1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
  2. [email protected] : Emon : Armanul Islam
  3. [email protected] : musa :
বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:৪৩ অপরাহ্ন

আমরা নিজেরাই পারি নিজের সবকিছুকে বদলে দিতে।

  • সময় শনিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২১
  • ১০৪ বার দেখা হয়েছে

আমরা নিজেরাই পারি নিজের সবকিছুকে বদলে দিতে। সত্যিই কি তাই? কীভাবে?

আসলেই আপনি নিজেই পারেন আপনার সবকিছু বদলে দিতে। আর জীবন বদলানোর জন্যে, প্রয়োজন শুধু মুক্ত বিশ্বাস।

আমি পারি, আমি পারব—ছোট্ট একটি বাক্য। কিন্তু এই ছোট বাক্যটির মধ্য দিয়ে বিশ্বাসের যে স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ ঘটে সেটাই প্রভাবিত করে আপনার সকল কর্মকাণ্ড। ধরুন, আপনার বাড়ির সামনের রাস্তায় ১০০ ফুট লম্বা এবং এক ফুট চওড়া ছয় ইঞ্চি পুরু একটি তক্তা বিছিয়ে বলা হলো, এর ওপর দিয়ে হেঁটে যান, আপনি দ্বিতীয় কোনো চিন্তা ছাড়াই হেঁটে যাবেন। কেউ বা হয়তো দৌড়ও দেবেন। কারণ আপনি বিশ্বাস করেন, আপনি জানেন যে, আপনি পারবেন। আপনার পা ফেলার জন্যে এক ফুট চওড়া জায়গাই যথেষ্ট।

কিন্তু এ তক্তাটাই যদি রাস্তার এপারের বহুতল ভবনের ছাদ থেকে ওপারের বহুতল ভবনের ছাদে লাগিয়ে দেয়া হয়, আপনি এই ১০০ ফুট দূরত্ব অতিক্রম করতে পারবেন না। এক পা দু’পা এগুনোর পরই হাত-পা কাঁপতে শুরু করবে, মাথা ঘোরাতে শুরু করবে। কাঁপতে কাঁপতে একসময় হয়তো পড়েই যাবেন, একাকার হয়ে যাবে আপনার হাড়-মাংস।

অথচ চোখের সামনেই আপনি দেখছেন একজন রাজমিস্ত্রি বাঁশ বেয়ে তরতর করে ওপরে উঠে যাচ্ছে। ৮/১০ তলা ভবনের দেয়াল প্লাস্টার করছে দুই বাঁশের মাঝখানে বিছানো এক ফুট চওড়া তক্তার ওপর দাঁড়িয়ে। একজন কাঠমিস্ত্রি পাতলা কাঠের কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে টিনের চাল বা ছনের  ছাউনি লাগাচ্ছে। রাজমিস্ত্রি বা কাঠমিস্ত্রি ৮/১০ তলা ভবনের প্লাস্টার করতে গিয়ে বা টিনের চাল লাগাতে গিয়ে পড়ে গেছে, এমন কথা আপনি কখনো শুনেছেন? শোনেন নি। কেন?

কারণ সে বিশ্বাস করে ৭০/৮০/১০০ ফুট ওপরের কাঠের তক্তায় দাঁড়িয়ে সে দেয়াল প্লাস্টার করতে পারবে, ছাদে উঠেও অনায়াসে টিন লাগাতে পারবে। বিশ্বাসই তার মধ্যে সৃষ্টি করেছে এই স্বতঃস্ফূর্ত কর্মদক্ষতা।

স্বাভাবিকভাবেই আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, বিশ্বাস কীভাবে কর্মদক্ষতা সৃষ্টি করে? এর বৈজ্ঞানিক উত্তর খুব সহজ। বিশ্বাসের প্রথম প্রভাব পড়ে মনে। মন প্রোগ্রাম পাঠায় মস্তিষ্কে। আর মস্তিষ্ক আপনার পারার ইচ্ছাটা বাস্তবতায় রূপান্তরিত করে।

আবার আপনি প্রশ্ন করতে পারেন—মন কী? নোবেল পুরস্কারবিজয়ী নিউরো সায়েন্টিস্ট রজার স্পেরি ‘Mind, Brain and Humanist Values’ নিবন্ধে ‘৫০ কোটি বছরের বিবর্তনের সর্বোচ্চ অর্জন’ বলে অভিহিত করেছেন মনকে। নোবেল পুরস্কারবিজয়ী বিজ্ঞানী স্যার জন একল্স ‘Evolution of the Brain : Creation of the Self’ গ্রন্থে মনকে বর্ণনা করেছেন আত্মসচেতন, সক্রিয়, অনুসন্ধিৎসু স্বতন্ত্র প্রক্রিয়ারূপে।

আর বিখ্যাত কানাডীয় নিউরোসার্জন ড. ওয়াইল্ডার পেনফিল্ড তার ‘The Mystery of the Mind’ গ্রন্থে আরো স্পষ্ট করে বলেছেন ‘মস্তিষ্ক হচ্ছে কম্পিউটার যা মনের প্রোগ্রাম অনুসারে পরিচালিত হয়’। তাই আমরা নিঃসংশয়ে বলতে পারি—মন এক বিশাল স্বতন্ত্র প্রক্রিয়া যা পরিচালিত করে মস্তিষ্ককে। আর মস্তিষ্ক পরিচালিত করে সকল শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমকে।

মস্তিষ্ককে নিউরোসায়েন্টিস্টরা সবচেয়ে আধুনিক কম্পিউটারের চেয়েও কমপক্ষে ১০ লক্ষ গুণ শক্তিশালীরূপে বর্ণনা করেছেন। মস্তিষ্ক নিয়ে যত গবেষণা করছেন ততই বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারছেন বিশাল সমুদ্রের পাড়ে দাঁড়িয়ে তীরে ধেয়ে আসা ঢেউই কেবল তারা গুনছেন।

নিউরোসায়েন্টিস্টরা সর্বশেষ গবেষণায় দেখেছেন, আপনি যখন আপনার মস্তিষ্কে নতুন বিশ্বাস, নতুন ধারণা, নতুন স্বপ্ন প্রদান করেন, তখন মস্তিষ্কের নিউরোনে নতুন সংযোগপথ রচিত হয়। একই বিশ্বাস, একই স্বপ্ন, একই ধারণা, একই কল্পনার পুনরাবৃত্তি এই সংযোগপথকে রাখে ব্যস্ত ও সক্রিয়। মস্তিষ্কের বিশেষ বিশেষ অংশ উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে।

বদলে যায় মস্তিষ্কের কর্মকাঠামো। আপনার সকল মনোদৈহিক প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে শুরু করে লক্ষ্যের বাস্তবায়নে। সহজ-স্বতঃস্ফূর্ততায় আপনি আপনার কাজ সম্পন্ন করতে পারেন। মুক্ত বিশ্বাসই আপনার সকল কর্মকাণ্ডে এভাবে সূচিত করে এই মৌলিক পরিবর্তন।

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM
Translate »