1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
  2. [email protected] : Emon : Armanul Islam
  3. [email protected] : musa :
মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৭:২৮ অপরাহ্ন

ইতিহাসে সেপ্টেম্বর ২৬ – উদয় শঙ্কর বিশ্ববরেণ্য এই শিল্পী মৃত্যুবরণ করেন।

  • সময় রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৬৩ বার দেখা হয়েছে

গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে আজ বছরের ২৬৯তম (অধিবর্ষে ২৭০তম) দিন। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা বিশিষ্টজনের জন্ম ও মৃত্যুদিনসহ আরও কিছু তথ্যাবলি।

ঘটনাবলি

১৫৮০ : সমুদ্রপথে বিশ্বভ্রমণ সমাপ্ত করে স্যার ফ্রান্সিস ড্রেক ইংল্যান্ডে ফিরে আসেন।
১৯০৭ : নিউজিল্যান্ড বৃটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে।
১৯৪২ : ভারতে বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (সিএসআইআর) প্রতিষ্ঠিত হয়।

জন্ম

১৮২০ : ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, উনিশ শতকের বিশিষ্ট বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক ও গদ্যকার।
১৮৮৮ : টি এস এলিয়ট, ইংরেজ কবি ও সাহিত্যিক।
১৯০৩ : হীরেন বসু, বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক, গীতিকার, সঙ্গীতকার, গল্পকার, ঔপন্যাসিক ও অভিনেতা।

মৃত্যু

১৮৯৫ : ভারতীয় যোগী ও গুরু যোগীরাজ শ্যামাচরণ লাহিড়ী বা লাহিড়ী মহাশয়
১৯৭৭ : বিশ্বনন্দিত ভারতীয় নৃত্যশিল্পী ও নৃত্য পরিকল্পক উদয় শঙ্কর
১৯৮২ : প্রখ্যাত বাঙালি চিত্রশিল্পী নীরদ মজুমদার
১৯৮৯ : বাংলার খ্যাতিমান কণ্ঠসঙ্গীত শিল্পী, সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক এবং প্রযোজক হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। হিন্দি সঙ্গীত জগতে তিনি হেমন্তকুমার নামে প্রসিদ্ধ।
১৯৯০ : ইতালীর খ্যাতনামা উপন্যাসিক আলবার্টো মোরাভিয়া

উদয় শঙ্কর

উদয় শঙ্কর ছিলেন বিশ্বখ্যাত ভারতীয় নৃত্যশিল্পী, নৃত্য পরিকল্পক ও অভিনেতা। তিনি ভারতীয় নৃত্যশৈলী, ভারতীয় জাতীয় নৃত্যের ইউরোপীয় থিয়েটারস সমন্বয় পদ্ধতি গ্রহণের জন্যেও সুপরিচিত। তিনি ভারতে আধুনিক নৃত্যের একজন অগ্রগামী ছিলেন।

জন্মগ্রহণ করেন ১৯০০ সালের ৮ ডিসেম্বর রাজস্থানের উদয়পুরে। বাবা পণ্ডিত শ্যামশঙ্কর ছিলেন বাংলাদেশের নড়াইল জেলার অধিবাসী। ঝালোয়ারের মহারাজার ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে চাকরি করার সময় উদয়পুরে তার পুত্র উদয়শঙ্করের জন্ম হয়। উদয়পুরে জন্ম হওয়ায় বাবা তার নাম রাখলেন উদয়। শ্যামশঙ্কর ছিলেন একজন পন্ডিত ব্যক্তি এবং অভিনয়কলার রসজ্ঞ সমঝদার। তার কাছে নৃত্য ছিল কলা ও সাধনা উভয়ই। উদয়ের মায়ের নাম হেমাঙ্গিনী। তার অপর তিন ভাই হলেন রাজেন্দ্র শঙ্কর, দেবেন্দ্র শঙ্কর ও রবি শঙ্কর। রবিশঙ্কর আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সেতার বাদক।

উদয় শঙ্কর প্রাচ্য নৃত্যকলার ক্ষেত্রে নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান। তার বিশ্ব বিজয় এবং বিশ্বকে এই উপমহাদেশীয় শিল্প সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করা, বিশেষত নৃত্যকলার প্রতি শ্রদ্ধাবনত করার কর্মমঞ্চটি তার বৈচিত্র্যময় জীবনের শ্রেষ্ঠতম অবদান।

উদয় শঙ্কর ১৯৪২ সালে মাগুরার মেয়ে প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী অমলা শঙ্করের সাথে বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ হন। শ্রীমতি অমলা শঙ্করের একমাত্র মেয়ে মমতা শঙ্করও একজন নামকরা অভিনেত্রী ও আন্তজার্তিক খ্যাতিসম্পন্ন নৃত্যশিল্পী। মমতা শঙ্কর সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেনসহ অনেক খ্যাতিমান পরিচালকের পরিচালিত ছায়াছবিতে নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করে যশোরাধিকারিণী হয়েছেন।

উদয় শঙ্করের প্রাথমিক শিক্ষার সূচনা হয় বারানসীতে। পরবর্তীতে বোম্বাইতে জে জে স্কুল অব আর্টস-এ চিত্রকলাসহ শিল্প সংস্কৃতির বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষাগ্রহণ করেন। তারপর লন্ডন রয়্যাল কলেজ অব আর্টস-এ চিত্রশিল্পে উচ্চতর শিক্ষাগ্রহণের জন্যে যান। তিনিই প্রথম ভারতীয় ছাত্র যিনি সেখানে ‘সেন্সর’ ও ‘জর্জক্লাঝেন’ নামে দুটি পদক লাভের কৃতিত্ব অর্জন করেন।

উদয়ের বাবার ছিল বিশাল অর্থ প্রতিপত্তি। বাল্যকালে বাবার জীবনাবসান ঘ্টলে তাকে অর্থকষ্টে পড়তে হয়েছিল। অর্থ সংগ্রহের জন্যে জীবন সংগ্রামে নামতে হয়। বাবার মৃত্যুর পর মা আর ছোট তিন ভাইয়ের দেখাশুনার দায়িত্ব তার উপরই বর্তায়।

নৃত্যশিল্পী হিসেবে উদয় শঙ্করের প্রথম আবির্ভাব ঘটে লন্ডনে থাকাকালীন ভারতীয় নৃত্য রচনার মাধ্যমে। ওই সময় সেখানকার প্রদর্শনীতে মঞ্চায়ন করে তিনি ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন। লন্ডনের আইভি হাউসে নৃত্য প্রদর্শনের সময় প্রখ্যাত রাশিয়ান ব্যালেরিনা আনাপাভলোভা তার মনোমুগ্ধকর নৃত্য দেখে মোহিত হন এবং প্রাচ্য নৃত্যকলার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন এবং প্রাচ্য ওরিয়েন্টাল নৃত্য প্রশিক্ষণ দেবার জন্যে উদয় শঙ্করকে তার দলে নিয়োগ করেন।

তারই অনুরোধে ১৯২৩ সালে উদয় শঙ্কর ‘রাধাকৃষ্ণ’ ও ‘হিন্দু বিবাহ’ নামে দুটি ভারতীয় নৃত্য রচনা করেন। এ নৃত্য দুটি প্রথম মঞ্চস্থ হয় লন্ডনের কভেন্ট গার্ডেনের রয়েল অপেরা হাউসে। উদয় শঙ্কর ‘রাধাকৃষ্ণ’ নৃত্যে রাধার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন এবং পাশ্চাত্য দর্শককুলের হৃদয় জয় করেন।

দীর্ঘদিন পাভলোভার সঙ্গে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নৃত্য প্রদর্শনের পর তিনি স্বতন্ত্রভাবে দল প্রতিষ্ঠা করেন। প্রচণ্ড প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও তিনি ভেঙ্গে পড়েননি। বিশেষ করে আনাপাভলোভার উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় তার মনে জন্ম ছিল এক নতুন উদ্যম। সিমকী ছিলেন নৃত্যসঙ্গিনী আর আর্থিক সাহায্য দাতা ছিলেন বিত্তশালিনী চিত্রশিল্পী শ্রীমতি অ্যালিস বোনার।

উদয় শঙ্কর ভারতবর্ষে ফিরে এসে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে ঘুরে শাস্ত্রীয় ও লোক নৃত্য সংগ্রহ করেন। কেরালার গুরাভাযুরের একটি মন্দিরে নৃত্য অনুষ্ঠানে ‘কথাকলি’ নৃত্য দেখে তিনি অভিভূত হয়ে পড়েন। এই নৃত্য শেখা এবং একে গভীরভাবে জানার জন্যে কথাকলি নৃত্যগুরু শঙ্করণ নামবুদ্রীকে শিক্ষাগুরু হিসেবে গ্রহণ করেন।

১৯৩০ সালের অক্টোবর মাসে উদয় শঙ্কর অ্যালিস বোনারের সহযোগিতায় তার সাংস্কৃতিক দল নিয়ে প্যারিসের পথে যাত্রা করেন। ভারত বর্ষের ইতিহাসে এই প্রথম ভারতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দলের বিদেশ যাত্রার সূচনা। এই দলের সংগীত পরিচালক ছিলেন তিমির বরণ। উদয় শঙ্করের প্রধান নৃত্য সঙ্গিনী ছিলেন সিমকী।

আরো অনেকের মধ্যে এই দলে ছিলেন রবি শঙ্কর ও তাদের সহযোগিনী মাতা হেমাঙ্গিনী। উদয় শঙ্কর অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে তুলেছিলেন ‘গন্ধর্বনৃত্য’, ‘সাপুড়েনৃত্য’, ‘রাধাকৃষ্ণনৃত্য, ‘তলোয়ারনৃত্য’ এবং ব্যালে হিসেবে ‘শিবপার্বতী’, ‘লেবার এ্যান্ড মেশিনারী’, ‘রিদম অব লাইফ’ প্রভৃতি নৃত্য।

১৯৩১ সালের মার্চে প্যারিসে এই নৃত্য দলের সাড়া জাগানো অনুষ্ঠান থেকেই উদয় শঙ্করের জয়যাত্রার শুরু। তারপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি তাকে। একের পর এক জয় করেছেন পাশ্চাত্যের মঞ্চ আর তাদের হৃদয়।

১৯৩৩ সালে ইউরোপ আমেরিকায় নৃত্যকলা প্রদর্শন করে জয়মাল্য গলায় নিয়ে দেশে ফেরেন উদয় শঙ্কর। কোলকাতার টাউন হলে তাকে দেওয়া হয় নাগরিক সংবর্ধনা। ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছিলেন এবং তাকে আশীর্বাদ করেছিলেন।

১৯৩৯ খ্রীষ্টাব্দে উদয় শঙ্কর আলমোড়ায় পাহাড়ের উপত্যকা জুড়ে ভারত বিখ্যাত ওস্তাদ শঙ্করণ নামবুদ্রীক, কন্দপ্পন পিল্লেই, আমোবি সিংহ ও আলাউদ্দীন খাঁ-কে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করলেন ‘উদয় শঙ্কর ইন্ডিয়া কালচারাল সেন্টার’। কিন্তু দুঃখের বিষয় ১৯৪৪ সালে ওই সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

সঙ্গীত বিষয়ে উদয় শঙ্কর ছিলেন এক ধরনের পথ প্রদর্শক। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে ঘুরে তিনি সংগ্রহ করেছিলেন বিভিন্ন ধরনের বাদ্যযন্ত্র। এগুলোর সমন্বয়ে একটা নিজস্ব শব্দ ঝংকার সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। তার ব্যবহৃত প্রতিটি বাদ্যযন্ত্রই ছিল ভারতীয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বাঁশি, সেতার, একতারা, তানপুরা এস্রাজ, সরোদ, খঞ্জনি, ঢোল ও ড্রাম।

তিনি তার দলে কখনোই বিদেশি যন্ত্র ব্যবহার করেননি। তার অসংখ্য সৃষ্টির একটা দিক হচ্ছে শ্যাডো প্লে। সেখানে তিনি সাদা পর্দার ওপর নিজস্ব কৌশলে নতুন আলো ছায়ার ধারা সৃষ্টি করেছিলেন। তার শিল্পীজীবনের একটা বিরাট স্থান দখল করে আছে ‘কল্পনা’ চলচ্চিত্র। ছবিটি আর্থিক সাফল্য না পেলেও এটি তার এক কালজয়ী সৃষ্টি।

১৯৬৫ সালে কোলকাতায় প্রতিষ্ঠা করলেন ‘উদয় শঙ্কর ইন্ডিয়া কালচার সেন্টার’। নতুন উদ্যমে দলকে সুসংগঠিত করে ১৯৬৮ সালে আবার তিনি বেরিয়ে পড়লেন আমেরিকা সফরে। এটিই তার জীবনে শেষ বারের মতো আমেরিকা সফর।

১৯৭০ সালে রঞ্জিতমল কাংকারিয়ার সহযোগিতায় প্রযোজনা করেছিলেন ‘শঙ্করস্কোপ’। ১৯৭২ সালে ‘শঙ্করস্কোপ’ ও ‘সামান্য ক্ষতি’ নৃত্য নাট্যের নবরূপায়নই ছিল তার জীবনের শেষ কীর্তি। বৃদ্ধ বয়সে আরও কিছু সৃষ্টিধর্মী নৃত্য রচনার বাসনায় টালিগঞ্জের রাধা ফিল্মের ফ্লোর ভাড়া নিয়ে তিনি নৃত্যের মহড়া চালিয়ে যেতেন।

বিশ্ববরেণ্য নৃত্যশিল্পী উদয় শঙ্কর সংস্কৃতির ক্ষেত্রে তার অবদানের জন্যে বিশ্ববাসীর কাছ থেকে পেয়েছিলেন অভাবনীয় স্বীকৃতি ও সম্মান। বিশ্বভারতী ও রবীন্দ্রভারতী তাকে ‘দেশিকোত্তম’ এবং ‘ডি লিট’ উপাধি ও ভারত সরকার তাকে ‘পদ্মভূষণ’ উপাধি প্রদান করেন। ১৯৭২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববরেণ্য এই শিল্পী মৃত্যুবরণ করেন।

সূত্র : সংগৃহীত

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM
Translate »