1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ১২:০৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
ওমর খৈয়াম : সাহিত্যিক, দার্শনিক, জ্যোতির্বিদ আর নিখাদ আল্লাহপ্রেমী যে মানুষটিকে পাশ্চাত্য বানিয়েছে মদারু! আধুনিক বিশ্ব এখন ঝুঁকছে ডিজিটাল ডায়েটিংয়ের দিকে : আপনার করণীয় মানুষ কখন হেরে যায় : ইবনে সিনার পর্যবেক্ষণ সন্তান কখন কথা শুনবে? আসুন জেনে নেই মিরপুর কলেজের এবছরের অর্জন গুলো A town hall meeting of the RMG Sustainability Council (RSC) was held at a BGMEA Complex in Dhaka to exchange views on various issues related to RSC নব নবগঠিত UPVAC-বাংলাদেশ কমান্ড কমিটির দায়িত্বভার গ্রহন উপলক্ষে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত UPVAC-বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এর বিবৃতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-বাড়িতে মারধর, চুল টানা, কান মলাসহ শিশুদের শাস্তি বন্ধ নেই কেন আপনি সফট এবং এনার্জি ড্রিংকস খাবেন না

এক হাতেই হাজার মায়ের হাসি

  • সময় মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর, ২০২১
  • ৯৫৯ বার দেখা হয়েছে

নিজের ভেতরে একটা ক্ষত ছিল। তাগিদও ছিল। মায়েদের মুখের হাসি যেন অটুট থাকে। সেই ভাবনা থেকেই স্বাভাবিক নিরাপদ প্রসবের কাজ করতেন। ২০১১ সালে তার কাজের ক্ষেত্রটিতেও শুরু হয় এ কার্যক্রম। শুরুর বছরেই কাজের পুরস্কার। জাগে নতুন উদ্যম, সাহস। মায়েদের হাসিমুখ দেখার অন্য রকম সেই আনন্দে পেরিয়ে গেছে ১০টি বছর।

এই সময়ে একজন আছিয়া বেগম হাজারো মায়ের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর পূর্ণ হয়েছে তাঁর হাতে এক হাজার মায়ের স্বাভাবিক নিরাপদ প্রসব। আছিয়া বেগম (৪৭) মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের সাধুহাটি কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের একজন স্বাস্থ্য সহকারী। প্রথম আলোতে তার সম্পর্কে লিখেছেন আকমল হোসেন।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

আছিয়া বেগমের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৯১ সালে তিনি এসএসসি পাস করেন। তাদের ৯ ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ভাইটির জন্মের এক ঘণ্টা পর মা মারা যান। মৃত্যুর কারণ বুঝতে পারছিলেন না। শুধু মনে আছে আঁতুড়ঘরে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ। এ মৃত্যু তার মনে স্থায়ী ক্ষত হয়েই ছিল।

এ ক্ষতটাতে প্রলেপ দিতে গিয়েই বোঝেন, মায়ের মৃত্যু ছিল প্রসব–পরবর্তী অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে। মায়ের মৃত্যুর এ ক্ষত মন থেকে মুছতে পারেননি। স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত কাজের ফাঁকে স্বাভাবিক নিরাপদ প্রসব করানো শুরু করেন তিনি। এর জন্যে কোনো প্রশিক্ষণ ছিল না। মায়ের মৃত্যুর ছবি ছিল মনে। চাইতেন ভুল ব্যবস্থাপনায় কোনো মায়েরই যেন মৃত্যু না হয়। কাজ করতে করতেই নিরাপদ প্রসবে দক্ষ হয়ে উঠলেন। আশপাশে নামডাক ছড়াল।

আত্মবিশ্বাস বাড়তে থাকে। এর মধ্যে ২০১১ সাল থেকে সাধুহাটি কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাভাবিক নিরাপদ প্রসবের কার্যক্রম শুরু হয়। সে বছরই ১৩৫ জন অন্তঃসত্ত্বার নিরাপদ প্রসব করান তিনি। দেশের কোনো কমিউনিটি ক্লিনিকে এত বেশিসংখ্যক নিরাপদ প্রসবের জন্যে পুরস্কার পেলেন। ২০১২ সালের ২৮ মে সেরা স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন।

২০১৪ সালে স্বাভাবিক প্রসবের ওপর ছয় মাসের সিএসবিএর (কমিউনিটি স্কিল বার্থ অ্যাটেনডেন্ট) প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ তাকে আরও সাহসী করে। তার কাজ আর নির্দিষ্ট স্থানে থাকেনি। নিরাপদে সন্তান জন্ম দিতে নানা জায়গা থেকে মায়েরা আসতে থাকেন। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনুমুখ ও খলিলপুর ইউনিয়ন ছাড়াও পাশের হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রচুর মা আসতে থাকেন কমিউনিটি ক্লিনিকটিতে।

আছিয়া বেগম বলেন, ‘অনেকের বাবার বাড়ি, আত্মীয়স্বজনের বাড়ি আমাদের এলাকায়। আমার নাম শুনে সন্তান জন্মের আগে ডেলিভারির সুবিধা নিতে তারা এখানে চলে আসেন। অনেকে আছেন যার সব কটি বাচ্চারই প্রসব হয়েছে আমার হাতে।’

এ ক্ষেত্রে সময়-অসময় বলতে কিছু নেই। অনেকের কাছে তার মুঠোফোন নম্বর আছে। রাত দুইটা-তিনটায় ফোন দিলেও ক্লিনিকে চলে আসেন তিনি। বেশির ভাগ প্রসবই হয় রাতে। কমিউনিটি ক্লিনিকে যেটুকু সুবিধা আছে, তাই দিয়ে প্রসবের ব্যবস্থা করেন। আগে বিদ্যুৎ ছিল না। মোমবাতি জ্বালিয়ে কাজ করেছেন। এখন নিরাপদ প্রসবের জন্যে নতুন একটি ভবন হয়েছে। বিদ্যুতের সংযোগ ও পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা হয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় এ কমিউনিটি ক্লিনিকে গত ১৭ সেপ্টেম্বর এক হাজারতম শিশুটির জন্ম হয় তার হাতে।

এক হাজারের মাইলফলক স্পর্শ করা সেই মা হচ্ছেন ফারজানা বেগম। তার বাড়ি হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ফরাশতপুরে। ৭ অক্টোবর পর্যন্ত এ সংখ্যা পৌঁছে ১ হাজার ১৬ জনে।
আছিয়া খাতুন বলেন, ‘অনেক আগেই এক হাজার হতো। কিন্তু সরকারের অর্পিত দায়িত্ব পালন শেষে প্রসবের কাজটি করতে হয়। বেশির ভাগ সময় রাতেই প্রসবের কাজটি করি।’ তিনি বলেন, ‘যখন–তখন রোগী আসায় বিরক্ত হই না। বরং স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের পর মানুষের আনন্দ দেখে খুশি হই। মানুষ এত ভালো আচরণ করে।

অনেকে মিষ্টি, অনেকে ফল নিয়ে আসে। অনেকে ২০ টাকা হাতে ধরিয়ে বলে আপা কিছু খাবেন। মানুষের এই আবেগটুকু আমাকে অনুপ্রাণিত করে। ইচ্ছা করে রাত–দিন মানুষের সেবা দিই। কারও কাছে আমার কোনো চাওয়া–পাওয়া নেই। বরং অনেক রোগী আছে, যাদের বাড়ি ফেরার রিকশা ভাড়াও আমাকে দিতে হয়।’

তার বাবার বাড়ি, স্বামীর বাড়ি দুটোই সাধুহাটিতে। স্বামী মো. মোস্তফা আহমদ ২০০৪ সালে মারা গেছেন। একমাত্র মেয়ে বিএসসি নার্সিংয়ে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছে।

আছিয়া বেগম আরও বলেন, তার এ কাজে বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সহযোগিতা করেন। অন্তঃসত্ত্বা নারীদের প্রতি আছিয়া বেগমের একটাই পরামর্শ, তারা যেন সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে প্রসব করান।

সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা চিকিৎসক আবেদা বেগম বলেন, ‘আছিয়া বেগম যত্ন সহকারে রুটিন কাজের পাশাপাশি নিরাপদ প্রসবের কাজটি করেন। মূলত নিজের ইচ্ছা থেকেই এক হাজারের মাইলফলকে পৌঁছেছেন। প্রসবের সময় মানুষ অসহায় থাকে। অনেক দূর থেকে হাসপাতালে আসতে হয়।

এখানে বিনা মূল্যে সেবাটা পাচ্ছে। তার এই কাজ প্রশংসনীয়। আমরাও উচ্ছ্বসিত। তাকে আমরা অফিশিয়ালি শুভেচ্ছা জানিয়েছি। তার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে জাইকার অর্থায়নে একটি ভবন নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। এতে অনেকে উদ্বুদ্ধ হবে। আমরা আরও কিছু কেন্দ্রে এ রকম নিরাপদ প্রসব কার্যক্রম শুরু করতে চাইছি। মানুষ উপকৃত হবে।’

সূত্র : প্রথম আলো (১০ অক্টোবর, ২০২১)

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM
Translate »