1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
  2. [email protected] : Emon : Armanul Islam
  3. [email protected] : musa :
শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:০২ অপরাহ্ন

ইতিহাসে অক্টোবর ১২ – কবি, সমাজকর্মী এবং নারীবাদী লেখিকা কামিনী রায় এর জন্মদিন

  • সময় মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর, ২০২১
  • ১৭২ বার দেখা হয়েছে

প্রথিতযশা বাঙালি কবি, সমাজকর্মী এবং নারীবাদী লেখিকা কামিনী রায় এর জন্মদিন

গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে আজ বছরের ২৮৫ তম (অধিবর্ষে ২৮৬ তম) দিন। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা বিশিষ্টজনের জন্ম ও মৃত্যুদিনসহ আরও কিছু তথ্যাবলি।

ঘটনাবলি

১৯৬৪ : তিন রুশ নভোচারী ভ্লাদিমির কোমানভ, কন্সতান্তিন ফিওক্তিস্তভ ও বোসি ইয়োগোরভ নভোযান ভস্তক-২৪ এ মহাশূন্যে পাড়ি দেন। তারা ২৪ ঘণ্টা ১৭ মিনিট মহাশূন্যে ভ্রমণ শেষে ভূপৃষ্ঠে অবতরণ করেন।
১৯৬৮ : ঘানা স্পেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করতে সক্ষম হয়।
১৯৯৯ : টাঙ্গাইলে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি স্থাপন করা হয়।

জন্ম

১৮৬৪ : কামিনী রায়, বাঙালি কবি।
১৮৬৫ : আর্থার হার্ডেন, নোবেলজয়ী ইংরেজ জীবরসায়নবিদ।
১৮৯৬ : ইউজিনিও মন্তাল, নোবেলজয়ী ইতালীয় কবি ও গল্পকার।
১৯০২ : উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, পর্বতপ্রেমিক, অক্লান্ত পরিব্রাজক ও অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভ্রমণ কাহিনিকার।
১৯২৪ : কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী।
১৯৬০ : হ্যাপী আখন্দ, বাংলাদেশি পপ রক গায়ক।

মৃত্যু

১৯৮১ : ভারতের পদার্থবিদ ও রসায়নবিদ ড. গুরুপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
১৯৯৭ : পর্বতপ্রেমিক, অক্লান্ত পরিব্রাজক ও অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভ্রমণ কাহিনিকার উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়

দিবস

বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস ৷

কামিনী রায়

কামিনী রায় ছিলেন প্রথিতযশা বাঙালি কবি, সমাজকর্মী এবং নারীবাদী লেখিকা। তিনি তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের প্রথম মহিলা স্নাতক ডিগ্রীধারী ব্যক্তিত্ব। তিনি একসময় ‘জনৈক বঙ্গমহিলা’ ছদ্মনামে লিখতেন। তার রচিত ‘সুখ’ কবিতার কয়েকটি লাইন মানুষের মুখে মুখে-

‘আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে
আসে নাই কেহ অবনী পরে
সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।

জন্মগ্রহণ করেন ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে। বাবা চন্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।

কলকাতার বেথুন ফিমেল স্কুল থেকে এন্ট্রান্স, বেথুন কলেজ থেকে এফএ এবং সংস্কৃতে অনার্সসহ বিএ পাস করেন। শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবনের শুরু।

কামিনী রায় ছোটবেলা থেকেই ছিলেন মেধাবী, ভাবুক ও কল্পনাপ্রবণ। মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন। প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘আলো ও ছায়া’ প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন। অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো- নির্মাল্য, পৌরাণিকী, গুঞ্জন (শিশুকাব্য), ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ), মাল্য ও নির্মাল্য, অশোকসঙ্গীত (সনেট), অম্বা (নাটক), বালিকা শিক্ষার আদর্শ, ঠাকুরমার চিঠি, দীপ ও ধূপ, জীবনপথে (সনেট) ইত্যাদি।

১৯০৯ সালে স্বামীর মৃত্যু তার ব্যক্তিজীবনের মতো সাহিত্যিক জীবনকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তবে তার কবিতায় রবীন্দ্রনাথের প্রভাব সর্বাধিক। তিনি যেহেতু সংস্কৃতে পন্ডিত ছিলেন, সেহেতু সংস্কৃত সাহিত্যের বিষয় অবলম্বনে রচিত তার কবিতাগুলো অপেক্ষাকৃত উৎকৃষ্ট মানের। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সংস্কৃত সাহিত্য দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।

তার কবিতা পড়ে বিমোহিত হন সিবিলিয়ান কেদারনাথ রায় এবং তার সাথে বিয়ে হয়। ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে কামিনী রায়ের স্বামীর অপঘাতে মৃত্যু ঘটেছিল। সেই শোক ও দুঃখ তার ব্যক্তিগত জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে, যা তার কবিতায় প্রকাশ পায়।

সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি তিনি সাংস্কৃতিক ও জনহিতকর, বিশেষত নারীকল্যাণমূলক কাজেও আত্মনিয়োগ করেন। তিনি নারীশ্রমিক তদন্ত কমিশনের অন্যতম সদস্য (১৯২২-২৩), বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনে সাহিত্য শাখার সভানেত্রী (১৯৩০) এবং বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ-এর সহসভাপতি (১৯৩২-৩৩) ছিলেন।

কামিনী রায় সবসময় অন্য সাহিত্যিকদের উৎসাহ দিতেন। ১৯২৩ খ্রীস্টাব্দে তিনি বরিশাল সফরের সময় কবি সুফিয়া কামালকে লেখালেখিতে মনোনিবেশ করতে বলেন। বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।

কামিনী রায় জীবনের শেষ ভাগে হাজারীবাগে বাস করেছেন। ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

 

সূত্র: সংগৃহীত

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM
Translate »