1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৫২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
ইফতার বিতরণ করলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা বাংলাদেশ আরএমজি প্রফেশনালস্ এর উদ্যোগে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষদের মাঝে ঈদ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ- গাজীপুরে এতিম শিশুদের সাথে বিডিআরএমজিপি এফএনএফ ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল গ্রীষ্মকাল আসছে : তীব্র গরমে সুস্থ থাকতে যা করবেন ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল তাইওয়ান, সুনামি সতর্কতা ঈদের আগে সব সেক্টরের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবি এবি পার্টির সালমান খান এবার কি বচ্চন পরিবার নিয়ে মুখ খুলতে যাচ্ছেন ঐশ্বরিয়া? আমার ও দেশের ওপর অনেক বালা মুসিবত : ইউনূস লম্বা ঈদের ছুটিতে কতজন ঢাকা ছাড়তে চান, কতজন পারবেন?

প্রজ্ঞার নিবাস কোথায়?

  • সময় বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
  • ১২০৯ বার দেখা হয়েছে

প্রজ্ঞার নিবাস কোথায়? থাকে কোথায় সে? প্রজ্ঞা হচ্ছে জ্ঞান যোগ অন্তর্দৃষ্টি যোগ দূরদৃষ্টি সমান সমান স্বতঃস্ফূর্তভাবে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

কিন্তু এই প্রজ্ঞার নিবাসটা কোথায়?

কারণ যে জিনিস যেখানে থাকে, যেখানে পাওয়া যায়, সে জিনিস তো সেখানে খুঁজতে হবে। আপনি যদি মাছের দোকানে গিয়ে নাকের নথ খোঁজেন। মাছওয়ালাকে যদি বলেন, ভাই বউর জন্যে একটা নথ কিনব, একটা নথ দাও না। নথ মানে হচ্ছে নোলক। তো মাছের দোকানদার কী বলবে? প্রথমে আপনার দিকে তাকাবে, তারপর চিন্তা করবে যে মাথা ঠিক আছে কিনা। অথবা প্রথমে ভাবতে পারে যে আপনি তার সাথে রসিকতা করছেন। যখন বুঝবে যে না, রসিকতা করছেন না সিরিয়াসলি বলছেন তখন সে বলবে যে মাথা ঠিক আছে কিনা।

আসলে যে জিনিস যেখানে পাওয়া যায় সে জিনিস তো খুঁজতে হবে সেখানে। অন্যখানে খুঁজলে পাওয়া যাবে না।

প্রজ্ঞার নিবাস হচ্ছে আমাদের মন। মনের তিনটা স্তর রয়েছে- সচেতন, অবচেতন, অচেতন। কনশাস, সাব-কনশাস, আন-কনশাস। তো মনের যে আন-কনশাস স্তর, এই আন-কনশাস স্তরকেই সাধকরা বলেন সুপার কনশাস স্তর। অর্থাৎ কনশাস সাব-কনশাস এবং সুপার-কনশাস।

এই সুপার-কনশাস যে স্টেইজ, যে স্তর এটাই হচ্ছে প্রজ্ঞার নিবাস। এবং মাইন্ডের এই সুপার-কনশাস অংশটাই মহাবিশ্বের যে জ্ঞানভাণ্ডার, সেই জ্ঞানভাণ্ডারের সাথে সংযুক্ত।

বিষয়টা আরেকটু সহজভাবে বলা যায়- হাজবেন্ড এবং ওয়াইফ একই বিছানায় শুয়ে আছেন এবং পরস্পরের সাথে মোবাইলে কথা বলছেন। এটা কিন্তু সত্য ঘটনা। এক ইয়ংম্যান। মোবাইলে একটি মেয়ের সাথে পরিচয় এবং পরিচয় হতে ঘনিষ্ঠতা অবশেষে এটা বিয়েতে পরিণত হলো।

এখন বিয়ে হলো। বাসরঘরে দুজন দুজনের সাথে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দবোধ করছে না। এবং কথাবার্তা তেমন কিছুই হয় নাই। এরকম কয়েকদিন যাওয়ার পরে এলেন সে ভদ্রলোক। আমাকে বললেন যে এই ব্যাপার। আমি হেসে বললাম, ঠিক আছে। আপনারা ওখানেও মোবাইলে কথা বলেন। আমি বলেছি, জোক করে। দুদিন পরে এসে খুব খুশি। বলেন যে, “আপনি এইরকম একটা সমস্যার সমাধান করে দিয়েছেন। আমরা এখন ওখানে মোবাইলেই কথা বলি। এবং এখন আমাদের কথা বলতে কোনো অসুবিধা হয় না!”

এখন হাজবেন্ড-ওয়াইফ পাশাপাশি বিছানায় বসে যদি কথা বলেন, তাহলে কথাটা যায় সরাসরি কানে। যখন মোবাইলে কথা বলছেন তখন কথাটা কি সরাসরি কানে যাচ্ছে? তার মোবাইল থেকে টাওয়ার থেকে টাওয়ার, টাওয়ার থেকে টাওয়ার হয়ে সার্ভারে যাচ্ছে।

সার্ভারে ওটা রেকর্ড হচ্ছে। আমরা আবার অনেক সময় মনে করি যে, আমরা যা বলছি এটা আনরেকর্ডেড। আপনি যা বলেন, এভরিথিং ইজ রেকর্ডেড। যেখান থেকে বলেন… এভরিথিং ইজ রেকর্ডেড। ভাইবারে বলেন, হোয়াটসঅ্যাপে বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেন। এভরিথিং ইজ রেকর্ডেড।

এখন, আপনার ওয়াইফের মোবাইল যদি অন্য কোম্পানির হয়। ধরুন আপনি রবি আর সে হচ্ছে সোম। তো আপনার কথা কিন্তু রবির সার্ভার থেকে এটা আবার সোমের সার্ভারে যাবে। সোমের সার্ভার থেকে টাওয়ার থেকে টাওয়ার ঘুরে আপনার ওয়াইফের মোবাইলে আসছে।

তার মানেটা কী? একটা মোবাইল যেভাবে সংযুক্ত হচ্ছে সেন্ট্রাল সার্ভারের সাথে। একইভাবে এই যে যত মন আমরা আদম এবং হাওয়ার বংশধর। একজন পুরুষ এবং একজন নারীর জেনেটিকেল বিবর্তন, বিবর্তন বিবর্তন অংশ অংশ অংশ অংশ ভাগ হতে হতে হতে হতে এই আমরা।

তো আমাদের এই যে অন্তর, আমাদের এই যে মন, সাধকরা বলেন এটা হচ্ছে বিশ্বমন। আমাদের যে সচেতনতা, এটা মহাচেতনা মহাসচেতনতার সাথে যুক্ত। যেভাবে একটা মোবাইল থেকে আরেকটা মোবাইলে চলে আসে একই প্রক্রিয়ায় আপনার যে চিন্তা আপনার যে ভাবনা এটা সেই বিশ্বমন, সেই সেন্ট্রাল সার্ভারের সাথে সংযুক্ত।

এবং প্রত্যেকটা মন হচ্ছে সেন্ট্রাল সার্ভারের সাথে সংযুক্ত মনের একেকটা ডিভাইস। সেটা মোবাইল হতে পারে সেটা কম্পিউটার হতে পারে সেটা ল্যাপটপ হতে পারে এবং এই ডিভাইসের মাধ্যমেই সেন্ট্রাল সার্ভারের সাথে সংযুক্ত হয়।

তো প্রজ্ঞা হচ্ছে সেই জায়গা থেকে, যেখানে সমস্ত জ্ঞান সংরক্ষিত রয়েছে। সেই মহাসার্ভারের সাথে আপনার মনটাকে সংযুক্ত করার প্রক্রিয়া। যখনই সেখানে সংযুক্ত হয়ে গেল, স্বতঃস্ফূর্তভাবে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার কী করণীয়, কী করণীয় না।

তাহলে প্রজ্ঞার অবস্থান হচ্ছে আমাদের মনের অতিচেতন স্তর, সুপার-কনশাস স্তর। এবং এই স্তরটাই মহাবিশ্বের যে কেন্দ্রীয় সার্ভার, সেই সার্ভারের সাথে সংযুক্ত। মানুষের তৈরি সার্ভারই যদি আপনার সমস্ত কথা সমস্ত ছবি লিপিবদ্ধ করে রাখতে পারে। তাহলে স্রষ্টার যে সার্ভার সেই সার্ভারের কী অবস্থা! আপনি যাই বলেন, যাই করেন সব কিছুই কিন্তু লিপিবদ্ধ হচ্ছে।

তাহলে আমরা দেখলাম যে প্রজ্ঞার নিবাস হচ্ছে আমাদের মনের অতিচেতন স্তরে। এবং এই অতিচেতন স্তরটাই কানেক্টেড উইথ সেন্ট্রাল সার্ভার।

[প্রজ্ঞা জালালি, ০৩ জুলাই, ২০১৯]

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM
Translate »