1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
  2. [email protected] : Emon : Armanul Islam
  3. [email protected] : musa :
বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২, ১০:৩০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :

ইতিহাসে নভেম্বর ৩০ স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু জন্মগ্রহণ করেন

  • সময় মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২১
  • ৬২ বার দেখা হয়েছে

গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে আজ বছরের ৩৩৪তম (অধিবর্ষে ৩৩৫তম) দিন। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা বিশিষ্টজনের জন্ম ও মৃত্যুদিনসহ আরও কিছু তথ্যাবলি।

ঘটনাবলি

১৮৬৩ : উমাচরণ ভট্টাচার্য মুদ্রিত মাসিক পত্রিকা ‘সচিত্র ভারত সংবাদ’ প্রকাশিত হয়।
১৮৬৬ : শিকাগোতে প্রথম পানির নিচে হাইওয়ে টানেল তৈরির কাজ শুরু হয়।
১৯৭৭ : আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল IFAD প্রতিষ্ঠিত হয়।

জন্ম

১৬৬৭ : জোনাথন সুইফট, বিখ্যাত আইরিশ লেখক।
১৮১৭ : টেওডোর মমজেন, নোবেলজয়ী জার্মান আইনজ্ঞ, ঐতিহাসিক ও পণ্ডিত।
১৮৩৫ : স্যামুয়েল ল্যাঙ্গহোর্ন ক্লিমেন্স (মার্ক টোয়েন নামে বেশি পরিচিত) মার্কিন রম্য লেখক, সাহিত্যিক ও প্রভাষক।
১৮৫৮ : স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাঙালি পদার্থ ও জীববিজ্ঞানী।
১৮৮৯ : এডগার ডগলাস আদ্রিয়ান, নোবেলবিজয়ী ইংরেজ শারীরবিজ্ঞানী ও একাডেমিক।
১৯০৩ : রাধারাণী দেবী, বিশ শতকের বাঙালি মহিলা কবি।
১৯০৮ : বুদ্ধদেব বসু, বিশ শতকের বাঙালি কবি, সাহিত্যিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক।
১৯১৫ : হেনরি টাউব, নোবেলজয়ী কানাডিয়ান বংশোদ্ভূত আমেরিকান রসায়নবিদ ও একাডেমিক।

মৃত্যু

১৯০০ : আইরিশ প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও কবি অস্কার ওয়াইল্ড
১৯০৯ : ভারতীয় বাঙালি ঔপন্যাসিক, ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রমেশচন্দ্র দত্ত
১৯৩৩ : বাঙালি কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
১৯৩৩ : নারীশিক্ষার পথপ্রদর্শক শিক্ষাবিদ মুরলীধর বন্দ্যোপাধ্যায়
১৯৮৪ : অভিনেত্রী ও সঙ্গীতশিল্পী ইন্দুবালা দেবী
১৯৯৮ : বাংলাদেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞান লেখক ও বিজ্ঞান কর্মী আবদুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দিন
২০০৯ : বাঙালি সাহিত্যিক আবদুল জব্বার
২০১৪ : বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য চিত্রশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী
২০১৭ : বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, টেলিভিশন উপস্থাপক এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক

স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু

জগদীশ চন্দ্র বসু ছিলেন একজন বাঙালি পদার্থবিদ, জীববিজ্ঞানী এবং কল্পবিজ্ঞান রচয়িতা। তার হাত ধরেই ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যবহারিক এবং গবেষণাধর্মী বিজ্ঞানের সূচনা হয় বলে মনে করা হয়। ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার্স তাকে রেডিও বিজ্ঞানের একজন জনক হিসেবে অভিহিত করে। বিবিসির জরিপে শ্রেষ্ঠ ২০ বাঙালির মধ্যে তার স্থান সপ্তম।

জন্মগ্রহণ করেন ১৮৫৮ সালের ৩০ নভেম্বর ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি (বর্তমান বাংলাদেশ) অঞ্চলের মুন্সিগঞ্জে। পরিবারের প্রকৃত বাসস্থান ছিল বিক্রমপুরের রাঢ়িখাল গ্রামে। বাবা ব্রাহ্ম ধর্মাবলম্বী ভগবান চন্দ্র বসু তখন ফরিদপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন।

পরিবারে অর্থের অভাব ছিল না। চাইলেই বাবা তার ছেলেকে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াতে পারতেন। কিন্তু ছেলেকে বাংলা মাধ্যমে ভর্তি করান তিনি। তাও ফরিদপুরের একটি স্কুলে। বাবা চাইলেন— সবার আগে ছেলে তার নিজের ভাষায় জ্ঞান লাভ করুক। ফরিদপুরের স্কুল থেকে জগদীশ চন্দ্র বসুর যাত্রা হয় কলকাতায়। মেধাবী জগদীশ ফরিদপুর থেকে ভর্তি হলেন কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলে। মেধার প্রমাণ দেন সেখানে। শিক্ষক ও ছাত্ররা জেনে গেল— জগদীশ চন্দ্র বসু নামে একজন মেধাবী ছাত্র তাদের স্কুলে এসেছে। বিশেষ করে সেই স্কুলেই জগদীশ চন্দ্র বসুর বিজ্ঞানশিক্ষা শুরু হয় আরো জোড়ালোভাবে।

সেন্ট জেভিয়ার্সের পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন ফাদার লাফো। বেশ নামডাক ছিল তার পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে। জগদীশ চন্দ্র বসু পদার্থবিজ্ঞানের প্রতি প্রবল আগ্রহী হয়ে ওঠেন ফাদার লাফোর ক্লাসে গিয়ে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উওীর্ণ হয়ে শিক্ষাবৃত্তি ঘরে তুলেছিলেন জগদীশ।

ছেলেকে ডাক্তার বানানোর ইচ্ছা ছিল পরিবারের। জগদীশ চিকিৎসা বিজ্ঞানে পড়ালেখা শুরুও করলেও ম্যালেরিয়ার কারণে তার শরীর ভেঙে পড়ার ফলে তার আর ডাক্তারি পড়া হয়নি। আসলে তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছিল বিজ্ঞান। একজন বাঙালি হয়ে তিনি এই উপমহাদেশ ছাড়িয়ে সারা বিশ্বের মানুষের কাছে নামি হয়ে উঠবেন তার আবিষ্কার দিয়ে, তাই হয়তো ডাক্তারি পড়াটা বিদায় নিয়েছিল।

এরপর জগদীশ ভর্তি হলেন কেমব্রিজ এ— প্রাকৃতিক বিজ্ঞান নিয়ে পড়ালেখা করার জন্যে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে অনার্স শেষ করে তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে বিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন।

এদিকে, বিলেতের পড়ালেখা শেষ করে জগদীশ ফিরে আসেন। পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে। প্রেসিডেন্সি কলেজে যোগদানের বেশ আগেই ডাক্তার মহেন্দ্র লাল সরকার প্রতিষ্ঠা করেন এসোসিয়েশন ফর দ্য কালটিভেশন অব সায়েন্স। মহেন্দ্র লাল সরকার মনে করেন এই এসোসিয়েশনের মাধ্যমে তার দেশের মানুষ বিজ্ঞান সম্পর্কে সচেতন হবে, বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে। জগদীশ চন্দ্র বসু প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপনার পাশাপাশি এই এসোসিয়েশনে ক্লাস নিতে শুরু করেন এক্সপেরিমেন্টাল ফিজিকস বিষয়ে।

এরপর শুরু হয় বিজ্ঞানীর নতুন অধ্যায়।

জগদীশ চন্দ্র বসু সারাজীবন মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রার জন্যে কাজ করে গেছেন। তার আবিষ্কার, গবেষণা সভ্যতাকে বহু দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। আজও তার সুফল ভোগ করছেন সবাই। বিজ্ঞানী মার্কনি রেডিও আবিষ্কারের আগেই বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু বিনা তারে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে তথ্য-সংকেত বিনিময়ে সক্ষম হয়েছিলেন এবং প্রদর্শনও করেছিলেন। ১৯০৯ সালে মার্কনিকে নোবেল পুরষ্কার দেওয়া হয়। আর বাঙালি বিজ্ঞানী বেতার তরঙ্গের সৃষ্টির আবিষ্কারক হিসেবে অজ্ঞাত থেকে যান।

নিরহংকারী এই মহাত্মা গোটাকয়েক যন্ত্রের আবিষ্কার করলেও পেটেন্টের প্রতি বিশেষ অনুরাগী ছিলেন না। এমনকি রেডিও সিগনাল শনাক্তকরণে সেমিকন্ডাক্টরের ব্যবহার বিষয়ে তার করা গবেষণাপত্র তিনি উন্মুক্ত করে দেন যেন অন্যান্য বিজ্ঞানীরা এটি নিয়ে গবেষণা করতে পারেন।

নতুন নতুন আবিস্কারের নেশায় দিন-রাত কাজ করতে থাকেন তিনি। গাছের জীবন আছে এটি জগদীশ চন্দ্র বসুর আবিষ্কার। ক্রেসকোগ্রাফ যন্ত্র আবিষ্কার করে তিনি এটি প্রমাণ করতে সক্ষম হন। জগদীশ চন্দ্র বসুর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হচ্ছে মাইক্রোওয়েব রিসিভার ও ট্রান্সমিটারের উন্নয়ন।

জগদীশ চন্দ্র বসু ডক্টর অব সায়েন্স উপাধি পেয়েছিলেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১৮৯৪ সালে তিনি বৈদ্যুতিক তরঙ্গের ওপর গবেষণার কাজ শুরু করেছিলেন। এ কারণেই তাকে এতো বড় উপাধি দেওয়া হয়েছিল।

জগদীশ পদার্থবিজ্ঞানে ব্যাপক অবদান রাখার পরও দুনিয়াব্যাপী আরও খ্যাতি লাভ করেছিলেন উদ্ভিদবিজ্ঞানী হিসেবে। জীব ও জড় বস্তু নিয়ে তিনি দীর্ঘ গবেষণা করেছেন। বিজ্ঞান বিষয়ে জগদীশ চন্দ্র বসু বই লিখে গেছেন যা এখনকার সময়ে এসেও বিজ্ঞানমনষ্ক মানুষদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন জগদীশ চন্দ্র বসুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বিলেত থেকে বসু যখন খ্যাতি অর্জন করে কলকাতায় ফিরে আসেন রবীন্দ্রনাথ তার জন্যে ফুলের তোড়া নিয়ে দেখা করতে গিয়েছিলেন। একবার টাকার অভাবে জগদীশের গবেষণা প্রায় বন্ধ হতে বসেছিল। সে সময় রবীন্দ্রনাথ পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

সম্মাননা

নাইটহুড, ১৯১৬
রয়েল সোসাইটির ফেলো, ১৯২০
ভিয়েনা একাডেমি অফ সাইন্স-এর সদস্য, ১৯২৮
ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেস-এর ১৪তম অধিবেশনের সভাপতি, ১৯২৭
লিগ অফ ন্যাশন্‌স কমিটি ফর ইনটেলেকচুয়াল কো-অপারেশন -এর সদস্য
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ সাইন্সেস অফ ইন্ডিয়া-এর প্রতিষ্ঠাতা ফেলো। এর বর্তমান নাম ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সাইন্স একাডেমি।
বিবিসি জরিপে তিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালির তালিকায় সপ্তম স্থান লাভ করেন।

এছাড়াও ১৯৫৮ সালে জগদীশ চন্দ্রের শততম জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ‘JBNSTS’ নামে একটি বৃত্তি প্রদান শুরু করে।

বিশ্ববরেণ্য এই বিজ্ঞানী ১৯৩৭ সালের ২৩ নভেম্বর ভারতের ঝাড়খন্ডের গিরিডিতে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর কিছুদিন আগে তার আজীবন সঞ্চিত ১৭ লক্ষ টাকার মধ্যে ১৩ লক্ষ টাকা ‘বসু বিজ্ঞান মন্দির’কে দান করে যান।

সূত্র : সংগৃহীত

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM
Translate »