1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ০৫:১৫ অপরাহ্ন

ইতিহাসে অক্টোবর ২১ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলমান ছাত্রী ও ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ফজিলতুন্নেসা মৃত্যুবরণ করেন।

  • সময় বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর, ২০২১
  • ১১৪১ বার দেখা হয়েছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলমান ছাত্রী ও ঢাকা ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ফজিলতুন্নেসা মৃত্যুবরণ করেন।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে আজ বছরের ২৯৪তম (অধিবর্ষে ২৯৫তম) দিন। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা বিশিষ্টজনের জন্ম ও মৃত্যুদিনসহ আরও কিছু তথ্যাবলি।

ঘটনাবলি

১৯৪৩ : সুভাষচন্দ্র বসু সিঙ্গাপুরে আজাদ হিন্দ সরকার প্রতিষ্ঠার কথা ঘোষণা করেন।
১৯৮৪ : বাংলাদেশে এসিড নিক্ষেপের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নির্ধারণ করা হয়।

জন্ম

১৭৭২ : স্যামুয়েল টেইলর কোলরিজ, ইংরেজ কবি, দার্শনিক এবং সমালোচক।
১৮৩৩ : আলফ্রেড নোবেল, একজন সুয়েডীয় রসায়নবিদ, প্রকৌশলী, উদ্ভাবক এবং অস্ত্র নির্মাতা।
১৮৪৯ : রাজকৃষ্ণ রায়, বিশিষ্ট নাট্যকার ও ঔপন্যাসিক।
১৯০০ : লীলা নাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী।
১৯২৮ : শঙ্করীপ্রসাদ বসু, ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক, গবেষক।

মৃত্যু

১৯৭৬ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলমান ছাত্রী ও ঢাকা ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ফজিলতুন্নেসা
১৯৯০ : ভারতীয় দার্শনিক, যোগী, গ্রন্থকার, সামাজিক বিপ্লবী, কবি, সঙ্গীতকার, ভাষাবিদ, প্রত্নতত্ত্ববিদ, ঐতিহাসিক এবং বিজ্ঞানী প্রভাতরঞ্জন সরকার

ফজিলতুন্নেসা

ফজিলতুন্নেসা বা ফজিলতুন্নেসা জোহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলমান ছাত্রী ও ঢাকা ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি দেশের প্রথম মুসলিম নারী অধ্যক্ষ। তিনিই প্রথম বাঙালি মুসলমান ছাত্রী; যিনি উচ্চ শিক্ষার্থে বৃত্তি নিয়ে বিদেশে যান।

জন্মগ্রহণ করেন ১৮৯৯ সালে টাঙ্গাইল জেলার সদর থানার নামদার কুমুল্লী গ্রামে। বাবা ওয়াজেদ আলী খাঁ। মা হালিমা খাতুন। ওয়াজেদ আলী খাঁ মাইনর স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। স্কুলশিক্ষক হওয়ার আগে করোটিয়ার জমিদার বাড়িতে সামান্য একটি চাকরি করতেন। স্কুলে বাৎসরিক পরীক্ষায় মেয়ের ভালো ফলাফল দেখে পারিবারিক অস্বচ্ছলতা আর সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতা সত্বেও তিনি ফজিলাতুন্নেছাকে শিক্ষার পথে এগিয়ে দেন।

মাত্র ৬ বছর বয়সে ফজিলতুন্নেসা ভর্তি হন করটিয়ার প্রাইমারি স্কুলে। ১৯২১ সালে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক ও ১৯২৩ সালে প্রথম বিভাগে ইডেন কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। ১৯২৫ সালে কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে বিএ পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৭ সালে গণিত শাস্ত্রে এমএ-তে ফার্স্ট ক্লাশ ফার্স্ট (গোল্ড মেডালিস্ট) হয়েছিলেন। এরপর তিনি উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্যে ১৯২৮ সালে বিলেতে যান।

বিদেশে পড়ার সময় ফজিলতুন্নেসার সাথে খুলনা নিবাসী আহসান উল্ল্যাহর ছেলে জোহা সাহেবের সাথে ফজিলাতুন্নেছার পরিচয় হয়। পরে তারা উভয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

লন্ডন থেকে ফিরে ১৯৩০ সালে কলকাতায় প্রথমে স্কুল ইন্সপেক্টরের চাকরিতে যোগদান করেন। ১৯৩০ সালের আগস্টে কলকাতার অ্যালবার্ট হলে অনুষ্ঠিত ‘বঙ্গীয় মুসলিম সমাজ-সেবক-সংঘে’র বার্ষিক অধিবেশনে সভাপতি হিসেবে তার বক্তব্যটি নারী জাগরণের মাইলফলক হয়ে আছে। ওই অধিবেশনে তিনি বলেন, ‘নারী-শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে অনেকেই অনেক কথা বলেছেন ও বলেন। নারী সমাজের অর্ধাঙ্গ, সমাজের পূর্ণতা লাভ কোনোদিনই নারীকে বাদ

দিয়ে সম্ভব হতে পারে না। সেজন্যেই আজ এ সমাজ এতোটা পঙ্গু হয়ে পড়েছে। সমাজের অবনতির প্রধান কারণ নারীকে ঘরে বন্দি করে রেখে তার Individuality বিকাশের পথ রুদ্ধ করে রাখার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।

বেথুন কলেজে চাকরিরত অবস্থায় দেশ বিভাগের পর ১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকায় চলে এসে ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত ঢাকা ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। তার অক্লান্ত পরিশ্রম ও চেষ্টায় বিজ্ঞান ও বাণিজ্যিক বিভাগসহ ইডেন কলেজ ডিগ্রি পর্যায়ে উন্নীত হয়।

নারীশিক্ষা ও নারীমুক্তি সম্পর্কে সওগাতসহ অনেক পত্রিকায় তার বিভিন্ন প্রবন্ধ, গল্প প্রকাশিত হয়। মহীয়সী নারীর স্মৃতি রক্ষার্থে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৮৭ সালে ফজিলাতুন্নেছার নামে হল নির্মাণ করা হয়।

বিদুষী এই নারী ১৯৭৭ সালে ২১ অক্টোবর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

 

সূত্র: সংগৃহীত

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM
Translate »