1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
  2. [email protected] : Emon : Armanul Islam
  3. [email protected] : musa :
বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২, ১১:৩৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :

ইতিহাসে নভেম্বর ২৯ ভারতীয় বাঙালি মুসলমান শিক্ষাব্রতী ও সমাজসেবী দানবীর হাজী মুহাম্মদ মুহসীন মৃত্যুবরণ করেন।

  • সময় রবিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২১
  • ৯৭ বার দেখা হয়েছে

ভারতীয় বাঙালি মুসলমান শিক্ষাব্রতী ও সমাজসেবী দানবীর হাজী মুহাম্মদ মুহসীন মৃত্যুবরণ করেন।

গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে আজ বছরের ৩৩৩তম (অধিবর্ষে ৩৩৪তম) দিন। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা বিশিষ্টজনের জন্ম ও মৃত্যুদিনসহ আরও কিছু তথ্যাবলি।

ঘটনাবলি

১৭৭৫ : স্যার জেমস জে অদৃশ্য কালি আবিষ্কার করেন।
১৮৩৯ : গৌরীশঙ্কর তর্কবাগীশের সম্পাদনায় সাপ্তাহিক ‘সম্বাদ রসরাজ’ প্রকাশিত হয়।
১৯১০ : ট্রাফিক বাতি প্যাটেন্ট হয়।

জন্ম

১৯০১ : মিলড্রেড হ্যারিস, মার্কিন নির্বাক চলচ্চিত্র অভিনেত্রী।
১৯৩৬ : শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়, ভারতীয় বাঙালি চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন অভিনেতা।

মৃত্যু

১৮১২ : ভারতীয় বাঙালি মুসলমান শিক্ষাব্রতী ও সমাজসেবী দানবীর হাজী মুহাম্মদ মুহসীন
১৯৪৯ : রস-সাহিত্যিক কেদারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
১৯৫১ : ভারতের একজন বিখ্যাত অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক ও চিত্রনাট্য লেখক প্রমথেশ চন্দ্র বড়ুয়া
১৯৮৭ : বাংলা ভাষা আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী এবং রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ তোয়াহা
১৯৯৩ : ভারতের অগ্রগণ্য শিল্পপতি জাহাঙ্গীর রতনজী দাদাভাই টাটা
২০০১ : বিংশ শতাব্দীর অত্যন্ত প্রতিভাবান একজন জনপ্রিয় গায়ক ও গিটারিস্ট জর্জ হ্যারিসন

হাজী মুহাম্মদ মুহসীন

হাজী মুহাম্মদ মুহসীন ছিলেন একজন বাঙালি জনহিতৈষী ব্যক্তিত্ব। নিজের সকল সম্পত্তি দান করা, শিক্ষা ও সামাজিক সংস্কারে ব্যয় করার জন্যে এই অঞ্চলে তিনি ‘দানবীর’ হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। বাঙালি মুসলমানই শুধু নয়, এ অঞ্চলের শিক্ষা ও সামাজিক, দাতব্য কর্মকাণ্ডে যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি- সেই তালিকায় শীর্ষে থাকা নাম হাজী মুহাম্মদ মুহসীন।

জন্মগ্রহণ করেন ১৭৩২ সালে হুগলিতে। বাবা হাজী ফয়জুল্লাহ ও মা জয়নাব খানম। ফয়জুল্লাহ ছিলেন একজন ধনী জায়গিরদার। তিনি ইরান থেকে বাংলায় এসেছিলেন। জয়নব ছিলেন ফয়জুল্লাহর দ্বিতীয় স্ত্রী। জয়নবও ছিলেন পূর্ববিবাহিত। তার স্বামী ছিলেন আগা মোতাহার। তাদের এক মেয়ে মন্নুজান খানম। আগা মোতাহারও বিপুল সম্পদের মালিক ছিলেন। হুগলি, যশোর, মুর্শিদাবাদ ও নদীয়ায় তার জায়গির ছিল। উত্তরাধিকার সূত্রে আগা মোতাহারের সম্পত্তি তার মেয়ে মন্নুজান অর্জন করেছিলেন।

মুহসীন ও তার সৎ বোন মন্নুজান গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্জন শুরু করেন। পরবর্তীতে উচ্চ শিক্ষার জন্যে রাজধানী মুর্শিদাবাদ যান।

শিক্ষাজীবন শেষে তিনি দেশভ্রমণের সফরে বের হন। সফরকালে তিনি হজ পালন করেন। মক্কা, মদিনা, কুফা, কারবালাসহ ইরান, ইরাক, আরব, তুরস্কসহ নানা জায়গায় সফর করেন। সফর শেষে দীর্ঘ ২৭ বছর পর তিনি দেশে ফিরে আসেন।

এরপর তিনি তার বিধবা বোনের সম্পদ দেখাশুনা শুরু করেন। বোনের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারী হিসেবে প্রচুর সম্পত্তির মালিক হন। এতো সম্পদের মালিক হয়েও তিনি ছিলেন খুব ধার্মিক ও নিরহঙ্কারী। বহু দেশ ঘোরাঘুরির পর জীবন সম্পর্কে গড়ে উঠেছিল তার আলাদা ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি। ফলে তিনি বিপুল সম্পত্তির মালিকানা পেলেও এসব সম্পদ নিজে ভোগ করেননি। দু’হাতে তা অকাতরে বিলিয়ে গেছেন। কয়েক বছরের মধ্যে সেগুলোর দানপত্র লিখে দেন।

সর্বদা সহজ-সরল জীবনযাপন করতেন মুহসীন। তিনি ছিলেন চিরকুমার। তিনি তার প্রতিষ্ঠিত ইমাম বাড়া প্রাসাদে বাস করতেন না। ইমাম বাড়ির পাশে একটি ছোট কুটিরে বসবাস করতেন। আর কোরআন শরীফ কপি করে যা পেতেন তা দিয়েই চলতেন। নিজ হাতে রান্না করে অধীনস্তদের নিয়ে বসে খেতেন।

শিক্ষানুরাগী এ দানবীর তার অর্থ দিয়ে বহু বিদ্যাপীঠ স্থাপন করে গেছেন। হুগলিতে ‘হুগলি মহসিন কলেজ’ ও ‘চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ’ প্রতিষ্ঠার সময় মহসিনের ওয়াকফকৃত অর্থ ব্যবহৃত হয়। তার পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠে ‘দৌলতপুর মুহসীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’।

১৭৬৯-৭০ সালের সরকারি দলিল অনুযায়ী তৎকালীন দুর্ভিক্ষের সময় তিনি বহু লঙ্গরখানা স্থাপন করেন এবং সরকারি তহবিলে অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। ১৮০৬ সালে তিনি ‘মহসিন ফান্ড নামক তহবিল প্রতিষ্ঠা করেন। এ তহবিল ধর্মীয় কর্মকাণ্ড, পেনশন, বৃত্তি ও দাতব্য কর্মকাণ্ডের জন্যে বরাদ্দ করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হলের নাম তার স্মরণে রাখা হয়। এছাড়াও মুহসীন ফান্ডের অর্থে অসংখ্য দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হয়। ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঘাটির নামকরণ করা হয় বিএনএস হাজী মুহসীন।

দাতা হাজী মুহাম্মদ মুহসীনের নাম চিরস্মরণীয়। দানের ক্ষেত্রে তুলনা অর্থে মানুষ আজও তার দৃষ্টান্ত ব্যবহার করে থাকে। উপমহাদেশের ইতিহাসখ্যাত এ দানবীর পুরো বাঙালি জাতি, হিন্দু, মুসলিম সকলের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র হিসেবে আজও সমুজ্জ্বল হয়ে আছেন।

বিখ্যাত দানবীর হাজী মুহাম্মদ মুহসীন ১৮১২ সালের ২৯ নভেম্বর হুগলিতে মৃত্যুবরণ করেন। হুগলির ইমামবাড়ায় তাকে দাফন করা হয়।

 

সূত্র: সংগৃহীত

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM
Translate »