1. admin@hostpio.com : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
  2. azmulaziz2021@gmail.com : Azmul Aziz : Azmul Aziz
  3. musa@informationcraft.xyz : musa :
বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ০৬:৪৮ অপরাহ্ন

শিথিলায়ন চর্চার গুরুত্ব

  • সময় বুধবার, ১৭ মার্চ, ২০২১
  • ৬৯ বার দেখা হয়েছে

প্রজ্ঞা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কখন হবে? যখন জ্ঞানের সাথে অন্তর্দৃষ্টি এবং দূরদৃষ্টিটা ঠিক হবে। অন্তর্দৃষ্টি, দূরদৃষ্টি জ্ঞান- সবই প্রাকটিসের ব্যাপার, সাধনার ব্যাপার। জ্ঞানটা অনুশীলনের ব্যাপার, অন্তর্দৃষ্টিটাও অনুশীলনের ব্যাপার এবং দূরদৃষ্টিটাও অনুশীলনের ব্যাপার। এমনি এমনি এটা হয় না। এমনি এমনি এটা আসবে না। এটার জন্যে প্রাকটিস করতে হবে। সাধনা করতে হবে।

ধরুন একজন আরচ্যার বা তীরন্দাজ যখন কোন কমপিটিশনে যায়, তখন তার হাতে সময় কিন্তু খুব কম থাকে। তাকে এত সেকেন্ডের মধ্যে এটাকে নিক্ষেপ করতে হবে। দেরি হয়ে গেল, পয়েন্ট নাই। কখন সে পারবে এটা? যখন সে প্রাকটিস করতে করতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। তখন সে উঠাবে এবং মারবে। আমরা তো দেখি তীর-ধনুক উঠায় আর মারে।

ধরুন পিংপং খেলা। মানে টেবিল টেনিস খেলা। আমরা দেখি যে সে এভাবে মারছে, ওভাবে মারছে। হাতটা এরকম এরকম এরকম এরকম করছে। সে হাতটা এরকম এরকম করছে কিন্তু এই হাতটা এরকম এরকম করার মধ্যে যে ক্যালকুলেশন এটা তাকে আয়ত্ত করতে হয়েছে। যে এই বলটা কতটুকু হাত এভাবে নিলে বা ব্যাটটাকে এভাবে করলে হিটটা কতটুকু হবে এবং এটা কতদূর পর্যন্ত যাবে। আমি যেখানে ফেলতে চাচ্ছি, সেখানে যে গতিতে বলটা আসছে সে গতিতে আমার হাতটা কতটুকু নাড়াতে হবে। প্রাকটিসের ব্যাপার। যখন সে প্রাকটিস করছে তখন সে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজটা করতে পারছে। আর প্রাকটিস না করলে তার কাজের মধ্যে কোনো স্বতঃস্ফূর্ততা থাকবে না। এনিওয়ান।

ধরুন একজন কোরআনের হাফেজ। গত দুবছর তার কোনো প্রাকটিস নাই। তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোরআন তেলাওয়াত করে যেতে পারবেন! পারবেন না।

আপনার ক্ষেত্রেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হলে শিথিলায়ন চর্চা করতে হবে। যারা প্রজ্ঞার পথে এগুতে চান, নেক্সট ফরটি ডেজ শিথিল প্রক্রিয়ায় শিথিলায়ন করবেন দুবার করে। এন্ড ইউ উইল গেইন সামথিং।

আসলে প্রাকটিস কী জিনিস? একটা ছোট্ট ঘটনা বলি। সাংহাইতে ওয়ার্ল্ড ট্রেড ফেয়ার হলো। সেখানে একজন দর্শনার্থী গেলেন। মেলায় চাইনিজদের একটা স্টল ছিল ১৬ তালা বিল্ডিং। সেখানে গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে ওপরে উঠতে হবে লাইন ধরে। সেই দর্শনার্থী এগিয়ে যাচ্ছেন। সাপের মতো লাইন। সিঁড়ি দিয়ে উঠতে হবে। তো সিঁড়ির ওখানে একজন দাঁড়িয়ে আছেন হাত উপরে তুলে। সেই দর্শনার্থীর সাপের মতো কিউ করে করে সিঁড়ি পর্যন্ত আসতে একঘণ্টা সময় লাগল। উনি এতক্ষণ ভাবছিলেন এটা একটা স্ট্যাচু। একটা মূর্তি। একটা পুতুল দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। হাত উঁচু করে। যাতে সবাই বুঝতে পারে যে এখন এভাবে যেতে হবে।

একেবারে কাছে যখন গেলেন তখন তার কৌতূহল হলো। তিনি চোখের দিকে ভালো করে তাকালেন। একে ‘মানুষ মানুষ’ বলেই তো মনে হচ্ছে। কিন্তু নড়েও না চড়েও না। হাত এভাবে করে রেখে আছে। ঘটনাটা কী?

তার ঐরকম তাকানো দেখে যিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন, তিনি অনেক কষ্টে হাসি সংবরণ করছেন। হাসতে পারছেন না, কারণ এটা তার এটিকেটের খেলাপ। আসলে কান্না চেপে রাখা যায় কিন্তু হাসি চেপে রাখাটা খুব কঠিন। তার হাসির ভান দেখে এই দর্শনার্থী বুঝলেন, এটা মূর্তি না একটা জলজ্যান্ত মানুষ।

আপনি রাখেন না এভাবে হাত একঘণ্টা। যে-কেউ চেষ্টা করে দেখতে পারেন। হাত তোলাও সহজ, নামানোও সহজ, কিন্তু হাতটা তুলে রাখাটা অনুশীলনের ব্যাপার। তো শিথিলায়নও অনুশীলনের ব্যাপার।

ধরেন, আপনি মধুর ওয়াজ যত শোনেন, মধু যদি না খান, মধুর স্বাদ আপনি কিন্তু কখনো বুঝতে পারবেন না। আরেকজনের বিবরণ শুনে আপনি তৃপ্ত হবেন যে না ভালোই লাগে মনে হয়। এ যখন খেয়েছে তাহলে নিশ্চয়ই ভালো। কিন্তু স্বাদটা কী আপনি বুঝতে পারবেন না। একইভাবে আমার কথা যত শোনেন, ভালো লাগবে। কিন্তু শিথিলায়নের যে আনন্দ এটা আপনি তখন বুঝতে পারবেন যখন আপনি এটা অনুশীলন করবেন। যখন আপনি এটা চর্চা করবেন। আর এই অনুশীলন বা চর্চাটা হচ্ছে খুব গুরুত্বপূর্ণ।

[প্রজ্ঞা জালালি, ০৩ জুলাই, ২০১৯]

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM