1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
  2. [email protected] : Emon : Armanul Islam
  3. [email protected] : musa :
সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন

ইতিহাসে সেপ্টেম্বর ২৭ -প্রখ্যাত বাংলাদেশি সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

  • সময় মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১৬৮ বার দেখা হয়েছে

গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে আজ বছরের ২৭০তম (অধিবর্ষে ২৭১তম) দিন। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা বিশিষ্টজনের জন্ম ও মৃত্যুদিনসহ আরও কিছু তথ্যাবলি।

ঘটনাবলি

১৯৩৭ : প্রথম সান্তাক্লজ প্রশিক্ষণের স্কুল চালু হয়।
১৯৪৯ : বেইজিংকে আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা।
১৯৫৮ : প্রথম ভারতীয় হিসেবে মিহির সেন ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করেন।

জন্ম

১৮৭১ : গ্রাযিয়া ডেলেডা, নোবেলজয়ী ইতালীয় লেখক।
১৯০৬ : সতীনাথ ভাদুড়ী, প্রথিতযশা বাঙালি সাহিত্যিক।
১৯২৪ : ফ্রেড সিংগার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশিষ্ট পরিবেশবিদ, মহাকাশ গবেষক ও পদার্থবিদ।
১৯২৫ : রবার্ট এডওয়ার্ডস, নোবেলজয়ী ইংরেজ শারীরবিজ্ঞানী।
১৯৩২ : অলিভার উইলিয়ামসন, নোবেলজয়ী মার্কিন অর্থনীতিবিদ।

মৃত্যু

১৮৩৩ : বাঙালি দার্শনিক, প্রথম ভারতীয় ধর্মীয়-সামাজিক পুনর্গঠন আন্দোলন ব্রাহ্মসমাজের প্রতিষ্ঠাতা রাজা রামমোহন রায়
১৯৩৩ : বাঙালি মহিলা কবি, সমাজকর্মী ও নারীবাদী লেখিকা কামিনী রায়
১৯৪০ : নোবেলবিজয়ী অস্ট্রীয় চিকিৎসক জুলিয়াস ওয়াগনার-জারেগ
১৯৭২ : ভারতীয় গণিতজ্ঞ, গ্রন্থাগারিক ও শিক্ষাবিদ শৃগালি রামাব্রদম রঙ্গনাথন
২০১৬ : বাংলাদেশি লেখক সৈয়দ শামসুল হক

দিবস

বিশ্ব পর্যটন দিবস

সৈয়দ শামসুল হক

সৈয়দ শামসুল হক ছিলেন বিংশ শতাব্দীর শেষভাগের প্রখ্যাত বাংলাদেশি সাহিত্যিক। কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প, অনুবাদ তথা সাহিত্যের সব শাখায় সাবলীল পদচারণার জন্যে তাকে ‘সব্যসাচী লেখক’ বলা হয়। তার লেখকজীবন প্রায় ৬২ বছর ব্যাপী বিস্তৃত। মাত্র ৩১ বছর বয়সে সবচেয়ে কম বয়সে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেছিলেন। বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্যে ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক এবং ২০০০ খ্রিষ্টাব্দে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

বৈচিত্রময় জীবনের অধিকারী এই লেখক জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে। বাবা সৈয়দ সিদ্দিক হুসাইন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার ছিলেন। মা হালিমা খাতুন। আট ভাইবোনের মধ্যে তিনি প্রথম সন্তান। সৈয়দ হকের স্ত্রী ডা. আনোয়ারা সৈয়দ হক। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে।

কুড়িগ্রামেই স্কুলজীবন শেষ করেন। এরপর মুম্বাইতে কিছুদিন চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থায় কাজ করেন। পরবর্তীতে জগন্নাথ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। সেখানে পড়ালেখা শেষ না করেই পুরোদমে লেখালেখি শুরু করেন।

কর্মজীবনের প্রায় সাত বছর কাটিয়েছেন লন্ডনে বিবিসি বাংলা বিভাগের সঙ্গে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে বিবিসি থেকে সংবাদ পরিবেশন করেছেন।

শৈশবেই সৈয়দ হকের লেখালেখির শুরু। ম্যাট্রিক পরীক্ষার আগে লিখে ফেলেন দুই শতাধিক কবিতা। ১৯৫১ সালে ফজলে লোহানী সম্পাদিত ‘অগত্যা’ পত্রিকায় ‘উদয়াস্ত’ নামে তার একটি গল্প ছাপা হয়। সেটাই তার প্রথম ছাপা হওয়া লেখা। ১৯৫০-এর দশকেই প্রকাশিত হয় তার প্রথম উপন্যাস ‘দেয়ালের দেশ’।

বাংলা সাহিত্য ভাণ্ডারেও তার অবদান অনেক। সৈয়দ শামসুল হকের কবিতার বইয়ের মধ্যে রয়েছে- একদা এক রাজ্যে (১৯৬১), বিরতিহীন উৎসব (১৯৬৯), বৈশাখে রচিত পঙ্ক্তিমালা (১৯৭০), প্রতিধ্বনিগণ (১৯৭৩), অপর পুরুষ (১৯৭৮), পরাণের গহীন ভিতর (১৯৮০), নিজস্ব বিষয় (১৯৮২), রজ্জুপথে চলেছি (১৯৮৮), বেজান শহরের জন্য কোরাস (১৯৮৯), এক আশ্চর্য সংগমের স্মৃতি (১৯৮৯), অগ্নি ও জলের কবিতা (১৯৮৯), কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে (১৯৯০), আমি জন্মগ্রহণ করিনি (১৯৯০), তোরাপের ভাই (১৯৯০), শ্রেষ্ঠ কবিতা (১৯৯০), রাজনৈতিক কবিতা (১৯৯১), নাভিমূলে ভস্মাধার, কবিতা সংগ্রহ, প্রেমের কবিতা, ধ্বংস্তূপে কবি ও নগর (২০০৯) ইত্যাদি।

কাব্যনাট্যেও রয়েছে সৈয়দ শামসুল হকের প্রচারণা। পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, নুরুলদীনের সারা জীবন, এখানে এখন, গণনায়ক প্রভৃতি তার উল্লেখযোগ্য কাব্যনাট্য। ‘কোনটে বাহে জাগো সবায়’ বহুল উচ্চারিত এই সংলাপটি তার ‘নুরুলদীনের সারা জীবন’ নাটকের।

গল্পের বইয়ের মধ্যে রয়েছে- তাস (১৯৫৪), শীত বিকেল (১৯৫৯), রক্তগোলাপ (১৯৬৪), আনন্দের মৃত্যু (১৯৬৭), প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান (১৯৮২), সৈয়দ শামসুল হকের প্রেমের গল্প (১৯৯০), জলেশ্বরীর গল্পগুলো (১৯৯০), শ্রেষ্ঠ গল্প (১৯৯০) ইত্যাদি।

উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে- এক মহিলার ছবি (১৯৫৯), অনুপম দিন (১৯৬২), সীমানা ছাড়িয়ে (১৯৬৪), নীল দংশন (১৯৮১), স্মৃতিমেধ (১৯৮৬), মৃগয়ায় কালক্ষেপ (১৯৮৬), স্তব্ধতার অনুবাদ (১৯৮৭), এক যুবকের ছায়াপথ (১৯৮৭), স্বপ্ন সংক্রান্ত (১৯৮৯), বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ (১ম খণ্ড ১৯৮৯, ২য় খণ্ড ১৯৯০), বারো দিনের শিশু (১৯৮৯), বনবালা কিছু টাকা ধার নিয়েছিল (১৯৮৯), ত্রাহি (১৯৮৯), তুমি সেই তরবারী (১৯৮৯), কয়েকটি মানুষের সোনালী যৌবন (১৯৮৯), শ্রেষ্ঠ উপন্যাস (১৯৯০), নিষিদ্ধ লোবান (১৯৯০), খেলা রাম খেলে যা (১৯৯১), মেঘ ও মেশিন (১৯৯১), ইহা মানুষ (১৯৯১), মহাশূন্যে পরাণ মাষ্টার, দ্বিতীয় দিনের কাহিনী, বালিকার চন্দ্রযান, আয়না বিবির পালা, কালঘর্ম, দূরত্ব, না যেয়ো না, অন্য এক আলিঙ্গন, এক মুঠো জন্মভূমি, বুকঝিম ভালোবাসা, অচেনা, আলোর জন্য, রাজার সুন্দরী ইত্যাদি।

১৯৫৯ সালে তিনি ‘মাটির পাহাড়’ চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লেখেন। এরপর ‘তোমার আমার’, ‘শীত বিকেল’, ‘সুতরাং’, ‘রাজা এল শহরে’, ‘কাগজের নৌকা’, ‘কাঁচ কাটা হীরে’, ‘পুরস্কার’, ‘ক খ গ ঘ ঙ’, ‘বড় ভাল লোক ছিল’সহ আরও বেশ কিছু চলচ্চিত্রের কাহিনী, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লেখেন। ‘বড় ভাল লোক ছিল’ ও ‘পুরস্কার’ এ দুটি চলচ্চিত্রের জন্যে তিনি শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

অসংখ্য কালজয়ী গানের রচয়িতা সব্যসাচী এই লেখক। ‘এমন মজা হয় না গায়ে সোনার গয়না’, ‘এই যে আকাশ এই যে বাতাস’, ‘তুমি আসবে বলে কাছে ডাকবে বলে’, ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘তোরা দ্যাখ দ্যাখ দ্যাখ রে চাহিয়া’- এসব গান তারই লেখা।

সাহিত্যজীবনে তার রচনার মধ্যে রয়েছে ৫৭টি উপন্যাস, ৬০টি কাব্যগ্রন্থ, ১৪টি গল্পগ্রন্থ, ১০টি নাটকসহ আরো বেশকটি প্রবন্ধ, শিশুসাহিত্য, ইংরেজি বই, স্মৃতিকথা ও মুক্তগ্রন্থ। অনুবাদ করেন কবি হাফিজসহ বিশ্বখ্যাত কবিদের কবিতা এবং শেক্সপিয়ারের নাটক।

সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ একুশে পদক, স্বাধীনতা পদক ছাড়াও আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, পদাবলী কবিতা পুরস্কার, কবিতালাপ পুরস্কার, লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক, জেবুন্নেসা-মাহবুবউল্লাহ স্বর্ণপদক, টেনাশিনাস পদক, মযহারুল ইসলাম কবিতা পুরস্কার, ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার, নাসিরুদ্দিন স্বর্ণপদকসহ আরো বহু পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন।

২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। পরদিন তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় চ্যানেল আই প্রাঙ্গনে। এরপর বাংলা একাডেমী হয়ে মরদেহ নিয়ে আসা হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সকাল ১১টায়। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে সমবেত হন সর্বস্তরের হাজারো মানুষ। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জামে মসজিদে। জানাজার পর সেখান থেকেই হেলিকপ্টারে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় তার জন্মস্থান কুড়িগ্রামে। কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় তার সর্বশেষ জানাজা। এরপর বিকেলে সেখানে তাকে সমাহিত করা হয়।

সূত্র : সংগৃহীত

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM
Translate »