1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
  2. [email protected] : Emon : Armanul Islam
  3. [email protected] : musa :
শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৮:১৬ পূর্বাহ্ন

করোনাভাইরাসের এই সময়ে ইমিউনিটি বাড়াবার কথা সবাই বলছে।

  • সময় মঙ্গলবার, ২৪ আগস্ট, ২০২১
  • ১২৫ বার দেখা হয়েছে
করোনাভাইরাসের এই সময়ে ইমিউনিটি বাড়াবার কথা সবাই বলছেন- খাবার, ব্যায়াম ইত্যাদি।
কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আমরা যারা সারাদিন খুব কর্মব্যস্ত থাকি, আমাদের জন্যে ব্যয়ামের জন্যে আলাদা সময় বের করা মুশকিল। তো দৈনন্দিন জীবনে এমন কি কিছু আছে যা কাজের মাঝে, ব্যস্ততার মাঝেও আমরা করতে পারি। এবং সুস্থ থাকতে পারি।
প্রথমত, সুস্থ থাকতে হলে আপনাকে নিজের জন্যে সময় করে নিতেই হবে। কারণ আজ ব্যস্ততার কথা বলছেন। নিজের প্রতি মনোযোগ দিচ্ছেন না। যখন অসুস্থ হবেন ব্যস্ততা মাথায় উঠবে! সমস্ত মনোযোগ তখন দিতে হবে নিজের প্রতি, শরীরের প্রতি। কিন্তু হয়তো দেখা যাবে সমস্ত মনোযোগ, সমস্ত সঞ্চয় সমস্ত যত্ন ঢেলে দিয়েও আর সুস্থতা ফেরানো যাচ্ছে না। আপনি অসুস্থ মানুষদের দিকে তাকান। দেখবেন এই বাস্তবতাই।
কাজেই যত ব্যস্ত থাকেন, এর মধ্যেই কীভাবে ব্যায়াম, মেডিটেশন, প্রাণায়ামসহ যত্নায়নের অন্যান্য জিনিসগুলো করা যায় সেই চেষ্টা করুন।
আর দৈনন্দিন জীবনে একটি চর্চার কথা যদি জানতে চান তাহলে বলতে পারি একটি আসনের কথা। যোগে এটাকে মলাসন বা উৎকটাসন (বিশ্রাম অবস্থা) বলা হয়। কিন্তু আমরা এর নতুন নামকরণ করেছি বঙ্গাসন। কারণ যুগ যুগ ধরে আমাদের পূর্বপুরুষরা এভাবে বসে শুধু যে মলত্যাগ করতেন তা না, বসতেন, অপেক্ষা করতেন, কথা বলতেন। সবকিছু করতেন। কিন্তু সভ্য হতে গিয়ে আমরা মলত্যাগের জন্যে হাই কমোডের ব্যবস্থা করলাম। মাটিতে বসার বদলে চেয়ারে বা সোফায় বসা অভ্যেস করলাম। সেই সাথে হারাতে শুরু করলাম আমাদের সুস্থতা।
আসলে বিশেষজ্ঞকরা এখন বলছেন- আধুনিক মানুষের যেসব রোগব্যাধি হয়, মৃত্যু হয় তার সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো চেয়ারে বসা। আরাম কেদারায় বসা, সোফায়। যে কারণে এখন বলা হয় সিটিং ইজ নেক্সট স্মোকিং। বা রিভলবিং চেয়ার বা সোফাকে বলা হয় কিলার চেয়ার বা খুনি চেয়ার।
অথচ আমাদের পূর্বপুরুষদের কিন্তু এত রোগবালাই ছিল না। কেন? তারা এই বঙ্গাসনে বসতেন। বঙ্গাসন কেমন। স্কোয়াট বা লো কমোডে মানুষ যেভাবে বসে। সেভাবে। ভর থাকবে পায়ের পাতায়। হাঁটু দুটো লেগে থাকবে বুকের সাথে। হাত হাঁটুর ওপরে।
অনেক সময় দেখবেন ভোরবেলা রাস্তার ধারে দিনমজুররা কাজ পাওয়ার অপেক্ষায় যেভাবে বসে থাকে।
বলবেন যে কী হবে এই আসন করলে।
আসলে শরীরকে ফিট রাখতে এই আসনটির এত উপকার যে বলা হয় যে আপনি যদি নিয়মিত বঙ্গাসন করতে পারেন তো আপনার আয়ু বেড়ে যাবে। কারণ আপনার ফিটনেস বেড়ে যাবে।
হজম এবং রেচনের জন্যে দারুণ। কারণ মলত্যাগের সময় বঙ্গাসনে বসলে রেচনের অঙ্গগুলো যে ভঙ্গিতে থাকে তা খুবই উপকারি (আসলে প্রাকৃতিকভাবেই মানুষের দেহটা সৃষ্টি এভাবে রেচনক্রিয়ার জন্যে)!
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মহিলারা যারা নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিতে চান তাদের জন্যে আদর্শ হলো বঙ্গাসন। মানে কোনো তরুণী যদি নিয়মিত বঙ্গাসন করেন তাহলে মা হবার সময় তার নরমাল ডেলিভারির সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এটা আমাদের কথা না, গবেষণালব্ধ তথ্য। দেখা গেছে যারা বঙ্গাসন করতে পারেন এমন মায়েদের ২০ থেকে ৩০ ভাগ ক্ষেত্রে বেশি নরমাল ডেলিভারি হয়েছে।
তো এজন্যে নিয়মিত এটা করার চর্চা করতে পারেন। প্রথমেই বেশি সময় হয়তো পারবেন না। একটু একটু করে বাড়ান। প্রথমে ২০ সেকেন্ডে, তারপর ৪০ সেকেন্ড, আস্তে আস্তে ১ মিনিট, ২ মিনিট, ৩ মিনিট। যদি সম্ভব হয় তাহলে যেকোনো কাজের পরিবেশকেও এমন করে নিন যাতে বঙ্গাসনে বসে করতে পারেন। আর দিনে অন্তত ১৫ মিনিট বঙ্গাসন, বজ্রাসন, দন্ডাসন করুন পর্যায়ক্রমে। আপনি অনেক ঝরঝরে অনুভব করবেন।

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM