1. admin@hostpio.com : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
  2. azmulaziz2021@gmail.com : Emon : Armanul Islam
  3. musa@informationcraft.xyz : musa :
মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন

ইতিহাসে সেপ্টেম্বর ১২ – বাঙালি মৎসবিজ্ঞানী ড. হীরালাল চৌধুরী এর মৃত্যুদিন

  • সময় রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১৭ বার দেখা হয়েছে

প্রণোদিত প্রজননের জনক প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি মৎসবিজ্ঞানী ড. হীরালাল চৌধুরী এর মৃত্যুদিন

গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে আজ বছরের ২৫৫তম (অধিবর্ষে ২৫৬তম) দিন। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা বিশিষ্টজনের জন্ম ও মৃত্যুদিনসহ আরও কিছু তথ্যাবলি।

ঘটনাবলি

১৬০৯ : অভিযাত্রী হেনরী হাডসন আমেরিকার নিউ জার্সিতে একটি নদী খুঁজে পান। পরবর্তীতে নদীটির নাম রাখা হয় হাডসন নদী। স্থানীয় আদিবাসীরা নদীটিকে ডাকতো মু-হে-কুন-নে-তুক (Muh-he-kun-ne-tuk) নামে।

জন্ম

১৮৯৪ : বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়, একজন জনপ্রিয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক।
১৮৯৭ : ইরেন জুলিও কুরি, প্রখ্যাত ফরাসি রসায়ন ও পদার্থবিদ।
১৯২৩ : অরুণাচল বসু, একজন বাঙালি কবি এবং অনুবাদক।

মৃত্যু

১৯৮১ : নোবেলজয়ী ইতালীয় কবি ও গল্পকার ইউজিনিও মন্তাল
২০০৯ : বাংলাদেশি বাউল গানের অন্যতম জনপ্রিয় শিল্পী শাহ আবদুল করিম
২০১৪ : প্রণোদিত প্রজননের জনক প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি মৎসবিজ্ঞানী ড. হীরালাল চৌধুরী

দিবস

বিশ্ব মনোসংযোগ দিবস৷

মৎস্যবিজ্ঞানী ড. হীরালাল চৌধুরী

অধ্যাপক ড. হীরালাল চৌধুরী ছিলেন বাঙালি মৎসবিজ্ঞানী। তাকে বাঙালির মাছ-বিলাসের রূপকারও বলা হয়। তিনি কার্প জাতীয় মাছের ‘প্রণোদিত প্রজননের জনক’। তিন দশকের বেশি সময় ধরে প্রাণিবিজ্ঞান তথা মৎস্যবিজ্ঞানের উন্নতি সাধন ও তার ব্যবহারিক প্রয়োগে অসামান্য অবদানের জন্যে দেশে-বিদেশে তিনি এক সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব।

তিনি শুধুমাত্র প্রণোদিত প্রজননেরই জনক নন, পুকুরে মৎস্যোৎপাদনের বৃদ্ধির জন্যে নিবিড় মিশ্রচাষের জন্মদাতাও তিনি। তার আবিষ্কারের জন্যে এখনও একশো-দেড়শো টাকায় রুই-কাতলা মাছ সহজলভ্য হয়েছে।

জন্মগ্রহণ করেন ১৯২১ খ্রিস্টাব্দের ২১ নভেম্বর ব্রিটিশ ভারতের অধুনা বাংলাদেশের সিলেটের (তৎকালীন শ্রীহট্টের) সুরমা ভ্যালি সংলগ্ন কুবজপুর গ্রামে। অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন হীরালাল। চারটি বিষয়ে লেটার নিয়ে সিলেটের গোমস্‌ স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। এরপর কলকাতার বঙ্গবাসী কলেজের অধ্যক্ষের মেধাবী ছাত্রদের বৃত্তিতে আইএসসিতে ভর্তি হন।

১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে অনার্সসহ বিএসসিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অন্তর্গত বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজ থেকে প্রাণিবিদ্যায় এমএসসি পাস করেন ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে। ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে ফিশারি পরিচালনে দক্ষতাস্বরূপ আমেরিকার অলাবামাস্থিত অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএস ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি লাভ করেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল মৎস্য প্রজননে পিটুইটারি ইনজেকশনের প্রভাব। ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে সেন্ট্রাল ফিশারিজ ইনস্টিটিউট (ডিমড ইউনিভার্সিটি) ডিএসসি ডিগ্রি প্রদান করে।

বদ্ধ পুকুরে কার্প প্রজাতির মাছ ডিম পাড়ে না। রুই-কাতলা-মৃগেল-বাটা-খয়রা ও গ্রাসকাপ প্রজাতির মাছ বর্ষাকালে স্রোতযুক্ত পানিতে ডিম পাড়ে। কার্প প্রজাতির মাছ নিজের হরমোনাল বাধ্যবাধকতার জন্যে জমা জলাশয়ে শারীরিক মিলনে অক্ষম, তাই রুই-কাতলা প্রজাতির মাছচাষে ডিমপোনা পেতে চাষিদের বর্ষাকালে নদী-খাল-বিল-বাওড় ও নয়ানজুলি থেকে সংগৃহীত অসম-বয়সী মাছের চারার উপর নির্ভর করতে হতো।

ব্যারাকপুরে গঙ্গার কাছে ইটভাটায় জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা পেটফোলা মাছ ধরে টিপে দিতেই ওভাল শেপের স্বচ্ছ ডিম বেরিয়ে এলো– হীরালালের কথায়, ‘সেই ডিম পাত্রে রাখার কয়েক ঘণ্টা পর জীবনে প্রথম লাইভ দেখতে পেলাম’ যা ‘প্রণোদিত প্রজনন’ আবিষ্কারের প্রথম ধাপ। প্রথমে ‘কড়কেবাটা মাছ’-এর ওপর অ্যাকোয়ারিয়ামের মধ্যে ‘প্রণোদিত প্রজনন’ সফল হয়।

এর পর কার্প প্রজাতির মাছের পিটুইটারি গ্ল্যান্ড সংগ্রহ করে (বর্তমানে বাজারে রুই-কাতলা মাছের মাথা থেকে সংগ্রহ করার দৃশ্য অনেকেই দেখে থাকবেন) সেটাকে অ্যালকোহলে প্রসেস করে নিয়ে স্ত্রী-মাছকে দুই বার এবং পুরুষ মাছকে এক বার ইনজেকশন দিয়ে হাপায় (ব্রিডিং পুলে) ছেড়ে দিলে তারা স্পোর্টিং ক্রিয়া করতে সক্ষম হয়।

এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে স্ত্রী-মাছটি ডিম এবং পুরুষ-মাছটি শুক্রাণু নিঃসরণ করে এবং সতেরো থেকে আঠারো ঘণ্টা পর দু-তিন লক্ষ ডিমপোনা এক সঙ্গে পাওয়া যায়– এই আবিষ্কার কটকে বসে করে সারা বিশ্বে মৎস্য গবেষণায় নতুন পালক জুড়লেন হীরালাল চৌধুরী। এর হাত ধরে বর্তমানে কই-পাবদা-মাগুরসহ বহু মাছের প্রণোদিত প্রজনন করা সম্ভব হয়েছে।

পুকুরে মৎস্যোৎপাদনের বৃদ্ধির জন্যে নিবিড় মিশ্রচাষের জন্মদাতাও তিনি। মিশ্রচাষ হলো একই পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ; যারা পানির আলাদা আলাদা স্তরে থাকে, যাদের খাদ্যাভ্যাস আলাদা, সেই প্রজাতির মাছ এক সঙ্গে চাষ করলে উৎপাদন পাঁচ-ছয় গুণ বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়াও ড. হীরালাল কার্প প্রজাতির বারো রকমের নতুন শংকরীকরণ, আঁতুড় পুকুরের ডিমপোনা কোন কোন পোকার দ্বারা আক্রান্ত এবং বিজ্ঞানসম্মতভাবে আঁতুড় পুকুর পালনের পদ্ধতির কথা বলেন।

১৯৭৬ সালে বাধ্য হয়ে অবসর নেওয়ার পর এফএও (food and agricultural organization) থেকে বিশ্ব ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার উপদেষ্টা হয়ে সুদান, নাইজেরিয়া, ফিজি, লাওস, মায়ানমার প্রভৃতি বহু দেশে কাজ করেছেন। মায়ানমারে মিল্ক ও ভাঙন মাছের ওপর প্রণোদিত প্রজনন ও মৎস্যোৎপাদনের সাফল্যের জন্যে সে দেশের সরকারের কাছে অতি প্রিয় ও প্রয়োজনের মানুষ হয়ে উঠেছিলেন।

প্রফেসর হীরালাল চৌধুরীর অবদান সারা পৃথিবীতে আজকের দিনে অপরিসীম। শুধুমাত্র প্রাণীবিজ্ঞানের গবেষণার জন্যেই নয়, খাদ্য সংকট, অপুষ্টি এবং সামুদ্রিক মাছের সীমাহীন উত্তোলন রোধেও এই বিজ্ঞানীর অবদান কম নয়। সমুদ্র সম্পদ সংরক্ষণ ও প্রয়োজনমতো মাছের জোগান সম্ভব হয়েছে ‘প্রণোদিত প্রজনন’ উদ্ভাবনের ফলেই।

হীরালাল চৌধুরী ভারতে ‘প্রণোদিত প্রজননের জনক’ হিসেবে আখ্যা লাভ ছাড়াও দেশে-বিদেশের বহু সম্মানে ভূষিত হয়েছেন নিজের কর্মসাফল্যে। ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দে চন্দ্রকলা হোরাস্মৃতি স্বর্ণপদক, আমেরিকার অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘গামা-সিগমা-ডেল্টা গোল্ডেন কী পুরস্কার, ‘রফি আহমেদ কিদওয়াই’ পুরস্কার লাভ করেন।

ভারত সরকার তার যুগান্তকামী ‘প্রণোদিত প্রজনন পদ্ধতি’ উদ্ভাবনের দিনটি স্মরণে রেখে ১০ জুলাই তারিখ ‘জাতীয় মৎস্যচাষী দিবস’বা ‘ন্যাশনাল ফিস্ ফার্মার্স ডে’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় তার মৎস্যবিজ্ঞানে সারাজীবনের অবদান ও সেবার জন্যে সাম্মানিক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে।

ড. হীরালাল চৌধুরী ২০১৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন

 

সূত্র: সংগৃহীত

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM