1. admin@hostpio.com : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
  2. azmulaziz2021@gmail.com : Azmul Aziz : Azmul Aziz
  3. musa@informationcraft.xyz : musa :
বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন

শুরু থেকে শুরু

  • সময় মঙ্গলবার, ৯ মার্চ, ২০২১
  • ১০০ বার দেখা হয়েছে

অনেক বছরে আগে খুবই দরিদ্র এবং অভাবগ্রস্ত এক সৈনিক উদ্দেশ্যহীনভাবে এক দারিদ্রক্লিষ্ট গ্রামে আসে। তিনি গ্রামবাসীদের অনুরোধ করেন তাকে রাত্রিযাপন করতে দেয়ার জন্যে। গ্রামবাসীরা এতটাই দরিদ্র ছিলো যে তাদের কাছে খাওয়ার কিছু ছিলো না। তাই গ্রামবাসী তাকে খাবারের জন্যে অন্য কোথাও যেতে বললো। তখন সৈনিকটি বললো, যদি তোমরা আমাকে একটা পাত্র জোগাড় করে দাও আমার কাছে তোমাদের সকলের জন্যে স্যুপ তৈরির জন্যে প্রচুর উপকারণ আছে।

গ্রামবাসী তাকে একটি পাত্র জোগাড় করে দিয়ে উৎসুকভাবে দেখতে লাগলো সে কী করে। সৈনিক তখন পাত্রটি পানি দিয়ে পূর্ণ করে তার নিচে আগুন জ্বালালো। তারপর সে তার ছোট থলে থেকে তিনটি গোল পাথর বের করে পানিতে দিয়ে দিলো। যখন পানি ফুঁটে উঠলো তখন সৈনিকটি ক্ষুধার্তভাবে পানির গন্ধ নিয়ে বললো, আমি পাথরের স্যুপ খেতে ভালবাসি কিন্তু এতে যদি একটি ছোট্ট বাঁধাকপি দেয়া যেতো এটা আরো মজার হতো। এটা শুনে একজন গ্রামবাসী সেখান থেকে সরে গিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে তার নিকট লুকিয়া রাখা একটা বাঁধাকপি এনে পাত্রে দিয়ে দিলো। কিছুক্ষণ পরে সৈনিকটি আবার স্যুপের স্বাদ নিলো এবং বললো এটা খুব ভালো হয়েছে কিন্তু যদি কয়েকটা গাজর দেয়া যেতো এটা আরো ভালো হতো। একথা শুনে আরেকজন গ্রামবাসী কয়েকটা গাজর এনে দিলো। এভাবে আলূ, পেয়াজ, মাশরুম, মাংসের টুকরাও এই পাত্রে যুক্ত হতে থাকলো যতক্ষণ পর্যন্ত না এটা সবার জন্যে সুস্বাদু খাবারে রূপান্তরিত হলো। চুলা থেকে নামানোর আগে সৈনিক তখন পাথরগুলো তুলে নিলো। সবাই মিলে মজা করে সব্জি খেলো ।

আসলে এই গল্পের মর্মবাণী একটাই যে প্রথমে একজনকে শুরু করতে হয়। আর তার সাথে সকলের অবদান যদি যুক্ত হয় তাহলে প্রত্যেকের জীবনই সমৃদ্ধ হয়। যেমনটি সালাম, বরকত, রফিক, জববার-তারা চেয়েছিলেন, তারপর সব বাঙালি চেয়েছেন। তাই আজ আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারছি। সবসময়ই শুরু করেন একজন, পরে বাকিরা এসে যোগ দেন। যখন কাজ শুরু হয়, তখন তা সাফল্যের প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করে। আপাত অসম্ভব মনে হলেও কাজ শুরু করলে পথই পথ দেখায়। সেখানে রসদ আসতে শুরু করে অর্জিত হয় সাফল্য। আর শুরু করতে পেরে আমরা যেন আমাদের জীবনে সফল হতে পারি সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে ।

এবারের বিষয়  ‘শুরু থেকে শুরু’

যে কীভাবে শুরু করতে হয়। আসলে আমরা যেখানে আছি সেখান থেকেই আমাদের শুরু করতে হবে। যে মাটিতে মানুষ আছাড় খায় সে মাটিতে ভর দিয়েই মানুষ উঠে দাঁড়ায়। এজন্যে শুরু করতে হয় বিশ্বাস, লক্ষ্য, প্রত্যাশা নিয়ে। আর লাগে দৃষ্টিভঙ্গি। তবে দৃষ্টিভঙ্গি হতে হবে পরিপূর্ণ, জীবনব্যাপী। খন্ডিত কিছু হলে হবে না।

এ প্রসঙ্গে তিনি একটি মজার গল্প বলেন- একবার চারজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীকে হাতির সামনে দাঁড় করিয়ে বলতে বলা হলো যে এই হাতিটি দেখতে কেমন। প্রথম দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হাতির পা স্পর্শ করে বললো, এটা একটা থামের মতো।

দ্বিতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হাতিটির পেট স্পর্শ করে বললো যে এটা একটা দেয়াল।

তৃতীয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হাতিটির কান স্পর্শ করে বললো এটা একটা কাপড়ের টুকরা।

চতুর্থ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী লেজ ধরে বললো যে এটা একটা খন্ডিত দড়ি। এরপর তারা চার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী তর্ক করতে শুরু করলো হাতির অবয়ব নিয়ে। এটা দেখে একজন প্রাজ্ঞ ব্যক্তি বললেন, প্রত্যেক দৃষ্টি প্রতিবন্ধীই হাতিটিকে স্পর্শ করেছে কিন্তু প্রত্যেকেই আংশিক বর্ণনা দিয়েছে। কোন উত্তরটি সঠিক?

আসলে দাঁত, শুড়, পা, লেজ, পেট, পিঠ কোনোটা ছাড়া যেমন হাতি পরিপূর্ণ হয় না। তেমনি জীবন পরিপূর্ণ হতে পূর্ণাঙ্গ জীবনদৃষ্টি লাগে। দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া এগুনো যায় না। আর এগুনোর ক্ষেত্রে কোয়ান্টাম আমাদের গ্রাউন্ড জিরো দৃষ্টিভঙ্গি রাখতে বলে। অর্থাৎ একেবারে শূন্য থেকে শুরু। সাফল্যের ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হবে?

আত্মতৃপ্তি না গ্রাউন্ড জিরো? এ নিয়েও একটি চমৎকার গল্প তিনি বলেন- এক তরুণ মার্শাল আর্টিস্ট একটি অনুষ্ঠানে তার সেনসেইকে হাঁটু গেড়ে প্রণাম করলো। কয়েক বছরের কঠোর সাধনার পরে শিষ্যটি অবশেষে এই নিয়মগুলোর সর্বোচ্চ স্তর আয়ত্ব করতে পেরেছে। এই অনুষ্ঠানে পুরস্কার হিসেবে সেনসেই তাকে একটি ব্ল্যাক বেল্ট দেবেন। সেনসেই তাকে বললো, এই বেল্টটি পাওয়ার আগে তোমাকে আরো একটি পরীক্ষা দিতে হবে। শিষ্য বললো যে, ‘আমি প্রস্ত্তত।’ সে ভাবলো তাকে শেষ ধাপের জন্যে আবার জটিল কোনো কিছু করতে হবে। সেনসেই বললো তোমাকে অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, ব্ল্যাক বেল্ট এর প্রকৃত অর্থ কী?

শিষ্য উত্তর দিলো, ‘আমার কাজের সমাপ্তি।’ ‘আমার কঠোর পরিশ্রমের একটি সম্মানজনক পুরস্কার।’ সেনসেই আরো কিছু শোনার জন্যে অপেক্ষা করলেন। যেহেতু তিনি এই উত্তরে সন্তুষ্ট হন নি। শেষে সেনসেই বললেন ‘তুমি এখন পর্যন্ত এই ব্ল্যাক বেল্ট পাওয়ার উপযুক্ত হও নি।’ এক বছর পরে আসো।’ এক বছর পরে শিষ্য আবার হাঁটু গেড়ে সেনসেইকে প্রণাম করলো। সেনসেই জিজ্ঞেস করলেন ব্ল্যাক বেল্টটির প্রকৃত অর্থ কী? শিষ্য বললো, এটা আমাদের স্বতন্ত্রতার প্রতীক এবং মার্শাল আর্টে আমাদের পারদর্শিতার সর্বোচ্চ অর্জন। এবারো সেনসেই সন্তুষ্ট হলেন না এবং বললেন, ‘তুমি এখনো এই বেল্ট নিতে প্রস্ত্তত হও নি। এক বছর পরে আসো।’ এক বছর পরে আবার শিষ্য আবারো হাঁটু গেড়ে সেনসেইকে প্রণাম করলো। আবার সেনসেই তাকে জিজ্ঞেস করলো ব্ল্যাক বেল্টটির প্রকৃত অর্থ কী? শিষ্যটি জবাব দিলো, ব্ল্যাক বেল্ট নিয়ম, কাজ এবং ক্রম উৎকর্ষতার ধারার সূচনা বোঝায় যা কখনোই শেষ হবে না। হ্যাঁ, তুমি এবার প্রস্ত্তত এই ব্ল্যাক বেল্টের জন্যে এবং তুমি তোমার যাত্রা শুরু করো।

অর্থাৎ একটা অর্জন মানে আরেকটা বৃহত্তম শুরুর প্রস্ত্ততি। ভাগ্য তাকেই সহায়তা করে যারা ভাগ্য সৃষ্টির জন্যে কাজ করে। শুধু সাহসী হলেই হবে না, বিশ্বাস থাকতে হবে। বিশ্বাস সাহসকে আরো শক্তিশালী করে। সৌভাগ্যবানরা চান্স পাওয়ার অপেক্ষায় বসে থাকেন না, তারা প্রথমে পছন্দ করেন সৌভাগ্যকে, তারপর সৌভাগ্য তাদের কাছে আসে। তবে সব সিদ্ধান্ত যে সঠিক হবে তা নয়, কিছুটা ভুল থাকতে পারে। আর কেন ভুল হতে পারে সে বিষয়ে একটি গল্পও তিনি বলেন-আরঙ্গজেব নামে পরিচিত এক তরুণ টুপি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতো। এ জন্যে সে শহর থেকে শহরে ঘুরে বেড়াতো।

এক গ্রীষ্মের দুপুরে, আরঙ্গজেব একটি বিশাল সমতল ভূমি অতিক্রম করে কিছুটা ক্লান্ত অনুভব করলো এবং একটু ঘুমিয়ে নেয়ার জন্যে জঙ্গলে ঢুকে গেলো। সেখানে শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত একটি বিশাল আম গাছ পেলো। ক্লান্ত শরীরে টুপির ব্যাগটি পাশে রেখে গাছের নিচে শীতল ছায়ায় সে ঘুমিয়ে গেলো। পরিপূর্ণ সতেজ অনুভূতি নিয়ে সে যখন জেগে উঠেলো, তখন দেখলো তার ব্যাগে কোনো টুপি নাই! সে দুঃখিত হয়ে আফসোস করে বললো ‘এত মানুষ থাকতে, চোর কেন আমারটাই চুরি করলো?’ হঠাৎ সে উপরে তাকালো এবং দেখতে পেলো পুরো আম গাছটিতে অনেক বানর আর তারা সবাই তার টুপিগুলোই পরে আছে। সে বানরদের দিকে মুখ করে চিৎকার করে উঠলো এবং তার দেখাদেখি বানররাও চিৎকার করলো। সে তাদের মুখ ভ্যাংচালো, তারাও তাকে হাস্যকরভাবে মুখ ভ্যাংচালো। সে তাদের একটা পাথর মারলো এবং তারা তার দিকে আম ছুঁড়ে মারলো।

হে প্রভু! আমি কীভাবে আমার টুপি ফেরত পাবো? আরঙ্গজেব গভীরভাবে চিন্তা করতে লাগলো। হতাশ হয়ে সে নিজের টুপিটা খুলে মাটিতে নিক্ষেপ করলো। সে বিস্মিত হলো যে, বানরগুলোও তাদের টুপিগুলো ছুঁড়ে ফেলে দিলো! আরঙ্গজেব এক সেকেন্ডও নষ্ট না করে দ্রুত টুপিগুলো তুলে নিলো এবং শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।

পাঁচ বছর পরে, তরুণ হাবিব, বিখ্যাত টুপি বিক্রেতা আরঙ্গজেব-এর নাতি, যে কঠোর পরিশ্রম করতো পারিবারিক ব্যবসাকে চালানোর জন্যে। সে একদিন সেই জঙ্গলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো। অনেকক্ষণ হাঁটার ফলে সে খুব ক্লান্ত ছিলো এবং একটি চমৎকার শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত এবং শীতল ছায়াসমৃদ্ধ আম গাছ দেখতে পেলো।

হাবিব সিদ্ধান্ত নিলো সে কিছুটা সময় বিশ্রাম নেবে। বিশ্রাম নিতে গিয়ে সে একসময় ঘুমিয়েই পড়লো। কয়েক ঘন্টা পরে, হাবিব যখন জেগে উঠলো, সে বুঝতে পারলো তার সমস্ত টুপিগুলো ব্যাগ থেকে নাই হয়ে গেছে। সে খোঁজা শুরু করলো এবং বিস্ময়ের সাথে দেখলো আম গাছে কিছু বানর টুপি পরে বসে আছে। সে হতাশ হয়ে গেলো এবং বুঝতে পারলো না কী করবে। কিন্তু তখন তার মনে পড়লো তার দাদা তাকে এরকম গল্প শোনাতেন। তখন সে ভাবলো-‘হ্যাঁ, আমি এই বানরগুলোকে বোকা বানাতে পারবো! হাবিব বললো। ‘আমি তাদেরকে আমার অনুকরণ করাবো এবং খুব শীঘ্রই আমি আমার টুপিগুলো ফিরে পাবো! হাবিব বানরগুলোর দিকে হাত নাড়লো এবং বানরগুলোও তার দিকে হাত নাড়লো। সে তার নাক ঝাড়লো এবং বানরগুলোও তাদের নাক ঝাড়লো। সে নাচতে শুরু করলো এবং বানগুলোও নাচতে শুরু করলো। সে তার কান টানলো, বানরগুলোও তাদের কান টেনে ধরলো। সে তার হাত উঁচু করলো, বানরগুলোও তাদের হাত উঁচু করলো।

তারপর, সে তার টুপি মাটিতে ছুড়ে ফেললো এই আশায় যে বানরগুলোও তাই করবে, কিন্তু তার পরিবর্তে শুধু একটি বানর লাফ দিয়ে আম গাছ থেকে নেমে, হেঁটে হাবিবের কাছে আসলো, তার হাতে আঘাত করলো এবং বললো, ‘তুমি কী মনে করো শুধু তোমারই দাদা আছে? আসলে পূর্ব পুরুষের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে না পারার কারণে আমরা হেরে যাই। শুধু পূর্ব পুরুষ কেন, নিজের অতীত ভুল নিয়ে আপসোস না করে যদি আমরা শিক্ষা নিতে পারি, তাহলে আর কোনোদিকে তাকানোরই প্রয়োজন নেই। আমরা প্রভুর দয়ায় চমৎকারভাবে সামনে এগুতে পারবো।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM