1. admin@hostpio.com : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
  2. azmulaziz2021@gmail.com : Emon : Armanul Islam
  3. musa@informationcraft.xyz : musa :
সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
মক্কা ও মদীনার দুই পবিত্র মসজিদে ২০০ নারী নিয়োগ ডেনিমে বিশ্বের প্রভাবশালীদের তালিকায় বাংলাদেশির নাম নবীজী (স) সবচেয়ে বেশি নিতেন মুখের যত্ন! ইতিহাসে অক্টোবর ১৬ – সমাজসেববক, স্বদেশী আন্দোলনের নেত্রী মনোরমা বসু মাসীমা এর মৃত্যুদিন সৌদি বাদশা ফাহাদ বাংলাদেশের প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীমকে “মুহিব্বুল খায়ের” হিসেবে উপাধিতে ভূষিত ইতিহাসে অক্টোবর ১৫ – বিজ্ঞানী ও একাদশ রাষ্ট্রপতি ড. এ পি জে আব্দুল কালাম জন্মগ্রহন করেন ময়মনসিংহে শ্রমিকদের জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প গুনাহের শাস্তির জন্যে এসে নিয়ে গেল ঝুড়িভরা খেজুর! ইতিহাসে অক্টোবর ১৪ – খ্যাতনামা রবীন্দ্র বিশারদ পুলিনবিহারী সেন এর মৃত্যুদিন মোস্তফা পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী

বন্ধু না কি চামচা?

  • সময় শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
  • ২৮৯ বার দেখা হয়েছে

বন্ধুত্ব’ দেয়ার নাম; কোনোকিছু পাওয়ার নাম না…

আসলে এটাও একটা মানসিক সমস্যা।

বান্ধবীকে যখন মনে করবেন যে সে আপনার কথা শুনবে অর্থাৎ যখন কন্ট্রোল করতে চাইবেন তখন সে কিন্তু আর বান্ধবী থাকছে না।

তখন সে কী হচ্ছে?

তখন আপনি কর্তৃত্ব করতে চান এমন কেউ হয়ে যাচ্ছে। তখন আপনি আসলে তাকে আপনার ‘দাস’ বানাতে চাচ্ছেন। আপনার অনুগত একজন বানাতে চাচ্ছেন।

তো যখনই এটা করতে চাইবেন আপনি কষ্ট পাবেন। সে যখন অন্যের সাথে কথা বলবে, তখন আপনার কষ্ট লাগবে হ্যাঁ, আমাকে ছেড়ে অন্যের সাথে কথা বলছে! এজন্যে কখনো possessive হবেন না। কোন প্রয়োজন নাই!

কারণ পৃথিবীতে আপনি একা এসেছেন এবং আপনি একাই পৃথিবী থেকে যাবেন। যাওয়ার সময় আপনার বান্ধবী কিন্তু আপনার সাথে যাবে না।

আর বন্ধুত্ব হয় সমানে সমানে। যখনই আপনি কর্তৃত্ব করতে চাচ্ছেন, সে আপনার বন্ধু থাকছে না।

কিন্তু যখন আপনি তার মঙ্গল চাচ্ছেন, কল্যাণ চাচ্ছেন, আপনি যখন দিতে চাচ্ছেন তার কাছে থেকে যখন কিছু চাচ্ছেন না, তখন হচ্ছে এটা বন্ধুত্ব।

‘বন্ধুত্ব’ দেয়ার নাম। কোনোকিছু পাওয়ার নাম না।

রাজকুমারীর সই বনাম বান্ধবী…

আপনার আসলে এটা বন্ধুত্ব না। এটা হচ্ছে ধরেন আগেকার দিনে প্রত্যেক রাজকুমারীর সাথে সই থাকত।

তাদেরকে ‘সই’ বলা হতো। কিন্তু আসলে তারা ‘সই’ না। তারা হচ্ছে তার ‘চামচা’।

মানে আপনি কিছু চামচা চাচ্ছেন যে সবসময় আপনার কথা শুনবে, আপনারটা “হাঁ” বলবে, অন্য কোনোদিকে তাকাবে না, ‘হুজুর হুজুর’ করবে।

তো ‘চামচা’ তো বান্ধবী না। আগেও বলেছি, বন্ধুত্ব হচ্ছে দেয়ার নাম, কোনোকিছু পাওয়ার নাম না।

প্রেম যেরকম হচ্ছে দেওয়ার নাম পাওয়ার নাম না।

আমাদের এখন সমস্যা কোথায়? আমাদের এখানে প্রেম মানে হচ্ছে পাওয়ার নাম পাইতে হবে। এজন্যে আমাদের সমস্যা। আর প্রেম যতক্ষণ দেয়ার নাম থাকে ততক্ষণ কোনো, কোনো সমস্যা থাকে না।

ধরেন আমার সমস্যা নাই কেন? অনেকে একসময় কাছে এসেছেন। আবার দূরে চলে গেছেন। আমিও ভাবি যে, শোকর আলহামদুলিল্লাহ, তার যতক্ষণ আমার প্রয়োজন ছিল ততক্ষণ আমার কাছে এসেছে।

তার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। এখন সে স্বাধীন, সে উড়ে যাচ্ছে।

পাখির প্রতি দরবেশের মায়া! কিন্তু এই মায়াটা তার বৃত্ত হয় নি!

আমরা তো সেই ডানা ভাঙা পাখির গল্পও বলেছি।

খলিল জিব্রানের ব্রোকেন হার্টের একটা গল্প। টেম্পেস্ট, ঝড় আর কি।

মানে একজন দরবেশ- দরবেশ বলেন, ঋষি বলেন, সাধক বলেন, সাধু বলেন তার বাস্তব রূপ হচ্ছে এই গল্পটা।

লেবাননের গল্প। এইরকম শীত। ওখানে আবার শীতের সময় বৃষ্টি হয়, ঝড় হয়।

তো দরবেশ তো থাকেন সেখানে।

ঝড়ের ঝাঁপটায় একটা পাখি এসে ভাঙা জানালা দিয়ে ভেতরে পড়ল এসে।

তো পাখিটা আর উড়তে পারছে না। ভিজে চুপসে গেছে। উড়তে পারছে না। ওঠার চেষ্টা করছে, উড়তে পারছে না।

তো দরবেশ পাখিটাকে নিলেন। আগুনের কাছে তাকে রাখলেন।

আগুনের তাপে তার ভেজা শরীর আস্তে আস্তে আস্তে আস্তে আস্তে ঠিক হলো।

ডানাভাঙা, ডানা ভেঙে গেছে। একটা কাঠি দিয়ে সুতো দিয়ে গাছ গাছরার রস লাগিয়ে বেঁধে দিলেন।

তো খাওয়া দিচ্ছেন তাকে, আদর করছেন, সবকিছু করছেন।

আস্তে আস্তে পাখি সুস্থ হয়ে গেল।

কাঠিটা খুলে দিলেন।

ডানা এখন সে একটু একটু নাড়তে পারে।

একদিন তিনি দেখলেন যে পাখি মেঝে থেকে উঠেছে জানালার কাছে।

তো দেখে উনি চিন্তা করলেন পাখিটার ভবিষ্যৎ। যে আরো কয়েকদিন সে এখানে থাকবে। আরেকটু যখন ডানা শক্ত হবে, এক সুন্দর সকালে সে উড়ে যেখানে ছিল হয়তো সেই পাখির পালের সাথেই সে চলে যাবে।

পাখির প্রতি তার মায়া হয়েছে। কিন্তু এই মায়াটাকে তিনি বৃত্ত বানাতে চান নাই।

যে ঠিক আছে, ডানাভাঙা পাখির যত্ন নেয়াটা হচ্ছে আমার কাজ। ডানা ঠিক করে দেয়াটা হচ্ছে আমার কাজ।

কিন্তু ডানা যখন তার ঠিক হলো তার উড়ে যাওয়ার স্বাধীনতা দেওয়াটাও হচ্ছে আমার কর্তব্য।

এবং পাখি উড়ে গেল।

তিনি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলেন যে না, ঠিকাছে, আমার যেটুকু কাজ ছিল, দায়িত্ব ছিল সেটুকু আমি পালন করলাম। পাখি উড়ে যাক আরকি।

তো বন্ধুত্ব হচ্ছে এটা, এটা হচ্ছে ফ্রেন্ডশিপ, সমমর্মিতা আর কি। পাখিটাকে লালন করা, পাখিটার ডানাটাকে ঠিক করা এবং তাকে উড়তে সাহায্য করা।

আপনি সত্যিকারের বন্ধু তখন হবেন যখন সে উড়ে গেলেও আপনার কোনো কী থাকবে না?

আপনার শুকরিয়া থাকবে, যে তার যতদিন প্রয়োজন ছিল, আমি তাকে যত্ন করেছি, সমমর্মিতা দিয়েছি, মমতা দিয়েছি, ভালবাসা দিয়েছি।

আজকে তার সামর্থ্য হয়েছে সে উড়ে গেছে। সে সুখে থাকুক, ভালো থাকুক।

এইখানটায় আমরা ভুল করি।

পরকালের প্রস্তুতির জন্যে ভালো লাগাটাকে কাজে লাগান…

যেমন আমরা কিন্তু এই যে কোর্স শুরু করেছিলাম ঐ কারণে। যে ডানাভাঙা পাখিরা আসবে এবং তাদের ডানা ঠিক হবে, তারা উড়ে যাবে।

কিন্তু কিছুদিন পরে দেখলাম কিছু পাখি আছে, উড়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েও উড়ে যায় না আর কি। আসে।

তো যারা আসে ভাবলাম যে আচ্ছা যারা আসে তাদের নিয়েই কি করা যায়? তাদেরকে আটকে রাখা না, তাদের ভবিষ্যৎটা সুন্দর করা।

কারণ এই পৃথিবীটা হচ্ছে ভবিষ্যতের জন্যে যে, আমাদের কাল কয়টা? ইহকাল এবং পরকাল। তো আমি দেখলাম যে ইহকালে তার ডানা ঠিক হয়ে গেছে। কিন্তু সে উড়ে যায় নি, সে কাছে আসতে চায়, সে কাছে থাকতে চায়। আমার কাছে আসলে তার ভালো লাগে।

তাহলে এই ভালোলাগাটাকে কী করা যায়? তার পরকালটাকে সুন্দর করার জন্যে এই ভালো লাগাটাকে কাজে লাগানো যায়।

যে ঠিকাছে। এই পাখিগুলোর ইহকাল তো মানে ডানা ঠিক হয়ে গেছে ঠিক আছে তারপরও যাচ্ছে না যখন, তাহলে আসল যে কাল, মানে ইহকাল তো কত বছর?

কারো ১৮ বছর, কারো ২০ বছর, কারো ৩০ বছর, কারো হয়তো ১৮০ বছর। কিন্তু এটার শেষ আছে।

কিন্তু পরকালের কোনো শেষ নাই।

আর ইহকালটা হচ্ছে কী? এই পরকালের জন্যে প্রস্তুতি।

তো দেখলাম যে সে যখন থাকছে, তো তার পরকালের প্রস্তুতিটা আমরা সুন্দর করে দিই।

এই আমরা কাজের মধ্যে, এই ভালো কাজের মধ্যে লেগে গেলাম। যে ঠিক আছে আসেন আমরা কিছু কাজ করি।

এবং তারা সঙ্গ পেলো, আনন্দ পেলো এবং সেই সাথে কী হলো? পরকাল, অনন্তকালের সমস্ত সামগ্রী সে সঞ্চয় করল।

যদি কেউ উড়ে যেতে চায় যাক! কিন্তু যারা আছে…

আজকে ধরেন এই যে যারা চলে গেছেন, তাদের কী হচ্ছে? তারা কি চলে গেছেন? তারা পার্মানেন্ট ইনকাম সোর্স রেখে গেছেন।

আজকে কী হচ্ছে? আজকে একটা জ্ঞানের নগরী গড়ে উঠছে, একটা আলোকিত জনপদ গড়ে উঠছে। যে এখানে যত কাজ হচ্ছে এবং যত বছর পর্যন্ত যত শতাব্দী ধরে এই কাজ চলতে থাকবে এটার যত পূণ্য এই যারা যতটুকু কাজ করেছেন কন্টিনিউয়াস এটা পেতে থাকবেন। প্রত্যেক বছর ডিভিডেন্ড পেতে থাকবেন।

যে আচ্ছা, এখন কাজের সাথে এই অ্যাড হয়েছে, ঠিক আছে তার এত ডিভিডেন্ড এত মুনাফা!

তার মানে আমলনামাতে এই নেকি যুক্ত হচ্ছে।

তো আমরা possessive হই নাই। আমরা ঈর্ষান্বিত হই নাই।

আরেকজনের সাথে বান্ধবী কথা বলেছে খুব ভালো। কেউ যদি উড়ে যেতে চায় উড়ে যাক, কিন্তু যারা থাকতে চায় তাদের নিয়ে আমরা ইহকাল শুধু নয়, পরকালীন যে সঞ্চয় পরকালীন যে বিনিয়োগ একটা সফল বিনিয়োগ আমরা করতে পারলাম।

যেটা বহমান সৎকর্ম। যেটা সদকায়ে জারিয়া এবং এরপরে যেটা কালকে তো বলছিলাম যে আমরা আমরা কাজ করছি ফোর্থ জেনারেশন সাথেও।

থার্ড-সেকেন্ড তো আছে ফোর্থ-জেনারেশন এবং এর পরে যেটা হচ্ছে আপনাদের পরে জেনারেশন তারপরে জেনারেশন তারপরে জেনারেশন যারা অরিজিনাল কাজটা করেছেন তাদের ডিভিডেন্ড কী পরিমাণ জমা হচ্ছে!

মানে একটা কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার যেভাবে ডিভিডেন্ড/শেয়ার থাকলে যেরকম ডিভিডেন্ড পেতে থাকেন, তারা ডিভিডেন্ড পেতে থাকবেন। যতদিন পর্যন্ত পৃথিবী থাকবে ততদিন পর্যন্ত তারা ডিভিডেন্ড পেতে থাকবেন।

তো তারা কত লাকি! কত ভাগ্যবান!

যে এইরকম একটা পুণ্যের অন্যের সাথে এইরকম একটা সৎকর্মের সাথে তারা সংযুক্ত।

এবং যাদের শেয়ার বেশি তাদের ডিভিডেন্ড আরো বেশি। এখানে কর্মটাই হচ্ছে শেয়ার। কে কতটুকু অংশ নিলাম আমরা? এটাই হচ্ছে শেয়ার

এবং সেইভাবে আমরা আমাদের পুণ্য আমরা পেতে থাকব। এবং মজাটা হচ্ছে এইখানে!

এবং যারা উড়ে গেছে তাদের জন্যেও দোয়া করি। কিন্তু যারা থেকে গেছে তারা পুরো জিনিসের অংশে পরিণত হয়েছে।

পজেসিভ হওয়াটা হচ্ছে পাপ…

অতএব এই যে বন্ধুত্ব আপনি যদি সত্যিকারের বন্ধু হয়ে থাকেন তাহলে কী করতে হবে? তার যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু তাকে দেন।

Possessive হবেন না, possessive হওয়াটাই হচ্ছে এটা পাপ। এটা তাকে চামচা বানিয়ে ফেলার উদ্যোগ। অতএব চামচা বানাবেন না।

এবং আপনি যেহেতু নিজেই মনে করছেন যে, যেহেতু জিনিসটা ঠিক না, অতএব আমরা দোয়া করি যাতে এখান থেকে আপনি পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারেন।

[শিক্ষার্থী অন্বেষায়ন, কোয়ান্টামম, ০৩ জানুয়ারি ২০২০ থেকে ০৭ জানুয়ারি, ২০২০]

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM