1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ০৭:১৫ অপরাহ্ন

ইতিহাসে অক্টোবর ৮ – ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন মৃত্যুবরণ করেন।

  • সময় শুক্রবার, ৮ অক্টোবর, ২০২১
  • ৮৪২ বার দেখা হয়েছে

গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে আজ বছরের ২৮১ তম (অধিবর্ষে ২৮২ তম) দিন। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা বিশিষ্টজনের জন্ম ও মৃত্যুদিনসহ আরও কিছু তথ্যাবলি।

ঘটনাবলি

১৭৩৫ : ব্যাপক গবেষণার পর পৃথিবীর বিষুব রেখা ও দুই মেরুর ভেতরের দিকে চেপে থাকার বিষয়টি আবিষ্কৃত হয়।
১৯৩২ : রয়্যাল ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্স প্রতিষ্ঠিত হয়।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

জন্ম

১৮২২ : রাদারফোর্ড বি হেইজ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৯তম রাষ্ট্রপতি।
১৮৬২ : ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, বাঙালি সেতার ও সানাই বাদক।
১৮৮৩ : ওটো ভারবুর্গ নোবেলজয়ী জার্মান জীবরসায়নবিদ।
১৮৯২ : ভূপেন্দ্র কুমার দত্ত, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী এবং বিপ্লবী।
১৯১৭ : রডনি পোর্টার, নোবেলজয়ী ব্রিটিশ চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী।
১৯৬৫ : জগলুল হায়দার, আধুনিক বাংলা অণুকাব্য ও বিজ্ঞান ছড়া রচয়িতা।

মৃত্যু

১৮৬৯ : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্দশ রাষ্ট্রপতি ফ্রাংক্‌লিন পিয়ের্স
১৯৩৬ : আধুনিক হিন্দি এবং উর্দু ভাষার লেখক মুন্সি প্রেমচাঁদ
২০১২ : বাংলাদেশি বাউল গায়ক ও সুরকার বিদিত লাল দাস
২০১৪ : ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিন
২০২০ : বিশিষ্ট বাঙালি শিক্ষাবিদ ও সমুদ্রবিজ্ঞানী আনন্দদেব মুখোপাধ্যায়

ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন

আব্দুল মতিন ছিলেন ১৯৫২ সালের বাংলা ভাষা আন্দোলনের অন্যতম ভাষা সৈনিক। সারা বাংলাদশে তিনি ভাষা মতিন নামে পরিচিত লাভ করেন। ২০০১ সালে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক পান।

জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৬ সালের ৩ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের চৌহালি উপজেলার ধুবালীয়া গ্রামে এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে। বাবা আব্দুল জলিল এবং মায়ের নাম আমেনা খাতুন। তিনি ছিলেন পরিবারের প্রথম সন্তান।

১৯৩০ সালে গ্রামের বাড়ি যমুনায় ভেঙে গেলে বাবা আব্দুল জলিল জীবিকার সন্ধানে ভারতের দার্জিলিংয়ে চলে যান। সেখানে জালাপাহারের ক্যান্টনমেন্টে সুপারভাইস স্টাফ হিসেবে চাকরি নেন। ১৯৩২ সালে আব্দুল মতিন শিশু শ্রেণীতে দার্জিলিংয়ের মহারাণী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষা জীবন শুরু করেন। ১৯৩৩ সালে তার মা অ্যাকলেমশিয়া রোগে মারা যান। তখন আব্দুল মতিনের বয়স মাত্র ৮। ১৯৩৬ সালে দার্জিলিং গভর্মেন্ট হাই স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি হন। তিনি ১৯৪৩ সালে এনট্রান্স (মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষা) পরীক্ষায় ৩য় বিভাগ নিয়ে উত্তীর্ণ হন। ১৯৪৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে আব্দুল মতিন ব্রিটিশ আর্মির কমিশন র্যা ঙ্কে ভর্তি পরীক্ষা দেন। দৈহিক আকৃতি, উচ্চতা, আত্মবিশ্বাস আর সাহসিকতার বলে তিনি ফোর্ট উইলিয়াম থেকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কমিশন পান। ১৯৪৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর অব আর্টসে (পাস কোর্স) ভর্তি হন। ১৯৪৭ সালে গ্র্যাজুয়েশন কোর্স শেষ করেন এবং পরে মাস্টার্স করেন ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন বিভাগ থেকে।

১৯৫২ সালে বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রথম যারা দাবি জানিয়েছেলেন; আব্দুল মতিন তাদের অন্যতম। সে বছর ২১ ফেব্রয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের ছাত্রসভায় সভাপতিত্ব করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়কও ছিলেন তিনি। তার সভাপতিত্বে কলাভবনের জনসভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ১৪৪ ধারা ভাঙার। তারই নেতৃত্বে একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনের নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

ভাষা আন্দোলনের পর তিনি ছাত্র ইউনিয়ন গঠনে ভূমিকা রাখেন এবং পরে সংগঠনটির সভাপতি হন। এরপর কমিউনিস্ট আন্দোলনে সক্রিয় হন। মওলানা ভাসানী ন্যাপ গঠন করলে তিনি ১৯৫৭ সালে তাতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে তিনি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং ২০০৬ সালে ওই দল থেকে পদত্যাগ করেন।

আব্দুল মতিনের রচনাবলি

২১ ফেব্রুয়ারি ও ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন প্রসঙ্গে: ঢাকা, ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ শৈলজানা, পাবনা
গণ চীনের উৎপাদন ব্যবস্থা ও দায়িত্ব প্রথা: ১৯৮৫
ভাষা ও একুশের আন্দোলন, ঢাকা ১৯৮৬
ভাষা আন্দোলন কি এবং তাতে কি ছিল, নন্দন প্রকাশন, ঢাকা ফেব্রুয়ারি ১৯৮৯
ভাষা আন্দোলন: ইতিহাস ও তাৎপর্য: আব্দুল মতিন ও আহমদ রফিক, জাতীয় সাহিত্য প্রকাশনী, ঢাকা ১৯৯১
বাঙালী জাতির উৎস সন্ধান ও ভাষা আন্দোলন, বুক পয়েন্ট ও সমাজ চেতনা পাবলিকেশন, ১৯৯৫
জীবন পথের বাঁকে বাঁকে; সাহিত্যিকা, ঢাকা ২০০৪ ইত্যাদি।

পুরস্কার ও সম্মাননা

ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন বিভিন্ন সময়ে নানা পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন। এর মধ্যে-

দৈনিক জনকণ্ঠ গুণীজন ও প্রতিভা সম্মাননা ১৯৯৮ : পুরস্কারস্বরূপ ১ লক্ষ টাকা, প্রতিমাসে অণুদান ৫ হাজার টাকা,
প্রবাসী বাঙালিদের উদ্যোগে আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে সংবর্ধনা, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০০০,
একুশে পদক ২০০১,
বাংলা একাডেমি কর্তৃক ফেলোশিপ প্রদান, ২৮ ডিসেম্বর, ২০০১
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কর্তৃক সম্মাননা স্মারক, ২০০২,
ভাষা সৈনিক সম্মাননা পরিষদ, সিলেট কর্তৃক ৫০ বছর পুর্তি উপলক্ষে সংবর্ধনা প্রদান, ২০০২,
আহমদ শরীফ স্মারক পুরস্কার, ২০০৩,
জাতীয় প্রেস ক্লাব কর্তৃক উন্নয়ন অর্থনীতি স্বর্ণপদক ২০০৪, ১৩ আগস্ট, ২০০৪,
শেরে বাংলা জাতীয় পুরস্কার, ২০০৪
মুক্তিযুদ্ধ গণপরিষদ কর্তৃক সম্মাননা, ১৪ মে, ২০০৫
দৈনিক আমাদের সময় কর্তৃক সম্মাননা, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০০৬,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৪৪তম সমাবর্তন উপলক্ষে একাডেমিক কাউন্সিল কর্তৃক ‘ডক্টর অব ল’জ’ (সম্মানসূচক ডিগ্রি), ২০০৮,
ভাসানী স্মৃতি পুরস্কার, ২০০৮,
একুশে টিভির পক্ষ থেকে আজীবন সম্মাননা,
ভাষা সৈনিক চারণ সাংবাদিক সফিউদ্দিন আহম্মদ স্মারক সম্মাননা, ২০১০,
ঢাকার ৪০০ বছর উদ্‌যাপন উপলক্ষে ঢাকা রত্ন সম্মাননা, ২০১০,
মানবাধিকার ও পরিবেশ সোসাইটি (মাপসাস) কর্তৃক মাপসাস শান্তি পদক, ২০১০,
কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ পুরস্কার, ২০১০,
মহাত্মা গান্ধি পিস অ্যাওয়ার্ড, ২০১০,
দৈনিক কালের কণ্ঠের আজীবন সম্মানা পুরস্কার, ২০১০ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

আব্দুল মতিন ২০১৪ সালের ৮ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। দেশপ্রেম ছাড়াও মানবতার নানা গুণে গুণান্বিত ছিলেন। মৃত্যুর পর তিনি তার চোখ ও দেহ দান করে গেছেন।

সূত্র : সংগৃহীত

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM
Translate »