1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
  2. [email protected] : Emon : Armanul Islam
  3. [email protected] : musa :
শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন

অন্যের কল্যাণ যখন করবেন, তখন আপনারও কল্যাণ হবে—দুটি ঘটনা

  • সময় মঙ্গলবার, ২৩ মার্চ, ২০২১
  • ১৬৬ বার দেখা হয়েছে

আসলে মানুষের কল্যাণে কাজ করলে কী হয়? নিজে সুস্থ থাকা যায়।

যত্নের জন্যে কোনো ভাষা লাগে না…

এটা কাতারের ঘটনা। কাতার! কাতার হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে। কাতারের এক ধনাঢ্য পরিবারের মহিলা ক্যান্সারে আক্রান্ত।

ডাক্তার ফাইনাল দিয়ে দিয়েছেন- যে এরপরে যত চিকিৎসা করেন, ছয় মাস!

ধনাঢ্য মহিলা, ঘরে কাজের লোকের অভাব নাই, বেশ কয়েকজন কাজের লোক।

এবং এক কাজের মহিলা নতুন আসছে, তাকে খুব যত্ন করছে। কয়েকদিন মাত্র এসছে! খুব যত্ন করছে।

কিন্তু মহিলা প্রচণ্ড অস্থিরতায় ভুগছে। কী যেন! আবার কিছু বলছেও না! কাজকর্ম যত্ন দিয়ে করছে যা-যা করার করছে!

কিন্তু এই মহিলা যার যত্ন করছেন যে রোগী। তিনি বুঝতে পাচ্ছেন যে মহিলা সাংঘাতিক কোনো অস্থিরতা এবং কষ্টের মধ্যে রয়েছে।

তো দুই মহিলার কোনো মহিলাই কোনো মহিলার ভাষা বোঝে না!

সে আরবি বোঝে আর যে মহিলা সে বাংলা। কিন্তু যত্নের জন্যে তো আর ভাষা লাগে না। যত্ন করার জন্যে ভাষার প্রয়োজন নাই।

যখন সে মহিলা বুঝতে পারলেন আরেকজন মহিলার মাধ্যমে যে এই মহিলা দেড় মাসের শিশু বাচ্চাকে রেখে ওখানে চলে আসছে দুধের বাচ্চাকে রেখে!

এবং স্বাভাবিক বাঙালি মা-তো তার অস্থিরতা সেরকম।

যখন ঐ রোগী মহিলা বুঝতে পারলেন যে এই মহিলা দেড় মাসের বাচ্চাকে রেখে চলে আসছেন তখন তিনি তাকে ছুটি দিয়ে দিলেন দেড় বছরের বেতনসহ।

যে ঠিক আছে, তুমি যাও, তোমার বাচ্চাকে বড় করো। এই পুরো বেতন। এবং তোমার কাজ থাকবে। দেড় বছর পরে তুমি বাচ্চা যখন একটু বড় হয়, তারপরে তুমি আসবে। আর তুমি আমার জন্যে দোয়া করবে।

ছুটি দিয়ে দিলেন। মহিলা চলে এলো।

দুগ্ধপোষ্য বাচ্চার কাছে তার মাকে ফিরে দিয়েছিলাম আর তাই…

যে মহিলা, রোগী মহিলা বিছানা থেকে উঠতে পারতেন না যাকে বলা হয়েছিল আয়ু মাত্র ছয় মাস, সে মহিলা বিছানা থেকে উঠতে শুরু করলেন। এবং ছয় মাসের মাথায় হাঁটা চলাফেরা সব শুরু করছেন। এবং এক বছরের মাথায় ডাক্তার তাকে ক্যান্সার ফ্রি ডিক্লেয়ার করল।

দেড় বছর পর এই মহিলাকে বিমানের টিকেটও দিয়ে দিয়েছিলেন- যে আবার যখন আসবে তখন যাতে তুমি আসতে পারো।

দেড় বছর পর যখন এই কাজের মহিলা সেখানে গেল, দেখে যে বেগম সাহেব দিব্যি মানে সেজেগুজে সবকিছু করছেন! এবং ডাক্তার তার রোগমুক্তি দেখে বিস্মিত হলো! বলল যে, মেডিকেল সায়েন্সে এটার কোনো কী নাই?

এটার কোনো উদাহরণ নাই এটা সম্ভব না। কিন্তু কীভাবে হলো?

তখন মহিলা বলল যে কীভাবে হলো বুঝতে পারব না! কিন্তু আমি একটা মাকে তার বাচ্চার কাছে দুগ্ধপোষ্য বাচ্চার কাছে ঘটনা বললেন যে আমি ফিরে দিয়েছিলাম- এটুকুই বুঝি। হয়তো আল্লাহ এজন্যেই দয়া করেছেন।

ডাক্তার বলল যে তাহলে আল্লাহর দয়া ছাড়া আল্লাহর রহমত ছাড়া এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব না।

যখন আমরা মানুষের সেবা করি যখন অন্যের কল্যাণ করি, অন্যের উপকার করি, তখন আমরা আল্লাহর খেদমত করি আল্লাহর সেবা করি আল্লাহর উপকার করি।

রসুলুল্লাহ (স) বলেছেন, বিখ্যাত হাদিস আমরা জানি, শেষ বিচারের দিনে আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন বান্দাকে-

যে আমি অভুক্ত ছিলাম, তুমি আমাকে খাবার দাও নি। তখন বান্দা বলবে যে ইয়া আল্লাহ! আপনি তো সমস্ত ক্ষুৎপিপাসার ঊর্ধ্বে। আপনি কীভাবে অভুক্ত থাকেন?

তখন আল্লাহ বলবেন যে অমুক লোক অভুক্ত ছিল, কিন্তু তুমি তাকে খাবার দাও নি!

আল্লাহ বলবেন যে আমি তৃষিত ছিলাম, তুমি পানি দাও নাই। তখন বান্দা একই কথা বলবে।

আল্লাহ বলবেন যে অমুক লোক তৃষিত ছিল, তুমি জানতে, তুমি তাকে পানি দাও নাই। আসছিল সে, তুমি তাকে পানি দাও নাই। আল্লাহ বলবেন আমি অসুস্থ ছিলাম, বান্দা বলবে ইয়া আল্লাহ! তুমি অসুস্থ কীভাবে হও? তুমি তো সমস্ত রোগশোকের ঊর্ধ্বে।

বলবেন যে অমুকে অসুস্থ ছিল, তুমি তাকে দেখতে যাও নাই, তুমি তাকে সেবা করো নাই।

তে আসলে যখন আমরা অন্যের উপকার করি- আল্লাহ বলি, ভগবান বলি, ঈশ্বর বলি। আল্লাহ, ভগবান, ঈশ্বর কাউকে আমরা দেখতে পাই না। কিন্তু যখন আমরা তাঁর সৃষ্টির সেবা করি, তখন আমরা তাঁরই সেবা করি এবং তিনিই প্রতিদান দেন।

চেহারা দেখে কি তোমার মনে হয়, আমি কোনো অন্যায় করব!

আমি ছোট্ট একটা ঘটনা বলি। আমার নিজের।

২০০২ সালে আপনাদের মা-জীকে নিয়ে যখন ইউরোপে গেলাম।

ওয়ান ইলেভেনের পরে ইউরোপে তো সাংঘাতিক অবস্থা তখন। ইউরোপের প্রত্যেক শহরে দুটো করে জেট ফ্লাই করে যে আবার কোন বিমান কোনদিক থেকে হামলা করে।

এবং ঐ সময়টা খুব মানে এশিয়া থেকে যারা যেত, তাদের জন্যে অনেকরকম ঝামেলা হতো।

তো আমাদের কয়েকটা জায়গায় যাওয়ার কথা। একটা শহরে শুধু হোটেল বুকিং ছিল। আর তিনটা শহরে হোটেল কোনো বুকিং ছিল না।

আমি ভাবলাম যে ঠিক আছে, ওখানে গিয়ে করে নেব।

যে হোটেলে বুকিং ছিল সে হোটেলে উঠে ভাবলাম যে ঠিক আছে হোটেলে রিসিপশনিস্টদের বলি ওদের তো সমস্ত জায়গার সাথে যোগাযোগ আছে। আমি বললাম যে দেখ আমার তো এরকম অবস্থা অমুক অমুক জায়গায় যাব কিন্তু আমার তো হোটেল বুকিং নাই। তুমি করে দাও। এটা কীভাবে কী করা যায়।

তো সে খুব দ্রুত সব বুকিং করল। বুকিং করে আমাকে বলছে যে, “তোমার ক্রেডিট কার্ড?”

আমি বললাম যে আমার তো কোনো ক্রেডিট কার্ড নাই।

ক্রেডিট কার্ড ছাড়া তো বুকিং হবে না। আমি যে পেমেন্ট করব।

আমি বললাম যে, আমি তোমাকে টাকা দিয়ে দিচ্ছি। তোমার তো কার্ড আছে! তোমার কার্ড দিয়ে করে দাও।

আমার দিকে হা করে তাকিয়ে রইল। সে ইউরোপিয়ান, আমি হচ্ছি বাংলাদেশি, বাঙালি। হা করে তাকিয়ে রইল।

তুমি জানো যে আমার ক্রেডিট কার্ডে তোমার জন্যে যদি আমি বুকিং করি তোমার সমস্ত রেসপনসিবিলিটি আমার হয়ে যাবে? তুমি যে-কোনো অন্যায় করো যে-কোনোকিছু করো, তুমি ধরা খেলে আমাকে ধরবে।

আমি হাসলাম, আমি বললাম যে আমার চেহারা দেখে কি তোমার মনে হয় যে আমি কোনো অন্যায় করব! আমি একটা বুড়ো মানুষ!

আমার দিকে আবার তাকিয়েছে। বলে যে তা না, কিন্তু বাট ইটস এ সিকিউরিটি রিস্ক।

আমি বললাম যে তুমি এই রিস্ক মানে নিতে পারো।

এখন আমি তো পড়েছি বিপদে! আমার যদি হোটেল বুকিং না হয়, আপনার মা-জী সাথে, গিয়ে উঠবো কোথায়!

আবার আমার দিকে তাকাল! বলে যে তুমি তো খুব ইন্টারেস্টিং পারসন! তুমি আমাকে বলছ, ঠিক আছে তুমি যখন বলছ এত করে বলছ। সে নিজের ক্রেডিট কার্ড দিয়ে সব বুকিং করে দিল। আমি তাকে টাকা দিয়ে দিলাম।

যখন লন্ডনে ফিরে এলাম, লন্ডনে যারা আমাদের লোক ছিল বলে যে কী বলেন? ইউরোপে! কোনো ইউরোপিয়ান।

এক তো আপনি বাঙালি, তারপরে আবার নামের সাথে ‘বোখারী’। আপনারটা করে দিয়েছে!

আমি বলি যে করে তো দিলো আমি তো এত সব বুঝিটুঝি না। এবং আমরা ইউরোপে গেলাম এবং কোথাও কোনো অসুবিধা হয় নি।

যখন আপনি অন্যের কল্যাণ করবেন তখন আপনার কল্যাণ হবে। এটাই হচ্ছে প্রকৃতির নিয়ম, প্রকৃতির আইন।

[কোয়ান্টামম সাদাকায়ন, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯]

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM