1. admin@hostpio.com : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
  2. azmulaziz2021@gmail.com : Azmul Aziz : Azmul Aziz
  3. musa@informationcraft.xyz : musa :
বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০৮:১০ পূর্বাহ্ন

শুধু মানুষ কেন, জড়বস্তুও মনোযোগ বোঝে।

  • সময় শনিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২১
  • ৮৩ বার দেখা হয়েছে

আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে মহামতি বুদ্ধ বলেছিলেন, “নিজের জন্যে কল্যাণকর কাজ করা সবসময় কঠিন, আর নিজের জন্যে ক্ষতিকর কাজ করা সবসময় সহজ”। যারা আলোকায়নে আসেন তারা ব্যতিক্রম কিছু মানুষ কারণ নিজের জন্যে কল্যাণকর কাজ করার সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছেন। যখন সঙ্ঘবদ্ধভাবে কিছু মানুষ সৎ নিয়ত নিয়ে নিজের কল্যাণ বা অন্যের কল্যাণ ভাবতে পারে, সেখানে সষ্টার রহমত সবসময় থাকে।

সেজন্যেই আমরা অনুভব করি আলোকায়নে মানুষ আসেন অশন্তি-অস্থিরতা নিয়ে, যখন ফিরে যান তখন থকেন অনেক স্থির, ফিরেন প্রশান্তি নিয়ে। আলোকায়নে জীবনের চিরায়ত কিছু সত্য, জীবনের সাথে পরিচিত জীবন ঘনিষ্ট কিছু বিষয় নিয়ে প্রথম অংশে আলোচনা হয়। পরের অংশে সবাই মিলে একসাথে মেডিটেশন করে। তারপর থাকে গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ তা হলো কাউন্সেলিং সেশন যেখানে সকলে তার আনন্দের কথা, দুঃখের কথা, সমস্যার কথা শেয়ার করতে পারেন।

সেই ধারাবাহিকতায় আজকের আলোচ্য বিষয় হচ্ছে সাফল্যের রহস্য: অখণ্ড মনোযোগ। নেপোলিয়ান হিল বলেন, Keep your mind on the things you want and off the things you don’t want. জীবনে সফল না হওয়ার অনেকগুলো কারণের মধ্যে সুনির্দিষ্ট একটি প্রধান কারণ মনোযোগের অভাব। পৃথিবীর সফল মানুষদের সাফল্যের গোপন রহস্য হচ্ছে-তারা যা করতেন মনোযোগ দিয়ে করতেন। পুরো অস্তিত্বকে কাজের মাঝে নিয়োজিত করতেন। পৃথিবীতে সব কাজ কালের ধারায় টিকে থাকে না। সেই কাজই টিকে থাকে যা মনোযোগ পায়। এ পি জে আবদুল কালাম তার জীবনীতে লিখেছেন, এসেম্বলি শপে আমি প্রবেশ করতাম আমার অন্যান্য সমস্যা বাইরে রেখে। ঠিক আমার বাবা নামাজ পড়ার জন্যে যেভাবে জুতো বাইরে রেখে মসজিদে প্রবেশ করতেন।

আসলে মনোযোগ যে কত গুরুত্বপূর্ণ তা আবুল কালামের বইয়ের উদ্ধৃতিতে বোঝা যায়- ভালবাসা ছাড়া যে রুটি তৈরি হয় সে রুটি তিক্ত রুটি যা একজন মানুষের ক্ষুধা অর্ধেক মেটাতে পারে। যারা হৃদয় মন প্রাণ দিয়ে কাজ করতে পারে না তারা সাফল্য অর্জন করে আধাআধি। একজন মানুষ যখন যোগ্য হয় তখন যেকোনো কিছু পাওয়ার জন্যে শুধুমাত্র তার স্বাক্ষরই যথেষ্ট।

বিখ্যাত চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসো তার জীবনের একটি ঘটনায় আমরা খুজে পাই- তিনি ফার্নিচারের দোকানে গিয়ে নিজের জন্যে ফার্নিচার অর্ডার দিচ্ছেন। তিনি যতভাবে দোকানীকে ফার্নিচারের ডিজাইন সম্পর্কে বোঝাতে চাচ্ছেন দোকানী বুঝতে পারছে না। অবশেষে দোকানী বললো, স্যার আপনি ফার্নিচারের স্কেচ করে নিচে আপনার স্বাক্ষর করে দিন আমি তৈরি করে দেবো, আপনাকে কোনো অর্থ দিতে হবে না।

এই যে অর্জন- এটি হয়েছিলো মূলত তার কাজের প্রতি মনোযোগের কারণে। এ পি জে আবদুল কালামের মতো তিনিও খুব সুন্দর করে বলেছিলেন, আমি যখন স্টুডিওতে ঢুকি, দেহটাকে দরজার বাইরে রেখে, মনটাকে ভেতরে নিয়ে ঢুকি, যেভাবে মুসলমানরা জুতা বাইরে রেখে মসজিদে ঢোকে। কোনো চিন্তা বা কাজের প্রতি অখণ্ড বা একাগ্র মনোযোগ দিতে পারলে তাতে সবসময়ই যুক্ত হয় এক নতুন মাত্রা। তখন কম কাজে বেশী আউটপুট পাবেন।

এছাড়াও পরিচিতজনের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন হবে। যে কাজটা বা দায়িত্বটা আপনি বিরক্তি নিয়ে করছেন, অবজ্ঞা করছেন, দেখবেন ঐ দায়িত্ব আপনার কাছে আর নেই। শুধু মানুষ কেন, কাজ, জড়বস্তু সে কিন্তু আপনার মনোযোগ বা মমতা বোঝে। আপনি যখনই তার প্রতি নির্দয় হচ্ছেন সে আপনাকে ছেড়ে যাবে।

এ নিয়ে চমৎকার একটি ঘটনা আছে- এক লোকের প্রচুর টাকা, টাকা এত পরিমাণে যে তা হিসেব করাও তার কাছে ঝামেলার মনে হতো। টাকা হিসেব করতে তার খুব কষ্ট হতো, যে কারণে তিনি বস্তা ভর্তি করে ব্যাংকে টাকা জমা করতেন। কিছুদিন পরে দেখা গেল, তার টাকা এতই কমে গেল, তিনি টাকা হিসেব করতে চাইতেন কিন্তু হিসেব করার অর্থ তার নাই।

অর্থাৎ মনোযোগের অভাবে তিনি তার টাকা হারালেন। মনোযোগ বাড়ানোর জন্যে নিচে কিছু করণীয় আছে যা চর্চা করে আমরা উপকৃত হতে পারি-

১. পরিবর্তনের জন্যে আপনাকেই কাজ শুরু করতে হবে। তাই বিশ্রামের পরিবর্তে কাজের মাঝেই আনন্দ আবিষ্কার করুন। কাজ সময় বা শ্রম সাপেক্ষ যতই হোক এর আনন্দময় দিকটি বড় করে দেখুন। তাহলে কাজের গুণগুত মান বাড়বে।

২. প্রতিটি কাজ শেষ করার জন্যে একটি প্রকৃত সময়সীমা নির্ধারণ করুন। চেষ্টা করুন নির্ধারিত সময়ে বা তার আগেই কাজটিকে শেষ করতে। আপনার এই অব্যাহত চেষ্টা যখন অভ্যাসে পরিণত হবে তখন আপনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজে মনোযোগী হবেন।

৩. মনের খেয়ালীপনা থেকে মুক্ত থাকুন। খেলার সময় খেলা আর কাজের সময় শুধুই কাজ- এটি অন্তরে গেঁথে ফেলুন। আপনার মনোযোগ বাড়বে।

৪. মনোযোগ বাড়ানোর আরেকটি খুব সহজ উপায় হচ্ছে প্রতিটি বিষয়ে স্বাবলম্বী হওয়া। কারণ একজন ছাত্র যত স্বাবলম্বী হবে তত সে বাজে কাজ- যেমন টেলিফোন রিসিভ করা বা ইন্টারনেটে চ্যাট করা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারবে। সে ঠিক জানে মোজাটা খুলে সে কোথায় রাখবে, বইটা সে কোথায় রাখবে; কারণ পরে তাকেই আবার খুঁজে বের করতে হবে। অর্থাৎ মূল সূত্রটা হচ্ছে আপনি যত স্বাবলম্বী হবেন তত আপনার মনোযোগ বাড়বে।

৫. গুছিয়ে বা পরিকল্পনা করে কাজ করলে মনোযোগ দেয়া সহজ হয়। আর এটা সম্ভব যখন মেডিটেশন করা হয়। আপনি টেবিলে যত ফাইলপত্র অগোছালো করে রাখবেন তত আপনি রুটিনে ভুল করবেন। আপনার মন বিক্ষিপ্ত হবে বেশি।

৬. যে বিষয়ে মনোযোগ দিতে চাচ্ছেন তা থেকে মনোযোগ চলে গেলে নিজের ওপরে রাগ না করে বিষয়টিকে বার বার মনের কাছে নিয়ে আসুন। কারণ সক্রিয় মনোযোগে সবসময় মানসিক শক্তি প্রয়োগ করতে হয়।

৭. বড় কাজকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করুন। অল্প সময় নিয়ে শুরু করুন। আস্তে আস্তে সময় বাড়ান। ছোট ছোট খণ্ড কাজে আপনার মনোযোগ বিক্ষিপ্ত হবে কম।

৮. দিনের কর্মসূচির প্রতি লক্ষ্য করুন। চিহ্নিত করুন কোন কাজগুলো গুরুত্বপূর্ণ, যে কাজগুলো গুরুত্বপূর্ণ সেগুলোতে মনোযোগ দেয়া গুরুত্বপূর্ণ। কম গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো দিনের একটা নির্দিষ্ট সময়ে করার চেষ্টা করুন।

৯. বিরক্তি নিয়ে নয় আগ্রহ নিয়ে কাজ করুন। শিশুর কৌতূহল নিয়ে সবকিছু দেখুন। দেখবেন মনোযোগ বেড়ে যাচ্ছে। তবে অপ্রয়োজনীয় বা অযাচিত বিষয়ে কৌতূহল নিবারণ করুন। মানসিক স্থিরতা হলো মনোযোগের মূল। মেডিটেশনে আমরা প্রথমত মনকে স্থির করি। কোনো বিষয়ে মনোযোগ দেয়া সহজ হয় যখন সামনে একটি লক্ষ্য থাকে।

মেডিটেশনে আমরা লক্ষ্যকে মনের সামনে নিয়ে আসি। আসলে মনকে জোর করা যায় না, তাকে উদ্বুদ্ধ করতে হয়, মনকে লক্ষ্য দিয়ে রাখলে সে তাতে মনোযোগ নিবদ্ধ করে, যা মেডিটেশনে আরো দৃঢ় হয়। কাজ যখন নিজের জীবন তখন তা আনন্দের আর যখন অন্যের জীবন তখন দাসত্বের। যে কাজ নিরানন্দ সে কাজে মানুষ অমনোযোগী হয় ফলে ব্যর্থতা নিশ্চিত হয়ে যায়।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM