1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ১২:৩৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
ওমর খৈয়াম : সাহিত্যিক, দার্শনিক, জ্যোতির্বিদ আর নিখাদ আল্লাহপ্রেমী যে মানুষটিকে পাশ্চাত্য বানিয়েছে মদারু! আধুনিক বিশ্ব এখন ঝুঁকছে ডিজিটাল ডায়েটিংয়ের দিকে : আপনার করণীয় মানুষ কখন হেরে যায় : ইবনে সিনার পর্যবেক্ষণ সন্তান কখন কথা শুনবে? আসুন জেনে নেই মিরপুর কলেজের এবছরের অর্জন গুলো A town hall meeting of the RMG Sustainability Council (RSC) was held at a BGMEA Complex in Dhaka to exchange views on various issues related to RSC নব নবগঠিত UPVAC-বাংলাদেশ কমান্ড কমিটির দায়িত্বভার গ্রহন উপলক্ষে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত UPVAC-বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এর বিবৃতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-বাড়িতে মারধর, চুল টানা, কান মলাসহ শিশুদের শাস্তি বন্ধ নেই কেন আপনি সফট এবং এনার্জি ড্রিংকস খাবেন না

সোশাল মিডিয়া : ভুল ধারণা, প্রকৃত সত্য

  • সময় বুধবার, ১১ আগস্ট, ২০২১
  • ৭৬৮ বার দেখা হয়েছে

আমরা অনেকেই সোশাল মিডিয়াতে একটিভ। কারণ আমরা মনে করি, এটা আধুনিকতার প্রতীক। স্মার্টনেসের প্রতীক। কত মানুষের সঙ্গে আমি যুক্ত থাকতে পারি, সেই যোগাযোগ দক্ষতার প্রতীক। প্রতিযোগিতামূলক সমাজ ব্যবস্থায় যা অপরিহার্য। কিন্তু আসলেই কি তাই? চলুন দেখা যাক, সোশাল মিডিয়ার পক্ষের কয়েকটি যুক্তি এবং তার উত্তর।

সোশাল মিডিয়া একটা মৌলিক প্রযুক্তি

আপনি হয়তো বলবেন, সোশাল মিডিয়া হলো এ যুগের একটি মৌলিক প্রযুক্তি। সোশাল মিডিয়া বর্জন করা মানে হচ্ছে আধুনিকতম প্রযুক্তিকে বর্জন করা। অনেকটা ঘোড়ায় চড়ে অফিসে যাওয়ার মতো। একজন আধুনিক মানুষ কি এরকম পদক্ষেপ নিতে পারে?

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

সোশাল মিডিয়া কোনো মৌলিক প্রযুক্তি নয়, স্রেফ বিনোদনের একটা ধরন

সোশাল মিডিয়া মোটেই কোনো মৌলিক প্রযুক্তি নয়। কখনো কখনো এটা হয়তো কিছু আধুনিক প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু আসলে এটা স্রেফ বিনোদনেরই আরেকটা ধরন। প্রযুক্তিবিদ জ্যারন ল্যানিয়ার যেমনটা বলেছেন, আপনার সময় এবং তথ্যের বিনিময়ে এ কোম্পানিগুলো হয়তো আপনাকে কিছু চকমকে উপহার দিচ্ছে, কিন্তু আদতে আবার এ তথ্যগুলোই বিক্রি করে সে আপনাকে বিজ্ঞাপন খাওয়াচ্ছে। সোশাল মিডিয়া আসলে বিনোদনেরই একটা ধরন। যেমন, আপনি যদি বলেন, আমি দৈনিক সংবাদপত্র পড়ি না, ম্যাগাজিন পড়ি বা টিভিতে নাটক না দেখে ইউটিউবে দেখি- সেটা কি কোনো বড় কোনো পদক্ষেপ? নিশ্চয়ই না, কাজেই সোশাল মিডিয়া পরিত্যাগ করে আপনি যুগান্তকারী কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন, এটা মনে করারও কোনো কারণ নেই!

এবং ক্ষতিকর বিনোদন…

সোশাল মিডিয়া বিনোদন, তাতে কোনো ভুল নাই। কিন্তু বিনোদনের মধ্যেও এটা একটি নিকৃষ্ট বিনোদন, আসক্তি সৃষ্টিকারী বিনোদন। কারণ এটা এখন একটা প্রমাণিত সত্য যে, সোশাল মিডিয়া কোম্পানিগুলো তাদের পণ্য তৈরির সময় লাসভেগাস এবং অন্যান্য জায়গার ক্যাসিনোগুলোর কৌশলকে প্রয়োগ করেছে, যার মাধ্যমে তারা মানুষকে বেশি বেশি তাদের নেটওয়ার্কে আটকে রাখতে চেয়েছে। কারণ আপনি যত বেশি এসব নেটওয়ার্কে থাকবেন, তত আপনার ব্যাপারে তথ্য সে সংগ্রহ করতে পারবে এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে তা বিক্রি করে হাতিয়ে নেবে অর্থ। আর আপনি? আসক্ত হওয়া ছাড়া আর কিছুই পাওয়ার নেই আপনার!

পেশাগত সাফল্যের জন্যে আমাকে সোশাল মিডিয়ায় থাকতে হবে

আপনি হয়তো বলবেন, আমার পক্ষে সোশাল মিডিয়া বর্জন করা সম্ভব নয়, কারণ এই সময়ে পেশাগতভাবে সফল হতে হলে সোশাল মিডিয়া একটি অপরিহার্য মাধ্যম। এখানে যদি না থাকি, তাহলে মানুষ আমাকে জানবে না, খুঁজে পাবে না, আমার কাছে কোনো সুযোগ আসবে না এবং আমি আসলে হারিয়ে যাব।

সাফল্যের জন্যে সোশাল মিডিয়া নয়, প্রয়োজন মনোযোগের ছাপ আছে এমন কাজ

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সেই মানুষই সাফল্য পাবেন যিনি তার কাজের মধ্য দিয়ে এমন কোনো পণ্য বা সেবা নিয়ে হাজির হতে পারবেন যা আগে কেউ দিতে পারে নি, যা মানুষের জীবনকে সহজ করবে, তার জীবনের গুণগত মান বাড়াতে পারবে ইত্যাদি।

অন্যদিকে সহজেই পাওয়া যায় এমন জিনিস বা যা অতটা উপযোগী নয়, সেসবের প্রতি সমাজের কোনো আকর্ষণ থাকে না।

এবার তাহলে আসা যাক, সোশাল মিডিয়ায় আপনি কী পাচ্ছেন? সোশাল মিডিয়া আসলে সস্তা, সহজে নকল করা যায়, এমন সব আইডিয়ার আখড়া, ছয় বছরের একজন শিশুও স্মার্টফোন ব্যবহার করে যা করতে পারবে। বাজারে যার সত্যিকার কোনো চাহিদা নেই।

বাজার তাহলে কোনটাকে মূল্য দেয়? মনোযোগের কাজ, সৃজনশীল কাজ, যা একজন কারিগর করে। গণিতের দারুন কোনো এলগোরিদম বা আইনের এমন কোনো ব্যাখ্যা যা ঘুরিয়ে দিতে পারে মামলার মোড়কেই। বা এমন কোনো বই যা পাঠককে জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত করবে বা পরিসংখ্যানের এমন কোনো বিশ্লেষণ যা ব্যবসাজগতের হিসাবনিকাশকেই পাল্টে দেবে।

এরকম কোনো কাজ যদি আপনি করতে পারেন, তাহলে বিশ্বাস করুন, আপনার কোনো সোশাল মিডিয়া লাগবে না, মানুষ আপনাকে খুঁজে নেবে। যত্ন করে, সমীহ করে নিয়ে যাবে আপনাকে তার কাজের জন্যে, চড়া মূল্য দেবে তার বিনিময়ে। বরং আপনি তখন সিদ্ধান্ত নেবেন যে, আপনি এর কাজ করবেন না অমুকের কাজ করবেন। কারণ কত হাজার ইনস্ট্রাগ্রাম ফলোয়ার আছে, তাদেরকে নয়, মানুষ খোঁজে তাদেরকে, যারা কাজ জানে।

ছেড়ে দেয়ার দরকার কী? নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার করলেই তো হয়

অনেকে বলতে পারেন, একেবারে ছেড়ে দেয়ার দরকার কী? নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার করলেই তো হয়! তাহলেই তো আর সমস্যা হয় না।

সোশাল মিডিয়াকে তৈরিই করা হয়েছে আসক্তি সৃষ্টির উপাদান দিয়ে

আপনি জানেন বা না জানেন, সোশাল মিডিয়াকে কিন্তু তৈরিই করা হয়েছে আসক্তি সৃষ্টির উপাদানে ভরপুর করে। যাদের মধ্যে আছে সিলিকন ভ্যালির তুখোড় সব প্রোগ্রামার যাদের আরেকটি পরিচয় হলো ‘এটেনশন ইঞ্জিনিয়ার’। মানুষের মনোযোগ এবং আকর্ষণকে প্রলুব্ধ করার জন্যে যারা লাস ভেগাসের জুয়া-আসরের ফন্দিগুলো যেমন তারা খাটায়, তেমনি প্রয়োগ করে গেমিফিকেশনের সব কৌশল- ভিডিও গেমের মজাদার এবং প্রতিযোগিতামূলক উপাদান যা স্মার্ট ফোনের কনটেন্টেও ঢোকানো হয়। কারণ ‘ব্যবসায়িক লাভ’। যত বেশি আপনি স্ক্রিনে থাকবেন, তত আপনার সব তথ্যগুলো সে নিতে থাকবে এবং তত বেশি বিজ্ঞাপন আপনি দেখবেন। সোশাল মিডিয়ায় কোম্পানিগুলো যে বিজ্ঞাপন দেয়, গত ২ বছরে তা বেড়েছে দ্বিগুণ- ৪০ বিলিয়ন ডলার, আমাদের টাকায় ৪ হাজার কোটি টাকা!

তাই আপাতত নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বা যে নামেই শুরু হোক না কেন, অল্প কদিনের মধ্যেই আপনি দেখবেন, আপনি আগের চেয়ে বেশি ব্যবহার করছেন এবং একটা সময়ে হয়ে পড়েছেন ‘আসক্ত’।

একটা নিরীহ, নির্দোষ মাধ্যম!

সোশাল মিডিয়া তো একটা নিরীহ নির্দোষ মাধ্যম মাত্র। এটার মাধ্যমে কত পুরনো বন্ধুদের খুঁজে পেয়েছি! মাঝে মাঝে এখানে সময় কাটাতে আমার খারাপ লাগে না। হতে পারে সোশাল মিডিয়া কোনো অপরিহার্য প্রযুক্তি নয়, হতে পারে আমার পেশাগত সাফল্যের জন্যেও এর কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমার মনের যে খোরাক আমি পাই এখান থেকে, তার কী হবে? ফেসবুক ছেড়ে দিলে বন্ধুরা কে কোথায় কী করছে সে সম্পর্কে কীভাবে আপডেটেড থাকব?

সোশাল মিডিয়া মোটেই কোনো নির্দোষ বিনোদন মাধ্যম নয়

সোশাল মিডিয়া মোটেই কোনো নির্দোষ বিনোদন মাধ্যম নয়। আপনার তাই জানা দরকার, সোশাল মিডিয়ার ক্ষতিকর দিকগুলো। তাহলেই বুঝতে পারবেন যাকে আপাত নিরীহ বা নির্দোষ বিনোদন বলে ভাবছেন, তা কত ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে আপনার জীবনে!

মানসিক বিক্ষিপ্ততা

সম্প্রতি লেখক নিকোলাস কার একটি বই লিখেছেন ‘শ্যালোজ’ নামে। বইটিতে তিনি দেখিয়েছেন, আধুনিক সময়ে ইন্টারনেট কীভাবে আমাদের মনোযোগ, চিন্তা এবং শেখার ক্ষমতাকে নষ্ট করছে। অনলাইন পরিবেশটাই এমন যা কোনোকিছুকে গভীরভাবে অনুধাবন করতে দেয় না। ধরুন, আপনি কোনো ব্লগে গেছেন। একটা আর্টিকেল পড়তে না পড়তেই মাঝপথে হয়তো দেখালো আরো ইন্টারেস্টিং কোনো আর্টিকেলের লিংক। যেটা পড়ছিলেন, শেষ না করেই চলে গেলেন সেটায়। আবার ইউটিউবের কথা চিন্তা করুন। যে ভিডিওটা দেখছেন, তার পাশে আরো অন্তত দশটা ভিডিওর থাম্বনেইল আর টাইটেল হয়তো আপনি দেখতে পাবেন যা প্রতিনিয়ত বিক্ষিপ্ত করতে চাইবে। যেটা দেখছেন, সেটার কোনো জায়গায় এসে একটু বোরড লাগলেই আপনি হয়তো ক্লিক করলেন পরেরটায়।

একইভাবে ভাবুন ইনস্টাগ্রামের কথা। একটা স্ক্রল করেই হয়তো আপনি দেখতে পেলেন এমন কোনো ছবি যা এর আগে কখনো আপনি দেখেন নি। ফলে আপনি আরো দেখতে উৎসাহিত হলেন।

নিকোলাস কার বলছেন, ইন্টারনেটের কারণে আমাদের পড়া হয়েছে এখন কার্সর-নির্ভর, চিন্তা হয়েছে দ্রুত ও বিক্ষিপ্ত আর শেখা হয়েছে ভাসাভাসা।

সোশাল মিডিয়াতেও একই ব্যাপার ঘটে। আমরা যখন অনলাইনে যাই, ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম খুলে যখনই কোনো ‘লাইক’ বা ‘ফলো’ আমরা পাই, আমাদের মস্তিষ্কে ডোপামিন নামে একটি রাসায়নিকের প্রবাহ বেড়ে যায়, আমাদের ইন্দ্রিয়গুলো উদ্দীপ্ত হয়। ফোনটা যখনই ধরছি বা খুলছি, দেখছি আমার বন্ধু বা পরিচিত কারো কোনো নতুন খবর। যখনই পেজটা রিফ্রেশ করছি, আসছে হয়তো কোনো আপডেট।

এদিকে ব্রেন যেহেতু এটাকে পছন্দও করছে, আমরা তাই ব্যবহারকে থামাতেও পারছি না। ফলে এটা কাজ করছে একটা অন্তহীন দুষ্টচক্রের মতো।

ফলে যত দিন যাচ্ছে, ইন্টারনেট অভ্যস্ত আধুনিক মানুষ হয়ে পড়ছে বিক্ষিপ্ত, অশান্ত আর অস্থির এক জেনারেশনে।

কাজের ক্ষতি

প্রথমেই, আপনার কাজের ক্ষতি। সোশাল মিডিয়া প্রযুক্তিগুলোকে তৈরি করাই হয়েছে আসক্তি সৃষ্টির উপাদানে ভরপুর করে। যাতে যতক্ষণ আপনি জেগে থাকেন, কিছুক্ষণ পর পরই আপনি ওটাতে ঢুকতে চান। একজন মানুষ যখন তার দিনের একটা বড় সময়ই এরকম বিক্ষিপ্ততার মধ্যে কাটায়, একটু পর পর মোবাইল চেক করার অবসেশনে আক্রান্ত হয়, তখন এটা স্থায়ীভাবেই কমিয়ে দিতে পারে তার মনোযোগকে। তার মানে সমাজের জন্যে, দেশের জন্যে অবদান রাখতে হলে মেধা এবং সৃজনশীলতার যে চর্চা একজন মানুষের করা উচিত স্থায়ীভাবেই তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে যদি স্মার্টফোনের অতি ব্যবহারে কেউ আসক্ত হয়।

বিশেষত, সেই ব্যবহারকারী যদি হয় একজন শিশু, তাহলে ব্যাপারটা কত ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে ভেবে দেখুন। কারণ শিশু-কিশোরদের অবস্থাটা হলো, তাদের মানসিক বিকাশ এখনও পরিপূর্ণ হয় নি। পরিণাম নিয়ে ভাবার চেয়ে সাময়িক আনন্দে গা ভাসিয়ে দেয়াটাই এ বয়সের একটা স্বাভাবিক প্রবণতা। সমবয়সীরা যা করছে, ওদেরকেও তা-ই করতে হবে- এটাই এ বয়সেরই ভাবনা।

আর শিশুদের নিয়ে উদ্বেগটা এখানেই। আধুনিক যে শিশু-কিশোরদের সামাজিক এবং আবেগিক বিকাশের প্রায় পুরোটাই ঘটছে ইন্টারনেট এবং সেলফোনে বসে, ভবিষ্যত নেতৃত্বে তারা আসলেই কতটা ভূমিকা রাখতে পারবে তা সত্যিই প্রশ্নবিদ্ধ!

মানসিক ক্ষতি

মনোজাগতিক ক্ষতিকর বিষয়গুলোর মধ্যে প্রথমেই হলো মানসিকভাবে বিচ্ছিন্নতা। সোশাল মিডিয়া নিয়ে বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, যত বেশি একজন মানুষ সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করে, তত সে মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়।

সোশাল মিডিয়ায় সারাক্ষণই আপনি আপনার পরিচিতদের সেইসব ছবিগুলোই দেখছেন যা সে তার সেরা ছবি হিসেবে পোস্ট করছে। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, প্রতিনিয়ত যখন একজন মানুষ এসব দেখে, তখন অবচেতনভাবেই এর সাথে সে তার নিজেকে তুলনা করতে থাকে। পরিণাম আর কিছুই নয়- হতাশা, অশান্তি।

মস্তিষ্কের ক্ষতি

সোশাল মিডিয়ার প্রতি আকর্ষণ আর মাদক ও জুয়ার প্রতি আসক্তির মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। এখন চিন্তা করুন, মাদক বা জুয়ায় হয়তো একজন মানুষ তার দিনের কিছু কিছু সময় লিপ্ত হচ্ছে। কিন্তু স্মার্ট ফোন? সে তো দিনের পুরো সময়টাই এটা নিয়ে মেতে থাকছে। আর দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর যখন এটা চলতে থাকে, তখন? স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যায়, ব্রেনের ওপর এটা কী চাপ ফেলছে।

আর এর পরিণাম হলো সর্বপ্লাবী এক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। দেখা গেছে, ১৪-২৪ বছর বয়সী কিশোর তরুণদের মানসিক শান্তি, সুস্থিরতা এবং মনোযোগ এত বেশি পরিমাণে নষ্ট হয়েছে যে, অতীতের কোনো সময়ই আর এরকম দেখা যায় নি। আর বলা বাহুল্য এ বয়সীরাই সোশাল মিডিয়ার সবচেয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী।

কানাডার এসোসিয়েশন অব মেন্টাল হেলথ দেখেছে যে, সাত থেকে ১২ তম গ্রেডের যেসব শিক্ষার্থী দিনে দু’ঘণ্টার বেশি সোশাল মিডিয়ায় কাটায়, তাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা, হতাশা এবং আত্মহত্যা প্রবণতা অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি!

কানাডার কলেজিয়েট মেন্টাল হেলথ দেখেছে, কানাডার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি যে তিনটি সমস্যায় ভুগছে তাহলো উদ্বেগ, হতাশা আর উৎকন্ঠা।

ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ফাঁস

সোশাল মিডিয়ায় আপনার ‘ব্যক্তিগত’ বলে কিছু নেই। পর্দার ঐপাশে কতজন যে এসব তথ্য নিয়ে নাড়াচাড়া করছে- সে সম্পর্কে হয়তো আপনার কোনো ধারণাই নেই! ফেসবুকের একটি ফাঁস হয়ে যাওয়া গোপন রিপোর্ট থেকে দেখা যায়, ফেসবুকের একজন কিশোর ব্যবহারকারী কখন মানসিক অনিশ্চয়তায় ভুগছে বা কখন বিষণ্নতায় আক্রান্ত হয়েছে, ফেসবুক তা ঠিক ঠিক ধরতে পারছে এবং সে অনুযায়ী তাকে ‘কনফিডেন্স বুস্ট’ দিচ্ছে!

এটা অবশ্য ফেসবুক পারছে, কারণ নিজের সম্পর্কে প্রতিনিয়তই আপনি যেসব তথ্য এখানে দিচ্ছেন, তা বিশ্লেষণ করে আপনার রুচি, পছন্দ, আর্থিক সামর্থ্য, জীবনযাপন পদ্ধতির প্রায় নির্ভুল চিত্রাংকন তার পক্ষে সম্ভব! এবং অর্থের বিনিময়ে এসব যে তারা তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে, তাও নতুন খবর নয়।

যদিও কেমব্রিজ এনালিটিকা কেলেংকারির পর বিষয়টি সবার সামনে আসে। প্রায় ৯ কোটি গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে দেয়ার অভিযোগ স্বীকার করে নেন ফেসবুকের কর্ণধার মার্ক জাকারবার্গ।

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM
Translate »