1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
  2. [email protected] : Emon : Armanul Islam
  3. [email protected] : musa :
বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২, ০১:৪৩ অপরাহ্ন

ইতিহাসে আগস্ট ১৯ -বাংলা গণনাট্য আন্দোলন সময়কার বিশিষ্ট অভিনেতা এবং নাট্যকার উৎপল দত্তের মৃত্যুদিন

  • সময় শুক্রবার, ২০ আগস্ট, ২০২১
  • ৫১৯ বার দেখা হয়েছে

বাংলা গণনাট্য আন্দোলন সময়কার বিশিষ্ট অভিনেতা এবং নাট্যকার উৎপল দত্তের মৃত্যুদিন

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে আজ বছরের ২৩১তম (অধিবর্ষে ২৩২তম) দিন। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম ও মৃত্যুদিনসহ আরও কিছু তথ্যাবলি।

ঘটনাবলি

১৯৩৯ : আজকের দিনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিধানচন্দ্র রায় প্রমুখ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিতে কলকাতায় সুভাষচন্দ্র বসু পরিকল্পিত মহাজাতি সদনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।
১৯৭২ : বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় আপারভোল্টা।

জন্ম

১৬৪৬ : জন ফ্ল্যামস্টিড, ইংরেজ জ্যোতির্বিজ্ঞানী।
১৮৬৩ : আশরাফ আলী থানভী, ভারত উপমহাদেশ দেওবন্দী আলেম, সমাজ সংস্কারক, ইসলামি গবেষক এবং পুরোধা ব্যক্তিত্ব।
১৮৭১ : অরভিল রাইট, বিমানের নকশা উদ্ভাবনকারী রাইট ভ্রাতৃদ্বয়ের একজন।
১৯০০ : সুশোভন সরকার, প্রখ্যাত বাঙালি ঐতিহাসিক।
১৯১৮ : শঙ্কর দয়াল শর্মা, ভারতের নবম রাষ্ট্রপতি।
১৯২৪ : উইলার্ড বয়েল, কানাডীয় মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী এবং চার্জ কাপল্‌ড ডিভাইস এর সহ-উদ্ভাবক।
১৯৪৬ : উইলিয়াম জেফারসন ক্লিনটন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪২তম রাষ্ট্রপতি।

মৃত্যু

১৬৬২ : ফরাসি গণিতজ্ঞ, পদার্থবিদ, উদ্ভাবক, লেখক এবং ক্যাথলিক দার্শনিক ব্লেজ পাস্কাল
১৯২৩ : ইতালীয় শিল্পপতি, প্রকৌশলী, অর্থনীতিবিদ এবং দার্শনিক ভিলফ্রেদো পারেতো
১৯৩৬ : আধুনিক স্প্যানিশ সাহিত্যের অন্যতম কবি ফেদেরিকো গারসিয়া লোরকা
১৯৬৮ : ইউক্রেনীয় পদার্থবিজ্ঞানী এবং বিশ্বতত্ত্ববিদ জর্জ গ্যামফ
১৯৯৩ : বাংলা গণনাট্য আন্দোলনের সময়কার বিশিষ্ট অভিনেতা এবং নাট্যকার উৎপল দত্ত
১৯৯৪ : লিনাস পাউলিং, আমেরিকান বিশ্ববিখ্যাত রসায়নবিদ।

দিবস

বিশ্ব আলোকচিত্র দিবস৷
বিশ্ব মানবতা দিবস।

উৎপল দত্ত

উৎপল দত্ত ছিলেন বাংলা গণনাট্য আন্দোলন সময়কার বিশিষ্ট অভিনেতা এবং নাট্যকার। পুরো নাম উৎপলরঞ্জন দত্ত। তিনি বাংলা তথা ভারতের নাট্যসমাজের এক আশ্চর্য, তুলনাহীন ব্যক্তিত্ব। একাধারে তিনি অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক, গবেষক ও চিন্তাবিদ ছিলেন। তার অভিনয়গুণে দুই বাংলার মানুষের কাছে তিনি ভীষণ জনপ্রিয়।

জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৯ সালের ২৯ মার্চ বাংলাদেশের বরিশাল জেলার কীর্তনখোলায়। পরিবারের আদি বাসস্থান ছিল কুমিল্লা জেলায়। অবশ্য জন্মস্থান নিয়ে তিনি নিজে উল্লেখ করে গেছেন শিলংয়ে তার মামার বাড়িতে। জন্মস্থান নিয়ে তাই মতান্তর রয়েছে। বাবা গিরিজারঞ্জন দত্ত ও মা শৈলবালা রায়। পাঁচ ভাই, তিন বোনের মধ্যে উৎপল ছিলেন চতুর্থ। পারিবারিক ধর্মগুরু তার ডাকনাম রেখেছিলেন শঙ্কর।

স্কুলজীবনের শুরু হয়েছিল শিলং শহরের সেন্ট এডমন্ডস স্কুলে। পরে গিরিজাশঙ্কর বদলি হয়ে যান বহরমপুরে। সেখানেই উৎপলের ছেলেবেলা কাটে। তারা থাকতেন জেল-সংলগ্ন কোয়ার্টারে সপরিবারে। বাড়ির সদর দরজায় মা শৈলবালার হাতে তৈরি এমব্রময়ডারি করা শেক্সপিয়রের ‘হ্যামলেট’ নাটকের পেমেনিয়াসের সংলাপ ঝুলত, ‘নেভার কোয়ারেল, নেভার লেন্ড অর বরো ইফ ইউ আর অনেস্ট।’

অর্থাৎ বাড়িতে পাশ্চাত্য শিক্ষার পরিবেশে শেক্সপিয়রের উপস্থিতি ছিল অগ্রগণ্য। মেজদা মিহিররঞ্জন কিশোর উৎপলকে শেক্সপিয়রের নাটকের গল্প পড়ে শোনাতেন। বাড়িতে রেকর্ড চালিয়ে নাটক শোনার চল ছিল। উৎপল সেসব নাটক মন দিয়ে শুনতেন। মাত্র ছয় বছর বয়সেই শেক্সপিয়রের নাটকের সংলাপ মুখস্থ বলতে পারতেন।

বড়দিদির মাধ্যমে হিন্দুস্তানি মার্গ সঙ্গীতের সঙ্গে পরিচয় বহরমপুরের বাড়িতেই। আরও পরে কলকাতায় সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে পড়ার সময়ে পাশ্চাত্য ধ্রুপদী সঙ্গীতের সংস্পর্শে আসেন। তখনও নাটক তাকে টানেনি। তিনি চেয়েছিলেন কনসার্ট পিয়ানিস্ট হতে। কিন্তু শিক্ষিকা মিসেস গ্রিনহল তাকে বলেছিলেন, তার হাতের আঙুলের দৈর্ঘ্য বা ‘রিচ’ কম হওয়ায় তার পক্ষে কনসার্ট পিয়ানিস্ট হওয়া সম্ভব নয়।

১৯৪৭ সালে নিকোলাই গোগোলের ‘ডায়মন্ড কাট্‌স ডায়মন্ড’-এ অভিনয়ের মধ্য দিয়ে কলেজ জীবনে উৎপলের নাট্য অভিনয়ের শুরু। তার সহপাঠী অভিনেতাদের মধ্যে ছিলেন প্রতাপ রায়, অনিল চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। এই বন্ধুদের নিয়েই তিনি তৈরি করেন তার প্রথম নাট্যদল ‘দি অ্যামেচার শেক্সপিরিয়নস’। তখন তার বয়স আঠেরো।

তিনি শেক্সপিয়ার আন্তর্জাতিক থিয়েটার কোম্পানির সাথে ভ্রমণ করেছেন বেশ কয়েকবার। তাকে গ্রূপ থিয়েটার অঙ্গনের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের অন্যতম হিসাবে গণ্য করা হয়। কৌতুক অভিনেতা হিসেবেও তার খ্যাতি রয়েছে।

তিনি হিন্দি চলচ্চিত্র গুড্ডি, গোলমাল ও শওকিন অভিনয় করেছেন। তিনি সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় হীরক রাজার দেশে, জয় বাবা ফেলুনাথ এবং আগন্তুক সিনেমায় অভিনয় করেছেন। মননশীল ছবি ছাড়াও অজস্র বাণিজ্যিক বাংলা ছবিতে খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন উৎপল দত্ত। উৎপল দত্তের বিখ্যাত নাটকের মধ্যে রয়েছে টিনের তলোয়ার, মানুষের অধিকার ইত্যাদি।

উৎপল দত্ত হলেন বাংলা পথনাটকের পথিকৃৎ। তার মতে, ‘পথনাটিকা হচ্ছে সেই মাধ্যম যেখানে লক্ষ মেহনতি মানুষের রাজনৈতিক চেতনা ও অভিনেতার রাজনৈতিক উপলব্ধি এক হয়ে বিস্ফোরিত হয় মঞ্চে।

‘ ১৯৫২ সালে ‘পাসপোর্ট’ থেকে ১৯৯২ সালে ‘সত্তরের দশক’ পর্যন্ত দীর্ঘ একচল্লিশ বছরে উৎপল দত্ত মোট ২৫টি পথনাটক করেছিলেন কখনও কোনো কারখানার গেটে, নির্বাচনী জনসভায় বা বন্দিমুক্তি আন্দোলনে উত্তাল বাংলার বিভিন্ন মাঠে ময়দানে। এই প্রযোজনাগুলো হয়েছিল গণনাট্য ও ‘উৎপল দত্ত সম্প্রদায়’-এর নামে। পথনাটকে অভিনয়ের সুযোগ তাকে করে দিয়েছিল গণনাট্য সংঘ।

মধু বসুর ‘মাইকেল’ ছবিতে মাইকেল মধুসূদনের ভূমিকায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে উৎপল দত্তর চলচ্চিত্র জীবনের সূচনা। অসংখ্য বাংলা ও হিন্দি বাণিজ্যিক ছবিতে অভিনয় করলেও তার নিজের ভাললাগার ছবিগুলো তৈরি হয়েছিল অজয় কর, তরুণ মজুমদার, তপন সিংহ, হৃষীকেশ মুখোপাধ্যায়, শক্তি সামন্তর মতো পরিচালকের ছবি দিয়ে। তিনি যে কত বড় কৌতুকাভিনেতা, তার পরিচয় ছড়িয়ে আছে তাদের ছবিতে।

উৎপল দত্ত ১৯৯৩ সালের ১৯ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।

 

সূত্র: সংগৃহীত

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM
Translate »