1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
  2. [email protected] : Emon : Armanul Islam
  3. [email protected] : musa :
শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন

ইতিহাসে অক্টোবর ১৫ – বিজ্ঞানী ও একাদশ রাষ্ট্রপতি ড. এ পি জে আব্দুল কালাম জন্মগ্রহন করেন

  • সময় শুক্রবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২১
  • ৯৫ বার দেখা হয়েছে

ভারতীয় বিজ্ঞানী ও একাদশ রাষ্ট্রপতি ড. এ পি জে আব্দুল কালাম জন্মগ্রহন করেন

গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে আজ বছরের ২৮৮তম (অধিবর্ষে ২৮৯তম) দিন। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা বিশিষ্টজনের জন্ম ও মৃত্যুদিনসহ আরও কিছু তথ্যাবলি।

ঘটনাবলি

১৫৮২ : ইতালি ও স্পেন গ্রেগরীয় ক্যালেন্ডার বা খ্রিষ্ট্রীয় সাল প্রবর্তিত হয়। এর ফলে ৫ অক্টোবর ১৫ অক্টোবর হয়ে যায়।
১৯৯৩ : নেলসন ম্যান্ডেলা এবং ডি ক্লার্ক উভয়ে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান।
২০০৮ : সুইডেনের স্টকহোমে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মোর্চা পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ ফর হ্যান্ডওয়াশিং সর্বপ্রথম হাত ধোয়া দিবস পালন করে।

জন্ম

১৮৯২ : শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, সাহিত্য সমালোচক।
১৯২০ : মারিও পুজো, মার্কিন কথাসাহিত্যিক।
১৯২৩ : ইতালো কালভিনো, ইতালীয় লেখক।
১৯২৬ : মিশেল ফুকো, ফরাসি সমালোচক ও প্রাবন্ধিক।
১৯৩১ : ড. এ পি জে আব্দুল কালাম, ভারতীয় বিজ্ঞানী ও একাদশ রাষ্ট্রপতি।
১৯৪০ : পিটার সি. ডোহার্টি, নোবেলবিজয়ী অস্ট্রেলিয়ান সার্জন।
১৯৪৪ : ডেভিড ট্রিম্বলে, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আইরিশ আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ।
১৯৪৮ : সিদ্ধার্থ ঘোষ, বাঙালি কল্পবিজ্ঞান লেখক।

মৃত্যু

১৫৬৪ : বেলজিয়ান বংশোদ্ভূত গ্রিক শারীরস্থানবিদ, চিকিৎসক ও লেখক আন্দ্রে ভেসালিআস
১৯১৮ : ভারতীয় ধর্মগুরু, যোগী ও ফকির শিরডি সাই বাবা
২০০০ : নোবেলবিজয়ী পোলিশ বংশোদ্ভূত আমেরিকান প্রাণরসায়নী কনরাড এমিল ব্লচ

দিবস

বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস।
বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস।
বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস।
জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডি দিবস (বাংলাদেশ)।
ভারতের ‘মিসাইলম্যান’ খ্যাত সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল কালামের জন্মদিন উপলক্ষে সদ্য ঘোষিত ‘বিশ্ব ছাত্র দিবস’।

এপিজে আবদুল কালাম

পুরো নাম আভুল পকির জয়নুলাবেদীন আব্দুল কালাম। এপিজে আবদুল কালাম নামেই পরিচিত। ছিলেন ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের একাদশ রাষ্ট্রপতি।

একজন বিজ্ঞানী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে ঘটনাচক্রে গণপ্রজাতন্ত্রী ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও মহাকাশযানবাহী রকেট উন্নয়নের কাজে অবদানের জন্যে তাকে ‘ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র মানব’ বা ‘মিসাইল ম্যান অফ ইন্ডিয়া’ বলা হয়।

জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩১ সালের ১৫ অক্টোবর ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির (অধুনা ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের) রামেশ্বরমের এক তামিল মুসলমান পরিবারে। বাবা জয়নুল-আবেদিন ছিলেন একজন নৌকামালিক এবং মা অশিয়াম্মা ছিলেন গৃহবধূ। তার বাবা রামেশ্বরম ও অধুনা-বিলুপ্ত ধনুষ্কোডির মধ্যে হিন্দু তীর্থযাত্রীদের নৌকায় পারাপার করাতেন।

কালামের পরিবার ছিল অত্যন্ত গরিব। অল্প বয়স থেকেই পরিবারের ভরণপোষণের জন্যে তাকে কাজ করা শুরু করতে হয়। বিদ্যালয়শিক্ষা সমাপ্ত করার পর বাবাকে সাহায্য করার জন্যে তাকে সংবাদপত্রে লেখালেখি শুরু করতে হয়। বিদ্যালয়ে তিনি ছিলেন সাধারণ মানের ছাত্র। কিন্তু তিনি ছিলেন বুদ্ধিদীপ্ত ও কঠোর পরিশ্রমী ছাত্র। তার শিক্ষাগ্রহণের তীব্র বাসনা ছিল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তিনি পড়াশোনা করতেন ও অঙ্ক কষতেন।

পদার্থবিদ্যা বিষয়ে সেন্ট জোসেফ’স কলেজ থেকে এবং বিমান প্রযুক্তিবিদ্যা (এরোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং) বিষয় নিয়ে মাদ্রাজ ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি (এম আই টি) থেকে পড়াশোনা করেন। এরপর চল্লিশ বছর তিনি প্রধানত রক্ষা অনুসন্ধান ও বিকাশ সংগঠন (ডিআরডিও) ও ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থায় (ইসরো) বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান প্রশাসক হিসেবে কাজ করেন। ভারতের অসামরিক মহাকাশ কর্মসূচি ও সামরিক সুসংহত নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচির সঙ্গেও তিনি অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত ছিলেন।

২০০২ সালে কালাম তৎকালীন শাসকদল ভারতীয় জনতা পার্টি ও বিরোধী দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সমর্থনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। পাঁচ বছর এই পদে আসীন থাকার পর তিনি শিক্ষাবিদ, লেখক ও জনসেবকের সাধারণ জীবন বেছে নেন। ভারতের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ভারতরত্নসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সম্মান ও পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি।

রামনাথপুরম স্কোয়ার্টজ ম্যাট্রিকুলেশন স্কুল থেকে শিক্ষা সম্পূর্ণ করার পর কালাম তিরুচিরাপল্লির সেন্ট জোসেফ’স কলেজে ভর্তি হন। ১৯৫৪ সালে সেই কলেজ থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক হন। ১৯৫৫ সালে তিনি মাদ্রাজে (অধুনা চেন্নাই) চলে যান। সেখানকার মাদ্রাজ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে তিনি বিমানপ্রযুক্তি শিক্ষা করেন। তিনি অল্পের জন্যে যোদ্ধা পাইলট হওয়ার সুযোগ হারান। ওই পরীক্ষায় ভারতীয় বিমানবাহিনীর আটজন কর্মীর দরকার ছিল। তিনি পরীক্ষায় নবম হয়েছিলেন।

১৯৬০ সালে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার এরোনটিক্যাল ডেভলপমেন্ট এস্টব্লিশমেন্টে একজন বিজ্ঞানী হিসেবে যোগদান করেন। ওই প্রতিষ্ঠানে তিনি একটি ছোট হোভারক্রাফটের নকশা তৈরি করে তার কর্মজীবন শুরু করেন। কালাম ভারতীয় জাতীয় মহাকাশ গবেষণা কমিটিতে প্রখ্যাত মহাকাশ বিজ্ঞানী ড. বিক্রম সারাভাইয়ের অধীনে কাজ করতেন। ১৯৬৯ সালে আব্দুল কালাম ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থায় বদলি হন।

সেখানে তিনি ভারতের কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণকারী যান (এসএলভি-III)-এর প্রকল্প পরিচালক ছিলেন; যা ১৯৮০ সালের জুলাইয়ে ‘রোহিণী’ কৃত্রিম উপগ্রহকে তার কক্ষপথে স্থাপন করে। আবদুল কালাম ১৯৬৫ সালে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থায় স্বাধীনভাবে একটি বর্ধমান রকেট প্রকল্পের কাজ শুরু করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি সরকারে অনুমোদন লাভ করেন এবং আরও কয়েকজন প্রকৌশলীকে নিয়ে এই প্রোগ্রামের ব্যাপ্তি ঘটান।

১৯৬৩-৬৪ সালে নাসার ল্যাংলি রিসার্চ সেন্টার, গোডার্ড স্পেশ ফ্লাইট সেন্টার এবং ওয়ালোপ্স ফ্লাইট ফেসিলিটি পরিদর্শন করেন। ১৯৭০ থেকে ১৯৯০ সালের মাঝে পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (পিএসএলভি) এবং এসএলভি-III গড়ার চেষ্টা করেন। তিনি এই কাজে সফল হয়েছিলেন।

২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ জুলাই মেঘালয়ের শিলং শহরে অবস্থিত ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট নামক প্রতিষ্ঠানে বসবাসযোগ্য পৃথিবী বিষয়ে বক্তব্য রাখার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আবদুল কালামের মৃতদেহ ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে শিলং থেকে গুয়াহাটি নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে একটি সি-১৩০ হারকিউলিস বিমানে নতুন দিল্লির পালাম বিমান ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয়। এরপর জাতীয় পতাকায় ঢেকে তার দিল্লির বাসস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। ভারত সরকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি কালামের মৃত্যুতে তার সম্মানে সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা করা হয়।

একাধারে বিজ্ঞানী, লেখক ও সমাজচিন্তক এই মানুষটি অসংখ্য মহামূল্যবান বাণী রেখে গেছেন। তার মধ্যে কয়েকটি তুলে ধরা হলো-

১. একটি ভালো বই একশ ভালো বন্ধুর সমান, কিন্তু একজন ভালো বন্ধু একটি লাইব্রেরির সমান।
২. সফলতার গল্প পড়ো না, কারণ তা থেকে তুমি শুধু গল্পটাই পাবে। ব্যর্থতার গল্প পড়ো, তাহলে সফল হওয়ার কিছু উপায় পাবে।
৩. স্বপ্ন পূরণ না হওয়া পর্যন্ত স্বপ্ন দেখে যাও। স্বপ্ন সেটা নয় যা তুমি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখো, স্বপ্ন হলো সেটাই যা তোমাকে ঘুমাতে দেয় না।
৪. মানুষ তার ভবিষ্যত পরিবর্তন করতে পারে না, কিন্তু অভ্যাস পরিবর্তন করতে পারে। অভ্যাসই মানুষের ভবিষ্যত পরিবর্তন করে দেয়।
৫. তুমি যদি সূর্যের মতো আলো ছড়াতে চাও, তাহলে আগে সূর্যের মতো পুড়তে শেখো।
৬. জাতির সবচেয়ে ভালো মেধা ক্লাসরুমের শেষ বেঞ্চ থেকে পাওয়া যেতে পারে।
৭. ছাত্রজীবনে আমি বিমানের পাইলট হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণে ব্যর্থ হয়েছি, হয়ে গেছি রকেট বিজ্ঞানী।
৮. জীবন ও সময় পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। জীবন শেখায় সময়কে ভালোভাবে ব্যবহার করতে আর সময় শেখায় জীবনের মূল্য দিতে।
৯. কঠিন কাজে আনন্দ বেশি পাওয়া যায়। তাই সফলতার আনন্দ পাওয়ার জন্যে মানুষের কাজ কঠিন হওয়া উচিত।
১০. প্রথম সাফল্যের পর বসে থেকো না। কারণ দ্বিতীয়বার যখন তুমি ব্যর্থ হবে তখন অনেকেই বলবে প্রথমটিতে শুধু ভাগ্যের জোরে সফল হয়েছিলে।
১১. যারা মন থেকে কাজ করে না, তারা আসলে কিছুই পায় না। আর পেলেও সেটা হয় অর্ধেক হৃদয়ের সফলতা। তাতে সব সময়ই একরকম তিক্ততা থেকে যায়।
১২. তরুণ প্রজন্মের কাছে আমার বার্তা হলো- তাদের ভিন্নভাবে চিন্তা করবার সাহস থাকতে হবে। মনের ভেতর আবিষ্কারের তাড়না থাকতে হবে। নিজের সমস্যা নিজে মেটাবার মানসিকতা থাকতে হবে।
১৩. বৃষ্টি শুরু হলে সব পাখিই কোথাও না কোথাও আশ্রয় খোঁজে। কিন্তু ঈগল মেঘের ওপর দিয়ে উড়ে বৃষ্টিকে এড়িয়ে যায়।
১৪. আমি সুপুরুষ নই। কিন্তু যখন কেউ বিপদে পড়েন আমি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিই। সৌন্দর্য থাকে মানুষের মনে, চেহারায় নয়।
১৫. কাউকে হারিয়ে দেয়াটা খুব সহজ, কিন্তু কঠিন হলো কারো মন জয় করা।
১৬. তুমি যদি তোমার কাজকে স্যালুট করো, দেখো তোমাকে আর কাউকে স্যালুট করতে হবে না। কিন্তু তুমি যদি তোমার কাজকে অসম্মান করো, অমর্যাদা কর, ফাঁকি দাও, তাহলে তোমার সবাইকে স্যালুট করতে হবে।
১৭. প্রতিদিন সকালে এই পাঁচটা লাইন বলো: ১. আমি সেরা ২. আমি করতে পারি ৩. সৃষ্টিকর্তা সব সময় আমার সঙ্গে আছে ৪. আমি জয়ী, ৫. আজ দিনটা আমার।
১৮. তিনজনই পারেন একটি দেশ বা জাতিকে বদলাতে। তারা হলেন, বাবা, মা ও শিক্ষক।
১৯. জীবনে সমস্যার প্রয়োজন আছে। সমস্যা আছে বলেই সাফল্যে এতো আনন্দ।
২০. ফেল করে হতাশ হয়ো না। ইংরেজি শব্দ ফেল ‘Fail’ মানে ‘First Attempt in Learning’ অর্থাৎ ‘শেখার প্রথম ধাপ’। বিফলতাই তোমাকে সফল হবার রাস্তা দেখিয়ে দেবে।
২১. সমাপ্তি মানেই শেষ নয়। ‘END’ শব্দটির মানে হচ্ছে ‘Effort Never Dies’ অর্থাৎ ‘প্রচেষ্টার মৃত্যু নেই’।
২২. উপরে তাকিয়ে আকাশটাকে দেখো। তুমি একা নও, এই মহাবিশ্ব তোমার বন্ধুর মতোই।
২৩. কোনো একটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাচ্ছো না! চিন্তিত করো না- ‘NO’ শব্দের মানে হচ্ছে ‘Next Opportunity’ অর্থাৎ ‘পরবর্তী সুযোগ’।
২৪. ২২. যে হৃদয় দিয়ে কাজ করে না, শূন্যতা ছাড়া সে কিছুই অর্জন করতে পারে না।
২৫. স্বপ্ন, স্বপ্ন, স্বপ্ন। স্বপ্ন দেখে যেতে হবে। স্বপ্ন না দেখলে কাজ করা যায় না।

 

সূত্র: সংগৃহীত

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM