1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
  2. [email protected] : Emon : Armanul Islam
  3. [email protected] : musa :
বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:০৭ অপরাহ্ন

সংসার জীবনে সবসময় শাশুড়ি, ননদ-দেবরদের জন্যে সবদিক থেকে sacrifice করে আসছি।

  • সময় শনিবার, ২২ মে, ২০২১
  • ২৬৭ বার দেখা হয়েছে

সংসার জীবনে সবসময় শাশুড়ি, ননদ-দেবরদের জন্যে সবদিক থেকে sacrifice করে আসছি। যেমন ৩ বেডরুমের ফ্ল্যাট। সবচেয়ে ছোট রুমটাই আমাকে নিতে হবে, কারণ আমার ঘরে তেমন ফার্নিচার নেই। খাবার সময় ছোট মাছের পিসটাই তুলে দেবে আমাকে। তাছাড়া আর্থিক দিক তো আছেই। যখন যার প্রয়োজন, বৌ চাকরি করছে ব্যবস্থা কর। খুব ভালো, সবাই খুশি, কেবল আমিই মনে মনে কষ্ট পাই। তবুও একফোঁটা শান্তির জন্যে সবকিছু সহ্য করছি। কিন্তু মনের ব্যথা তো ধুয়ে মুছে ফেলতে পারছি না। কী করবো? দয়া করে বলবেন কি? শারীরিক মানসিকভাবে সবসময় বিপর্যস্ত থাকছি।

আপনার জন্যে দুঃখ হচ্ছে এজন্যে যে এত সৌভাগ্যবান একজন হয়েও শুধুমাত্র দৃষ্টিভঙ্গির কারণে আপনি কষ্ট পাচ্ছেন। আপনাকে ধরে কেউ পেটাচ্ছে না! মারছে না, শুধু আপনার ফার্নিচার কম বলে ছোট বেডরুমটা আপনাকে দিয়েছে। বোঝা যাচ্ছে আপনারা স্বামী-স্ত্রী মাত্র দুইজন। তাহলে বড় বেডরুম দিয়ে কী করবেন? ব্যাপারটাকে এভাবে কেন দেখতে পারছেন না যে ছোট রুমটাই আমার থাক। ঝাড়পোছের ঝামেলা কমলো আর ওরাও থাকুক না একটু আরাম করে! ননদ-দেবর তো বিয়ের পর চলেই যাবে। থাকবেন তখন কেবল শাশুড়ি। আর এ যুগে শাশুড়ি থাকাটা তো আশীর্বাদ। কারণ কদিন বাদে আপনি যখন সন্তান নেবেন, তখন বাচ্চাটাকে রেখে কাজে যাওয়ার জন্যে শাশুড়ির মতো এমন নির্ভরযোগ্য একজনকে পাওয়াটাকে আশীর্বাদ ছাড়া আর কিছু মনে হবে না। কারণ ৫ বছর পর বুয়া-আয়াদেরকে আর পাবেন না। আর পেলেও এদের চেয়ে দাদা-দাদী অনেক নির্ভরযোগ্য। কারণ আপনার বাচ্চা হচ্ছে তার বংশের চেরাগ।

অতএব তার প্রতি তাদের যে দরদ মমতা, এটা অন্য কেউ করবে না। তারপর এই যে ছোট পিসটা আপনাকে দিচ্ছে। তাদেরকে দেয়ার সুযোগ দিচ্ছেন কেন? আপনি নিজেই সেটা নিয়ে নিন না। মনে মনে ভাবুন বড় পিস খেলে আমি মোটা হয়ে যাবো। ছোটটাই আমার ভালো, ডায়েটিং করার সুযোগ পাচ্ছি। আর বড় পিসটা নিজহাতে তুলে দেন শাশুড়ির প্লেটে। দেখবেন ৩ দিন পর শাশুড়ি নিজে লজ্জা পাবে। বলবে, বৌমা প্রতিদিন তো বড়টা আমাকে তুলে দাও। আজ তুমি এটা খাও। কারণ বাকি যারা আছে আগামী ৫ বছর বা ১০ বছর পরে তারা কেউ কিন্তু এখানে থাকবে না। থাকবেন শুধু আপনি আর আপনার স্বামী।

অতএব এ প্রত্যেকটা জিনিস আপনাকে আনন্দ দিতে পারে, আপনি সবচাইতে সুখী মহিলা হতে পারেন, যদি দৃষ্টিভঙ্গিটা একটু পাল্টে দেন। কারণ সেবা দিয়ে পুণ্য হাসিলের সোনালী সুযোগ ছড়িয়ে আছে যে পরিবেশে সেখানে থেকেও শুধুমাত্র ভুল দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই আপনি কষ্ট পাচ্ছেন। এই যে শাশুড়ি যখন বলছে, ‘বৌ চাকরি করছে, ব্যবস্থা কর’ তার মানে কী? তারা আপনার ওপর নির্ভরশীল। এরা সবাই আপনার অনুগত হয়ে যাবে, আপনার কর্তৃত্ব মেনে নেবে যদি আপনি শুধু দৃষ্টিভঙ্গিটাকে ঠিক করে ফেলতে পারেন।

লিডার মানে সেবক, লিডার মানে নিজে কষ্ট করে সুখটা অন্যকে দেয়া। আর আপনি অন্তর থেকে দিয়ে যান। স্বামী-শাশুড়ি-ননদ-দেবর কেউ না দেখুক, প্রকৃতি দেখছে। প্রকৃতি এর প্রতিদান দেবে। আপনি এখন দিচ্ছেন। কিন্তু কষ্ট নিয়ে দিচ্ছেন। এই দেয়ার কোনো প্রতিদান নেই। কিন্তু আপনি যখন আনন্দিতচিত্তে দেবেন তখন প্রকৃতি আপনাকে ভরে দেবে। শাশুড়ির চাইতে স্ত্রীর দায়িত্ব বেশী। স্ত্রী হয়তো চেষ্টা করছে। প্রথম প্রথম প্রো-একটিভ থাকার চেষ্টা করেছে, কখনো কখনো কোয়ান্টা ভঙ্গি করছে এবং ভাবছে এই ভঙ্গি করে আমিও ঠান্ডা থাকবো শাশুড়িও ঠান্ডা থাকবে। স্ত্রী ভাবছে, কোয়ান্টা ভঙ্গি করে আমি তো ঠান্ডা আছি, কিন্তু শাশুড়ীতো ঠান্ডা থাকছে না। সেতো বকেই যাচ্ছে। যখনই আপনি ভাবলেন শাশুড়ী তো ঠান্ডা থাকছে না, সেতো বকেই যাচ্ছে, তখন আপনি আসলে আপনার প্রশান্তিটা নষ্ট করে ফেললেন। আপনি হেরে গেলেন।

আপনি কোয়ান্টা ভঙ্গি করছেন, শান্ত থাকার জন্যে। শাশুড়ি বলছে- বলতে দিন। যতক্ষণ খুশি বলুক- আপনার কিছু বলার দরকার নেই। বলতে বলতে বলতে যখন ক্লান্ত হয়ে গেল বা যখন বললো, হাঁ বৌ, তোমার মুখে কোনো কথা নেই কেন? তখন আপনি বলুন, আস্তে আস্তে বলুন। একটু একটু করে বলুন বা পরে বলুন কোয়ান্টা ভঙ্গি করার মানে এই না উনি সাথে সাথে ঠান্ডা হয়ে যাবেন। কারণ উনি তো গামা লেভেলে আছেন। কোয়ান্টা ভঙ্গি করার অর্থ এই যে, আপনি react করবেন না। আবার ধরুন, শাশুড়ি পুত্রবধুর মধ্যে সমস্যা হচ্ছে, এই সমস্যাকে আমরা কীভাবে overcome করতে পারি। দেখা যাচ্ছে ছেলের বউ কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েট।

খুব proactive থাকছে, খুব কমান্ড সেন্টারে এনে তাকে হিলিং করছে। তারপরও হচ্ছে না। কেন হচ্ছে না। কারণ আমরা হিলিং করার সাথে সাথে রেজাল্ট প্রত্যাশা করতে শুরু করি। ধরুন আজকে একটু হিল করলাম, কালকে সকালে একটু পরিবর্তন হলো কি না দেখি। পরিবর্তন হলো কি না যখনই দেখতে গেলেন আপনি ভুল করলেন। আপনার বিশ্বাসে খাদ সৃষ্টি হলো। তা নাহলে এমন করে দেখতে যেতেন না। আপনি বিশ্বাস করতেন। আবার পারিবারিক ক্ষেত্রে অনেক ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

যেমন-একটি ঘটনায়, শাশুড়ি একেবারে পছন্দ করেন না পুত্রবধূকে। পুত্রবধু সারাদিন দাসীর মতো কাজ করছে। রান্না-বান্না সবকিছু করে ঠিক যখন দুপুরবেলা খাবার পরিবেশনের সময় তখন শাশুড়ি হয়তো পুত্রবধূকে খোঁচা দিয়ে কিছু বললেন। পুত্রবধূ আবেগপ্রবণ হয়ে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ল। শ্বশুর হয়তো পুত্রবধূকে ডাকছেন। শ্বাশুড়ি সে সময় খাবার টাবার নিয়ে গিয়ে বলল, বৌমাতো ঘুমুচ্ছে। এখানে কি হলো? মেয়েটি সারাদিন পরিশ্রম করল। পরিশ্রম করে যখন বাহবা নেয়ার সময় হলো তখন শাশুড়ি বাহবাটা নিয়ে নিলো। পরিবারের সবার সামনে তার পরিচয় হলো সে তো ঘুমায়, কোনো কাজ টাজ করে না। তাহলে এক্ষেত্রে পুত্রবধূর কী করা উচিত ছিল।

পুত্রবধূর দৃষ্টিভঙ্গি হওয়া উচিত ছিল, যত খোঁচাও না কেন মা আমি তোমারই মেয়ে। আগে খাবার পরিবেশন করে নিই, খেয়ে নিই, তারপর শুতে যাবো। অধিকাংশ পরিবারেই মেয়েরা আসলে আবেগপ্রবণ হয়ে হেরে যায়। কারণ তারা কৌশলটা বুঝতে পারে না। তারা বুদ্ধির চেয়ে আবেগটাকে প্রাধান্য দেয় এবং হেরে যায়। পরিষ্কার কর্মকৌশল হওয়া উচিত যে, আমি তো এই পক্ষকে-আমার শাশুড়িকে মাইনাস করতে পারছি না। অতএব শাশুড়ি আছে, আমি কোনো দেয়াল করবো না। কিন্তু দেয়াল গড়ে ওঠে কখন? যখন মেয়েটি চিন্তা করে যে এই শাশুড়িকে বদলানো যাবে না।

ঐ সময় তাহলে কী করতে হবে? আমি যখন বুঝতে পারছি শাশুড়ি আমাকে রাগাবে। আমি রাগবো না। আমি হাসবো যে আগে খাওয়াদাওয়া করে নিই, আপনি তো মা আপনি তো বলবেনই। অন্য কারো সামনে আপনি হেয় হলেন না। শাশুড়ি বুঝলো-এই বার পড়েছি আমারই মেয়ের পালায়। আমার চেয়ে সেও কম না। এটি একটি উদাহরণ যে, পারিবারিক ক্ষেত্রে আমরা সেতুটাকে নিয়ে যাই না। সেতু কখন নির্মিত হবে। অপর পাড়ে যদি শক্ত মাটি না থাকে তাহলে আপনি সেতুটাকে নিয়ে সেখানে মেলতে পারবেন না, পানিতে বা বাতাসের ওপরে সেতু নির্মাণ করতে পারবেন না।

আর অপর পাড়ে শক্ত মাটির নাম হচ্ছে আপনার বিশ্বাস। আপনি যখনই বিশ্বাস করবেন যে না, একে আমি জয় করবো, তখনই আপনি সেতু নির্মাণ করতে পারবেন। আজকে, কালকে পরশু, ১ মাস, ২ মাস, ৩ মাস, ৪ মাস, ৬ মাস ১ বছর ২ বছর, ৩ বছর, ৪ বছর ৫ বছর। সম্পর্ক যখন ছেদ করতে পারবেন না, দেয়াল নির্মাণ হচ্ছে আপনার জন্যে পরাজয়। আপনি সেতু বন্ধন করতে পারবেনই। এই ক্ষেত্রে সাফল্যের সম্ভাবনা হচ্ছে ১০০%। শুধু আপনাকে বিশ্বাস করতে হবে। আমরা শাশুড়ি-পুত্রবধূর উদাহরণ দেখলাম। এটি বাবার সাথে ছেলের হতে পারে, ছেলের সাথে মায়ের হতে পারে, স্বামীর সাথে স্ত্রীর হতে পারে।

অর্থাৎ সে সম্পর্ক ছিন্ন করা যায় না-সেই সম্পর্কের মাঝখানে কখনো দেয়াল নির্মাণ করবেন না। সেই সম্পর্কে সবসময় সেতু রচনা করবেন।

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM
Translate »