1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
  2. [email protected] : Emon : Armanul Islam
  3. [email protected] : musa :
শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন

নবীজী (স) সবচেয়ে বেশি নিতেন মুখের যত্ন!

  • সময় শনিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২১
  • ৭৩ বার দেখা হয়েছে

আমরা আসলে নবীজী সম্পর্কে ধারণা করি যে, তিনি আমাদের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে, অনেক অনেক অনেক দূরে। আমাদের জীবনের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নাই।

আমরা আমাদের মতন চলব। আর মাঝে মাঝে তার প্রতি দরুদ সালাম পাঠাব। ব্যস! হয়ে গেল।

১৪শ বছর আগেই তিনি ছিলেন অর্গানিক…

আসলে আমাদের জীবনটাকে সুন্দর করার জন্যেই তিনি তার নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন।

ধরুন, নবীজী (স) দেহের যত্ন কীভাবে নিতেন?

উনি সবচেয়ে বেশি নিতেন মুখের যত্ন। কারণ যা-কিছু আপনি খাচ্ছেন, এই মুখ দিয়ে খাচ্ছেন। মুখে যদি জীবাণু থাকে তাহলে আপনার খাবারের সাথে ঐ জীবাণুটা যাবে।

এবং উনি দেখেন কত মডার্ন ছিলেন! এখন সবচেয়ে মানে লেটেস্ট ট্রেন্ড কী? যে সবকিছুর মধ্যে অর্গানিক হতে হবে। উনি তো অর্গানিক ছিলেন সেই ১৪শ বছর আগে।

উনি দাঁত ব্রাশ করতেন কী দিয়ে? নাইলন দিয়ে না, প্লাস্টিক দিয়ে না, অর্গানিক।

খাবার গ্রহণ করার পর তিনি কুলি করতেন…

এবং উনি শোয়ার সময় ওনার কাছে মেসওয়াক রাখতেন।

সকালবেলা উঠে প্রথমে কাজ করতেন মেসওয়াক করা। তারপরে ওজু করা।

উম্মতের কষ্ট হবে এইজন্যে তা না হলে বলতেন যে প্রত্যেক নামাজের আগে কি করো! মেসওয়াক করে ওজু করার বিধান আমি দিতাম। কিন্তু তোমাদের কষ্ট হবে এজন্যে দিচ্ছি না, কিন্তু উনি নিজে করতেন।

কেন? মুখটা পরিষ্কার থাকবে। যে-কোনো খাবার গ্রহণ করতেন, খাবার গ্রহণ করার পরে তিনি কুলি করতেন।

কেন? যাতে কোনো খাদ্যকণা লেগে না থাকে। ওখান থেকে যাতে কোনো ব্যাকটেরিয়া তৈরি না হয়।

শেষ রোগ না হওয়া পর্যন্ত ছিল টোটাল ফিজিক্যাল ফিটনেস!

আপনি যদি হাদীস দেখেন, হাদীসের একটা বড় অংশ হচ্ছে শুধু শুদ্ধাচার এবং শরীরের যত্ন কীভাবে নিতে হবে, দেহের যত্ন কীভাবে নিতে হবে।

এবং এই যে আমরা এখন বঙ্গাসনের কথা বলছি। মসজিদে নববীতে উনি ঐভাবে বসতেন। ধ্যানেও ঐভাবে বসতেন। এবং যখন লোকজন আসত তখন ঐভাবেও বসতেন, আবার জাজেন যেটা মানে অর্ধ বজ্রাসন, নামাজে যেভাবে বসা হয়, সেভাবে বসতেন।

মৃত্যুর আগে শেষ রোগ না হওয়া পর্যন্ত টোটাল ফিজিক্যাল ফিটনেস নিয়ে তিনি কাটিয়েছেন।

অলৌকিকত্ব নয় নবীজীর (স) শিক্ষা কীভাবে আপনি দেহ-মন-আত্মাকে ফিট রাখতে পারেন!

খন্দকের সময় কী করেছেন তিনি? যে পাথর অন্যরা ভাঙতে পারে না, সে পাথর তিনি ভেঙেছেন। অর্থাৎ তার ফিজিক্যাল ফিটনেস কতটা ছিল!

বদরে যখন যাত্রা করছে মানে তিনজন সওয়ারির জন্যে একটা উট! পালাক্রমে তিনজন। নবীজীও যে উটে উঠছেন, তাতে আরও দুজন সওয়ারি।

তো একজন হাঁটবে। নবীজীর যখন হাঁটার পালা হলো তখন অন্য দুজন বললেন যে, ইয়া রসুলুল্লাহ! আপনি আরাম করেন।

তিনি বললেন যে, কেন? তোমরা কি নিজেদেরকে আমার চেয়ে ফিট মনে করো?

যখন মসজিদে নববী তৈরি হচ্ছে অন্যদের সাথে তিনিও কাঁচা মাটির ইট বহন করেছেন।

কীভাবে? এই ফিজিক্যাল ফিটনেসের জন্যেই।

নবীজীর (স) শিক্ষা মানে অলৌকিকত্ব নয়। ওনার শিক্ষা হচ্ছে- আপনি দেহ-মন-আত্মাকে কীভাবে ফিট রাখতে পারেন! তার টোটাল শিক্ষা তা-ই।

নবীজী (স) ছিলেন লিডার কারণ…

উনি যেভাবে তার জীবন অতিবাহিত করেছেন, জীবনাদর্শ রেখে গেছেন উনি সে কথাগুলোই আমাদেরকে বলে গেছেন।

লিডার তিনিই, যিনি পথ জানেন। যিনি নিজে পথে চলেন এবং অন্যকে পথ দেখান। কারণ অন্যকে পথ না দেখালে তিনি লিডার হতে পারবেন না।

এক হচ্ছে যে, নিজে আমি পথ জানি, আমি নিজে একা একা চললাম।

তো তিনি একা। তিনি কখনো লিডার নন। তিনি একা ভালো থাকতে পারেন। কিন্তু তিনি কাউকে লিড করতে পারবেন না।

জানতে হবে, মানতে হবে এবং চলতে হবে এবং পথ দেখাতে হবে।

নবীজীর (স) সুন্নত আদায় করার জন্যে করুন- বঙ্গাসন!

এবং এই যে বঙ্গাসনের কথা আমরা বলছি, এটা প্রাকটিস করবেন। কারণ নবীজী এ আসনে বসতেন। যেহেতু নবীজী এ আসনে বসতেন, তো এই আসন আপনি যখন করছেন তখন কী হচ্ছে? আপনি সুন্নত আদায় করছেন, সুন্নতের সওয়াব পাচ্ছেন।

এবং আরবিতে এই আসনটাকে বলা হয় ‘কারফাসা’। আমরা বাংলাতে এটাকে বলছি বঙ্গাসন।

অবাক লাগছে?

তো আসলে আমরা জানি না তো। আমাদের সমস্যা হচ্ছে ঐখানে। যে আমরা যারা ভালবাসি তারাও জানি না তাকে, আর যারা অপপ্রচার করি তারাও জানি না।

[প্রজ্ঞা জালালি, ০৪ নভেম্বর, ২০২০]

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM