1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
  2. [email protected] : Emon : Armanul Islam
  3. [email protected] : musa :
বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২, ০২:৪৫ অপরাহ্ন

ইতিহাসে ডিসেম্বর ১ চলচ্চিত্রাভিনেতা, সুরকার, গায়ক, চলচ্চিত্র নির্মাতা খান আতাউর রহমান মৃত্যুবরণ করেন

  • সময় বুধবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ৩৬৮ বার দেখা হয়েছে

গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে আজ বছরের ৩৩৫তম (অধিবর্ষে ৩৩৬তম) দিন। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা বিশিষ্টজনের জন্ম ও মৃত্যুদিনসহ আরও কিছু তথ্যাবলি।

ঘটনাবলি

১৮৩৫ : হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের প্রথম বই প্রকাশিত হয়।
১৯১৮ : আইসল্যান্ড ডেনমার্কের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।
১৯৫৯ : অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ শুধু বৈজ্ঞানিক গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হবে – এ মর্মে ১২টি দেশের মধ্যে অ্যান্টার্কটিকা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
১৯৬৭ : রাজকীয় গ্রিনউইচ মানমন্দিরে পশ্চিম ইউরোপের সবচেয়ে বড় টেলিস্কোপ ‘আইজাক নিউটন’ চালু করা হয়।
১৯৮০ : বাংলাদেশে প্রথম রঙিন টেলিভিশন সম্প্রচার শুরু হয়।
১৯৮১ : এইচআইভি ভাইরাসের অস্তিত্বের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

জন্ম

১৯০০ : মুহম্মদ কুদরাত-এ-খুদা, একজন রসায়নবিদ, গ্রন্থকার এবং শিক্ষাবিদ।
১৯০৩ : অনন্ত সিং, চট্টগ্রামে যুব বিদ্রোহের অন্যতম নায়ক।
১৯১৭ : বিমলচন্দ্র সিংহ, সংস্কৃত সাহিত্য দর্শনশাস্ত্রে ও ফরাসি ভাষার সুপণ্ডিত ও চিন্তাশীল লেখক ।
১৯৩২ : অদ্রীশ বর্ধন, বাঙালি ঔপন্যাসিক, কল্পবিজ্ঞান লেখক ও সম্পাদক।

মৃত্যু

১৯২৮ : কলম্বীয় কবি ও ঔপন্যাসিক হোসো রিভেরা।
১৯৬৪ : ব্রিটিশ-ভারতীয় বিজ্ঞানী জে বি এস হ্যালডেন।
১৯৯১ : অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক জর্জ জোসেফ স্টিগলার।
১৯৯৭ : বাংলাদেশি চলচ্চিত্রাভিনেতা, সুরকার, গায়ক, চলচ্চিত্র নির্মাতা খান আতাউর রহমান।
১৯৯৯ : ভারতীয় বাঙালি লেখক, কণ্ঠশিল্পী, অভিনেতা, নৃত্যশিল্পী ও রবীন্দ্রসংগীত-বিশারদ শান্তিদেব ঘোষ।
২০১৮ : জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত বাংলাদেশি আলোকচিত্রী ও চলচ্চিত্র ভিডিওগ্রাফার আনোয়ার হোসেন।
২০১৮ : বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবি।

দিবস

বিশ্ব এইডস দিবস

খান আতাউর রহমান

খান আতাউর রহমান যিনি ‘খান আতা’ নামে বহুল পরিচিত। তিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশি চলচ্চিত্র অভিনেতা, গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক, গায়ক, চলচ্চিত্র নির্মাতা, চিত্রনাট্যকার, কাহিনীকার এবং প্রযোজক। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ । চলচ্চিত্রকার এহতেশাম পরিচালিত ‘এ দেশ তোমার আমার’ তার অভিনীত প্রথম বাংলা চলচ্চিত্র। নবাব সিরাজউদ্দৌল্লা (১৯৬৭) এবং জীবন থেকে নেয়া (১৯৭০) চলচ্চিত্র দিয়ে তিনি পরিচিতি লাভ করেন। সুজন সখী (১৯৭৫) চলচ্চিত্রের জন্যে তিনি শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার হিসেবে ১ম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। পরে এখনো অনেক রাত (১৯৯৭) চলচ্চিত্রের জন্যে শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক ও শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন।

জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৮ সালের ১১ ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার রামকান্তপুর গ্রামে। বাবা জিয়ারত হোসেন খান এবং মা যোহরা খাতুন। ১৯৩৭ সালে ঢাকা জিলা সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় খান আতা প্রথম স্থান দখল করেন। তিনি তখন তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র।

ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে মেট্রিকুলেশন এবং ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। এরপর তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ এমনকি পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্যে ভর্তি হলেও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের টানে তা সম্পন্ন হয়নি।

১৯৫০ সালে তিনি করাচি যান। করাচিতে তিনি যোগ দেন রেডিও পাকিস্তানে সংবাদপত্র পাঠক হিসেবে। সেখানে আরেকজন প্রতিভাবান বাঙালি ফতেহ লোহানীর সাথে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে। তখনও চলচ্চিত্রের ব্যাপারে তার উৎসাহ কমেনি। যার কারণে তিনি প্রায়ই লাহোর যেতেন। এসময় তিনি সারঙ্গী বাদক জওহারি খানের কাছ থেকে তালিম নেয়া শুরু করেন। ফতেহ লোহানী কিছুদিন পরে লন্ডন চলে গেলে ১৯৫২ সালে খান আতা একটি পোল্যান্ডীয় জাহাজে করে লন্ডন পাড়ি জমান। সেখানে অনেক বাঙালি অনুষ্ঠানে গায়ক এবং অভিনেতা হিসেবে তিনি অংশগ্রহণ করেন। সেখানে এস এম সুলতানের সাথে তার সাক্ষাৎ হয়। এস এম সুলতানের চিত্রকর্মের উপকরণ যোগানে সাহায্য করেন তিনি। খান আতা এবং তার সাথীরা এস এম সুলতান-এর চিত্রকর্মের প্রদর্শনী এবং বিক্রয়ের ব্যবস্থা করেন। লন্ডনের সিটি লিটারেরি ইন্সটিটিউটে তিনি থিয়েটার ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হন। পরের বছরেই তিনি ইউনেস্কো বৃত্তি নিয়ে নেদারল্যান্ডে চলে যান। ১৯৫৫ সালে আবার লন্ডনে ফিরে এসে থিয়েটার রয়াল, ইউনিটি থিয়েটার, আরভিং থিয়েটারে সকল স্থানীয় গ্রুপের সাথে কাজ করতে থাকেন। এসময় তিনি কিছুদিন বিবিসি’র সাথেও কাজ করেছেন। ১৯৫৭ তে ফিরে আসেন ঢাকায়। এসেই তিনি পাকিস্তান অবজারভারে চাকরি নেন। এরপর তিনি রেডিওতে গীতিকার, সঙ্গীত পরিচালক, আবৃত্তিকার এবং অভিনেতা হিসেবে যোগ দেন। অভিনেতা হিসেবে তিনি কাজ করেছেন ‘কখনো আসেনি’, ‘যে নদী মরুপথে’, ‘সোনার কাজল’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘সুজন সখী’র মতো সফল চলচ্চিত্রে।

খান আতার প্রথম পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘অনেক দিনের চেনা’। তিনি বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার জীবনী নিয়ে নির্মাণ করেন নবাব সিরাজউদ্দৌল্লা। চলচ্চিত্রটি ১৯৬৯ সালে মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-এ প্রদর্শিত হয় এবং শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে গোল্ডেন প্রাইজের জন্যে মনোনীত হয়। এরপর তিনি নির্মাণ করেন সাত ভাই চম্পা, অরুণ বরুণ কিরণমালা, জোয়ার ভাটা।

মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭৩ সালে নির্মাণ করেন আবার তোরা মানুষ হ ; যার বিষয়বস্তু ছিল যুদ্ধ পরবর্তী বাস্তবতা। ১৯৭৫ সালে প্রমোদ কর ছদ্মনামে গ্রামীণ পটভূমিতে নির্মাণ করেন রোমান্টিক চলচ্চিত্র সুজন সখী। এই চলচ্চিত্রের জন্যে তিনি ১ম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার হিসেবে পুরস্কৃত হয়। ৮০’র দশকের নির্মাণ করেন হিসাব নিকাশ এবং পরশপাথর নামের দুটি ছায়াছবি। মুক্তিযুদ্ধের উপর ১৯৯৪ সালে তিনি এখনো অনেক রাত চলচ্চিত্র নির্মাণের কাজ শুরু করেন।

১৯৯৭ সালে ছবির কাজ শেষ হয়। কিন্তু সেন্সর বোর্ড ছবির ৭টি স্থানে দৃশ্য কেটে ফেলার নির্দেশ দেয়ায় ক্ষুব্ধ হন তিনি। তিনি বাংলার কবি জসীম উদ্‌দীন, গঙ্গা আমার গঙ্গা, গানের পাখি আব্বাস উদ্দিনসহ বেশকিছু তথ্যচিত্রও তৈরি করেছেন।

গুণী এই মানুষটি ১৯৯৭ সালের ১ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। ৬৯ বছর পৃথিবীতে বেঁচেছিলেন। নিজ কর্মগুণে তিনি এদেশের চলচ্চিত্র ও সঙ্গীতাঙ্গনে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

সূত্র : সংগৃহীত

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM
Translate »