1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
  2. [email protected] : Emon : Armanul Islam
  3. [email protected] : musa :
বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২, ০২:১১ অপরাহ্ন

ইতিহাসে অক্টোবর ২৭ – প্রখ্যাত লোকসঙ্গীত গায়ক আব্বাসউদ্দিন আহমদ,জন্মগ্রহণ করেন

  • সময় বুধবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২১
  • ৩৭৫ বার দেখা হয়েছে

গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে আজ বছরের ৩০০তম (অধিবর্ষে ৩০১তম) দিন। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা বিশিষ্টজনের জন্ম ও মৃত্যুদিনসহ আরও কিছু তথ্যাবলি।

ঘটনাবলি

১৪৯২ : ক্রিস্টোফার কলম্বাস কিউবা আবিষ্কার করেন।
১৯৭৯ : সেন্ট ভিনসেন্টের স্বাধীনতা লাভ।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

জন্ম

১৭২৮ : জেমস কুক, ইংরেজ পরিব্রাজক।
১৮১১ : আইজ্যাক সিঙ্গার, মার্কিন শিল্পপতি, সিঙ্গার কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা।
১৮৪৪ : ক্লাস পন্টুস আরনল্ডসন, নোবেল পুরস্কারজয়ী সুইডিশ সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ।
১৮৪৯ : চন্দ্রশেখর মুখোপাধ্যায়, যশস্বী বাঙালি লেখক।
১৮৫৮ : থিওডোর রুজভেল্ট, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৬তম রাষ্ট্রপতি।
১৯০১ : আব্বাসউদ্দিন আহমদ, প্রখ্যাত বাংলা লোকসঙ্গীত গায়ক।
১৯০৪ : যতীন্দ্র নাথ দাস, ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের শহীদ বিপ্লবী।

মৃত্যু

১৯৮০ : নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আমেরিকান পদার্থবিদ ও গণিতবিদ জন হ্যাসব্রাউক ভ্যান ভ্লেক
২০০৩ : বাংলার বিশিষ্ট চলচ্চিত্র ও মঞ্চাভিনেতা মহানায়ক উত্তম কুমারের অনুজ তরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়

আব্বাসউদ্দীন আহমদ

আব্বাসউদ্দীন আহমদ ছিলেন একজন বাঙালি লোক সঙ্গীতশিল্লী, সঙ্গীত পরিচালক, ও সুরকার। তবে তার প্রধান পরিচয় তিনি একজন কণ্ঠশিল্পী। আধুনিক গান, স্বদেশী গান, ইসলামী গান, পল্লিগীতি, উর্দুগান সবই গেয়েছেন, কিন্তু পল্লিগীতিতেই তার মৌলিকতা ও সাফল্য সবচেয়ে বেশি। সঙ্গীতে অবদানের জন্যে তিনি মরণোত্তর প্রাইড অফ পারফরম্যান্স, শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার এবং স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন।

জন্মগ্রহণ করেন ২৭ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ মহকুমার বলরামপুর গ্রামে। বাবা জাফর আলী আহমদ ছিলেন তুফানগঞ্জ মহকুমা আদালতের উকিল। তার কনিষ্ঠ পুত্র মুস্তাফা জামান আব্বাসী এবং কন্যা ফেরদৌসী রহমান দেশের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী।

বলরামপুর স্কুলে বাল্যশিক্ষার শুরু। তুফানগঞ্জ স্কুল থেকে প্রবেশিকা (১৯১৯) এবং কুচবিহার কলেজ থেকে আইএ (১৯২১) পাস করেন। তখন থেকেই পড়াশুনার চেয়ে গানের জগতে নিমগ্ন হন।

আব্বাসউদ্দীন সঙ্গীতে কোনো ওস্তাদের কাছে কিংবা শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে তালিম নিয়ে তিনি গান শেখেননি। যাত্রা-নাটক ও স্কুল, কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান শুনে তিনি গানের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং নিজ চেষ্টায় গান গাইতে শুরু করেন। পল্লীগাঁয়েরই একজন গায়ক ছিলেন। পরে কলকাতায় অল্প সময়ের জন্যে তিনি ওস্তাদ জমিরুদ্দীন খাঁর কাছে উচ্চাঙ্গসঙ্গীতে তালিম নেন।

১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত কলকাতায় বসবাস করেন। প্রথমে তিনি রাইটার্স বিল্ডিংয়ে ডিপিআই অফিসে অস্থায়ী পদে এবং পরে কৃষি দপ্তরে স্থায়ী পদে কেরানির চাকরি করেন। এ.কে ফজলুল হকের মন্ত্রিত্বের সময় তিনি রেকডিং এক্সপার্ট হিসেবে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করেন।

চল্লিশের দশকে আববাসউদ্দীনের গান পাকিস্তান আন্দোলনের পক্ষে মুসলিম জনতার সমর্থন আদায়ে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ঢাকায় এসে তিনি সরকারের প্রচারদপ্তরে এডিশনাল সং অর্গানাইজার হিসেবে চাকরি করেন। তিনি পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে ১৯৫৫ সালে ম্যানিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় সঙ্গীত সম্মেলন, ১৯৫৬ সালে জার্মানিতে আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীত সম্মেলন এবং ১৯৫৭ সালে রেঙ্গুনে প্রবাসী বঙ্গসাহিত্য সম্মেলনে যোগদান করেন।

আব্বাসউদ্দীন প্রথমে সুনাম অর্জন করেন রংপুর ও কুচবিহার অঞ্চলের ভাওয়াইয়া-ক্ষীরোল-চটকা গেয়ে। পরে জারি, সারি, ভাটিয়ালি, মুর্শিদি, বিচ্ছেদি, দেহতত্ত্ব, মর্সিয়া, পালাগান ইত্যাদি পল্লীগানের নানা শাখার গান গেয়ে ও রেকর্ড করে তিনি জনপ্রিয় হন। তার দরদভরা সুরেলা কণ্ঠে পল্লীগানের সুর যেভাবে ফুটে উঠত, অন্য কোনো গায়কের কণ্ঠে তেমনটি হতো না। এ ক্ষেত্রে তিনি আজও অদ্বিতীয়। তিনি কাজী নজরুল ইসলাম, জসীমউদদীন, গোলাম মোস্তফা প্রমুখের ইসলামী ভাবধারায় রচিত গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ গানটি আব্বাসউদ্দীনের কণ্ঠে ভীষণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। তিনিই প্রথম ভাওয়াইয়াকে রেকর্ড করে সবার সামনে উপস্থাপন করেন। তার রেকর্ডকৃত গান ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই কত রবো আমি পন্থের দিকে চায়া রে’ কিংবা ‘ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে’র জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে যায় দেশ থেকে দেশান্তরে।

গানের প্রথম রেকর্ড ১৯৩০ সালে হিজ মাস্টার্স ভয়েস; পরে মেগাফোন, টুইন, রিগ্যাল ইত্যাদি কোম্পানিও আব্বাসউদ্দীনের বহু গান রেকর্ড করে। গ্রাম-গঞ্জ-শহরের আসর-অনুষ্ঠান-জলসায় গান গেয়ে এবং গ্রামোফোনে গান রেকর্ড করে আব্বাসউদ্দীন বাংলার সঙ্গীতবিরোধী মুসলমান সমাজকে সঙ্গীতানুরাগী করে তোলেন।

তার গানের রেকর্ডগুলো এক অমর কীর্তি। আমার শিল্পী জীবনের কথা (১৯৬০) তার রচিত একমাত্র গ্রন্থ। সঙ্গীতে অবদানের জন্যে তিনি ১৯৬০ সালে মরণোত্তর প্রাইড অব পারফরমেন্স ছাড়াও শিল্পকলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৭৯) এবং স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (১৯৮১) ভূষিত হন।

জনপ্রিয় এই লোকসঙ্গীত শিল্পী ১৯৫৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

সূত্র : সংগৃহীত

নতুন মন্তব্য

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM
Translate »