1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ০৭:০১ অপরাহ্ন

সৃষ্টির সেবায় ব্যয় প্রভুকে দেয়া উত্তম ঋণ যার প্রতিদান বহুগুণ।

  • সময় সোমবার, ২৩ আগস্ট, ২০২১
  • ৮১৭ বার দেখা হয়েছে
: প্রতিটি ধর্মেই দান করার ব্যাপারে মানুষকে উৎসাহিত করা হয়েছে।
ঋগ্‌বেদে বলা হয়েছে, ‘নিঃশর্ত দানের জন্যে রয়েছে চমৎকার পুরস্কার। তারা লাভ করে আশীর্বাদধন্য দীর্ঘ জীবন ও অমরত্ব।‘ (১:১২৫)।
বাইবেলে বলা হয়েছে, যখন দান কর গোপনে দান কর। ডান হাত কী দিচ্ছে বাম হাত যেন জানতে না পারে। তোমার নীরব দান সদাপ্রভু দেখছেন। তিনি তোমাকে পুরস্কৃত করবেন।[মথি ৬:৩-৪]
বুদ্ধবাণীতে বলা হয়েছে, কেউ যখন কাউকে দান করতে বাধা দেয় তখন সে তিনটি অন্যায় করে। প্রথমত, সে দাতাকে একটি ভালো কাজ থেকে বিরত করে। দ্বিতীয়ত, সে গ্রহীতাকে সাহায্য থেকে বঞ্চিত করে। তৃতীয়ত, নীচতার প্রকাশ ঘটিয়ে সে নিজের সত্তাকেই অপমানিত করে। (অংগুত্তর নিকয়া সূত্র নং ৫৭)
পবিত্র কোরআনে ৬২টি সূরার মোট ১৬৬টি আয়াত রয়েছে দান প্রসঙ্গে। সূরা বাকারা-র ২৭২ নম্বর আয়াতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘—যে অর্থবিত্ত তোমরা দান করো, সে দান তো তোমাদের নিজেদের কল্যাণের জন্যেই। তোমরা তো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে ব্যয় করো। অতএব দানের পুরোপুরি প্রতিদান তোমাদের অবশ্যই দেয়া হবে।
তোমাদের হক কখনো নষ্ট করা হবে না।‘ সূরা ফজর-এর ১৭-২০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, রিজিক কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ- ‘….তোমরা এতিমের প্রতি সম্মানজনক আচরণ করো না, অভাবী অসহায়কে অন্নদানে পরস্পরকে উৎসাহিত করো না, অন্যের উত্তরাধিকারের সম্পদ নিজেরা আত্মসাৎ করো, আর ধনসম্পত্তির প্রতি তোমাদের আকর্ষণ আসক্তিতে পরিণত হয়েছে। ‘
তবে দানের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য যে কথাটি এসেছে তা হলো দান হচ্ছে আল্লাহকে দেয়া উত্তম ঋণ। যাকে আরবিতে বলা হচ্ছে কর্জে হাসানা। আল্লাহ বলেছেন, তিনি এই ঋণ ফিরিয়ে দেবেন বহুগুণ প্রবৃদ্ধিসহ। কতগুণ সেটা? কমপক্ষে ৭০০ গুণ। শুধু শর্ত হচ্ছে, অন্যের জন্যে ব্যয়টি করতে হবে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে।
দানের প্রতিদান কীভাবে বহুগুণে ফিরে আসে তা বৈজ্ঞানিকভাবেও প্রমাণিত। প্রকৃতির নিয়ম হচ্ছে, যখন কোথাও কোনো শূন্যতা সৃষ্টি হয়, তখন চারদিক থেকে সে জিনিস এসে শূন্যতা পূরণের চেষ্টা করে।
যেমন বাতাস যখন হঠাৎ গরম হয়ে ওপরের দিকে উঠে যায়, সে ফাঁকা স্থান পূরণের জন্যে চারদিক থেকে বাতাস আসতে থাকে, আস্তে আস্তে বাতাসের বেগ বাড়তে থাকে, ঝড় সৃষ্টি হয়। আসলে আমরা যা দিয়ে থাকি তার বহুগুণে আসে সেই শূন্যতা পূরণের জন্যে।
সৃষ্টির সেবায় ব্যয়ের ক্ষেত্রে আমরা কেন কার্পণ্য করি? কারণ যখন আমরা অর্থ-সম্পদের অধিকারী হই, সাধারণভাবে মনে করি, আমার সম্পদ আমি পরিশ্রম ও যোগ্যতার বলে অর্জন করেছি। অতত্রব, এর পুরো মালিকানা আমার।
এতে কারো হক নেই। আমার সম্পদ আমার ইচ্ছেমতো খরচ করব। কারো কাছে জবাবদিহি করতে হবে না। অথচ, প্রকৃত সত্য হলো অর্থ-সম্পদ-সম্মান সবকিছুর মালিক পরম করুণাময়।
সূরা হাদিদের ১০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, মহাবিশ্বের সবকিছুর একক মালিক আল্লাহ। তা জানার পরও (হে বিশ্বাসীগণ!) তোমরা আল্লাহর পথে মুক্তহস্তে ব্যয় করো না কেন?
অনেকেই দান করেন ভিক্ষুক যখন সামনে পড়ে কিংবা কোনো সমস্যার মুখোমুখি হলে। কিন্তু স্রষ্টা নির্দেশ দিয়েছেন নিয়মিত দানের। নিয়মিত দান করলে প্রতিদানও নিয়মিত আসতে থাকবে। তবে দাতাকে নিশ্চিত হতে হবে, দানের অর্থ সত্যিকার গ্রহীতা অভাবী মানুষের কাছে পৌঁছছে কিনা।
আসলে পেতে হলে আগে নিজেকে দিতে হবে। যা দান করব তা শতগুণে আমাদের দিকে ফিরে আসবে। অর্থ দান করব, জীবনে অর্থের কখনো অভাব হবে না। কারণ দানের প্রতিদান স্রষ্টা নিজে দেবেন বলে ওয়াদা করেছেন। দানের এ প্রতিদান সার্বজনীন, ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে যিনি-ই দান করবেন তার জন্যে।
তাই আমরা যেন সৃষ্টির সেবায় সাধ্যমতো ব্যয় করি। এতিম অসহায় বঞ্চিতের সেবায় আমাদের হাত তাদের মাথার ওপর রাখি। তাহলে স্রষ্টার হাতও আমাদের মাথার ওপরে থাকবে সবসময়।

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM
Translate »