1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ০৫:৩৩ অপরাহ্ন

করোনা মানবজাতির জন্যে নতুন দোয়ার খুলে দিয়েছে

  • সময় শনিবার, ৩ জুলাই, ২০২১
  • ১০১৯ বার দেখা হয়েছে

 করোনাকে মানবজাতির জন্যে আশীর্বাদ বলাটা কি ভুল হবে? আমরা যেভাবে পাপে নিমজ্জিত হয়েছি, আমাদের সমমর্মিতা আর মানবিকতায় যে মহামারী চলছে সেটা তো করোনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল! আমরা যে আধুনিক মেডিকেল সায়েন্স নিয়ে এত গর্ব করতাম, অথচ এক মাইক্রোস্কোপিক অণুজীব পৃথিবীর তামাম বিজ্ঞানী-গবেষকদের নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছে। আমার তো মনে হয় আমাদের নিজেদের দৈহিক মানসিক আত্মিক সবগুলো দিক নিয়ে আত্মপর্যালোচনার সময় এসে গেছে।

করোনার প্রেক্ষিতে আপনার এই উপলব্ধিকে চমৎকার বলতে হয়। আসলেই করোনা মানবজাতিকে অনেক কিছু নিয়ে নতুন করে ভাবার উপলক্ষ্য এনে দিয়েছে। শুধু যদি আমরা মাথাটা ঠাণ্ডা রাখতাম, অহেতুক আতঙ্কে আচ্ছন্ন না থাকতাম তাহলে নিজেকে নিয়ে দুনিয়াকে নিয়ে স্রষ্টার মহিমাকে নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে পারতাম। নিজের ভেতরটা পরিশুদ্ধ করতে পারতাম।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

করোনার অবদান আসলে ভোলার নয়। এটা আমাদেরকে দেখিয়ে দিয়েছে আমরা যারা সভ্যতা নিয়ে বড় বড় বুলি আওড়াই, নিজেদের আধুনিক মানুষ সভ্য মানুষ বলে দাবি করি সেই আমাদের অমানবিকতার স্বরূপ। আমাদের ‘ভালো মানুষের’ মুখোশটা খুলে দিয়ে ভেতরের অন্ধকার স্বরূপটাকে উন্মোচিত করেছে এই করোনা।

আহারে, কত সভ্য! ছেলে বাবার লাশ ফেলে পালিয়ে গেছে। বাবা মৃত শিশুসন্তানের লাশ হাসপাতালে রেখে উধাও হচ্ছে। মাকে ছেলে মেয়েরা মিলে জঙ্গলে ফেলে রেখে চলে গেছে।

মা চিৎকার করছে ছেলের জন্যে যে তাকে শেষকৃত্য করা হোক। ছেলেরা বাদ, তার আপন ভাইরা আসছে না। একজনের করোনা হয়েছে আরকি- ওরে বাপরে বাপ! অচ্ছুত করে ফেলেছি আমরা তাকে।

করোনা না এলে কি আমরা কখনো অনুভব করতাম আমাদের মানবিকতায় এত ভয়াবহ মহামারী চলছে?

এই যে দান না করে টাকার পাহাড় গড়েছে বহু মানুষ, সেই টাকা কড়ি সম্পদ পরকালে তো দূর, ইহকালেই কোনো কাজে আসবে না, তার জন্যে কল্যাণ বয়ে আনবে না- এই নিষ্ঠুর বাস্তবতা করোনার সময়ে দেখা গেছে। কমসে কম পনের লক্ষ কোটি টাকার মালিক, একটা আস্ত হাসপাতাল কিনে ফেলা যার জন্যে কোনো ব্যাপারই না, মৃত্যুশয্যায় সে একটা ভেন্টিলেটর পর্যন্ত পায় নি!

আল্লাহ্‌ তাকে ক্ষমা করুন। কিন্তু সম্পদ দান না করে কুক্ষিগত করা যে জুলুম আর এই জালেমদের যে কোনো সাহায্যকারী থাকবে না, মানে আল্লাহ্‌ কোরআনে যেমনটা বলেছেন, সেটা তো এখান থেকেই বোঝা যায়।

আর আমরা যে নৈতিক পুনর্জাগরণের কথা বলছি সেটা কতটা জরুরী তা এই করোনাকালেই না আমরা এমনভাবে অনুভব করলাম! যে দেখো তোমাদের সামনে দেখো কোথায় কোথায় তোমাদের শুধরাতে হবে।

আর আমরা দেখছি কেন? যাতে আমরা সেইভাবে কাজ করতে পারি। যে আমাদের কাজ অনেক, স্রষ্টা আমাদের জাতির ওপর অনুগ্রহ করেছেন। সেই অনুগ্রহের শুকরিয়া হিসেবে আমরা কাজ করার চেষ্টা করেছি। ‘অচ্ছুত’ করোনা শহীদদের লাশ সসম্মানে দাফন করেছি।

আসলে আমরা যে মর্যাদায় করোনা শহীদদের লাশ দাফন করেছি পৃথিবীতে তা বিরল। অনেক দেশে চরম অবজ্ঞাভরে লাশ দাফন বা সৎকার হয়েছে। এমনও দেখা গেছে- মাটিতে গর্ত করে ক্রেন দিয়ে লাশ ফেলা হচ্ছে। কোথাও কোথাও কবরে লাঠি দিয়ে লাশ ফেলা হচ্ছে।

আমাদের মত এরকম কবরে নেমে লাশ দাফন- বাঙালির মতন এরকম মমতা দিয়ে কেউ লাশ দাফন করে নাই। কেউ শেষকৃত্য করে নাই। অর্থাৎ উই হ্যাভ ট্রিমেন্ডাস পসিবিলিটিস।

তো আমরা মানবিক মহাসমাজের স্বপ্ন দেখি, এই স্বপ্নের জন্যে যে সাহস প্রয়োজন যে যোগ্যতা প্রয়োজন যে দক্ষতা প্রয়োজন আসলে করোনা আমাদেরকে সেই দিকেই নিয়ে যাচ্ছে।

আর কোয়ান্টাম পরিবারের জন্যে করোনার সবচেয়ে বড় অবদান হচ্ছে, করোনা আসলে আমাদের একাত্মতাটাকে বাড়িয়ে দিয়েছে।

আসলে এই যে লকডাউনে, এটা তো করা হয়েছিল সবাইকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে। কিন্তু আমরা কি বিচ্ছিন্ন হয়েছি? হইনি তো! বরং আগের চেয়ে একাত্ম হয়েছি। আপনারা কি আমাকে ভুলতে পেরেছেন? না আমি আপনাদের ভুলতে পেরেছি? কেউ কাউকে ভুলতে পারেন নাই।

অনেক প্রতিষ্ঠানে কারো সাথে কারো কোনো যোগাযোগ ছিল না। কিন্তু আমরা প্রতি মুহূর্তে যোগাযোগ রেখেছি। আমাদের কর্মীরা সদস্যরা মানুষের ঘরে ঘরে গেছে আশার বাণী আর করণীয় বিষয়ে ফাউন্ডেশনের মেসেজ নিয়ে। অনেকের বাসায় খাবার ছিল না, তারা বাসায় বাসায় খাবার পৌঁছে দিয়ে এসেছে।

করোনা আমাদেরকে আগের চেয়ে অনেক বেশি একাত্ম করেছে চেতনার সাথে। কারণ এই সময়ে নিরবিচ্ছিন্নভাবে ধ্যান করার সুযোগ, আমল করার সুযোগ আমরা পেয়েছি- এটা করোনা ছাড়া অন্য কোনো সময়ে এত নিরবিচ্ছিন্নভাবে করা যায় না।

আর আমরা যে তিন দশক ধরে সত্যের বাণী কল্যাণের বাণী প্রচার করছি সেটা অনেক বেশি মানুষের কাছে পৌঁছেছে এই করোনার সময়ে। যারাও আগে কোয়ান্টামকে চিনতো না, বা ভুলভাবে চিনতো তাদের কাছে কোয়ান্টাম আশার বাণী পৌঁছে দিতে পেরেছে। এই সবকিছুর জন্যে করোনাকে ধন্যবাদ!

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM
Translate »