1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ১১:১৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
ভালো ভাবনার আহ্বানে বিশ্ব মেডিটেশন দিবস উদযাপিত ওমর খৈয়াম : সাহিত্যিক, দার্শনিক, জ্যোতির্বিদ আর নিখাদ আল্লাহপ্রেমী যে মানুষটিকে পাশ্চাত্য বানিয়েছে মদারু! আধুনিক বিশ্ব এখন ঝুঁকছে ডিজিটাল ডায়েটিংয়ের দিকে : আপনার করণীয় মানুষ কখন হেরে যায় : ইবনে সিনার পর্যবেক্ষণ সন্তান কখন কথা শুনবে? আসুন জেনে নেই মিরপুর কলেজের এবছরের অর্জন গুলো A town hall meeting of the RMG Sustainability Council (RSC) was held at a BGMEA Complex in Dhaka to exchange views on various issues related to RSC নব নবগঠিত UPVAC-বাংলাদেশ কমান্ড কমিটির দায়িত্বভার গ্রহন উপলক্ষে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত UPVAC-বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এর বিবৃতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-বাড়িতে মারধর, চুল টানা, কান মলাসহ শিশুদের শাস্তি বন্ধ নেই

জাপানিরা কেন এত বেশি আত্মহত্যাপ্রবণ!

  • সময় সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৯৩৭ বার দেখা হয়েছে
হিক্কিমোরি। একটি জাপানি পরিভাষা।
যারা ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে ঘর থেকে বেরোয় না এবং মানুষ থেকে নিজেদেরকে বিচ্ছিন্ন করে রাখে জাপানে তাদেরকে ‘হিক্কিমোরি’ বলা হয়।
খোদ জাপানি স্বাস্থ্য, শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এই সংজ্ঞা দিয়েছে। এবং সরকারি তথ্যমতে ২০১০ সালে জাপানে এরকম হিক্কিমোরির সংখ্যা ছিল সাত লাখ।
গত ১০ বছরে এই সংখ্যাটা আরো বেড়েছে তাতে সন্দেহ নেই।
সমাজে এর প্রভাবটা কী পড়েছে?
ঐতিহাসিকভাবে জাপান পৃথিবীর সবচেয়ে আত্মহত্যাপ্রবণ দেশ। গড়ে প্রতিদিন ৭০ জন মানুষ সেখানে আত্মহত্যা করে। (২০১৪ সালের হিসেব)
এদের মধ্যে বৃদ্ধরা যেমন আছে, ২০ থেকে ৪৪ বছর বয়সী পুরুষরা আছে। এমনকি আছে প্রাইমারি থেকে হাইস্কুল পড়ুয়া শিশুরাও।
অর্থনৈতিক উন্নতি, প্রযুক্তি আর বিলাসের এত আধিক্য সত্ত্বেও এই মানুষরা বেঁচে থাকার কোনো কারণকে আর খুঁজে পায় নি।
টোকিওর টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী ওয়াতুরু নিশিদা বলেন, বিষণ্নতা এবং আত্মহত্যার অন্যতম কারণ বিচ্ছিন্নতা বা একা থাকার প্রবণতা।
জাপানে একসময় বৃদ্ধ মা-বাবারা তাদের সন্তানের কাছে থাকতেন। কিন্তু এখন সেটা হয় না বললেই চলে।
অসুস্থ-বুড়ো মা-বাবাকে নিজের কাছে রাখার চেয়ে বৃদ্ধাশ্রম বা হাসপাতালে রাখতেই বেশি ইচ্ছুক জাপানিরা।
ফলে মা-বাবা যেমন একাকীত্বে আক্রান্ত হয়েছেন, তেমনি সন্তানও সুখী হয় নি।
বিশেষ করে নিজের শিশুবয়সী বা কিশোর বয়সী সন্তানের মানসিক টানাপোড়েনের সময় দাদা-দাদী বা নানা-নানীর কাছ থেকে যে মানসিক সমর্থন তার সন্তানটি পেত, তা থেকে বঞ্চিত হয়ে শিশুটি হয়তো নিয়ে নিচ্ছে জীবনের চরম কোনো সিদ্ধান্ত।
২০১৭ সালে জাপানে আড়াইশ’র বেশি শিশু আত্মহত্যা করে যা গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।
শিশু-কিশোরদের মানসিক অসুস্থতা বা উদ্বিগ্নতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে দাদা-দাদী, নানা-নানী
অন্যদিকে গবেষণা বলছে, শিশু-কিশোর বা তরুণ তরুণীর মধ্যে মানসিক অসুস্থতা বা উদ্বিগ্নতা দেখা দিলে সেটা কাটিয়ে উঠতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে তার দাদা-দাদী বা নানা-নানী।
টেলিফোনে শিশু-কিশোরদের মানসিক সহায়তা দেয় এমন একটি হেল্পলাইন সংস্থা বলছে- দুই বছরে তারা ২১ হাজারেরও বেশি শিশু-কিশোরের সাথে কথা বলেছে।
ফোনেই তাদের সাথে কথা বলা হয়। খোলামেলাভাবে তাদেরকে কথা বলতে দেয়া হয়। আর এর মাধ্যমে অনেককে আত্মহত্যা থেকেও ফিরিয়ে আনা গেছে।
সংস্থাটি বলছে একজন অপরিচিত মানুষের সঙ্গে স্রেফ মন খুলে কথা বলাই যদি এত সহায়ক হয়, তাহলে মানুষটি যদি পরিবারের কাছের কেউ হন, তাহলে কী হতে পারে!
আর মা-বাবার ব্যস্ততার বাস্তবতায় দাদা-দাদী বা নানা-নানী হয়তো এ অভাব পূরণ করতে পারতেন খুব সহজেই- বলছে তারা।
আসলে আধুনিক সমাজব্যবস্থায় যৌথ পরিবারগুলো ভেঙে যাওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে ক’টি জিনিস, শিশুর সুস্থ বেড়ে ওঠা তার একটি।
যে কারণে ফ্রান্সের মতো কিছু দেশে এখন রীতিমতো আইন করে শিশুর পিতামহ এবং মাতামহের সাথে দেখা করার বিধান হয়েছে।
অবশ্য প্রাচ্যে এখনো যৌথ পরিবার ব্যবস্থা টিকে আছে। এবং আমাদের মা-বাবারা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এখনো তাদের সন্তান-নাতি-নাতনীদের সাথেই থাকেন।

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM
Translate »