1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ০৫:১৮ অপরাহ্ন

স্বামীর করণীয় স্ত্রীর প্রতি ।

  • সময় মঙ্গলবার, ২৪ আগস্ট, ২০২১
  • ৯৯০ বার দেখা হয়েছে

স্বামী-স্ত্রী পরস্পর পরিপূরক। দাম্পত্য-জীবনের মাধ্যমে উভয়ের দ্বীনের পূর্ণতা পায়। মানসিক প্রশান্তি ও মানবিক সুখ লাভ হয়। পবিত্র কোরআন-হাদিসে এভাবেই বলা হয়েছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

পবিত্র কোরআনে  বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ তোমাদের থেকে তোমাদের জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের যুগল থেকে তোমাদের জন্য পুত্র-পৌত্রাদি সৃষ্টি করেছেন। আর তোমাদের উত্তম জীবনোপকরণ দান করেছেন। তবু কি তারা মিথ্যা বিষয়ে বিশ্বাস করবে? তারা কি আল্লাহর অনুগ্রহ অস্বীকার করবে? (সুরা নাহল, আয়াত : ৭২)

আল্লাহ তাআলা বলেন,

তাঁর আরো এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তাদের কাছে তোমরা প্রশান্তি অনুভব করো এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক হৃদ্যতা ও অনুগ্রহ তৈরি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।(সুরা রুম, আয়াত :  ২১)
১. স্বামী হিসেবে নিজেকে পরিবারের প্রধান দায়িত্বশীল মনে করুন।
২. পরিবারে দায়িত্ব পালনকে ইবাদত মনে করুন।
৩. স্ত্রীকে বন্ধু, জীবনসঙ্গী ও ঘরের প্রাণ হিসেবে বিবেচনা করুন।
৪. পারিবারিক প্রতিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করুন।
৫. স্ত্রীর ভালো কাজ, অবদান ও কৃতিত্বের প্রশংসা করুন।
৬. স্ত্রীর প্রতি বিশ্বস্ত থাকুন; ভালবাসা ও অনুরাগ কথা ও আচরণের মাধ্যমে প্রকাশ করুন।
৭. কর্মস্থল বা বাইরের রাগ-ক্ষোভ ঘরের স্ত্রী, সন্তান বা গৃহকর্মীর ওপর প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকুন।
৮. নিজের ভুল নিঃসঙ্কোচে স্ত্রীর নিকট স্বীকার করুন। অন্যায় করলে মাফ চেয়ে নিন।
৯. আয় অনুসারে স্ত্রীর প্রয়োজন পূরণ, ছোট-খাটো উপহার প্রদান ও হাত-খরচা প্রদান করুন এবং হাত-খরচা ব্যয়ের ব্যাপারে              জিজ্ঞেস করা থেকে বিরত থাকুন।
১০. স্ত্রীর অর্থ ও সম্পদ ব্যয়ে স্ত্রীর স্বাধীনতা হরণ করবেন না।
১১. স্ত্রীর যুক্তিসঙ্গত আবদার পূরণে সচেষ্ট থাকুন।
১২. নিজের আয় সম্পর্কে প্রথম থেকেই স্ত্রীকে সুস্পষ্ট ধারণা দিন ও অবৈধ পন্থায় অর্থোপার্জন করা থেকে বিরত থাকুন।
১৩. পেশাগত বা পারিবারিক সংকট দেখা দিলে স্ত্রীর সাথে তা খোলামেলা আলোচনা করুন।
১৪. আত্মীয়-স্বজনকে উপহার দেয়া বা সাহায্য করার ব্যাপারে স্ত্রীকে অযৌক্তিক বাধা দেয়া থেকে বিরত থাকুন।
১৫. স্ত্রীর আত্মীয়দের নিয়ে তাকে কথা শোনাবেন না।
১৬. স্ত্রীর মা-বাবাকে নিজের মা-বাবার মতো শ্রদ্ধা করুন।
১৭. ঘরের খুঁটিনাটি ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকুন। ঘরের কাজে সাধ্যমতো সহযোগিতা করুন।
১৮. স্ত্রীর ভুল-ত্রুটি নিয়ে সন্তানদের সামনে ভর্ৎসনা করবেন না।
১৯. অকারণে কোনো বিষয় স্ত্রীর কাছে গোপন করবেন না।
২০. সপ্তাহে একদিন পুরোপুরি স্ত্রী-পুত্র-কন্যাদের নিয়ে কাটান। ঘরের প্রতিটি কাজ- এমনকি রান্না-বান্নায়ও পিকনিকের মতো                অংশ নিন। গ্লাসে পানি ঢেলে খাওয়াসহ নিজের ছোটখাটো কাজ নিজে করুন।
২১. স্ত্রীর যে কোনো ভুল-ত্রুটিকে সহানুভূতির সাথে বিবেচনা করুন এবং রূঢ় ভাষায় সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকুন।
২২. বাইরে কাজ আছে বলে ক্লাবে বা ‘বন্ধু’দের সাথে তাস খেলে বা ফালতু আড্ডায় সময় নষ্ট না করে পরিবারের আত্মিক ও                  মানসিক উন্নতির জন্যে সময় ব্যয় করুন।
২৩. অন্যের কাছে স্ত্রীর বদনাম করবেন না।
২৪. অর্থ অপচয় করবেন না। আবেগপ্রসূত কেনাকাটা পরিহার করুন।
২৫. নিজের দোষ-ত্রুটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন।
২৬. স্ত্রীর শারীরিক খোঁজ-খবর নিয়মিত জিজ্ঞেস করুন। অসুস্থ হলে নিজে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন।
২৭. স্ত্রীর যে কোনো অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শুনুন। কোনো প্রস্তাব বা কথায় প্রথমেই ‘না’ বলা থেকে বিরত থাকুন।
২৮. স্ত্রীকে গৃহকর্মে ও সন্তান পালনে সাধ্যমতো সহযোগিতা করুন।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তাদের সঙ্গে সত্ভাবে জীবন যাপন করবে।’ (সুরা আন নিসা, আয়াত : ১৯)

আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন,

‘তোমাদের আদেশ করা হচ্ছে, তোমরা নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে। কেননা, বুকের হাড় থেকে তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। সবচেয়ে প্যাঁচানো বা বাঁকানো হচ্ছে বুকের ওপরের হাড়টি। যদি তা সোজা করতে যাও, তাহলে ভেঙে যাবে। আর যদি ছেড়ে দাও তাহলে ওরকম বাঁকা রয়েছে। অতএব, তোমাদের আদেশ করা হচ্ছে, তোমরা নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে।’

(বুখারি, হাদিস : ৫১৮৬)

জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘নারীদের ক্ষেত্রে আল্লাহকে ভয় করো। কেননা, তোমরা আল্লাহর আমানত হিসেবে তাদের দায়িত্ব নিয়েছো। আল্লাহর নামে বিশেষ অঙ্গ নিজেদের জন্য হালাল করে নিয়েছো।’ (মুসলিম, হাদিস : ১২১৮)

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন,

‘হে ঈমানদাররা, তোমরা নিজেদের ও তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করো (জাহান্নামের) আগুন থেকে, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর…।’ (সুরা তাহরিম, আয়াত : ৬)

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM
Translate »