1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
  2. [email protected] : Emon : Armanul Islam
  3. [email protected] : musa :
বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:১৪ অপরাহ্ন

সন্তানকে উদ্বুদ্ধ করার দায়িত্ব আপনার

  • সময় শনিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২১
  • ১৭৫ বার দেখা হয়েছে

এক মায়ের চিঠি ও শিশুর আকুতি …

আমরা আজকের আলোচনার শুরুতে একজন মায়ের একটি চিঠি পড়ে শোনাই।

তিনি লিখেছেন, শ্রদ্ধেয় গুরুজী! আসসালামু আলাইকুম। শোকর আলহামদুলিল্লাহ। বেশ ভালো আছি। শুধু মেয়ের শরীরটা কম ভালো যাচ্ছে। হালকা জ্বর। ওষুধ দেয়ার মতো নয়।

কিন্তু মানসিকভাবে সে ভালো নেই। গত দুদিন ধরে অদ্ভুত আচরণ করছে। সে নাকি স্বপ্নে দেখেছে তার বাবাকে বাঘ খেয়ে ফেলছে। বাবাকে বাঘ খেয়ে ফেলছে। ঘুম থেকে জেগেই কান্না। বার বার শুধু বলে, মা! তোমাদের ছাড়া আমি বাঁচতে পারব না। তুমি দোয়া করো যেন আমরা সবাই একসাথে মারা যাই।

আমাকে বলে যে, মায়ের দোয়া তো আল্লাহ কবুল করে। এই মৃত্যুচিন্তা থেকেই ওর যত সমস্যা হচ্ছে। এর সাথে যোগ হয়েছে রুদ্র আর শিব নামের দুটো জাদুর কার্টুন। এগুলো কিছুটা ভয়ঙ্কর। হ্যারি পটারের ধরন।

গুরুজী আমার বাসায় টিভি নেই। কিন্তু আম্মুর বাসায় দিনের বেলা ওরা দুঘণ্টা টিভি দেখে যখন আমি থাকি না। এসময় আমি এসব কার্টুন দেখতে নিষেধ করলেও সে দেখেছে। পরিণতি হচ্ছে এখনকার ভয়।

এখন আমাকে সে বলছে, মা তুমি আমাকে মার দিয়ে হলেও এসব কার্টুনের আগ্রহ কমাতে পারতে। তুমি আমাকে মার দিয়ে হলেও এসব কার্টুনের আগ্রহ কমাতে পারতে। বললাম, মারলে তোমার আগ্রহ কমত না। তখন আবার কান্না যে গুরুজীকে লিখে দাও যেন আমার ভয় চলে যায়।

আপনি দোয়া করবেন, “আমার মেয়ে এখন নিজে থেকেই স্ক্রিন টাইম বাদ দিতে চাইছে।”

নিঃসন্দেহে মা হিসেবে আপনি ভাগ্যবান যে আপনার সাড়ে ছ’বছরের মেয়ে নিজেই স্ক্রিন থেকে সরে আসতে চাচ্ছে।

আমাদের দোয়া থাকছে সে যেন স্ক্রিন থেকে সরে আসতে পারে। ভয় থেকে মুক্ত হয়ে সব ধরনের ভয় থেকে মুক্ত হয়ে সাহসী সৃজনশীল সফল মানুষ হিসেবে নিজের পরিচয় সৃষ্টি করতে পারে।

প্রিয় সুহৃদ! এই শিশুটি নিঃসন্দেহে ভাগ্যবান যে তার উদ্বেগ উৎকণ্ঠার কথা অস্থিরতার কথা সমস্যার কথা তার মাকে অবলীলায় বলতে পেরেছে। মায়ের প্রতি তার বিশ্বাস তাকে মানসিক অনিশ্চয়তা থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

মা-বাবার সঙ্গে অভিমান করে নিখোঁজ হচ্ছে, শিশু-কিশোরী!

কিন্তু আমাদের দেশের হাজার হাজার শিশু কিশোরের কী অবস্থা তা আঁচ করা যায় ২৫শে অক্টোবর ২০২১ সালের সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট থেকে। রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে ৪২৪ টি মেয়ে শিশু-কিশোরী নিখোঁজ হয়েছে। এদের একটি বড় অংশ মা-বাবার সঙ্গে অভিমান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় ও সম্পর্কের কারণে বন্ধুর সঙ্গে ঘর ছেড়েছে।

গত তিন মাসে শুধু পল্লবী থানা এলাকা থেকেই ১১৪ কিশোরী নিখোঁজ হয়। মিরপুরের ৭টি থানার মধ্যে একটি থানা হচ্ছে এই পল্লবী। জুলাই মাসে ২২ জন, আগস্টে ৪৩ জন, সেপ্টেম্বরে ৪৮ জন। এবং অক্টোবর মাসের প্রথম ১০ দিনে ১৫ জন কিশোরী বাসা থেকে নিখোঁজ হয়েছে বলে থানায় জিডি করা হয়েছে।

নিখোঁজ হওয়া কিশোরীদের বেশিরভাগই ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এদের বড় একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাধ্যম ফেসবুকে পরিচিত-অপরিচিত ছেলেদের সঙ্গে বন্ধুত্বে জড়িয়েছে। তারপর ঘর ছেড়েছে।

একটি মেয়ের বাবা সাংবাদিককে জানান, “মেয়েকে সবসময় শাসনের মধ্যেই রেখেছি। কিন্তু পরিবর্তনটা এসেছে মেয়েকে স্মার্টফোন দেওয়ার পর। অনলাইনে স্কুলের ক্লাস করার জন্যে তাকে ফোন দিতে হয়েছে।”

সাংবাদিক সরেজমিনে ২০ জন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলেছেন। অভিভাবকরা জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে গত দেড় বছর স্কুল-কলেজে যাওয়া বন্ধ ছিল। পরীক্ষা, পড়া, কোচিংসহ সবই চলছে অনলাইনে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নির্দেশনার কারণে স্বাভাবিকভাবে পড়ুয়াদের সবার হাতে মোবাইল ফোন দিতে হয়েছে। লেখাপড়ার ফাঁকে তারা বিভিন্ন গেমসের প্রতি যেমন ঝুঁকেছে, তেমনি সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকের মাধ্যমে চেনা-অচেনা বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে।

বিভিন্ন ধরনের মানসিক ও আচরণগত সমস্যায় ভুগছে (৪-১৭) বছর বয়সী শিশু-কিশোর…

প্রিয় সুহৃদ! অক্টোবর মাসে প্রকাশিত একটি গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়েছে- করোনাকালে লকডাউনের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে চার থেকে ১৭ বছর বয়সীদের মধ্যে গড়ে ২১.৫ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের মানসিক ও আচরণগত সমস্যায় ভুগছে।

মানসিক সমস্যায় ভোগে ১০.২ শতাংশ। এবং আচরণগত সমস্যা হয়েছে ২৬.৮ শতাংশের। অতিচাঞ্চল্য হাইপার এক্টিভিটি ছিল ১৯.৯ শতাংশের মধ্যে। পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে ৩৬.৫ শতাংশের।

অন্যদিকে ১৬.২ শতাংশ মা-বাবার মধ্যে মাঝারি বিষণ্ণতা ৫.৫ শতাংশের মাঝারি পর্যায়ের গুরুতর বিষণ্ণতা এবং ২.৯ শতাংশের মধ্যে তীব্র বিষণ্ণতা। এবং বাবাদের তুলনায় মায়েরা বেশি সমস্যাগ্রস্ত ছিলেন।

শিক্ষার্থীদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণার ফলাফল হচ্ছে করোনাকালে দেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ৮৪ শতাংশের বেশি মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তাদের চার ভাগের তিন ভাগ শিক্ষার্থী লেখাপড়ায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।

এ সময়ে গ্রামে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। মানসিক সমস্যা বেশি হয়েছে নারী শিক্ষার্থীদের।

সমস্যাগ্রস্ত এসব শিক্ষার্থীর একটা বড় অংশ নিয়মমতো ঘুমুতে যান না। তারা মুঠোফোন ল্যাপটপ ও কম্পিউটারের সামনে বেশি সময় কাটান।

যারা পর্দার সামনে বেশি থাকেন তাদেরই বিষণ্ণতায় ভোগার হার বেশি। যারা দিনে সাত ঘণ্টার বেশি সময় পর্দার সামনে কাটিয়েছেন তাদের অধিকাংশই বিষণ্ণতায় ভুগছেন।

করোনাকালে অনলাইনে ক্লাস নিয়ে অসন্তুষ্ট বেশিরভাগ শিক্ষার্থী।

ডিজিটাল মাদক থেকে আপনার বের হবার প্রথম পদক্ষেপ- ডিলিট ফেসবুক!

প্রিয় সুহৃদ! করোনাকালে ডিজিটাল মাদকের আগ্রাসন যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে তখন শুধু অস্থিরতা হতাশা বিষণ্ণতাই নয়, আরেক মারাত্মক সমস্যা তরুণরা মোকাবেলা করেছেন অনলাইন বুলিং।

এক জরিপে উঠে এসেছে এর মারাত্মক চিত্র।

৮৫ শতাংশ তরুণ বলছেন তাদের জন্যে অনলাইন বুলিং মারাত্মক সমস্যা।

এই তরুণরা সাধারণত অনলাইন বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন তিন মাধ্যমে। সোশাল মিডিয়া, ফেসবুক, ম্যাসেজিং অ্যাপস এবং অনলাইন গেমিং ও ভিডিও গেম স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম।

আসলে আমরা তো সমস্যার কথা শুনছি। কিন্তু এই সমস্যা থেকে বেরুনোর পথ শোষক বেনিয়ারা আপনাকে কখনো করে দেবে না।

কারণ আপনাকে যত ডিজিটাল মাদকে আসক্ত রাখা যাবে ডিজিটাল মাদক বেনিয়াদের মুনাফা তত বাড়বে।

আপনি শোষণে শোষণে রোগে শোকে সর্বস্বান্ত হবেন। আর তারা মুনাফায় ফুলেফেঁপে উঠবে।

তো এজন্যে প্রথম পদক্ষেপ আপনাকেই নিতে হবে।

আর এই প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে- ডিলিট ফেসবুক।

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজেকে বের করে নিয়ে আসা। ডিলিট ফেসবুক।

আমরা যখন ১২ বছর আগে বলেছিলাম ‘ডিলিট ফেসবুক’ সেদিন ম্যাগাজিন মার্ক জাকারবার্গকে পারসন অব দ্য ইয়ার ঘোষণা করেছিল।

ফেসবুকের মতো দানবীয় কোম্পানিগুলোর সামনে আমাদের অবস্থান ছিল এক বিশাল হাতির সামনে দাঁড়ানো পিঁপড়ার মতো। কিন্তু যে সত্যকে আমরা উপলব্ধি করেছিলাম নির্ভয়ে আমরা সেই সত্য বলেছিলাম, ডিলিট ফেসবুক।

১২ বছর পরে টাইম ম্যাগাজিন তার অক্টোবর ২৩ ডবল ইস্যুর অনলাইন সংস্করণের প্রচ্ছদ করেছে মার্ক জাকারবার্গের ছবি দিয়ে তার মুখের ওপর একটা পট্টি দিয়ে সেই পট্টির ওপর লেখা- ডিলিট ফেসবুক।

ফেসবুকের গোপন জীবনবিধ্বংসী রূপ থেকে নিজে বাঁচুন, পরিবারকে বাঁচান!

এখন পাশ্চাত্যের বিশেষজ্ঞরাই চিৎকার করছেন বলছেন, ফেসবুক সাধারণ জনগণের জীবনের চেয়ে মুনাফাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে।

যেমন সিগারেট কোম্পানিগুলো গোপন করেছিল তামাকের ক্ষতির কথা তেমনি ফেসবুকও গোপন করেছিল জীবনবিধ্বংসী ক্ষতিকর দিকগুলোর কথা।

আমাদের ১২ বছর আগে বলা কথাগুলোই পাশ্চাত্যের বিশেষজ্ঞরা এখন বলছেন। এমনকি ফেসবুকের পদস্থ কর্মকর্তা যারা ফেসবুক থেকে বেরিয়ে এসে বেরিয়ে এসছেন শুধু এই কারণে ফেসবুকের গোপন জীবনবিধ্বংসী রূপের কারণে। তারাও এই একই কথা বলছেন এখন।

অতএব প্রিয় সুহৃদ! নিজের এবং নিজের পরিবারের সুরক্ষার জন্যে আপনার স্মার্টফোন থেকে আপনার ল্যাপটপ থেকে আপনার পিসি থেকে ফেসবুক ডিলিট করে দিন।

আসলে সন্তানকে সোশ্যাল মিডিয়ার অভিশাপ থেকে বাঁচাতে হলে মা-বাবা হিসেবে আপনাকেই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে ফেসবুক ডিলিট করে।

শিশুকিশোরকে ভালো মানুষ বানাতে হলে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে…

প্রিয় সুহৃদ! সন্তানকে শিশুকে কিশোরকে কিশোরীকে ভালো মানুষ বানাতে হলে ভালো মা-বাবা হিসেবে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। সন্তানকে সম্মান করতে হবে। তাকে পাশে বসাতে হবে। মন খুলে কথা বলতে হবে। তারপর তাদের কথা শুনতে হবে।

নিজে যখন কথা শেয়ার করবেন সন্তানরাও তখন ভেতরে চেপে রাখা কথা যন্ত্রণাগুলো ধীরে ধীরে বলতে চাইবে আপনাকে।

আর সন্তানকে সম্মান করার শিক্ষা তো নবীজী (স) আমাদের দিয়েছেন। নবী নন্দিনী ফাতিমা যখন নবীজীর কাছে আসলেন তখন তিনি উঠে দাঁড়িয়ে তাকে সম্ভাষণ জানাতেন, চুমু দিতেন নিজের জায়গায় বসাতেন।

সন্তানকে শুধু আদর নয় কীভাবে সম্মান করতে হয় সেই দৃষ্টান্তও তিনি দেখিয়েছেন। সেই দৃষ্টান্তও তিনি রেখে গেছেন আমাদের সামনে।

প্রযুক্তিপণ্যের বেনিয়ারা প্রযুক্তির ক্ষতি সম্পর্কে বেশি সচেতন!

প্রিয় সুহৃদ! প্রযুক্তি এবং প্রযুক্তিপণ্যের মারাত্মক ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি সচেতন প্রযুক্তিপণ্যের বেনিয়ারা।

প্রযুক্তিপণ্যের শীর্ষ বেনিয়া বিলগেটস এবং স্টিভ জবস। সারাবিশ্বের মানুষের মাঝে প্রযুক্তিপণ্য ছড়িয়ে দিলেও নিজের পরিবারের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা ছিল একেবারেই উল্টো।

বিলগেটস তার মেয়ের কম্পিউটার ব্যবহারের সময় নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন ৪৫ মিনিট।

১৪ বছর বয়সের আগে স্মার্টফোন শুধু নয় মোবাইল ফোন ব্যবহারেও ছিল নিষেধাজ্ঞা।

স্টিভ জবস তার সন্তানদের জন্যে আইপ্যাড ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছিলেন। তাদের অবস্থা ছিল মাদকের ব্যাপারীদের মতোই। তারা মাদক খাওয়ায়, কিন্তু নিজেরা খায় না।

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে প্রযুক্তিপণ্যের প্রসারের জন্যে যারা সারাজীবন ব্যয় করেছেন তারা কেন নিজের সন্তানদের প্রযুক্তি থেকে দূরে রেখেছেন শিশুকালে?

এ প্রসঙ্গে কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে শিক্ষাবিদ জো ক্লিমেন্ট এবং ম্যাট মাইলসের বই- “Screen Schooled: Two Veteran Teachers Expose How Technology Overuse is Making Our Kids Dumber.”

বইতে এ দুজন শিক্ষাবিদ প্রযুক্তির অতি ব্যবহার কীভাবে আমাদের সন্তানদের বোকা বানাচ্ছে তাদের কীভাবে নির্বোধ বা হাবা বানাচ্ছে তারই বিশ্লেষণ রয়েছে এই বইতে।

অতএব আমরা নির্দ্বিধায় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাতে পারি যেখানে বিল গেটস স্টিভ জবস তাদের সন্তানদের আইপ্যাড বা মোবাইল দেন নি সেখানে আমরা অনলাইন শিক্ষার নামে যাতে স্কুলের কিশোর-কিশোরীদের হাতে স্মার্টফোন তুলে না দেই।

যেভাবে জনজীবন স্বাভাবিক হয়েছে প্রত্যেক দিন স্বাভাবিক স্কুল চালুর ব্যবস্থা নিন তাহলে স্মার্টফোনের অপব্যবহার থেকে আমাদের শিশু-কিশোরদের রক্ষা করাটা অনেক সহজ হবে।

এবং এ ব্যাপারে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ কোটি কোটি কিশোর-কিশোরীকে নতুন প্রজন্মকে সম্পূর্ণ ধংসের হাত থেকে রক্ষা করবে।

সন্তানকে দিন তার জীবনের সঠিক লক্ষ্য!

মা-বাবা হিসেবে সন্তানকে যেভাবে আদর করবেন যেভাবে সম্মান করবেন একইভাবে তার সামনে বড় কিছু করার মহৎ কিছু করার সফল হওয়ার একটি লক্ষ্য তার সামনে তুলে ধরুন। আস্তে আস্তে তাকে সেই লক্ষ্যে উদ্বুদ্ধ করুন।

একবার যদি সন্তান লক্ষ্যে উদ্বুদ্ধ হয় এরপর বাকিটা সে নিজেই করবে।

আমরা জানি রাইট ব্রাদার্স ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন বিমানের আবিষ্কারক হিসাবে।

আসলে খুব সাধারণ ঘটনা থেকে অসাধারণ বিষয়ের সূত্রপাত হয়েছিল।

তখন অরভিল রাইটের বয়স ছিল মাত্র সাত। আর উইলবার রাইটের বয়স ছিল ১১ বছর। তাদের বাবা তাদেরকে একটি খেলনা দিয়েছিলেন। খেলনাটি তারা ভেঙে ফেলে।

এবং তখন দুই ভাই মিলে সেটাকে আবার ঠিকঠাক করে ফেলে।

প্রযুক্তির প্রতি এই আগ্রহ দেখে মা-বাবা তাদেরকে স্বপ্ন দিলেন যে এমন বাহন বানাতে যা আকাশে উড়বে।

এরপর বছরের পর বছর পার হলো। কিন্তু যত দিন যায় সেই স্বপ্ন দুই ভাইয়ের মাথায় তত বড় হতে থাকে।

এবং গত শতাব্দীর শুরুতে তারা প্রথমবারের মতো বিমান নির্মাণ করে।

আসলে ছোটবেলার সে স্বপ্ন সেই লক্ষ্য এমনভাবে গেঁথে গিয়েছিল তারা অনেক কিছুর সাথে জড়ালেও সেই স্বপ্ন কখনো তাদের চোখের আড়াল হয় নি।

ফলে বিমানের আবিষ্কারক হিসেবে ইতিহাসের পাতায় তারা তাদের নাম রেখে গেছেন।

তাই সন্তানকে ছোট থাকতে একটি লক্ষ্য দিন। সন্তান একবার যদি তার জীবনের লক্ষ্য স্থির করতে পারে যে জীবনে কোন অবস্থানে সে যেতে চায় এটা যদি তার মাথায় তার ব্রেনে একবার গেঁথে যায় তাহলে তার জীবনের সবকিছুই বদলাতে শুরু করবে ভেতর থেকেই।

‘কঠিন সময়ে নিজেকে কখনো পরিস্থিতির শিকার ভাববেন না’ প্যারালিম্পিয়ান ক্যাভিন র‍্যামপেল!

আসলে যারা সফল হয়েছেন তারা এভাবেই সফল হয়েছেন।

প্যারা অলিম্পিকস পক্ষাঘাতগ্রস্তদের অলিম্পিক গেমসকে বলা হয় প্যারা অলিম্পিকস। ক্যানাডিয়ান প্যারালিম্পিয়ান ক্যাভিন র‍্যামপেল ২০০৬ সালে দূর্ঘটনার শিকার হন। তার নিম্নাঙ্গ অবশ হয়ে যায়। তখন তার বয়স ২৪ বছর।

তিনি অন্য ১০ জন পক্ষাঘাতগ্রস্তের চেয়ে জীবনকে দেখলেন ভিন্ন আঙ্গিকে নতুন ভবিষ্যতের স্বপ্ন তখন তার মাথায় গেঁথে গেল। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন নিজের দায়িত্ব নিজেকে নিতে হবে।

২০০৮ এ খেলোয়াড় হিসেবে মনোনিবেশ করলেন স্লেজ হকিতে। ২০১৩ সালে আইপিসিআইস স্লেজ হকি ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ানশীপ এবং ২০১৪ সালে রাশিয়াতে অনুষ্ঠিত উইন্টার প্যারালিম্পিকসে দক্ষতার সাথে অংশ নিয়ে দেশকে উপহার দিলেন স্বর্ণ ও ব্রোঞ্জ পদক।

র‍্যামপেল তার ঘুরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকে বলেন- দ্য হিরো মাইন্ড সেট। সাক্ষাতকারে তিনি জানান, আপনার জীবনে যা ঘটে সেজন্যে আপনি দায়ী নাও হতে পারেন।

কিন্তু এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে আপনি কী ভাবছেন এবং কী করছেন তার জন্যে দায়ী আপনি নিজেই। কঠিন সময়ে নিজেকে কখনো পরিস্থিতির শিকার ভাববেন না।

নিজের জীবনের দায়িত্ব নেয়ার প্রসঙ্গে র‍্যামপেল আরো বলেন, আপনি যদি জানেন জীবনের কোন অবস্থানে আপনি যেতে চান তাহলেই সবকিছু বদলাতে শুরু করবে।

প্রিয় সুহৃদ! নিজের জন্যে যেমন মহৎ লক্ষ্য ঠিক করা প্রয়োজন একইভাবে সন্তানকে মহৎ লক্ষ্য গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার দায়িত্বও আপনার।

যে সন্তানকে আপনি বোঝা ভাবছেন সমস্যা ভাবছেন আপনার একটু ধৈর্য একটু মমতা একটু কৌশল সেই সন্তানেরই জীবন বদলে দিতে পারে। আর আমরা আপনার জন্যে তা-ই কামনা করছি।

জীবনের দায়িত্ব নিজে নেয়ার কার্যকরী কার্যক্রম কোয়ান্টাম মেথড!

প্রিয় সুহৃদ! পোস্ট কোভিড ট্রমা ম্যানেজমেন্ট এটা জাতিগতভাবে এই ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব এখন আমাদের সবার যারা আমরা সচেতন যারা আমরা প্রাণায়াম করি ইয়োগা করি মেডিটেশন করি।

আর আপনি জানেন কোয়ান্টাম মেথডে যে চারদিনের কার্যক্রম চারদিনের কোর্স এটি আপনার জীবনের দায়িত্ব নিজের হাতে নেয়ার কার্যক্রম।

অতএব সবসময় চেষ্টা করবেন চারদিনের কোর্স যখনই হবে সেটা রিপিট করার জন্যে। এবং এই রিপিট করা পুরনো গ্রাজুয়েটসদের জন্যে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কোর্সের মধ্য দিয়ে নিজের শক্তি এবং সম্ভাবনাকে চিন্তা-ভাবনার ওপর ছেড়ে না দিয়ে চিন্তা এবং ভাবনার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে গ্রহণ করার চমৎকার সুযোগ।

কারণ শত শত ধ্যানী যখন চারদিন দীর্ঘসময় ধরে একসাথে থাকেন তখন ধ্যানের একটা আলাদা ভাইব্রেশন আলাদা ধ্যানতরঙ্গ সৃষ্টি হয়। যা চিন্তা এবং ভাবনার ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ, ভাবনাকে ভাবনার হাতে ছেড়ে না দিয়ে ভাবনাকে নিজের হাতে নিয়ে আসার চমৎকার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

পোস্ট কোভিড ট্রমা ম্যানেজমেন্টের জন্যে কোয়ান্টামকে সমৃদ্ধ করা হয়েছে আরো প্রয়োজনীয় উপকরণে …

কোয়ান্টাম মেথড কোর্সের পোস্ট কোভিড ট্রমা ম্যানেজমেন্টের জন্যে প্রয়োজনীয় উপকরণে সমৃদ্ধ করা হয়েছে।

অতএব যারা আগে কোর্স করেছেন এমন শত শত গ্রাজুয়েট গত অগাস্ট সেপ্টেম্বর অক্টোবর ঢাকা এবং চট্রগ্রামে কোর্স রিপিট করেছেন। নভেম্বরের ১২ ১৩ ১৪ ১৫ ঢাকার কোর্সে দেশের যে-কোনো স্থান থেকে গ্রাজুয়েটরা রিপিট করার জন্যে আসতে পারেন।

এবং ১৯ ২০ ২১ ২২ রাজশাহীতে রাজশাহী অঞ্চলের গ্রাজুয়েটরা চারদিনের এই কোর্স রিপিট করে নিজেকে নতুন শক্তিতে উজ্জীবিত করার সুযোগ গ্রহণ করবেন।

আসলে যত আমরা কোর্সে নিজেকে রিজুভিনেট করব যত আমরা সাদাকায়নে নিয়মিত অংশ নেব যত আমরা প্রজ্ঞায় নিয়মিত অংশ নেব যত আমরা নিয়মিত লামায় তিন দিনের কোয়ান্টায়নে অংশ নেব তত জীবনের লক্ষ্যপানে সাফল্যের পানে সমৃদ্ধির পানে সৃজনশীলতার পানে তৃপ্তির পানে আপনার অগ্রগতি অব্যহত থাকবে।

 

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM
Translate »