষের দেহে পাওয়া গেছে এই এন্টিবডি এবং তাদেরও কোনো উপসর্গ ছিল না।

 

 

করোনাকালে মানুষকে কেন স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান কোয়ান্টাম জানিয়েছিল করোনাকে সফলভাবে প্রতিহত করে সেটা বুঝিয়ে দিয়েছে ঢাকার বস্তিবাসীরা

 

মার্চে প্রথম শনাক্তের পর করোনাভাইরাসে বাংলাদেশে কত লোক মারা যেতে পারে- তা নিয়ে বিশেষজ্ঞের বরাতে ভয়াবহ সব পূর্বাভাস দিচ্ছিল মিডিয়া। কিন্তু সংক্রমণের দশম মাসে এসেও মৃতের সংখ্যা এখনো সাড়ে সাত হাজারও ছাড়ায় নি!

 

সারা পৃথিবীতে আমরাই একমাত্র ‘সঙ্ঘ’ হিসেবে দাঁড়িয়েছিলাম

 

আসলে সারা পৃথিবীতে ‘সঙ্ঘ’ হিসেবে আমরাই একমাত্র সঙ্ঘ ছিলাম যারা এই আতঙ্কের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলাম! যারা সঠিক ও যৌক্তিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের আলোয় প্রতিটি বিষয়কে ব্যাখ্যা করেছি। বিচ্ছিন্নভাবে কোনো কোনো ব্যক্তি হয়তো বলেছেন, কিন্তু সঙ্ঘ হিসেবে আমরাই একমাত্র।

 

নতুন ওয়েবসাইট ‘করোনা জয়’

 

এপ্রিলের শুরুতেই তৈরি হলো নতুন সাইট ‘করোনা জয়’।

 

উদ্দেশ্য করোনা পরিস্থিতিতে সারাবিশ্বের মানুষ যে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে, তা থেকে তাকে মুক্ত করে ইতিবাচক করা। মানসিকভাবে উজ্জীবিত করা।

 

করোনা-সংক্রান্ত গুরুজীর আলোচনা, আর্টিকেল, ভিডিও, অনুভূতি ও আপনার করণীয়- সব মিলিয়ে ‘করুন জয় করোনা ভয়’ নামে নতুন এই সাইটটি সেই উদ্দেশ্য যথাযথভাবেই সার্থক করেছে।

 

এছাড়া কোয়ান্টাম ওয়েবসাইটে প্রতিদিনই এসেছে কোনো না কোনো কন্টেন্ট। ২২টি আর্টিকেল, ২৪টি স্পিচ, ১২টি নতুন মেডিটেশন, ১১টি ভিডিও।

 

১২৭ দিন ক্যাম্পে অবস্থান : যে-কোনো কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রস্তুতি

 

২৬ মার্চ থেকেই গুরুজীসহ ফাউন্ডেশনের জরুরি সেবা কর্মীরা শান্তিনগর কার্যালয়ে অবস্থান করতে শুরু করেন।

 

মুক্তিযুদ্ধের সময় যে উদ্দীপনা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন আমাদের অকুতোভয় মুক্তিসেনারা, সেই একই উদ্দীপনা, সাহস আর সর্বস্ব ত্যাগের আকুতি অনুভব করলেন এই করোনা যোদ্ধারাও।

 

গুরুজী ১২৭ দিন ক্যাম্পে অবস্থান করেন। কর্মীরাও কেউ ১৩৫ দিন, ১৪০ দিন বা ১৫০ দিন পর তাদের বাসায় ফিরেছেন। করোনা যুদ্ধের সহায়ক সামাজিক শক্তি হিসেবে যে-কোনো জায়গায় যে-কোনো কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার মানসিক প্রস্তুতি তাদের ছিল।

 

চিকিৎসাকর্মীদের পিপিই সরবরাহ

 

করোনা আতঙ্ক বিস্তারের প্রথম সময়েই কোয়ান্টাম অনুভব করল- ফ্রন্টলাইনে যারা যুদ্ধ করছেন- চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা, তাদের সুরক্ষাই এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। এজন্যে তাদের প্রয়োজন পিপিই বা পারসোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম)

 

কিন্তু ২৬ মার্চ, ২০২০ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণার প্রেক্ষিতে কে কোথায় কীভাবে এগুলো পাবেন বা নেবেন তা নিয়ে তৈরি হয় বেশ অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা। ব্যাহত হচ্ছিল দেশের হাসাপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোর স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম।

 

এগিয়ে আসে কোয়ান্টাম। দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে দুদিনের মধ্যেই সংগ্রহ করে উন্নত মানের কয়েক হাজার পিপিই সেট।

 

 

কমপ্লিট পিপিই সেট। দেশে করোনা বিস্তারের শুরুতে যখন এটি বাজারে অপ্রতুল হয়ে পড়েছিল তখন কোয়ান্টাম নিজেরা তৈরি করে দাফনকর্মীদের ব্যবহার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের উদ্যোগ নেয়

 

২৮ মার্চ থেকে ২ এপ্রিলের মধ্যে ঢাকাসহ সারাদেশের পাঁচ শতাধিক চিকিৎসক এবং ঢাকার অনেকগুলো সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে তাদের চাহিদামতো বিনামূল্যে পৌঁছে দেয় এই পিপিই।

 

হাসপাতালগুলোর মধ্যে রয়েছে-

 

১. ঢাকা মেডিকেল কলেজ

 

১২. বারডেম জেনারেল হাসপাতাল

 

২. শেখ হাসিনা বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট

 

১৩. ইব্রাহিম কার্ডিয়াক এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট

 

৩. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)

 

১৪. বাংলাদেশ পুলিশ হাসপাতাল

 

৪. কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল

 

১৫. বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

 

৫. সরকারি কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল

 

১৬. জামালপুর সরিষাবাড়ি উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স-সহ আরো কিছু উল্লেখযোগ্য হাসপাতাল

 

৬. ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ

 

১৭. রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

 

৭. স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল

 

১৮. বারিন্দ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, রাজশাহী

 

৮. শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

 

১৯. রাজশাহীর বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

 

৯. মহাখালীস্থ সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল

 

২০. সিভিল সার্জন অফিস, চট্টগ্রাম

 

১০. ঢাকা শিশু হাসপাতাল

 

২১. মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল, বগুড়া

 

১১. ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স

 

২২. টি এম এস এস মেডিকেল কলেজ ও রফাতুল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতাল, বগুড়া

 

এক ঘন্টার জন্যেও বন্ধ হয় নি রক্তদান কার্যক্রম

 

এসময় দেশের অন্য সব স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রম বন্ধ ছিল। ফলে কোয়ান্টাম ল্যাবকে নিতে হয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। করোনার এসময়কালে এক ঘণ্টার জন্যেও বন্ধ হয় নি ল্যাব।

 

 

লকডাউনের মধ্যেও দেশে রক্তের প্রধান যোগানদাতা ছিল কোয়ান্টাম

 

রক্তের জন্যে যিনি এসছেন, তাকে বসিয়ে রেখে হলেও কোয়ান্টিয়াররা মোটর সাইকেল নিয়ে পিপিই পরে চলে গেছেন ডোনারের বাসায়।

 

ডোনারকে পিপিই পরিয়ে আবার নিয়ে এসছেন ল্যাবে। রক্ত নেয়ার পরে আবার মোটর সাইকেলে করে তাকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে এসছেন।

 

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে মাসের পর মাস এই কোয়ান্টিয়াররা নিরলসভাবে কাজ করেছেন। ফলে রক্তের জন্যে যারা এসছেন, তাদের ৮০ শতাংশকেই আমরা রক্ত দিতে পেরেছি।

 

কোভিড-১৯ দাফন – আতঙ্কমুক্তিতে সমাজকে নেতৃত্বদান

 

পিপিই সেট নিয়ে কাজ করতে করতেই ফাউন্ডেশন লক্ষ করল করোনা রোগী এবং রোগে মৃতদের নিয়ে ঘটছে অমানবিক সব ঘটনা, শুধু আমাদের দেশেই নয়, সারা পৃথিবীতেই।

 

আসলে আতঙ্কবাদীদের প্রচারের ফলে সাধারণ মানুষ করোনা রোগী বা করোনা মৃতকেই অচ্ছুত করে ফেলার মানসিকতায় আক্রান্ত হলো।

 

তখনই কোয়ান্টাম ঠিক করে যে, মানুষের আতঙ্ক দূর করার জন্যে যা নিয়ে তারা সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত, সেই আতঙ্কের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।

 

৭ এপ্রিল ২০২০ : শুরু হলো কোয়ান্টামের কোভিড-১৯ দাফন কার্যক্রম।

 

WHO নির্ধারিত সংক্রামক রোগে মৃতদেহ দাফনের নিয়মাবলি অনুসরণ করে কোয়ান্টাম এই কার্যক্রমকে বিস্তৃত করে দেশব্যাপী।

 

দিনে ২৪ ঘন্টা সপ্তাহে ৭ দিনের এই সেবা চলেছে এমনকি দুই ঈদের দিনগুলোতেও। দিনে-রাতে যখনই লাশের তথ্য সংবলিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এসএমএস পেয়েছে, দাফন টিমের স্বেচ্ছাসেবকেরা ছুটে গেছে সেখানে রোদ-বৃষ্টি ঝড়-বাদল উপেক্ষা করে।

 

 

কাকডাকা ভোর কিংবা গভীর রাত, যখনই কোনো বেওয়ারিশ লাশের খবর পেয়েছে ছুটে গিয়েছে আমাদের করোনা যোদ্ধারা

 

দাফনকাজে নিয়োজিতদের জন্যে যেমন ছিল সবরকম সুরক্ষার ব্যবস্থা, তেমনি মৃতদেহের ক্ষেত্রেও অনুসরণ করা হয় WHO নির্ধারিত সংক্রামক রোগে মৃতদেহ দাফনের সকল নিয়মাবলি।

 

এ কাজে ব্যবহৃত বডিব্যাগও নিজস্ব উদ্যোগেই তৈরি করে কোয়ান্টাম, যার মান ও গুণ নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলও করেছেন ভূয়সী প্রশংসা!

 

মৃত পুরুষ বা নারী হোন, মুসলিম/হিন্দু/বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান হোন- যথাযোগ্য মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্নের জন্যে গঠন করা হলো আলাদা আলাদা টিম।

 

এজন্যে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সব ধর্মের মানুষের আস্থাই ছিল কোয়ান্টামের ওপর, যে কোয়ান্টামের স্বেচ্ছাসেবকরা পরম মমতায় ধর্মীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন করে। আসলে ধর্ম যার যার, কোয়ান্টাম সবার- এই বাণীর যথার্থতা প্রমাণিত হয়েছিল এই করোনাকালে।

 

নয় মাসে তিন হাজার করোনা মৃতের দাফন করে কোয়ান্টাম।

 

হাজারো সাধারণ মানুষের পাশাপাশি যাদের মধ্যে ছিলেন রাধা শ্যাম সুন্দর মন্দির ইসকন-এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক অধ্যাপক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক মহাপরিচালক, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ এবং সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব, রাজশাহীর সায়েন্স ল্যাবরেটরির মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক-প্রফেসর ইমেরিটাসের মতো বিশিষ্ট সমাজ মানস ও গুণীজন যাদের শেষ বিদায়ের সঙ্গী ছিল কোয়ান্টাম।

 

 

দিনাজপুরে করোনা শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিলকে দাফন করেছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন

 

‘করোনা শহিদ’ তালিকা সংগ্রহ

 

এদিকে মহামারিতে মৃত ব্যক্তি শহিদ- (বোখারী, মুসলিম, নিসাই, আবু দাউদ) হাদিসের প্রেক্ষিতে করোনা মৃতকে ‘শহিদ’ আখ্যা দিয়ে কোয়ান্টাম নেয় এক মহতী উদ্যোগ- ‘করোনা শহিদ’ তালিকা সংগ্রহের কাজ।

 

এতে দেশব্যাপী সমস্ত করোনা শহিদের তালিকা ও বিবরণ সংগ্রহ করে ওয়েবসাইটে প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হয়।

 

একইসাথে ঘোষণা করা হয় যে জন্মদিন ও মৃত্যুদিনে তাদেরকে ধ্যানতীর্থ কোয়ান্টামমের জাবলে রাজিউনে স্মরণ করা হবে। তাদের জন্যে দোয়া ও প্রার্থনা হবে। আত্মিক স্বজনের মমতায় তাদের পরিবারের পাশে থাকবে কোয়ান্টাম।

 

পুরো জাতিকেই ফরজ তরকের জন্যে গোনাহগার হতে হতো

 

দাফন সামাজিক দায়িত্ব। সমাজের কিছু মানুষ যদি এই দায়িত্ব পালন করে, তো পুরো সমাজ এই দায়ভার থেকে মুক্ত হয়।

 

আর যদি কেউই না করে, পুরো সমাজকে এই দায়ভার ইহকাল এবং পরকালে বহন করতে হবে এবং স্রষ্টার কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

 

তাই করোনা শহিদদের সম্মানজনক শেষ বিদায়ের মাধ্যমে কেবল তাদের স্বজনদেরই নয়, প্রকারান্তরে পুরো জাতিকেই ফরজ তরকের দায় থেকে মুক্ত করেছে কোয়ান্টাম।

 

কোয়ান্টাম ছিল পথিকৃৎ

 

করোনাকালে অনেক দেশেই আমরা দেখেছি- মাটি গর্ত করে ক্রেন দিয়ে লাশ ফেলা হয়েছে। কোথাও কোথাও কবরে লাশ নামানো হয়েছে লাঠি দিয়ে। কোথাও বা কাপড়ে পেঁচিয়ে।

 

 

করোনা আতংকে বহু দেশে এভাবেই অশ্রদ্ধাভরে হয়েছে শেষকৃত্য (ছবিসূত্র- দ্য ফেডেরাল নিউজ)

 

কিন্তু করোনা মৃতদের কোয়ান্টাম শুধু ‘শহিদ’ আখ্যা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করে নি, মর্যাদা কীভাবে দিতে হয় তারও পথিকৃৎ হয়েছে।

 

ফলে যত্নে গোসল, কবরে নেমে মৃতকে শোয়ানো- করোনা-মৃতকে ঘিরে মমতার পরশে এই শেষ বিদায় জানানোর দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে যে অল্প কয়েকটি জাতি করতে পেরেছে বাঙালি তাদের অন্যতম।

 

দাফন ফান্ডে সর্বস্তরের অংশগ্রহণ

 

সেইসাথে বাঙালি যে দাতার জাতি – তা করোনাকালে ফাউন্ডেশনের দাফন ফান্ডে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আরেকবার প্রমাণ হলো। সমর্থ-সচ্ছল মানুষরা যেমন উদার হাতে দান করেছেন, তেমনি যতটুকু সাধ্য আছে ততটুকু নিয়ে এগিয়ে এসেছেন সাধারণ মানুষও।

 

এক গৃহকর্মী শুনছিলেন, তার গৃহকর্ত্রী ফোনে কথা বলছেন কারো সাথে এই দাফন ফান্ডে দান নিয়ে। ফোন শেষে গৃহকর্ত্রীর কাছে আবেদন জানালেন, এই দাফন ফান্ডে তিনিও কিছু দান করতে চান। বেগম সাহেব কি তা নেবেন?

 

আসলে এবার একটি চরম সত্য আমাদের সামনে উঠে এসেছে- একজন মৃত আসলে নিঃস্ব। জীবিত অবস্থায় তার কোটি কোটি মূল্যমানের সম্পদও তখন আর তার নয়। নিজের কোনো সেবার বিনিময়ে মূল্য প্রদানের কোনো ক্ষমতা তার নেই।

 

কোভিড-১৯ দাফন কার্যক্রমটি তাই ছিল সম্পূর্ণ ফ্রি। এবং আমরা দেখেছি, বহু কোটি কোটিপতির দাফন-কাফনের সংস্থান হয়েছে অচেনা অজানা সাধারণ মানুষের দানের অর্থে।

 

দাফন ফান্ডের অর্থ দিয়ে ইতোমধ্যে কেনা হয়েছে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স ও তিনটি লাশবাহী ফ্রিজার ভ্যান। যা দিয়ে পরবর্তীতে ঢাকার বাইরের জেলা শহরগুলোতেও লাশ পরিবহন করা গেছে স্বচ্ছন্দে।

 

স্বেচ্ছাসেবীরাই ছিল আমাদের শক্তি

 

আসলে আমাদের শক্তির জায়গা ছিল স্বেচ্ছাসেবী কোয়ান্টিয়াররা, মানবতার ক্রান্তিলগ্নে সৃষ্টির সেবার কাজটিকে তারা গ্রহণ করেছিল অসাধারণ পুণ্যের কাজ মনে করেই।

 

কারণ আতঙ্কের ডামাডোলে নিজেকে ঝুঁকির মুখে ফেলে যে কাজ তা স্রেফ পেশাদার লোক বা চাকরিজীবীদের দিয়ে করা সম্ভব নয়।

 

 

ওয়াইএমসিএ ভবনে দাফনকর্মীদের জন্যে পিপিই বানাতে ব্যস্ত দাফন টিমের স্বেচ্ছাসেবীরা

 

কোয়ান্টাম যখন লাশ দাফনের কাজ শুরু করে তখনো দেশের অন্য সংগঠনগুলো কাজ শুরু করে নি। কারণ করোনায় মৃত্যের লাশ দাফনে যে সতর্কতা অবলম্বন করতে হয় সে-ব্যাপারে প্রশিক্ষণ ছিল না তাদের। ছিল না পর্যাপ্ত লোকবলও।

 

আস্তে আস্তে আরো কিছু সংগঠন লাশ দাফনে কাজে এগিয়ে আসে। তবে সেটাও ছিল কেবল দিনের বেলায়। অঞ্চল ভেদে। মানে কেউ ঢাকায় কেউ নারায়ণগঞ্জে কেউ কুমিল্লায় কেউ চট্টগ্রামে।

 

কিন্তু কোয়ান্টাম দাফন সেবা বিস্তৃত ছিল সারাদেশে। আর উত্তরবঙ্গে এ-কাজে কোয়ান্টামই ছিল একমাত্র সংগঠন। সেখানে অন্য কোনো সংগঠন সেভাবে কাজ করার সুযোগ পায় নি।

 

উপসংহার

 

প্রতিবাদ নয়, কোয়ান্টাম বিশ্বাসী প্রতিকারে। আর প্রতিকূল পরিস্থিতিতে হাল ছেড়ে না দিয়ে পরিস্থিতিকে কল্যাণের পথে চালিত করার প্রোঅ্যাকটিভিটি চর্চায় বিশ্বাসী।

 

আর এবার করোনাকালে কোয়ান্টাম করেছেও তা। করোনাকালে অর্থ ও রসদ সংকটে অনেক প্রতিষ্ঠানই যেখানে বন্ধ হয়েছে, সংকুচিত বা স্তিমিত হয়েছে সেখানে সংগঠন হিসেবে কোয়ান্টাম হয়েছে আরো বিস্তৃত, আরো পরিচিত সদস্যদের সাথে একাত্ম। উন্মোচিত হয়েছে কাজের নতুন দিগন্ত।

 

কোভিড-১৯ দাফন কাজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শুরু হয়েছে এখন কোয়ান্টাম দাফন কার্যক্রম। যে-কোনো মৃতকেই মমতার পরশে শেষ বিদায় জানানোর কাজ। বনশ্রী ও কাকরাইলে স্থাপিত হয়েছে দুটি হাম্মাম।

 

করোনার শুরুতে আমরা যেমনটা ওয়াদা করেছিলাম- যে-কোনো পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে থাকার, সেটা করার তওফিক দেয়ার জন্যে আমরা স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ।

 

কৃতজ্ঞ আপনাদের প্রতিও, যারা আতঙ্কবাদীদের জোর প্রচারের মুখেও আস্থা রেখেছিলেন কোয়ান্টামের প্রতি।

 

সূত্র: কোয়ান্টাম মেথড

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM