1. admin@hostpio.com : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
  2. azmulaziz2021@gmail.com : Azmul Aziz : Azmul Aziz
  3. musa@informationcraft.xyz : musa :
বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ন

করোনা মোকাবেলায় পারস্পরিক মমতা প্রয়োজন

  • সময় সোমবার, ২২ মার্চ, ২০২১
  • ১০৩ বার দেখা হয়েছে

কারণ একজন মানুষ যখন একা থাকে, যখন সে নিজেকে নিঃসঙ্গ মনে করে, যখন সে মনে করে যে তার প্রতি কারও কোনো মমত্ব নাই, সে আসলে বেঁচে থাকার প্রয়োজনটাও অনেক সময় তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে না।

তো আমরা চলাফেরার ক্ষেত্রে, বাইরে শারীরিক দূরত্ব মেইন্টেইন করব, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখব। কিন্তু আমাদের অন্তরের যে টান – সামাজিক মমত্বের মধ্য দিয়ে এবং যে-ই দুর্গত হোক, যিনি-ই অসুস্থ হোক, তার প্রতি মমত্বের প্রকাশ আমরা যত ঘটাব, যত দেখাতে পারব, তত তার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা, সুস্থ হওয়ার সুযোগ তার তত বাড়বে, তার ভেতরের ইমিউন সিস্টেম তখন বাড়বে।

আসলে মানুষের মমতা, ডাক্তারের মমতা, চিকিৎসকের মমতা, আত্মীয়ের মমতা, আপনজনের মমতা – যে-কোনো রোগীর  রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

যেখানেই মানুষের প্রতি মমতা আছে, সেখানে তারা খুব সুন্দরভাবে করোনা মোকাবেলা করেছে

আমরা এত দুঃখের পাশেও এত বেদনার পাশেও আমাদের আশার বাণী হচ্ছে- পৃথিবীতে এখনও ভালো মানুষ আছেন। পৃথিবীতে এখনো সবাই শোষক নয়। সবাই জালেম নয়, সবাই ভোগী নয়, সবাই স্বার্থপর নয়।

ত্যাগী মানুষও রয়েছে। এবং যেখানেই এই ত্যাগ আছে, যেখানেই মানুষের প্রতি মমতা আছে, সেখানে তারা খুব সুন্দরভাবে, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে এবং মোকাবেলা করে যাচ্ছে।

এবং ভিয়েতনামের কথা আপনারা জানেন – যে সেখানে করোনা সংক্রমণ তারা খুব চমৎকারভাবে সীমিত করেছেন।

কেরালার কথা আপনারা জানেন, যেখানে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ভয় ছিল। কিন্তু তাদের সামাজিক মমত্ব এতটাই যে কেরালা সরকার বলেছিল যে বিদেশ থেকে যত মানুষ আসুক, সবাইকেই তারা গ্রহণ করবে । এবং সামাজিক মমত্ব সেখানে করোনার প্রকোপকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করেছে।

উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত কিউবা

সামাজিক মমত্বের, মানুষের প্রতি মমত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে ক্যাস্ট্রোর কিউবা।

যখন ব্রিটিশ ক্রুজ শিপ, যেটা বাহামার পতাকাবাহী ছিল এমএস ব্রেইমারে ৫০ জন প্যাসেঞ্জার করোনা-আক্রান্ত হয়ে গেল, পুরো ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে কোনো দ্বীপ… তাদেরকে বন্দরে ভিড়তে দেয় নি,

এমনকি যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত বন্দরে ভিড়তে দেয় নি।

এবং যুক্তরাজ্যের বিদেশ মন্ত্রক পাঁচদিন ধরে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে যত দেশ ছিল, প্রত্যেক দেশকে অনুরোধ জানায়। কিন্তু কেউ ভিড়তে দেয় নি।

কিউবা সেই জাহাজকে তাদের দ্বীপে ভিড়তে দেয় এবং এক হাজার প্যাসেঞ্জার এবং ক্রু – তাদেরকে নামিয়ে নিয়ে আসে এবং সেখান থেকে তারা চার্টার্ড বিমানে করে যুক্তরাজ্যে ফিরে আসে।

অতএব করোনা-আক্রান্ত রোগীর সেবা করলেই কেউ করোনায় আক্রান্ত হবে, এটা মনে করার কোন কারণ নাই। প্রয়োজন শুধু সতর্কতা। প্রয়োজন শুধু মমত্ব।

মমত্বটাকে যত প্রবল করবেন, তত আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হবে

এবং মমত্ব শুধু করোনা আক্রান্ত রোগীকে নয়, আপনাকেও সুস্থ রাখবে, ভালো রাখবে আর কি।

আসলে বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা আমাদের করণীয়কে খুব সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই-

যে আপনি সবসময় মনে রাখবেন- আপনি মানুষ, আপনি সৃষ্টির সেরা।

আপনার যদি মনুষ্যত্ব হারিয়ে যায়, আপনি এবং একটি বন্যপ্রাণির  মধ্যে আর কোনো পার্থক্য থাকে না।

মনুষ্যত্বই আমাদেরকে মানুষ করেছে। অতএব মানুষের প্রতি মমত্ব- এই মমত্বটাকে যত প্রবল করবেন, তত আপনার ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী হবে।

মনটাকে ভয়মুক্ত করতে যা করবেন

আর আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্যে, মনটাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করতে হবে, মনটাকে ভয়ের আবর্জনামুক্ত করতে হবে।

এবং আসলে ঘরে বসে থেকে যারাই আতঙ্কিত, তাদের আসলে ঘরে বসে কোনো কাজ নাই। তারা শুধু কন্টিনিউয়াস ঘন্টার পর ঘণ্টা একই সংখ্যা দেখছে আর কি।

কারণ মৃতের সংখ্যা সকালে যা থাকে, দুপুরেও তাই থাকে। দিনে মাত্র একবার চেঞ্জ হয়। কিন্তু এই একই সংখ্যা বারবার বারবার বারবার বারবার সে দেখে।

তো অতএব আপনার স্মার্টফোন থেকে নেতিবাচক কোনো প্রচার শেয়ার করবেন না আর কি। নেতিবাচক কোনোকিছু এলে সেটাকে ডিলিট করবেন। পেশাগত প্রয়োজন ছাড়া ফেসবুক ডিলিট করে দেন। টিভির খবর শুধু দিনে দুইবার ১০ মিনিট দেখেন।

মনের শক্তি বাড়ানোর জন্যে মর্মবাণী

মনের শক্তি বাড়ানোর জন্যে বিশ্বাসের শক্তি বাড়ানোর জন্যে কোরআন তেলওয়াত করেন, মর্মবাণী পাঠ করেন।

কারণ বিশ্বাসীর জন্যে, কোরআন শুধু রহমত না, কোরআন শেফাও। শেফা মানে নিরাময়। দৈহিক মানসিক সামাজিক পারিপার্শ্বিক –যতরকম সমস্যা আছে, যতরকম রোগ আছে (আর কি), সমস্ত রোগের নিরাময়ক হচ্ছে কোরআন।

এবং সনাতন হিন্দুরা, বৌদ্ধরা, খ্রিস্টানরা তাদের ধর্মবাণীতে মনোযোগ দেন। কারণ সব ধর্মই মানবতার কথা বলে, সব ধর্মই মানুষের কল্যাণের কথা বলে, সব ধর্মই এক অপার্থিব আনন্দলোকে প্রবেশ করার আহ্বান জানায়।

প্রয়োজন শারীরিক পরিচ্ছন্নতাও

মনের পরিচ্ছন্নতার সাথে সাথে, নিয়মিত হাত ধোয়া, এবং হাত ধোয়ার জন্যে বাংলা সাবানের চেয়ে ভালো সাবান আর নাই। এবং অকারণে স্যানিটাইজার, এই এলকোহলযুক্ত স্যানিটাইজার ব্যবহার করাটা এক হচ্ছে অর্থের অপচয় এবং অপ্রয়োজনীয়।

এবং আমরা আমাদের বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানাই যে তারা স্যোপি-ওয়াটার তৈরি করেছেন পানির সাথে কাপড় ধোয়ার ডিটারজেন্টের মিশ্রণের মাধ্যমে আর কি। এক টাকাতে ৮০বার হাত ধোয়া যায় আর কি। অর্থাৎ অপচয় যত কমান তত ভালো। এবং এই সুযোগে যেহেতু ঘরে আছেন কাপড়-চোপড়, বিছানা-চাদর, ঘরবাড়ি সব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন তকতক ঝকঝক করে ফেলেন।

করোনা প্রতিরোধে যা সেবন করবেন

আর রসুন, কালিজিরা, মধু, প্রতিদিনের খাবার, একবেলা করে-সকালবেলা।

আর ফ্রিজের ঠান্ডা খাবার, আইসক্রিম এবং ঠান্ডা পানীয় বর্জন করুন। এমনকি ঠান্ডা পানিও খাবেন না, গরম পানি খান আর কি।

আর যদি পরিবারে কেউ করোনা-আক্রান্ত হন, এত আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নাই, ভয় পাওয়ার কিছু নাই।

নিজের বা পরিবারের করোনার আক্রমণ সন্দেহ করলেই পরিবারের সবাই সকল ঠান্ডা খাবার ও পানীয় বর্জন করেন, গরম পানি পান করুন এবং নাক দিয়ে গরম  ভাপ নিন। দিনে চারবার করে।

এবং দুবেলা কালিজিরা বেটে এক চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে খান।

নাইজেরিয়ার গভর্নর যেভাবে করোনামুক্ত হলেন

নাইজেরিয়ার এক রাজ্যের গভর্নর, সেয়ি ম্যাকেন্দি, করোনায় আক্রান্ত হন। এবং আক্রান্ত হওয়ার পরে তিনি তার চিকিৎসকের পরামর্শে  কালিজিরা এবং মধুর মিশ্রণ সেবন করেন। এবং ১৫ দিন পরে তিনি করোনা থেকে পুরোপুরি মুক্ত হয়ে যান।

অতএব আপনিও কোনোরকম ঠান্ডা লাগলে গরম পানি, গরম ভাপ নাক দিয়ে নিয়ে মুখ দিয়ে ছাড়েন এবং দুবেলা কালিজিরা মধুর মিশ্রণ খান। প্রচুর ফল খান, শাক-সবজি খান। প্রয়োজনে করোনা চিকিৎসাকেন্দ্রের শরণাপন্ন হন।

এই দুর্যোগ মোকাবেলায় সামাজিক মমত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে

তো আসলে আমরা  আবারও বলতে চাই খুব পরিষ্কারভাবে- করোনা নিয়ে আতঙ্ক নয়, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নাই, শুধু সতর্কতা প্রয়োজন।

নিজের যত্ন প্রয়োজন, নিজের প্রতি মনোযোগ প্রয়োজন।

সামাজিক মমতা প্রয়োজন, পারিবারিক মমতা প্রয়োজন।

এবং আমরা যেন ‘সোশ্যাল ডিসটেন্স’ শব্দটা ব্যবহার না করি, ‘সামাজিক দূরত্ব’ শব্দটা যেন ব্যবহার না করি কখনও।

আমরা যেন শারীরিক দূরত্ব এবং সামাজিক মমত্ব- এই বাণী নিয়ে আমরা যে-কোনো দুর্যোগের ইনশাল্লাহ মোকাবেলা করতে পারব আর কি।

এবং এই দুর্যোগ মোকাবেলায় সামাজিক মমত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তো আপনারা সবাই ভালো থাকুন। পরম করুণাময় আমাদেরকে, আমাদের দেশকে এবং বিশ্বের বঞ্চিত  মানুষদেরকে করোনার অভিশাপ থেকে রক্ষা করুন। খোদা হাফেজ। আসসালামু আলাইকুম।

[১৭ এপ্রিল ২০২০ সাদাকায়নের জন্যে ১৩ এপ্রিল ২০২০ তারিখে গুরুজীর প্রদত্ত বক্তব্য]

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM