1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
  2. [email protected] : Emon : Armanul Islam
  3. [email protected] : musa :
বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:০৬ অপরাহ্ন

ইতিহাসে নভেম্বর ১৯ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের রূপকার ও চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান মৃত্যুবরণ করেন

  • সময় শনিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২১
  • ৪১ বার দেখা হয়েছে

গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে আজ বছরের ৩২৩তম (অধিবর্ষে ৩২৪তম) দিন। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা বিশিষ্টজনের জন্ম ও মৃত্যুদিনসহ আরও কিছু তথ্যাবলি।

ঘটনাবলি

১৮১৬ : পোল্যান্ডের ওয়ারশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮৬৩ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন গেটিসবার্গে তার বিখ্যাত স্বাধীনতার ভাষণ দেন।
১৯৮২ : দিল্লিতে নবম এশিয়ান গেমস শুরু।

জন্ম

১৮২৮ : লক্ষ্মী বাঈ, ঝাঁসির রাণী ও ১৮৫৭ সালের ভারতীয় বিদ্রোহের পথিকৃৎ।
১৮৩১ : জেমস গারফিল্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিংশতিতম রাষ্ট্রপতি।
১৮৭৭ : করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায় বাঙালি কবি।
১৯১২ : জর্জ এমিল পালাডে, নোবেলজয়ী রোমানীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান জীববিজ্ঞানী ও চিকিৎসক।
১৯১৩ : অসিতবরণ মুখোপাধ্যায়, বাঙালি অভিনেতা এবং গায়ক।
১৯১৫ : আর্ল উইলবার সাদারল্যান্ড জুনিয়র, নোবেলজয়ী আমেরিকান ফার্মাকোলজিস্ট ও প্রাণরসায়নবিদ।
১৯১৭ : ইন্দিরা গান্ধী, ভারতীয় রাজনীতিবিদ ও ভারতের প্রথম মহিলা ও তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী।
১৯২৫ : সলিল চৌধুরী, প্রখ্যাত বাঙালি গীতিকার সুরকার।
১৯৫৩ : সুবীর নন্দী, বাংলাদেশি সঙ্গীতশিল্পী।

মৃত্যু

১৮৩১ : ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী তিতুমীর, প্রকৃত নাম সৈয়দ মীর নিসার আলী
১৯৮৮ : জাতীয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের রূপকার ও চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান
১৯৮৯ : বাংলাদেশের একজন মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ ও সামরিক কর্মকর্তা এম এ জলিল
২০০৪ : নোবেলজয়ী ইংরেজ ফার্মাকোলজিস্ট ও অধ্যাপক জন রবার্ট ভেন
২০০৭ : সাংবাদিক, সঙ্গীতশিল্পী, দলছুট ব্র্যান্ডের গায়ক সঞ্জীব চৌধুরী
২০১৩ : নোবেল পুরস্কারবিজয়ী ইংরেজ প্রাণরসায়নী ও অধ্যাপক ফ্রেডরিক স্যাঙ্গার

দিবস

বিশ্ব টয়লেট দিবস

চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান

হামিদুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী। তিনিই ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিমাখা শহীদ মিনারের নকশা করেন। ১৯৮০ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন।

জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৮ সালে পুরনো ঢাকার ইসলামপুরে। বাবা মির্জা ফকির মোহাম্মদ ও মায়ের নাম জামিল খাতুন। হামিদুর রহমানের চাচা ঢাকার শেষ বাইশ পঞ্চায়েতের নেতা মির্জা আবদুল কাদের সরদার। তার বড় ভাই আবু নাসের আহমদ ছিলেন পূর্ববঙ্গ চলচ্চিত্র সমিতির ব্যক্তিত্ব, মেজ ভাই নাজির আহমেদ ছিলেন পূর্ববঙ্গের চলচ্চিত্র বিকাশের উদ্যোক্তা, ছোট ভাই সাঈদ আহমদ ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব ও লেখক।

বাংলাদেশ চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয় থেকে চিত্রকলায় প্রাথমিক শিক্ষা নেওয়ার পর তিনি প্যারিসের ইকোল দ্য বোজ্ আর্টস থেকে সংক্ষিপ্ত শিক্ষা লাভ করেন। পরে লন্ডনের সেন্ট্রাল স্কুল অব আর্ট অ্যান্ড ডিজাইন থেকে ১৯৫৬ সালে ডিগ্রি অর্জন করেন। এর মধ্যে ১৯৫৩ সালে ইতালির ফ্লোরেন্স একাডেমি দ্য বেল আর্ট থেকে ম্যুরাল পেইন্টিংয়ের ওপরে গ্রীষ্মকালীন কোর্স সম্পন্ন করেন।

পেশায় চিত্রকলার শিক্ষক ছিলেন তবে পেশাগত জীবনে কোথাও তিনি স্থির হননি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চিত্রশিল্পের নেশায় ঘুরে বেরিয়েছেন। ১৯৫৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় একাডেমি অব ফাইন আর্টসে ভিজিটিং লেকচারার হিসেবে কাজ শুরু করেন। সর্বশেষ অধ্যাপনা করেন কানাডার ম্যাকডোনাল্ড কার্টিয়ার পলিটেকনিক মন্ট্রিয়লে।

উল্লেখযোগ্য শিল্পকর্মের মধ্যে ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক শহীদ মিনারের নকশা প্রণয়ন করেন। পাকিস্তানের বিশিষ্ট অনেক ভবনের দেয়ালে তার করা অনেক ম্যুরাল রয়েছে। ঢাকার পাবলিক লাইব্রেরির দেয়ালে ম্যুরাল করেছেন তিনি। এছাড়া ম্যুরাল করেছেন লন্ডন, করাচি, ব্রাসেলস ও কানাডার বিভিন্ন ভবনে। বিশ্বের বিভিন্ন দেয়ালে তার ম্যুরালের মোট আয়তন ২০ হাজার বর্গফুটেরও বেশি।

বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে তার চিত্রকলার প্রদর্শনী হয়েছে। ১৯৭৩ সালে লন্ডনের কমনওয়েলথ ইনস্টিটিউট গ্যালারি তার একটি একক চিত্র প্রদর্শনী স্পন্সর করে। ১৯৫৬ সালে লন্ডনে আয়োজিত কমনওয়েলথ চিত্র প্রদর্শনীতে তার চিত্রকলা অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৬০ সালে ইতালির মিলানে গ্রুপ শোতে এবং ১৯৫৭ সালে ওয়াশিংটনের কালেক্টরস কর্নার গ্যালারিতে তার চিত্রমালা প্রদর্শিত হয়। ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৪ সালের মধ্যে কানাডা ও ভারতের প্রধান প্রধান গ্যালারিতে তার চিত্রের বেশ কিছু প্রদর্শনী হয়। ১৯৮২ সালে কানাডার অটোয়ায় তার কাজের একটি প্রদর্শনী হয়। ১৯৮৪ ও ১৯৮৬ সালেও তার চিত্রকর্মের প্রদর্শনী হয়েছে।

শিল্পচর্চার জন্যে হামিদুর রহমান দেশে ও বিদেশে পুরস্কৃত ও সম্মানিত হয়েছেন। ১৯৭২ সালে ন্যাশনাল এক্সিবিশন অব বাংলাদেশি পেইন্টার্স-এ শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পান ‘মাদার অ্যান্ড স্মোক’ চিত্রের জন্যে। ইরানের ফিফথ তেহরান বাইএনালে প্রথম পুরস্কার অর্জন করে তার ‘ফ্লাওয়ার ইন মাই বডি’ চিত্রটি। কমনওয়েলথ পেইন্টার্স এক্সিবিশনে শ্রেষ্ঠ চিত্রের সম্মান অর্জন করে ‘বোট’। পাকিস্তানের রাওয়ালপিণ্ডিতে ১৯৬২ সালে ন্যাশনাল এক্সিবিশন অব পেইন্টিংস অ্যান্ড স্কালপচার্সে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার লাভ করে তার ‘সানফ্লাওয়ার’ চিত্রটি। ১৯৭০ সালে পাকিস্তান সরকার তাকে প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড অব প্রাইড অব পারফরমেন্স ফর পেইন্টিং পদক প্রদান করে, কিন্তু তিনি এ পদক প্রত্যাখ্যান করেন। বাংলাদেশ সরকার ১৯৮০ সালে তাকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান একুশে পদক প্রদান করে।

শিল্পী হামিদুর রহমান ১৯৮৮ সালের ১৯ নভেম্বর কানাডার মন্ট্রিয়লে মৃত্যুবরণ করেন। ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহীদদের কবরের কাছাকাছি স্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

সূত্র : সংগৃহীত

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM
Translate »