1. admin@hostpio.com : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
  2. azmulaziz2021@gmail.com : Azmul Aziz : Azmul Aziz
  3. musa@informationcraft.xyz : musa :
শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০৭:৫৬ অপরাহ্ন

ভাইরাস আক্রমণ করলেই একজন অসুস্থ হয় না!

  • সময় সোমবার, ২২ মার্চ, ২০২১
  • ৭১ বার দেখা হয়েছে

আমাদের জাতির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অতুলনীয়!

আমরা প্রথম দিন প্রথম আলোচনায় বলেছিলাম যে, আমাদের জাতির যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, এই প্রতিরোধ ক্ষমতা হচ্ছে অতুলনীয়। এর তুল্য কিছু নাই।

করোনা আসবে আমাদের দেশে। কিন্তু করোনায় কিছুই হবে না। সাধারণ জ্বর-সর্দির মতোই।

আসলে, জীবাণু-ভাইরাস আক্রমণ করলেই একজন অসুস্থ হয় না!

তো মূল শক্তিটা কী? এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

আপনার দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (সেনাপতি) যদি ঠিক থাকে, সিস্টেম যদি ঠিক থাকে, আপনি সুস্থ থাকবেন, আপনি ভালো থাকবেন।

এরা আসবে একটু ঘুষাঘুষি করবে, ঘুষাঘুষি করে…

ভাইরাসের অবস্থা শরীরের তুলনায় একটা মশার মতো!

ধরেন মোহাম্মদ আলী বক্সার।তার সাথে আমাদের দেশের বারো বছরের এক কিশোর বক্সিং করতে গিয়েছে।

কিশোর ঘুষি দিয়েছে একটা। মোহাম্মদ আলী পড়ে যাওয়ার ভান করেছেন।

কিশোরের ঘুষিতে কি মোহাম্মদ আলী পড়ে গেছেন? মোহাম্মদ আলীর কিছু হয়েছে? যেমন একটা মশা যদি হাতির ওপরে আক্রমণ করে, হাতি টের পাবে?

তো একটা জীবাণু যেটা ভাইরাস তার অবস্থা আপনার শরীরের অবস্থার তুলনায় একটা কী? মশার মতো।

হাঁ! আবার মশা যদি জায়গামতন পড়ে, এন্ড ঢুকে গেল নাকের ভেতরে, দিল একটা কামড়! খবর আছে!

কিন্তু নাকের ভেতরে ঢুকতে দেবেন কেন আপনি?

রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা যখনই চাঙ্গা থাকবে, তখন রোগ-ব্যাধি আপনার থেকে দূরে থাকবে।

“আমি আক্রান্ত হয়েছি, আমার সাহায্য দরকার”!

এই যে রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা, দেহের সুরক্ষা প্রক্রিয়া। দেহের সুরক্ষা প্রক্রিয়াটা কী?

দেহের সেনাবাহিনী হচ্ছে এরা। আপনার নিরাপত্তা বাহিনী হচ্ছে এই রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা।

একটা নিরাপত্তা বাহিনীতে কী থাকে যে-কোনো দেশের?

সেখানে সেনাবাহিনী থাকে, নৌ-বাহিনী থাকে, বিমান বাহিনী থাকে। আমাদের দেশে বিজিবি আছে, র‍্যাব আছে, পুলিশ আছে, আনসার আছে, গ্রাম-প্রতিরক্ষা আছে। তারপরে গোয়েন্দা আছে, সিআইডি আছে, ডিআইডি আছে, পিবিআই আছে, এই আছে, সেই আছে, ডিএফআই আছে, এই আছে, সেই আছে এত জিনিস!

এবং তার মধ্যে আবার কী হচ্ছে? বিভিন্ন স্তরের কমান্ডাররা রয়েছেন। তারপরে সরবরাহ ব্যবস্থা রয়েছে, ট্রান্সপোর্ট আছে, গোলাবারুদ আছে, অস্ত্রশস্ত্র আছে, খাবার আছে, পানি আছে। এবং আসবাব আছে, সরঞ্জাম আছে।

তো এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কী?

এই যে এত অস্ত্রশস্ত্র, এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হচ্ছে পানি এবং খাবার।

যদি পানি না থাকে, একজন সৈনিক যদি তৃষিত থাকে, তার হাজার টনী গোলা আছে, সে কি করতে পারবে না? সে গোলা ব্যবহার করতে পারবে না।

যে জন্যে যুদ্ধক্ষেত্রে বলা হয় যে, খাবারের একটা টুকরা বুলেটের চেয়ে ইম্পরট্যান্ট! যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, তারা জানেন এটা।

যে বুলেট পাওয়া যায়, শত্রুর বুলেট। সহযোদ্ধা মারা গেছে, তার বুলেট আপনি নিতে পারবেন।

কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে খাবার এবং পানি মানে এই সরবরাহটা হচ্ছে খুব ইম্পরট্যান্ট, খাবার এবং পানি। এটা মনে রাখবেন।

তো আমাদের শরীরের সুরক্ষা প্রক্রিয়া প্রসেস, এতে ৩০০ ধরনের রক্ষাণু কোষ…এই কোষগুলোর নাম আমরা ‘রক্ষাণু’ বলতে পারি। যে কোষগুলো ফাইট করে, ফাইটার। ফাইটের বিভিন্ন পর্যায়।

ধরুণ যে পানি নিয়ে যাচ্ছে যুদ্ধক্ষেত্রে, সে কি কম ফাইটার নাকি?

সে নিজে ফাইট করছে না। কিন্তু ১০ জন, ১৫ জন, ২০ জন ফাইটারকে সে কী করছে? সে লালন করছে! পানি না পেলে সে ফাইট করতে পারবে না!

তো অতএব এই যে ৩০০ ধরনের কোষ, আমাদের সুরক্ষা প্রক্রিয়ায় সমন্বিতভাবে কাজ করে। এবং একেকজনের একেক ভূমিকা। একেকজনের একেক কাজ।

এবং যখনই আপনার, কোথাও কোনো বিষাণু আক্রমণ করছে, কোনো জীবাণু আক্রমণ হচ্ছে বা ইনফেকশন হচ্ছে, তখন কী হচ্ছে?

সাথে সাথে ওখানকার যারা আছে, যে প্রতিরক্ষা সৈনিক যারা আছে, সেই সেলগুলো দ্রুত ওখানে চলে যাচ্ছে। এবং সাথে সাথে হাই কমান্ডে মেসেজ পাঠিয়ে দিচ্ছে- “আমি আক্রান্ত হয়েছি, আমার সাহায্য দরকার।”

হাই কমান্ড সাথে সাথে ওখান থেকে রি-ইনফোর্সমেন্ট সরবরাহ পাঠিয়ে দিচ্ছে, যাতে করে ওই জায়গায় কোন রোগ জীবাণু জয়ী না হতে পারে, রোগজীবাণু যাতে ধ্বংস হয়ে যায়।

বর্জন করতে হবে অবৈজ্ঞানিক খাদ্যাভ্যাস…

তো এখন আমাদের এই যে সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয় কখন? দুর্বল হয় যখন আপনার মধ্যে ভয় থাকে, আপনার মধ্যে আতঙ্ক থাকে, আপনার অপুষ্টি থাকে এবং অবৈজ্ঞানিক খাদ্যাভ্যাসের কারণে। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে আপনি যখন শরীরের যে সাপ্লাই, ভিটামিনস এবং বিভিন্ন নিউট্রিয়েন্টস যে উপকারি শক্তি, পুষ্টিকারক শক্তি, এই শক্তির অভাব হয়ে অপুষ্টিতে আক্রান্ত হন।

তো এইজন্যে আমরা খুব পরিষ্কারভাবে আমাদের কোয়ান্টাম মেথডে বলি যে, অবৈজ্ঞানিক খাদ্যাভ্যাস বর্জন করতে হবে, ফাস্টফুড বর্জন করতে হবে, এনার্জি ড্রিংকস বর্জন করতে হবে!

এনার্জি ড্রিংকস তো শুধু রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাকে জরাজীর্ণ করে তা না, কী করে? আমরা তো কোর্সে বলেছি যে, মা হতে চাইলে, বাবা হতে চাইলে কি করবেন না? এনার্জি ড্রিংকস খাবেন না।

এবং চিনি, চিনিজাত যত মিষ্টি রয়েছে চকলেট থেকে শুরু করে, মিষ্টি থেকে শুরু করে এটাকে একদম বর্জন করবেন। চিনি খাবেন না। চায়েও চিনি খাবেন না। কোনোকিছুতেই চিনি খাবেন না।

যত চিনি বর্জন করবেন এবং অপুষ্টিকর খাদ্য বর্জন করবেন, ক্ষতিকর খাদ্য বর্জন করবেন, আপনার সুস্থতা তত বাড়বে।

খেতে হবে ধর্মসম্মত রুচিসম্মত পুষ্টিসম্মত ও বিজ্ঞানসম্মত প্রাকৃতিক খাবার…

তো আমরা খাবার সবসময় ধর্মসম্মত, রুচিসম্মত, পুষ্টিসম্মত, বিজ্ঞানসম্মত, প্রাকৃতিক খাবার, ন্যাচারাল খাবার খাব। ফলমূল, শাক-সবজি, মাছ খাব। মাংস খাব অসুবিধা নাই।

তো মাংসের মধ্যে গরু-খাসি যত কম খাওয়া যায়, পাঁঠা এটা যত কম খাওয়া যায় তত ভালো। মুরগি ঠিক আছে।

এবং হাঁ সবজি আধাসিদ্ধ খাব। এবং আঁশজাতীয় সবজি বেশি খাব। এবং আপনার শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা আরো জোরদার করার জন্যে, প্রত্যেকদিন এক কোষ রসুন, ২০/৩০টা কালিজিরা, এক চা চামচ মধু- এটা অভ্যাস করে ফেলবেন।

যেখানেই যাবেন কী করবেন? বেড়াতে গিয়েছেন, কালিজিরা-রসুন সাথে করে নিয়ে যাবেন।

কারণ বেড়াতে গিয়ে বলা যে একটু রসুন দেন, কালিজিরা দেন। যদি তারাও কোয়ান্টাম পরিবার হয়, তাহলে বুঝবে।

আর না হলে বলবে, কিরে! কালিজিরা চাচ্ছে, রসুন চাচ্ছে। নিজেরটা বের করে নেবেন। ইটস এ ওয়ান্ডারফুল থিং। স্বাবলম্বী হতে কোন দোষের কিছু নাই।

ঘুমের মধ্যে সক্রিয় হয় রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা…

তারপরে ঘুমাবেন সুন্দরভাবে। ঘুমটা কিন্তু শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। যে কারণে অসুস্থ হলে ডাক্তাররা কী বলেন? বেড রেস্ট। যত পারেন ঘুমান।

কারণ ঘুমের মধ্যে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাটা সক্রিয় হয়। এবং দিনের বেলার ব্রেইন তো অন্যান্য কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাটা কম থাকে। রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা সবচেয়ে সক্রিয় হয় রাতের বেলা।

এবং রাতের বেলা আসলে অকারণে কেউ জেগে থাকবেন না। এবং বিশেষভাবে সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইউটিউবের অপ্রয়োজনীয় ক্ষতিকর জিনিসগুলো দেখা, এটা আপনার রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেবে। জরাজীর্ণ করে দেবে।

এইজন্যে রাত ১১টা-মোবাইল অফ। ঘুমিয়ে পড়বেন। এই ঘুমটা হচ্ছে ন্যাচারাল রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা আপনার বাড়িয়ে দেবে।

সুরক্ষা ব্যবস্থার সেনাপতি হচ্ছে ‘বিশ্বাস এবং সাহস’!

আর মেডিটেশন করবেন নিয়মিত। কারণ আপনার শরীরের যে প্রতিরক্ষা… সুরক্ষা ব্যবস্থার সেনাপতি কে?

সেনাপতি হচ্ছে “বিশ্বাস এবং সাহস”। সেনাপতি হচ্ছে “বিশ্বাস এবং সাহস”।

এবং এই সেনাপতি- বিশ্বাস এবং সাহস যখন থাকে, তখন তথ্য এবং কৌশল অটোমেটিক সে আয়ত্ত করে ফেলে।

এবং এই বিশ্বাস এবং সাহস- এই সেনাপতির মূল খাবার কী?

মূল খাবার হচ্ছে “মেডিটেশন এবং ইবাদত/উপাসনা”। পানি যেরকম একজন সৈনিকের জন্যে প্রয়োজন, এই বিশ্বাস নামক সেনাপতিকে তাজা রাখার জন্যে দরকার হচ্ছে মেডিটেশন এবং ইবাদত।

যারা ইবাদত করেন, যারা উপাসনা করেন, কিছুদিন ইবাদত/উপাসনা বাদ দিয়ে দেখেন, বিশ্বাস কী হয়ে গেছে? নড়বড়ে হয় কি হয় না, বলেন? তাহলে?

তাহলে মূল খাবারটা কি? বিশ্বাস… রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করার জন্যে মেডিটেশন এবং ইবাদত/উপাসনা।

যার যার ধর্মমতে ইবাদত করা, উপাসনা করা।

বিশ্বাস প্রবল থাকবে এবং যখন ইবাদত/উপাসনা করবেন তখন আপনি শুদ্ধাচারী হবেন। তখন শুদ্ধাচার আপনার মধ্যে সৃষ্টি হবে।

আর শুদ্ধাচারী যাতে সহজে হতে পারেন, এইজন্যে কী হচ্ছে? আমাদের কী আছে? শুদ্ধাচার বই আছে।

শুদ্ধাচার বই সংগ্রহ করবেন। যাদের সংগ্রহে নাই, সংগ্রহ করবেন। এবং আশেপাশের প্রতিবেশীদের কী করবেন? এই শুদ্ধাচার বই দেবেন।

তারা শুদ্ধাচারী হলে, তারাও বিশ্বাসী হবে। তাদের বিশ্বাস শক্তিশালী হবে।

এবং তাদের বিশ্বাস শক্তিশালী হলে তারা সুস্থ থাকলে, সুস্থ মানুষের সংখ্যা বাড়বে।

এবং যত সুস্থ মানুষের সংখ্যা বাড়বে, সমাজ সুস্থ হবে।

[কোয়ান্টামম সাদাকায়ন, ১৬ অক্টোবর, ২০২০]

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM