1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
  2. [email protected] : Emon : Armanul Islam
  3. [email protected] : musa :
বুধবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২২, ১০:৪৮ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :

নেক সুরতে শয়তানি ধোঁকা………..

  • সময় মঙ্গলবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ২৩৭ বার দেখা হয়েছে

●● পড়ে ফেলুন, অতীব গুরুত্বপূর্ণ এই লিখাটি, আর ভাবুন। বেশি বেশি ভাবুন, লিখার বিষয়বস্তুঃ ❝নেক সুরতে শয়তানি ধোঁকা❞

■■ “কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা” বাগধারা টা শুনেছেন নিশ্চয়ই। সমজাতীয় জিনিস কে ঘায়েল করতে কিংবা আয়ত্তে আনতে সমজাতীয় জিনিসকেই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা!

■▪আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয়, শয়তানের কাজ কী? হয়ত সোজাসাপ্টা উত্তর দিবেন যে, আমাদেরকে গুনাহ করানো এবং পথ ভ্রষ্ট করা।

●● বস্তুতঃ সবসময় তা কিন্তু নয়! মাঝে মাঝে শয়তান আমাদের সওয়াবের কাজও করায় এবং সঠিক পথও দেখায়, যদি সেখানে তার কোন স্বার্থ থাকে! কারণ লাভ ক্ষতির হিসেবটা সে খুব ভাল বুঝে! আদম সন্তানকে কেবলমাত্র গুনাহ করানোই তার উদ্দেশ্য নয়! বরং মাঝে মাঝে যদি গুনাহ না করাতে পারে, তখন তার চেষ্টা থাকে সওয়াব কম করানো! সেক্ষেত্রে সে পুন্যের সুরত ধরে, নিজেই পরহেজগার সেজে এসে চরম ধোঁকা দেয়!

■■ দেখুন নেক সূরতে শয়তানের ধোঁকা কেমন হয়ঃ
একবার হযরত উমর(রাঃ) গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন আছেন। এমন সময় হঠাৎ এক বৃদ্ধ লোক এসে ডাক দিয়ে বলেন, “হে উমর ! তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে জেগে উঠ। ফজরের নামাযের সময় পার হয়ে যাচ্ছে!” হযরত উমর (রাঃ) জানতে চাইলেন, “তুমি কে? বৃদ্ধ বেশ ধারী শয়তান উত্তর দিলো, “আমি শয়তান!” তখন হযরত উমর(রাঃ) বললেনঃ “আচ্ছা! তোমার কাজকর্ম তো মানুষকে ধোঁকা দিয়ে নামায কাযা করানো। আর তুমি কিনা আমাকে নামাযের জন্য ডাকছো! ঘটনার হেতু কি?”

■▪বৃদ্ধ বেশধারী শয়তান উত্তর দেয়ঃ “উমর! অনেক দিন চেষ্টা করে গতকাল তোমাকে ফজরের নামায কাযা করাতে সক্ষম হই। কিন্তু তুমি ঘুম থেকে উঠে নামায পড়ে যে কান্নাকাটি করে আল্লাহ্’র কাছে ক্ষমা চেয়েছ, তাতে আল্লাহ্ তোমার নামায কবুল করে তোমাকে আরো দশগুণ সওয়াব বেশি দিয়েছেন! কিন্তু আমি চাই না, তুমি দশগুন সওয়াব পাও! আগে যা পাচ্ছিলে তাই ভালো! এজন্যই তোমাকে ফজরের নামাযের জন্য ডেকেছি।”
—–[বুখারী]

●● নেক সূরতে শয়তানের ধোঁকার আরেকটা ঘটনা!
এক লোক একবার অনেক ভোরে মসজিদে যাচ্ছিলেন। তখন বৃষ্টি হচ্ছিল। তিনি রাস্তার একধার দিয়ে যেতে গিয়ে হঠাৎ আচমকা ধাক্কা খেয়ে পরে গেলেন। বাসায় এসে তিনি আবার পোশাক পরিবর্তন করে বের হলেন। আবার একই ঘটনা ঘটলো। আবার তিনি বাসায় এসে পোশাক পরিবর্তন করে মসজিদের দিকে রওনা দিতে যাচ্ছেন, এমন সময় এক লোক ছাতা হাতে এসে বলল, “চলুন আপনাকে এগিয়ে দেই! অপরিচিত লোক দেখে তার পরিচয় জিজ্ঞেস করলে সে বলেঃ “আমি শয়তান! আমিই বার বার আপনাকে ফেলে দিচ্ছিলাম, কিন্তু তার পরেও আপনাকে মসজিদে যাওয়া থেকে কোন ভাবেই বিরত রাখতে পারিনি। আর এর ফলে আল্লাহ তা’আলা প্রতিবারেই আপনাকে কয়েকগুণ সওয়াব বাড়িয়ে দিয়েছেন! চলুন আপনাকে এগিয়ে দিয়ে আসি!”

■■ হ্যা! ভাই এবং বোনেরা! এটাই শয়তান! সে যখন সরাসরি পথভ্রষ্ট বাঁ গুনাহ করাতে পারবে না, তখন সে চেষ্টা করবে, বেশি নেকির বদলে কম নেকী পাওয়াতে!

●● সে যদি হজরত উমর(রাঃ) এর মত কঠোর ব্যক্তিত্ব কেও ধোঁকা দেবার চেষ্টাও না ছাড়ে, সেখানে আমাকে বা আপনাকে ধোঁকা দেওয়া তো তার জন্য ওয়ান টু এর ব্যাপার!

■■ আপনার সাথে কি এমন হয় যে,
——-“অনেক সময় দেখবেন, ইউটিউবে কোন ওয়াজ দেখতে বা ইসলামিক লেকচার শুনতে এতই এতই ভাল লাগে যে, হয়ত আযান হয়ে যাচ্ছে, কিন্ত মসজিদে যেতে ইচ্ছে করছে না! চিন্তা আসে যে, পরে বাসাতেই নামায পড়ে নিব। ওয়াজটা দেখা শেষ করি!

——-“কিংবা অনেক সময় কুরআন তিলাওয়াত করলে দেখবেন এতটাই মজে গিয়েছেন, যে আজান হচ্ছে এবং নামাযের ওয়াক্ত প্রায় পার হয়ে যাচ্ছে! কিন্তু আপনি সেই কুরআনই পড়ে যাচ্ছেন! আসলে এবার কুরআন তিলাওয়াতের সময় শয়তান আপনাকে জ্বালানো ছেড়ে দিয়েছে! কারণ কুরআন তিলাওয়াত নফল ইবাদাত, আর সালাত আদায় করা ফরয। সুতরাং ফরয বাদ দিয়ে নফল ইবাদত করানো!

——-“আবার অনেক সময় বাস্তবে কিংবা ফেসবুকে দাওয়াত দিতে আপনার এতই ভাল লাগবে এবং আগ্রহ আসবে যে, নিজের ইলম অর্জনের বিষয়ে বেখায়াল হয়ে যাবেন! অনেক সময় প্রসিদ্ধতার আকাঙ্খাও চলে আসে!”

●● এভাবে শয়তান কাঁটা দিয়ে কাটা তোলার খেলাটা খুব সুন্দর ভাবেই পারে! যেমনঃ একজন পরহেজগার ছেলেকে প্রথমেই হুট করে সে পথভ্রষ্ট করতে পারবে না। শয়তান খুব ধৈর্য্যশীল! প্রথমে একটু শয়তানি ঢুকাবে, তারপর আরেকটু, তারপর আরেকটূ! এইভাবে সম্পূর্ণ চরিত্র নষ্ট না করা পর্যন্ত তার শয়তানি চলতেই থাকবে! আর পরহেজগার কাউকে ঘায়েল করার জন্য সে সেই পরহেজগারিতাকেই হাতিয়ার বানাবে!

■■ যেমনঃ
একজন পরহেজগার ছেলে, হয়তো সে এখনও ঈমানে সম্পূর্ণ প্রবেশ করেনি, কিন্তু চেষ্টারত আছে। শয়তান তো বুঝে গেছে এর ঈমান একেবারে নষ্ট করা যাবে না। শয়তান তখন তাকে ঘায়েল করতে কি হাতিয়ার ইউজ করবে? যুবকদের ফিতনায় ফেলতে তার বড় দুইটি অস্ত্র নারী ও মিউজিক। হাতিয়ার হিসেবে এই দু’টাই যথেষ্ট!

■▪শয়তান তাকে প্রথমেই কোন মেয়েকে পছন্দ করাবে, তারপর যখন সেই ছেলের মনে হবে এটা পাপ হচ্ছে, আমি নামায কালাম পড়ি, তখন শয়তান এসে মনকে বলবেঃ
——-“আরে নামায পড়ছো তো কি হয়েছে? গার্লফ্রেন্ড থাকতেই পারে। গার্লফ্রেন্ডকেও দ্বীনের দাওয়াত দাও এবং সাথে দিলেরও! একটা মেয়ে তোমার প্রভাবে যদি দ্বীনের পথে আসে ক্ষতি কী? বরং এটা পূন্যের কাজ!”
——-“আর একাকটু গান শুনলে কিছু হয় না! তুমি তো আর সব সময় শুনছ না! আচ্ছা! মিউজিক ছাড়াই শোনো। তারপর আসতে আসতে মিউজিক সহ শুনিয়ে ছাড়বে!”

●▪কিংবা একজন সাধারণ পরহেজগার মেয়েদেরকে এভবে ওয়াসওয়াসা দিবেঃ
——-“আল্লাহ কত সৌন্দর্য দিয়েছেন তোমাকে! আর তা তুমি ঢেকে রাখছ! তাছাড়া, সাজগোজ তো হিজাব করেও করা যায় নাকি ? হিজাব করেও পহেলা বৈশাখ, ভ্যালেন্টাইন ডে পালন করা যায়। মন পরিষ্কার তো সব পরিষ্কার!”
——-“চুলটা ঢাকা থাকলেই হবে। যখন এতটাই পর্দা পালন করতে চাইছো, মাথায় একটা হিজাব জড়িয়ে নাও! দ্যাটস এনাফ! তাছাড়া মুখ ঢাকা ফরয নয়! দেখেছো না, কুরআনে বলেছে, স্বাভাবিক দৃশ্যমান সৌন্দর্যটা প্রকাশ করা যাবে? হিজাব করে লিপস্টিক এবং ফেইস পাউডারও দেওয়া যাবে!”

●▪কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডের ব্যাপারে, শয়তানের কুমন্ত্রনা গুলো হচ্ছে এমনঃ
——-“হিজাব ও পর্দা করে ফ্রিমিক্সিং পরিবেশে নারী পুরুষ কাধে কাধ মিলিয়ে চাকরি করা যায়, কতজনই তো করছে। তুমি শিক্ষিত মেয়ে! শুধুমাত্র গৃহিনী হতেই কি পড়াশোনা করেছ? তাছাড়া তোমাকে সমানে সমান হতে হবে! এরা ইসলামের নামে তোমাকে গৃহবন্দী করে রাখতে চায়! খাদিজা(রাঃ) কি ব্যবসা করেননি?”
—–অথচঃ এসব শয়তান ও তার অনুসারী দের ধোঁকায় পড়ে আমাদের বোনেরা এটাই ভুলে যায় যে, খাদিজা (রাঃ)ঘরে থেকেই ব্যবসা করেছিলেন এবং তা শুধুমাত্র বিনিয়োগ করে, ঘরে বসে ব্যবসা পরিচালনা করেছেন।

——-আর ইসলাম নারী-পুরুষের সমানাধিকার দেয় নি এবং চায়ও নি! কোথাও কোথাও পুরুষকে কিছূ বেশি দিয়েছে কোথাও কোথাও আবার নারীকেও। আল্লাহ তা’আলা জানেন, কে কোনটার উপযুক্ত। নারীর যেমন আলাদা মর্যাদা, পুরুষেরও তেমনই আলাদা মর্যাদা। জোর করে যেমন পুনারী নারিত্বের গুণেই সেরা, আর পুরুষের পুরুষত্ব তার পরিচয়। নারীকে মহান আল্লাহ তা’আলা আলাদা সম্মান দিয়েছেন। মা হিসেবে তার মর্যাদা বাবার তিনগুণ। স্ত্রীর সার্টিফিকেটই স্বামীকে যোগ্য স্বামী হিসেবে প্রমাণ করে। কন্যা সন্তান জান্নাতে যাওয়ার মাধ্যম। অন্যদিকে পুরুষ নারীর পরিচালক।পুরুষের হাতেই থাকবে খিলাফত, ইমামত ও কর্তৃত্ব।
——-“কিন্তু শয়তান আমাদের দ্বীনি বোনদের ঈমানের সামান্য দুর্বলতার সুযোগ গ্রহণ করে তাকে ফেমিনিজম আদর্শ ধারণ করিয়ে ছাড়ে!”

●▪ভার্চুয়ালি শয়তানি ধোঁকা গুলো এমন যে,
——-“ফেসবুকে অকারণেই গাইরে মাহরাম এর সাথে অকারণ চ্যাটিং এর সময়, আরে চেহারা তো দেখতে পাচ্ছো না! কথা তো বলাই যায়! হুজুর টাইপ ছেলেদের কে শয়তান নিকাবী ও বোরকাওয়ালা দ্বীনি বোন দ্বারা এবং হুজুরনী দেরকে দাড়িওয়ালা নুরানী দ্বীনি ভাই এর দ্বারা ক্রাশ খাওয়াবে!”

●▪পবিত্র রমযান মাসে ফ্রি মিক্সিং ইফতার পার্টি বড় রকমের নেক সুরতে শয়তানি ধোঁকা। শুধুমাত্র ইফতারই তো! ইফতারের মত এতো মর্যাদা! অথচ এসব পার্টিতে মারাত্মকভাবে পর্দা লংঘন হয়! শারীরিক, মৌখিক ও পাশাপাশি বসার। গাইরে মাহরাম চেহারা দেখে, কথা বার্তা হয় এবং পাশাপাশি সামান্য দূরত্বে বসা হয়- এই বিষয়গুলো শয়তান ভুলিয়ে দেয়! কারণ সে সেখন দ্বীনি লেবাসে এসব করছে!

●● মূলত শয়তান যখন দেখবে আপনাকে স্বাভাবিক কোন ব্যাপারে ধোঁকা দিতে পারছে না! তখন সে এমন ভাবে ব্যাপারটা উপস্থাপন করবে যে, আপনার কাছে তা অনেক পূন্যের কাজ মনে হবে যে, আরে ! আসলেই তো আমি তো ভাল কাজই করছি! ইসলাম এত কঠোর নয়! অথচ এখানেই শয়তানের সফলতা! ব্রেইন ওয়াশ সম্পন্ন! এবার সে আস্তে আস্তে আপনার মধ্যে পুরো শয়তানিটা ঢুকিয়ে আপনাকেও শয়তান করে ছাড়বে!! প্রথমে একটু, তারপর আরেকটু এভাবেই সম্পূর্ণ ভাবে আপনার চরিত্র নষ্ট করার শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন ভাবে তার ধোঁকা চলতেই থাকবে!

■■ নেক সুরতে শয়তানি ধোঁকার আরো কিছু যথাযোগ্য উদাহরণ হলোঃ
——-বিয়ের উদ্দেশ্যে প্রেম করাঃ ওয়াসা দেয় এভাবে যে, “আরে তোমরা তো বিয়ে করবা! এর আগে একটু পরস্পরকে চেনা জানা করে নিবা না? সারাজীবন একসাথে থাকার জন্যই এটা প্রয়োজন!”
——-কিংবা, “তোমাদের প্রেম তো খারাপ না! অপবিত্র না! তোমরা তো শুধু কথা বলো আর ম্যাসেজিং করো। দেখা তোআর করো না! তাই কোন গুনাহ নেই!”
——-কিংবা “গার্লফ্রেন্ডকে পর্দা করার দাওয়াত দিবা/ বয়ফ্রেন্ডকে সালাতের দাওয়াত দিবা। এতে দোষ কী? আল্লাহর পথেই তো ডাকছো!”
——-“মন পরিষ্কার তো সব পরিষ্কার! মন পরিষ্কার থাকলে পোশাক গুরুতপূর্ণ নয়!”
——-“আল্লাহ ক্ষমাশীল! এখন পাপ করে নাও, পরে তাওবা করে নিও।” আবার পাপ করার পর যখন বান্দা তওবা করতে যায়, তখন শয়তান বলবে, “পাপ করে কোন মুখে আল্লাহর কাছে মাফ চাও?”
——-“ছেলে ক্লাসমেটরা ভাই এর মত! মেয়ে ক্লাসমেটরা বোনের মত! নিয়ত ঠিক থাকলে অবশ্যই বন্ধুত্ব সম্ভব ইত্যাদি!” এসব কারণেই এখন দেখা যায় পাঞ্জাবি পরা দাড়িওয়ালা ভাইয়েরা এবং বোরকা পরা বোনরাও আজকাল ফ্রিমিক্সিং এ ইনভলভড! ভালোয় ধোঁকা খেয়েছে!
——-“খিলাফাত কে ভুলিয়ে দিয়ে ইসলামী গণতন্ত্র নামের জোকস এর বিধান চালু করা!”

■■ শেষ কথাঃ
খুব সাবধান হে আভার ভাই ও বোনেরা! হয়ত আপনি সদ্য দ্বীনের পথে চলতে শুরু করেছেন। অতীতের অনেক জাহেলিয়াতি ছেড়ে এসেছেন। এখন শয়তান জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে, যে আপনাকে পথভ্রষ্ট করতে নিজের সাধ্যের সর্বোচ্চটুকু চেষ্টা করবে!

■▪বিসমিল্লাহ বলে মদ খেলেও তা যেমন হারাম! হারাম পথে অবৈধ উপার্জন করে সে অর্থ হালাল কাজে দান করলেও যেমন কোন সওয়াব নেই, তাই উপার্জনই হারাম! তেমনি ভাবে শয়তানের সুরত বা বেশ যতই নেক হোক না কেন, শয়তান তো শয়তান ই! একটু বুদ্ধি প্রয়োগ করুন, আপনি আসলেই কী করতে যাচ্ছেন, তাকে শরীয়াহ এর ফিল্টারে ফেলে যাচাই করুন।

■▪এই শয়তান আমাদেরকে ফাঁসিয়ে দিয়ে ভবিষ্যতে কিন্তু পুরো পলটি খেয়ে যাবে! আল্লাহ তা’আলা সেই চিত্র আগেই আমাদের সামনে ফাঁস করে দিয়েছেন, যাতে আমরা সতর্ক হই। যেমনঃ শয়তান সেদিন বলবে,
——-“নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ্ তোমাদেরকে সত্য ওয়াদা দিয়েছিলেন ও আমি তোমাদের সাথে ওয়াদা করেছি, অতঃপর তা ভঙ্গ করেছি। তোমাদের উপর তো আমার কোন ক্ষমতা ছিল না। কিন্তু এতটুকুই যে, আমি তোমাদেরকে ডেকেছি, অতঃপর তোমরা আমার কথা মেনে নিয়েছ। অতএব তোমরা আমাকে ভৎর্সনা করো না এবং নিজেদেরকেই ভৎর্সনা কর। আমি তোমাদের উদ্ধারে সাহায্যকারী নই এবং তোমরাও আমার উদ্ধারে সাহায্যকারী নও। ইতোপূর্বে তোমরা আমাকে যে আল্লাহ্’র শরীক করেছিলে, আমি তা অস্বীকার করি। নিশ্চয়ই যারা জালেম তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।“
—–[সূরা ইব্রাহীমঃ ২২]

■▪শয়তান মানুষের চিরশত্রু। মানব সৃষ্টির সূচনা থেকেই মানুষ এবং শয়তানের মধ্যে এই শত্রুতা চলে আসছে এবং কেয়ামত পর্যন্ত তা থাকবে। এ ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছেঃ
——-“নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।”
—–[সূরা বাকারাহঃ ১৬৮]

■▪সুতরাং আমরা যেন শয়তানের নেক সুরত দেখে তার ধোঁকায় না পড়ি। মহান আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে সঠিক এবং পরিপূর্ণ ভাবে জানার, বোঝার এবং মেনে চলার তাওফীক দান করুন এবং শয়তানের সকল ধরণের শয়তানি, কুমন্ত্রণা, ধোঁকা ও অসওয়াসা থেকে হিফাযত করুন এবং আমাদের সবাইকে ক্ষমা ও কবুল করুন(আ-মীন)!আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রজীম।।

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM
Translate »