1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:১১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
ইফতার বিতরণ করলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা বাংলাদেশ আরএমজি প্রফেশনালস্ এর উদ্যোগে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষদের মাঝে ঈদ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ- গাজীপুরে এতিম শিশুদের সাথে বিডিআরএমজিপি এফএনএফ ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল গ্রীষ্মকাল আসছে : তীব্র গরমে সুস্থ থাকতে যা করবেন ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল তাইওয়ান, সুনামি সতর্কতা ঈদের আগে সব সেক্টরের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবি এবি পার্টির সালমান খান এবার কি বচ্চন পরিবার নিয়ে মুখ খুলতে যাচ্ছেন ঐশ্বরিয়া? আমার ও দেশের ওপর অনেক বালা মুসিবত : ইউনূস লম্বা ঈদের ছুটিতে কতজন ঢাকা ছাড়তে চান, কতজন পারবেন?

বালা-মুসিবত থেকে কীভাবে নিরাপদ থাকব?

  • সময় বুধবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
  • ১১৪১ বার দেখা হয়েছে

প্রশ্ন : আমি বেশ ভালো আছি। কিন্তু বর্তমান সময়ে বিভিন্ন আসমানি জমিনি বালা-মুসিবত, ডেঙ্গু, গুজব, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন সমস্যায় সমাজ জর্জরিত। কীভাবে আমরা নিরাপদ থাকব? আপনার পরামর্শ চাই।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

উত্তর : আসলে আপনি একা কখনো নিরাপদ থাকতে পারবেন না। নিরাপত্তার অনুভূতিই আসবে না।

মানুষ সবচেয়ে বেশি ভয় পায় কখন? যখন সে একা থাকে এবং অন্ধকারে থাকে। তো আপনাকে কী করতে হবে? আপনাকে আলোতে আসতে হবে।

অন্ধকার কী? আসলে শুধু আলো না থাকলে সেটা যে অন্ধকার তা নয়।

অজ্ঞতা, অবিদ্যা, ভুল ধারণা এগুলো হচ্ছে সবচেয়ে বড় অন্ধকার। ভুল সংস্কার এটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় অন্ধকার।

তো যখনই জ্ঞানের পথে আসবেন, আপনি আলোর পথে আসবেন। যখন জ্ঞানের মাঝে থাকবেন, আপনি আলোর মাঝে থাকবেন।

আরেকটা কী? অসহায় কখন? যখন সে একা থাকে।

কী করবেন? সঙ্ঘে থাকবেন সবসময়। সঙ্ঘবদ্ধ থাকবেন। বলবেন যে, এইখানে আসলাম সঙ্ঘ হয়ে গেল! আমি তো অন্য জায়গায় আছি।

আসলে দূরে থেকেও সঙ্ঘবদ্ধ থাকা যায়, যদি আপনি সঙ্ঘের সাথে একাত্ম থাকেন। আত্মা যদি সঙ্ঘের সাথে থাকে।

আবার এখানে থেকেও আপনি সঙ্ঘ থেকে অনেক দূরে থাকতে পারেন।

এক বিছানায় স্বামী-স্ত্রী পাশাপাশি শুয়ে থেকেও একজন আরেকজনের থেকে লক্ষ যোজন দূরে থাকতে পারে। আবার লক্ষ যোজন দূরে থেকেও দুজন খুব কাছে থাকতে পারে, যদি অন্তরের টান থাকে।

তো সবসময় সঙ্ঘে একাত্ম থাকবেন। সবসময় মনে রাখবেন যে আমি একা না, আমি একটা বিশাল পরিবারের সদস্য, যেটা কোয়ান্টাম পরিবার। তাহলে আপনি আর একা থাকছেন না।

সবসময় মনে রাখবেন যে, আমার জন্যে দোয়া করার জন্যে কেউ আছে। আমার অনেক ভাইবোন আছে। অনেক ছেলেমেয়ে আছে। অনেক আত্মীয় আছে। আপনি দেখবেন, যে আপনার নিজেকে কখনো নিঃসঙ্গ মনে হবে না। আপনার ভয় থাকবে না এবং আপনি নিরাপদে থাকবেন।

আসলে নিরাপত্তাটা কী? একটা মশা আপনার জীবনকে অনিরাপদ করে ফেলেছে। একজন সন্ত্রাসী আপনার জীবনকে অনিরাপদ করে ফেলেছে। ঠিক আছে। একজন অন্যায়কারী নারী নির্যাতক আপনার জীবনকে অনিশ্চিত করেছে।

কী করবেন? যখনই আপনি আলোতে থাকবেন, যখনই আপনি সঙ্ঘে থাকবেন, আপনার ভেতরের শক্তি ডেভেলপ করবে। আপনার একা মনে হবে না এবং কখনো নিজেকে অনিরাপদ মনে হবে না। সবসময় নিজেকে নিরাপদ মনে হবে।

আর মৃত্যু তো যখন আসার তখন আসবে। যে বাঙ্কার পারমাণবিক বোমা পড়লে পড়লেও কিছু হবে না, সে-রকম বাঙ্কারে বসেও আপনি মারা যেতে পারেন।

পারমাণবিক বোমা লাগবে না, হিটলারকে মারার জন্যে পারমাণবিক বোমার প্রয়োজন হয় নাই। শত্রুপক্ষের কোনো অস্ত্রের প্রয়োজন হয় নাই। তিনি নিজের রিভলভার নিজে বের করে নিজের মাথায় গুলি করেছেন।

তিনি তো তার নিজের কাছেই নিরাপদ ছিলেন না। কেন? মূর্খতার জন্যে। কেন? জুলুমের জন্যে। কেন? নির্যাতনের জন্যে। কেন? অবিদ্যার জন্যে। কেন? মানুষকে সম্মান না করার জন্যে।

তাই সবসময় মনে রাখবেন, নিরাপত্তা এটা স্রষ্টার। স্রষ্টা যে-কাউকে যে-কোনো সময় যে-কোনো অবস্থা থেকে বের করে নিয়ে আসতে পারেন। যে-কোনো অবস্থায় নিরাপদ রাখতে পারেন। আবার আপনার আয়ু যখন শেষ হয়ে যাবে কোনো নিরাপত্তা বলয় কাজ করবে না। কোনো সিকিউরিটি কাজ করবে না।

এবং এই সিকিউরিটি নিয়ে তো খুব মজার গল্প ছিল। জ্যোতি বসু কমিউনিস্ট ছিলেন। যখন পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হলেন, স্বাভাবিকভাবে প্রোটোকল, সিকিউরিটি। তো সাংবাদিকরা বলল যে, আপনি একজন কমিউনিস্ট, এখন আপনার এই সিকিউরিটি? আপনি কি মনে করেন যে, এই সিকিউরিটি আপনার সিকিউরিটি দিতে পারবে?

তো উনি হেসে বললেন যে না, ওরা আমার সিকিউরিটি দিতে পারবে না। আবার প্রশ্ন তাহলে সিকিউরিটি নিয়ে ঘুরছেন কেন?

এবার তিনি বললেন, ঘুরছি একারণে আমি ছাড়তে চাইলে কি হবে সিকিউরিটি তো আমাকে ছাড়ছে না। তবে ওরা এট লিস্ট ঘটনা ঘটলে সাক্ষী তো দিতে পারবে যে না, জ্যোতি বসু নাই।

অতএব None can give your security। কেউ সিকিউরিটি দিতে পারবে না আল্লাহ ছাড়া।

অতএব সবসময় স্রষ্টার ওপর নির্ভর করবেন, বিশ্বাস করবেন যে যে-কোনো সিচুয়েশন আসুক আল্লাহ আমাকে সেখান থেকে হেফাজত করতে পারেন।

আর যখন আপনার ভেতরে আত্মিক শক্তি ডেভেলপ করবে সে আত্মিক শক্তি এবং আল্লাহর প্রতি আপনার যে বিশ্বাস, ভগবানের প্রতি যে বিশ্বাস, ঈশ্বরের প্রতি যে বিশ্বাস, সে বিশ্বাসই আপনার সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ।

আর কী করতে হবে? যে কারণে এই বিপদ বালা-মুসিবত আসছে এই কারণগুলো দূর করার জন্যে কাজ করতে হবে।

যেরকম এই যে নারী নির্যাতনকারী, এই যে ধর্ষক এদের তো কী হওয়া উচিত? এদের প্রকাশ্য ফাঁসি হওয়া উচিত। এদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, ফাঁসি হওয়া উচিত, জেল নয়।

আপনি কী করছেন? আপনি জেলখানায় তাকে ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। দোষ করল দোষ সে, আর আপনার আমার দেয়া ট্যাক্সের টাকায় সে জীবনযাপন করবে।

জেলখানাতে যারা আছে তারা তো আপনার ট্যাক্সের টাকায় জীবনধারণ করছে। সে আনন্দে থাকবে। আর যদি পয়সা কড়ি থাকে, শুনেছি ওখানেও নাকি কোনো কিছুর অভাব হয় না।

অতএব ধর্ষকের শাস্তি হওয়া উচিত প্রকাশ্য ফাঁসি। শিশু ধর্ষকের শাস্তি হওয়া উচিত প্রকাশ্য ফাঁসি। যাতে কেউ এইরকম জঘন্য কাজ করার সাহস না পায়। আসলে শাস্তি দৃষ্টান্তমূলক না হলে অপরাধ সবসময় বাড়তেই থাকবে।

অতএব দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্যে কী করতে হবে? মত গড়ে তুলতে হবে।

আপনি যদি চাওয়া শুরু করেন, সবাই যদি চাওয়া শুরু করে যে না, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক, স্বাভাবিকভাবে জনমত যেদিকে সরকার সেদিকে।

আর এই নির্যাতনকারী-ধর্ষক এদের কোনোরকম সহযোগিতা করা থেকে সবাই বিরত থাকবেন। এবং বিশেষত যারা এটার বিচার করতে পারেন, তারা যেন কোনো ধর্ষকের পক্ষ অবলম্বন না করেন। কোনো কর্মকর্তা যেন ধর্ষকের পক্ষে না দাঁড়ান। কোনো আইনজীবী যেন ধর্ষকের পক্ষে আদালতে না দাঁড়ান। এটা তাদের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে।

[প্রজ্ঞা জালালি, ৭ আগস্ট, ২০১৯]

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM
Translate »