1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৪০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
ইফতার বিতরণ করলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা বাংলাদেশ আরএমজি প্রফেশনালস্ এর উদ্যোগে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষদের মাঝে ঈদ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ- গাজীপুরে এতিম শিশুদের সাথে বিডিআরএমজিপি এফএনএফ ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল গ্রীষ্মকাল আসছে : তীব্র গরমে সুস্থ থাকতে যা করবেন ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল তাইওয়ান, সুনামি সতর্কতা ঈদের আগে সব সেক্টরের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবি এবি পার্টির সালমান খান এবার কি বচ্চন পরিবার নিয়ে মুখ খুলতে যাচ্ছেন ঐশ্বরিয়া? আমার ও দেশের ওপর অনেক বালা মুসিবত : ইউনূস লম্বা ঈদের ছুটিতে কতজন ঢাকা ছাড়তে চান, কতজন পারবেন?

শুনেছি নবীজী (স) এর জীবদ্দশায় কোরআন লিপিবদ্ধ হয় নি। তাহলে কোরআনের নির্ভুলতা সম্পর্কে কীভাবে নিশ্চিত হবো?

  • সময় সোমবার, ৩ মে, ২০২১
  • ১০৫৯ বার দেখা হয়েছে

এটি একটি ভুল ধারণা যে কোরআন নবীজী (স) এর জীবদ্দশায় লিপিবদ্ধ হয়নি। নবীজী (স) এর জীবদ্দশায় কোরআন বই আকারে লিপিবদ্ধ হয়নি বটে, কিন্তু কোরআনের আয়াতাংশ, আয়াত, সূরা—যখনই যা নাজিল হতো, তখনই নবীজী (স) তা নিজে বার বার তেলাওয়াত করতেন এবং উপস্থিত সাথিদের শোনাতেন। সাহাবীরা তা বার বার তেলাওয়াত করে মুখস্থ করে ফেলতেন। আর কাতিব অর্থাৎ লিপিকররা তা লিপিবদ্ধ করতেন। লিখে রাখার এই কাজে মোটা কাগজ, চামড়া, পাথরখণ্ড, জন্তুর হাড় ও খেজুর পাতা ব্যবহার করা হতো।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

বিভিন্ন পর্যায়ে ৪০-এর অধিক সাহাবী কোরআন লিপিবদ্ধ করার দায়িত্ব পালন করেছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন আলী ইবনে আবু তালিব, উবাই ইবনে কাব, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, জায়েদ বিন সাবিত (রা) প্রমুখ।

জায়েদ বিন সাবিতকে নবীজী (স) তাঁর সামনে বসেই কোরআন লিপিবদ্ধ করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কোনো আয়াত নাজিল হলেই তিনি তাকে ডেকে নিয়ে তেলাওয়াত করে শোনাতেন। আয়াতটি কোন সূরার কোন আয়াতের আগে বা পরে কোথায় বসাতে হবে, সে-সম্পর্কে নির্দেশনা দিতেন। জায়েদ সেভাবে লিপিবদ্ধ করে শুদ্ধতা যাচাইয়ের জন্যে তা আবার নবীজীকে (স) পড়ে শোনাতেন। এভাবে পুরো কোরআন সূরা আকারে বিন্যস্ত, লিপিবদ্ধ ও মুখস্থ করার নির্ভুল প্রক্রিয়া সুসম্পন্ন হয় নবীজীর (স) জীবদ্দশাতেই। শুধু একত্রে ‘মসহাফ’ আকারে গ্রন্থিত হয় নি।

নবীজীর (স) ওফাতের পরই আরবের বিভিন্ন এলাকায় ভণ্ড নবীর প্রাদুর্ভাব ঘটে। এদের বিদ্রোহ দমন করতে গিয়ে বহু হাফেজ শহিদ হন। তখন হযরত ওমরের (রা) পরামর্শ ও অনুরোধে প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা) পবিত্র কোরআনকে একত্রে গ্রন্থাকারে সংকলনের উদ্যোগ নেন। রসুলুল্লাহর (স) সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ কাতিব জায়েদ বিন সাবিতকে প্রধান করে হযরত আবু বকর (রা) একটি টিমকে এ-কাজের দায়িত্ব দেন।

হযরত আবু বকর (রা) ফরমান জারি করেন যে, যার কাছে কোরআনের যে অংশ লিখিত আছে, তা জায়েদের কাছে হাজির করতে হবে। জায়েদ একইসাথে হাফেজ ও কাতিব ছিলেন। তিনি শুধু নিজের স্মৃতি ও লেখার ওপর নির্ভর করেন নি। তিনি তার কাছে লিখিত প্রতিটি আয়াতের সমর্থনে দুজন করে কাতিবের লেখার সাথে তা মিলিয়েছেন এবং সেই কাতিব যে রসুলুল্লাহর (স) সামনে এই আয়াত লিপিবদ্ধ করেছেন, তার সপক্ষে দুজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন। একইসাথে সেই আয়াত দুজন হাফেজ একইভাবে মুখস্থ করেছেন কিনা এবং তিনি যে রসুলুল্লাহর (স) সামনে সেই আয়াত শুনে মুখস্থ করেছেন, তার সপক্ষে দুজন সাক্ষী তলব করেছেন। রসুলুল্লাহ (স) যে-রকম নির্ভুলভাবে আল্লাহর কালামকে পেশ করেছেন, সংকলনের ক্ষেত্রেও সাহাবীরা ছিলেন একইরকম আন্তরিক ও সত্যনিষ্ঠ।

হযরত আবু বকরের (রা) পর হযরত ওমর (রা) এই মসহাফ সংরক্ষণ করেন। তাঁর সময় খেলাফতের সীমানা পারস্য থেকে লিবিয়া এবং আরব সাগর থেকে আজারবাইজান পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়। তিনি এই বিশাল অঞ্চলে অভিন্ন উচ্চারণ ও বাক্-রীতিতে পবিত্র কোরআন পঠনপাঠনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। পুরো কার্যক্রম তদারকির জন্যে তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আবু মুসা আশয়ারী, মুয়াজ ইবনে জাবলসহ ১০ জন বিশিষ্ট সাহাবীকে খেলাফতের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রেরণ করেন। হযরত ওমরের (রা) মৃত্যুর পর এই মসহাফ তাঁর কন্যা ও উম্মুল মোমেনিন হযরত হাফসা-র (রা) হেফাজতে সংরক্ষিত হয়।

তৃতীয় খলিফা হযরত উসমানের (রা) সময় খেলাফতের আরো বিস্তৃতি ঘটে। তিনি সব অঞ্চলে অভিন্ন পঠনপাঠনরীতি অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে কোরআনের কপি করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি হযরত হাফসা-র (রা) কাছে সংরক্ষিত মসহাফ চেয়ে পাঠান। তিনি কোরাইশদের পঠন ও লিখনরীতি অনুসারে মসহাফের কপি করার জন্যে প্রধান কাতিব জায়েদ বিন সাবিত, আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইর, সাঈদ ইবনুল আস, আবদুর রহমান ইবনে হারিস, উবাই ইবনে কাব সহ ১২ জন সাহাবীর একটি টিম গঠন করেন। তারা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নির্ভুলভাবে এই মসহাফের কপি করেন। হযরত উসমান (রা) একটি কপি নিজের কাছে এবং একটি মদিনার মহাফেজখানায় রেখে অবশিষ্ট কপিগুলো সত্যায়ন করে বিভিন্ন প্রদেশের শাসনকর্তাদের কাছে প্রেরণ করেন। আর মূল কপি ফেরত পাঠান হযরত হাফসা-র (রা) কাছে।

হযরত উসমানের (রা) সময় কপি করা হয়েছিল বলে ইতিহাসে এ মসহাফ পরিচিতি লাভ করে ‘মসহাফে উসমানী’ নামে। মসহাফে উসমানী-র সত্যায়িত একটি কপি এখনো সংরক্ষিত আছে উজবেকিস্তানের তাসখন্দ মিউজিয়ামে।

মসহাফে উসমানী বিভিন্ন স্থানে প্রেরিত হওয়ার পর প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে কোরআন কপি করার প্রচলন শুরু হয়। শতাব্দী পরিক্রমায় কোরআনের হাজার হাজার কপি সর্বত্র প্রচার লাভ করে। ইসলামের ইতিহাসের সকল যুগের কপি করা কোরআনের পাণ্ডুলিপির বিশাল সংগ্রহ রয়েছে ওয়াশিংটনের লাইব্রেরি অব কংগ্রেস, আয়ারল্যান্ডের চেস্টার বিয়াটি মিউজিয়াম ও ইংল্যান্ডের লন্ডন মিউজিয়ামে। এসব পাণ্ডুলিপির সাথে তাসখন্দ মিউজিয়াম, ইস্তাম্বুলের টপকাপি মিউজিয়াম ও মিশরে কায়রোর আল-হোসেন মসজিদে সংরক্ষিত মসহাফ মিলিয়ে দেখা গেছে যে, মূল মসহাফের লিখনের সাথে এগুলোর কোথাও কোনো অমিল নেই।

জার্মানির মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের The Institute for Koran Forschung হাতে লেখা ৪২ হাজার কপি পূর্ণ বা আংশিক কোরআন সংগ্রহ করে। দীর্ঘ ৫০ বছর গবেষণা করার পর ইনস্টিটিউট এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, পাণ্ডুলিপি পাঠে কোনো পার্থক্য নেই। দুর্ভাগ্যবশত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বোমাবর্ষণে ইনস্টিটিউটটি ধ্বংস হয়ে যায়।

আল্লাহর অনুগ্রহ আর সাহাবীদের আন্তরিক ও বস্তুনিষ্ঠ প্রয়াসের ফলে নাজিল হওয়ার সময় যেভাবে পঠিত হয়েছে, ১৪ শত বছর ধরে সারা পৃথিবীর ঘরে ঘরে এই একই কোরআন সেভাবেই পঠিত হচ্ছে। কোরআন একমাত্র ধর্মগ্রন্থ, যা তার মূল ভাষাকে ধরে রেখেছে এবং মূল ভাষাতেই পঠিত ও চর্চিত হচ্ছে। সেই একই কোরআন। ১১৪টি সূরা। ৬,২৩৬টি আয়াত।

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM
Translate »