1. admin@hostpio.com : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
  2. azmulaziz2021@gmail.com : Azmul Aziz : Azmul Aziz
  3. musa@informationcraft.xyz : musa :
সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ০৩:২১ অপরাহ্ন

জড়তার কারণে মিশতে পারি না- সমাধান কী?

  • সময় শুক্রবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
  • ৫০ বার দেখা হয়েছে

মানুষের সাথে সহজে মিশে যেতে চাই। কিন্তু জড়তার কারণে মিশতে পারি না। আমার মনে হয় অপরপক্ষ আমার সম্পর্কে কী মনে করবে!

সহজে মানুষের সাথে খাতির করতে পারি না বলে কষ্ট লাগে। আর কারো সাথে খাতির হয়ে গেলে মনে হয়, এই মানুষ আমাকে ছেড়ে চলে যাবে।

অন্যরা যখন সহজে খাতির করে ফেলে তখন মনে হয় ইস আমি তার মতো হলে সহজে মানুষের মতো মিশে যেতে পারতাম। এই সব চিন্তা থেকে মুক্তির উপায় কী?

এই সব থেকে মুক্তির উপায় হচ্ছে, চিন্তা না করা। এটা কোনো চিন্তার বিষয় হলো? চিন্তার কত বিষয় আছে!

আর সবার সাথে আপনার মেশার দরকারটা কী।

যার প্রয়োজন আপনি যদি তার প্রয়োজন পূরণ করতে পারেন তিনি আপনার সাথে মিশবেন। তিনি আপনাকে খাতির করবেন। যদি আপনার তার প্রয়োজন পূরণ করার সামর্থ্য থাকে।

সে সামর্থ্য বুদ্ধি হতে পারে, জ্ঞান হতে পারে, ব্যবহার হতে পারে, অর্থ হতে পারে- যে-কোনো কিছু হতে পারে।

অর্থাৎ আপনি যোগ্যতা অর্জন করেন, আপনি জ্ঞান অর্জন করেন। আপনি খুব সহজে মিশতে পারবেন।

আরও সহজে মেশার উপায় হচ্ছে সবসময় কী করবেন? সঙ্ঘে থাকবেন, সাদাকায়নে আসবেন।

এবং সাদাকায়নে আসলে মেশা খুব সহজ। আপনার জড়তার কোনো কারণ থাকছে না। কারণ আপনি তখন সেবা করছেন। আপনি কাজ করছেন।

এবং সাদাকায়নের কাজই তো হচ্ছে মানুষের সাথে মেশা, মানুষকে রিসিভ করা।

আপনি যখন মানুষকে রিসিভ করবেন তখন কী হবে? আপনি তখন কোয়ান্টামের লোক হয়ে যাচ্ছেন। তখন তিনি আপনার সাথে মেশার আগ্রহ অনুভব করবেন। এবং আপনার পক্ষে মেশাটা সহজ হবে।

কারণ মেশা সবসময় দুই পক্ষের আগ্রহের ওপর নির্ভর করে। এক পক্ষ কিন্তু মিশতে পারে না।

একপক্ষ যদি মিশতে যায় অন্যপক্ষ ভাবে যে কী রে! এত ঘেঁসাঘেঁসি করছে কেন! কারণটা কী?

কারণ এখন তো হচ্ছে যে চুন খেয়ে অধিকাংশেরই মুখ পুড়ে গেছে! এখন দই দেখলেও ভয় পায়। মনে করে যে, এটা দই না চুন!

অতএব কী করবেন?

মেশার আগে কেন মিশবেন- এটা আপনার কাছে খুব পরিষ্কার থাকতে হবে! যে আমি যে মিশব কেন মিশব। হোয়াই?

অর্থাৎ যে কাজটি করবেন, কেন করবেন এটা আপনার কাছে পরিষ্কার থাকতে হবে।

আপনি তো আপনি! আমি আপনার চেয়েও লাজুক ছিলাম! আমি কারো সাথেই কথা বলতে পারতাম না। আর মেয়েদের সাথে তো নাইই।

আমার মনে হতো যে মহিলা! ইয়া আল্লাহ মহিলা! মানে তার সাথে মেশাটা সাংঘাতিক লজ্জাজনক একটা ব্যাপার। কোনো মহিলার সাথে কথা বলব!

এখন তো আমার কাছে কোনো ‘মহিলা’ নাই। আমার কাছে কোনো ‘পুরুষ’ নাই।

আমার কাছে শুধু ‘মানুষ’ আছে। যাকেই দেখি মনে হয় যে সে ‘মানুষ’।

কেন?

কারণ আমি কেন মিশছি তার অর্থ আমি জানি। যার ফলে আমার কোনো জড়তা নাই।

আমি নিজের উদাহরণ এই জন্যে দিলাম যে, যাতে আপনাদের বোঝা সহজ হয়ে যায়।

এই যে আমি দাঁড়িয়ে কথা বলছি, ইম্পসিবল! এখন থেকে ৩০ বছর আগে এটা একটা অসম্ভব ব্যাপার ছিল!

টেবিলে বসে কথা বলতে পারতাম। কারণ আমার ক্লায়েন্টরা আসত। ওয়ান টু ওয়ান সম্পর্ক! একজন!

একজনের সাথে কথা বলতে পারতাম!

এবং কেন কথা বলতে পারতাম?

তিনি তার প্রয়োজনে আমার কাছে এসেছেন। এবং আমি তার প্রয়োজনকে পূরণ করতে পারছি।

তার প্রয়োজন পূরণ আমি করতে পারি- এই জন্য আমি তার সাথে কথা বলতে পারি।

এবং এর আগে কেন কথা বলতে পারতাম না?

কারণ যিনি আসছেন তার প্রয়োজনটা তো আমি পূরণ করতে পারছি না।

অথবা আমার কাছে তার কোনো প্রয়োজনই নাই। তাই তার সাথে আমার মেশার কোনো সুযোগ নাই।

অতএব সবসময় মনে রাখবেন যে কেন মিশবেন, কেন মেশা দরকার- এটা আপনার কাছে পরিষ্কার থাকা উচিত।

এখন আপনি কেন মিশবেন? আপনি মিশবেন তার উপকারের জন্যে।

কারণ তার উপকার করার প্রক্রিয়া, উপকার করার পন্থা আপনার জানা আছে। তাকে একটা পথ দেখানোর পথ আপনি জানেন।

অতএব তার সাথে মেশার আপনার একটা কারণ আছে। একটা অধিকার আছে। একটা দায়িত্ব আছে।

আপনি জানেন। আর সে জানে না। অতএব তাকে জানানোটা আপনার দায়িত্ব।

আপনি যখনই মনে করবেন যে না, তাকে জানানোর আমার দায়িত্ব। আমি তো আমার দায়িত্ব পালন করছি, তখন দেখবেন মেশাটা খুব সহজ হয়ে যাচ্ছে।

দুই নম্বর যেটা হচ্ছে- ‘কারও সাথে খাতির হয়ে গেলে মনে হয় এই মানুষ আমাকে ছেড়ে চলে যাবে’-

আপনি আনন্দিত হবেন। কারণ তার যখন প্রয়োজন শেষ হয়ে যাবে সে কী করবে?

সে চলে যাবে, চলে গেলে জায়গাটা ফাঁকা হবে, আরেকজন আসবে।

অতএব যদি কেউ চলে যায় যে খাতির হলে চলে যাবে, খুব আনন্দিত হবেন। ভাববেন তার প্রয়োজন পূরণ হয়ে গেছে।

কারণ কারও প্রয়োজন পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কেউ আপনাকে ছেড়ে যাবে না।

যে আসবে আপনার কাছে সে তখনই যাবে, যখন মনে করবে আপনার কাছে তার আর কোনো প্রয়োজন নাই।

খুব ভালো! ঐ যে ডানা ভাঙা পাখি!

ডানা শক্ত হয়েছে। এখন সে উড়ে যাবে। উড়ুক।

তারপরও কিছু পাখি থেকে যাবে! আপনি দেখবেন যে সবাই উড়ে যাচ্ছে না। সবাই যাবে না।

যে যাওয়ার সে যাবে। যে থাকার সে থাকবে।

তাকে নিয়ে আপনি আরও আরও অনেকের সাথে মিশতে পারবেন।

অর্থাৎ মেশার কারণটা আপনার কাছে পরিষ্কার থাকতে হবে। তাহলেই মেশাটা সহজ হবে।

[শিক্ষার্থী অন্বেষায়ন, কোয়ান্টামম, ০৩ জানুয়ারি ২০২০ থেকে ০৭ জানুয়ারি, ২০২০]

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM