1. admin@hostpio.com : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
  2. azmulaziz2021@gmail.com : Azmul Aziz : Azmul Aziz
  3. musa@informationcraft.xyz : musa :
শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন

জানুন আপনার দানের অর্থের পরিণতি

  • সময় শনিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২১
  • ৬৭ বার দেখা হয়েছে

দান আপনাকে রাখবে সুস্থ

২০০৬ সালে যৌথভাবে একটি গবেষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর র‌্যাচেল পিফেরি এবং টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ক্যাথলিন লওলার। তারা দেখেন—যারা নিয়মিত দান করেন, তাদের রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে এবং তারা তুলনামূলক বেশি সুস্থ। কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এলিজাবেথ ডান গবেষণায় দেখেন, যখন কেউ দান করে তার রক্তচাপ হ্রাস পায় উল্লেখযোগ্য হারে। অথচ যখন সে নিজের জন্যে ব্যয় করে, রক্তচাপে কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না।

সমস্যা মুক্তিতে দান

দানের পরিমাণ যা-ই হোক, তা দাতার ভালো থাকার মাত্রা বাড়াতে সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আর্তের সেবায় যিনি দান করেন, তার দৃষ্টি শুধু নিজের সমস্যাগুলোর মধ্যে ঘুরপাক খায় না। আত্মকেন্দ্রিক নন বলেই তার জগতটা বড় এবং সমস্যা তুলনামূলক কম।

 

দীর্ঘজীবনের জন্যে দান

যুক্তরাষ্ট্রের জার্নাল অব হেলথ সাইকোলজি-র রিপোর্ট অনুসারে, দাতারা দীর্ঘায়ু হন। নিয়মিত অন্যের উপকার করতে পেরে যে ভালোলাগা সৃষ্টি হয় তা ছড়িয়ে পড়ে দেহ-মনে। রক্তে ‘হ্যাপিনেস কেমিক্যাল’ যেমন : ডোপামিন, এন্ডোরফিন, অক্সিটোসিনের প্রবাহ বাড়ে। স্বাভাবিকভাবেই দাতার মনে দুশ্চিন্তা হতাশা ভয়-আতঙ্ক খুব একটা সুবিধা করতে পারে না।

জানুন আপনার দানের অর্থের পরিণতি

দানের মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ হলো, দানের অর্থ কোথায় কীভাবে ব্যয় হচ্ছে তা জানা। এ নিয়েও দীর্ঘ গবেষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মাইকেল নরটন। তার মতে, দানের অর্থে কীভাবে মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন হচ্ছে, এ বিষয়ে দাতার সুস্পষ্ট ধারণা থাকলে দানের তৃপ্তি বহুগুণে বেড়ে যায়।

অন্যের জন্যে ব্যয় করলে আসে দীর্ঘস্থায়ী সুখ

হ্যাপি মানি : দ্য সায়েন্স অব হ্যাপিয়ার স্পেন্ডিং বইয়ের লেখক মাইকেল নরটনের মতে, ‘নতুন জুতো, জামা, গাড়ি, বাড়ি কেনার আনন্দ যতই অতুলনীয় হোক তা বড্ড তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায়।’ নিজের জন্যে ব্যয় করাটা সুখের, তবে এ সুখ স্থায়ী হয় না। অন্যদিকে একই অর্থ যখন আমরা অন্যের প্রয়োজনে ব্যয় করি বা দান করি, তখন যে সুখের সৃষ্টি হয় তার স্থায়িত্ব অনেক বেশি। যত বার নিঃস্বার্থ সেই ব্যয়ের কথা আমরা স্মরণ করি—একটা ভালোলাগা কাজ করে।

দান ও স্বেচ্ছাসেবার উপকার

  • দান ও স্বেচ্ছাসেবার মধ্য দিয়ে চারপাশের মানুষের সাথে সখ্য গড়ে ওঠে। একাকিত্বের অনুভূতি কমে।
  • বিপদে-আপদে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর ফলে দাতার আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
  • দানের অভ্যাস ব্যক্তিকে কৃতজ্ঞ ও ইতিবাচক হতে শেখায়। দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়ার ফলে তিনি জানেন, সুখ-দুঃখ মিলিয়েই জীবন। তাই অভিযোগপ্রবণ না হয়ে যা আছে তা নিয়েই এগোতে হবে।
  • যারা নিয়মিত দান করেন তাদের কাছে বেঁচে থাকাটা অনেক অর্থবহ।
  • দাতারা দীর্ঘায়ু হন। তাদের স্ট্রেস ও বিষণ্নতা কম। গড়পড়তা মানুষের তুলনায় তারা সুস্থ থাকেন।
  • আলঝেইমার্স রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে। এ ধরনের কাজের তৃপ্তি মস্তিষ্কের স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায়, যা মস্তিষ্ককে কর্মক্ষম রাখে দীর্ঘদিন।
  • দান ও স্বেচ্ছাসেবায় যারা নিবেদিত, তারা ব্যক্তিজীবনে ও পারিবারিক জীবনের সমস্যাগুলোও সহজে সমাধান করতে পারেন। কারণ প্রতিক‚ল নানা পরিস্থিতিতে কাজ করার ফলে সমস্যা সমাধানের সহজাত দক্ষতা গড়ে ওঠে স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে।
  • মানুষের সাথে মেলামেশার সুযোগ ঘটে বেশি। নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হয়।
  • নিয়মিত দান মানুষকে বিনয়ী ও সমমর্মী করে। ফলে পারস্পরিক সম্পর্কগুলো মজবুত হয়, দীর্ঘস্থায়ী হয়।

 

তথ্যসূত্র : মেডিকেল নিউজ টুডে, ১৬ জুলাই ২০১৭

টাইম ম্যাগাজিন, ১৪ জুলাই ২০১৭

রয়টার্স, ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM