1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ১২:১৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
ওমর খৈয়াম : সাহিত্যিক, দার্শনিক, জ্যোতির্বিদ আর নিখাদ আল্লাহপ্রেমী যে মানুষটিকে পাশ্চাত্য বানিয়েছে মদারু! আধুনিক বিশ্ব এখন ঝুঁকছে ডিজিটাল ডায়েটিংয়ের দিকে : আপনার করণীয় মানুষ কখন হেরে যায় : ইবনে সিনার পর্যবেক্ষণ সন্তান কখন কথা শুনবে? আসুন জেনে নেই মিরপুর কলেজের এবছরের অর্জন গুলো A town hall meeting of the RMG Sustainability Council (RSC) was held at a BGMEA Complex in Dhaka to exchange views on various issues related to RSC নব নবগঠিত UPVAC-বাংলাদেশ কমান্ড কমিটির দায়িত্বভার গ্রহন উপলক্ষে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত UPVAC-বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এর বিবৃতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-বাড়িতে মারধর, চুল টানা, কান মলাসহ শিশুদের শাস্তি বন্ধ নেই কেন আপনি সফট এবং এনার্জি ড্রিংকস খাবেন না

আমরা করব কী

  • সময় বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৯০৬ বার দেখা হয়েছে

আমরা এমন একটা বিশ্বে বাস করি, যেখানে প্রয়োজনের তুলনায় বহুগুণ বেশি পোশাক উৎপাদন করা হয়। আর একবিংশ শতকে এসে গার্মেন্টসের জঞ্জালে ভরে উঠেছে পৃথিবী।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

চাপ পড়ছে তুলা উৎপাদন আর সুতার ওপর। বিশ্বে যত কার্বন নিঃসরণ হচ্ছে, তার ১০ শতাংশের বেশি আসছে গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি থেকে। ফ্যাশন পলিউশন বা পোশাকের মাধ্যমে পরিবেশদূষণ পরিবেশবাদীদের কপালের ভাঁজকে আরও গভীর করেছে। এমনিতেই বিশ্ব দিন দিন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে।

আর সেখানে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি। পরিবেশদূষণের যত কারণ, তার মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে পোশাকশিল্প। ফাস্ট ফ্যাশনের ধারণা এই পরিবেশদূষণের মাত্রাকে গতিশীল করেছে। ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি ২০০০ সালে গড়ে দুটি কালেকশন বের করত।

২০১১ সালে গড়ে পাঁচটি কালেকশনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় ভোক্তাদের। এ ক্ষেত্রে ক্লোদিং ব্র্যান্ড জারা সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। তারা বছরে ২৪টি কালেকশন বের করে। এইচঅ্যান্ডএম ১২ থেকে ১৬টি কালেকশন বের করে। ফাস্ট ফ্যাশনের ফলে ওয়ার্ডরোব নতুন জামায় ভরে উঠছে। কিন্তু পৃথিবী হয়ে উঠছে বসবাসের অনুপযোগী। এমন অবস্থায় সাধারণ ভোক্তা হিসেবে আমাদের করণীয় থেকেই যায়।

ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে আমাদের ছোট ছোট উদ্যোগ ভবিষ্যতের বিশ্বকে বাঁচাতে হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। প্রথমত, ‘গার্মেন্ট লাইফটাইম’ বাড়ানো। মানে এক পোশাক বেশি দিন পরা। পোশাকের আয়ু বাড়ানো। একটি পোশাকের সর্বোচ্চ জীবনকাল গড়ে তিন বছর। পোশাক পুরোনো মলিন হয়ে যায়। ছিঁড়ে যায়।

চলতি ট্রেন্ডের সঙ্গে যায় না। আপিন যদি একটা পোশাক ৯ মাস বেশি পরেন, তাহলেই ওই পোশাকের মাধ্যমে কার্বন উৎপাদন আর ওই পোশাকের পেছনে ব্যবহৃত পানির অপচয় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। যতটা সম্ভব কম পোশাক কিনুন। কোথাও ছিঁড়ে গেলে, ফেঁসে গেলে সেলাই বা রিপু করে নিন। আর পরতে ইচ্ছে না করলে বন্ধুদের সঙ্গে বদলে নিন। ১৯৮০-এর দশকে মানুষ যে পরিমাণ পোশাক কিনত, এখন তার পাঁচ গুণ পোশাক কেনে।

২০০০ সালে মানুষ যত পোশাক ভোগ করত, ২০১৪ সালে তার ৬০ শতাংশ বেশি পোশাক ভোগ করে। মনে রাখতে হবে আমরা যতটা পোশাক কিনি, মোটা দাগে ওই পোশাক তার আকৃতির সমান পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যদিও এর নেতিবাচক প্রভাবের সঙ্গে আরও নানা কিছু জড়িত।

পুরোনো পোশাকে ‘ভ্যালু অ্যাড’ করুন। টুকিটাকি এটা-সেটা করে ডিজাইন বদলে ফেলতে পারেন। শাড়ি দিয়ে গাউন বানান। শার্ট দিয়ে ব্লাউজ। ফুলপ্যান্ট কেটে হাফপ্যান্ট বানিয়ে নিতে পারেন। এগুলোর কিছুই করতে না পারলে বাসার সহকারীকে দিয়ে দিন। অথবা চ্যারিটি শপে দিন।

সব মিলিয়ে পৃথিবীকে জঞ্জালমুক্ত করতে, পরিবেশদূষণ কমাতে জনপ্রিয় হচ্ছে রিসাইক্লিং। পুরনো কাপড় রিসাইকেল করে হতে পারে অনেক কিছুই। পুরনো জামাকাপড়, শার্ট দিয়ে বানিয়ে ফেলুন ট্রেন্ডি ব্লাউজ। সেটা আপনার শাড়ির লুকটাই বদলে দেবে। আর এই ছোট ছোট উদ্যোগ বদলে দেবে বিশ্ব।

পুরনো কাপড় ভাগাড় বা সমুদ্রে না ফেলে বানিয়ে ফেলুন নতুন কিছু। সেটা হতে পারে আপনার মানিব্যাগ। একটা পুরোনো কামিজ, যেটা হয়তো আর গায়ে ঢুকছে না, সেটা মাঝখান থেকে কেটে ফেলুন। পছন্দসই লেস লাগিয়ে নিন। হুক বা বোতাম জুড়ে দিয়ে পরতে পারেন কটি হিসেবে। চাইলে বাদ দিতে পারেন হাতা দুটোকেও। আমাদের নানি-দাদিরা তো সুতি শাড়ি আর ওড়না দিয়ে কাঁথা বানাতে ওস্তাদ।

রিসাইক্লিংয়ের সবচেয়ে উত্তম উদাহরণ আমাদের কাঁথা। তাই ভেতরের দিকে বেশি পুরনো কাপড়, আর ওপরের দিকে কম পুরোনো কাপড় আর একরঙা কাপড় দিয়ে মুড়ে যদি তার ওপর নকশা করেন, তাহলে তো কথাই নেই। এভাবে পুরোনো থেকেই হতে পারে নতুন কিছু।

কয়েকটি পুরোনো কাপড় কেচে শুকিয়ে নতুন করে ডাই করে অথবা না করে বানিয়ে ফেলতে পারেন বর্ণিল ঝোলানো নকশা করা ব্যাগ। এ তো গেল ব্যক্তিগত জায়গা থেকে আমাদের করণীয়।

টেকসই ফ্যাশনের কোনো বিকল্প নেই। এই ধরনের ইকো ফ্রেন্ডলি ব্র্যান্ড বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠতে হবে। সেকেন্ডহ্যান্ড পোশাকের মার্কেটকে আরও বড় হতে হবে।

সরকারিভাবেও পোশাকের মাধ্যমে দূষণ কমাতে নেওয়া যেতে পারে নানা উদ্যোগ। বিশেষ করে পোশাকশিল্পের মাধ্যমে পানিদূষণের বিকল্প পন্থা বাধ্যতামূলক করা অত্যন্ত জরুরি।

সূত্র : প্রথম আলো (১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১)

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM
Translate »