1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রপ্তানি ট্রফি লাভকারি হামীম গ্রুপের প্রতিষ্ঠান রিফাত গার্মেন্টস কোটাবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে থমকে আছে সারাদেশ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে যেসব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা ভক্তদের কাঁদিয়ে ফুটবল থেকে বিদায় নিচ্ছেন দি মারিয়া কাল প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন হেপাটাইটিসে আক্রান্ত ৭০ হাজারের বেশি মানুষ পুলিশও মামলা করলো কোটা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বৈঠক সংসদে আইন পাস না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে রাষ্ট্রপতির জেলায় এসপি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন মো. আ. আহাদ

র‍্যাবের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সময় লাগবে

  • সময় বুধবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২২
  • ৯০৪ বার দেখা হয়েছে

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, সঠিক তথ্য পৌঁছাতে পারলে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চয়ই র‍্যাবের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে। তবে তার জন্য কিছু সময় লাগবে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

আজ বুধবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন এ কথা বলেন। তিনি জানান, ২০১৫ সাল থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রে মোট আটটি লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করা হয়। তবে সরকার যুক্তরাষ্ট্রে কোনো লবিস্ট নিয়োগ করেনি। অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সঠিক তথ্য প্রচারে পিআর ফার্ম নিয়োগ করেছে সরকার।

যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ নিয়ে গত রোববার জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেছিলেন বিএনপির সাংসদ হারুনুর রশীদ ও জাতীয় পার্টির সাংসদ মুজিবুল হক।এর প্রেক্ষাপটে আজ জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

র‍্যাবের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানান আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, আগামী মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পার্টনারশিপ ডায়ালগের কাজ শুরু হবে। এপ্রিল মাসে সিকিউরিটি ডায়ালগ হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একাধিক বৈঠক আয়োজন করা হচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে কিছু সময় লাগবে—এমন ইঙ্গিত দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমেরিকানদের সঙ্গে একাধিক মিটিংয়ের আয়োজন করেছি। ইনশা আল্লাহ, আমরা যখনই তথ্যগুলো সঠিকভাবে তাদের কাছে পৌঁছাতে পারব, আমার বিশ্বাস র‍্যাবের মতো একটি অত্যন্ত ভালো প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে নিশ্চয়ই স্যাঙ্কশন উইথড্র করবে। প্রসেস কালকে হবে না। সময় লাগবে। আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে।’

আব্দুল মোমেন বলেন, কোনো ধরনের পূর্ব আলোচনা ছাড়াই এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন লবিস্ট ফার্মের অপপ্রচারের কারণে এই নিষেধাজ্ঞা এসেছে। তারা আমেরিকার সরকারের কাছে কেবল মিথ্যা তথ্য কিংবা অসত্য ঘটনাই প্রকাশ করেনি, সেই সঙ্গে পৃথিবীতে বড় বড় যেসব মানবাধিকার সংস্থা আছে, তাদেরও প্রতিনিয়ত ফিডব্যাক করছে যে র‍্যাব খুব খারাপ প্রতিষ্ঠান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, র‍্যাব জনগণের গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে। তারা দুর্নীতিমুক্ত হয়ে মানুষের সেবা করে। দেশে সন্ত্রাস, মাদক বন্ধ করেছে। মানব পাচার মোটামুটিভাবে বন্ধ করেছে। এই বড় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কিছু লোকজন বিভিন্ন রকমের মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা এসেছে।

আব্দুল মোমেন বলেন, র‍্যাব এমন বাজে কাজ করেনি যে তার জন্য তারা পৃথিবীর টেররিস্ট অর্গানাইজেশন হিসেবে বিবেচিত হবে। বরং টেররিস্টের বিরুদ্ধে তাদের কাজ। র‍্যাবের কারণেই হোলি আর্টিজানের পর থেকে স্বয়ং আমেরিকার স্ট্রেট ডিপার্টমেন্ট থেকে বলেছে, বাংলাদেশে সন্ত্রাসী তৎপরতা কমেছে। হোলি আর্টিজানের পরে আর কোনো লোক সন্ত্রাসবাদে মারা যায়নি। বাংলাদেশ এ রকম দেশ, যেখানে খুব উত্তপ্ত ছিল, সেখানে সন্ত্রাসী তৎপরতা কমেছে।

শান্তিরক্ষী বাহিনী থেকে র‍্যাবকে বাদ দিয়ে কতিপয় সংস্থার চিঠির প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি ১২টি আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলকে একটি চিঠি লিখেছে। এ বিষয়ে ইউএনের স্পোকপারর্সন গণমাধ্যমকে বলেছেন, জাতিসংঘ যখনই কাউকে পিস কিপিংয়ে নেয়, তারা নিজের নিয়মে যাচাই–বাছাই করে কাজটি দেয়।

আব্দুল মোমেন বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা প্রায় ১৮টি কমিটির লোকজনকে চিঠি দিয়েছেন। চিঠি দিয়ে তাঁরা দেশের সব রকম সাহায্য বন্ধ করতে বলেছেন। তাঁরা এ-ও বলেছেন, বাংলাদেশের কারণে আমেরিকার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। তাঁরা রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া নিয়েও অপপ্রচার চালিয়েছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ করা সে দেশের আইনে একটি বৈধ প্রক্রিয়া। ভারত, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সম্পর্কোন্নয়নে লবিস্ট নিয়োগ দিয়ে থাকে। কিন্তু লবিস্ট নিয়োগের উদ্দেশ্য কী, সেটা হলো মুখ্য।

আব্দুল মোমেন বলেন, বিএনপি-জামায়াত যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৮টি লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করেছে। ২০১৪ সালে জামায়াত একটি ফার্ম নিয়োগ করে যুদ্ধাপারাধীদের বিচার বন্ধ করার জন্য। এ জন্য তারা দেড় লাখ ডলার দেয়। বিচার বন্ধে তারা আরেকটি লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করেছিল। আর যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে প্রভাবিত করার জন্য পিস অ্যান্ড জাস্টিস নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৩২ হাজার ডলার দিয়ে নিয়োগ করা হয়।

বিএনপি ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ২৭ লাখ ডলার প্রতিবছর খরচ করেছে। প্রতি মাসে রিটেইনার ফি ১ লাখ ২০ হাজার ডলার ব্যয় করেছে। এই তথ্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি ২০১৭ সাল পর্যন্ত চারটি এবং ২০১৯ সালে একটি লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করে। আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে জামায়াত-বিএনপি তিনটি লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করে।

আব্দুল মোমেন বলেন, ‘দুঃখের বিষয় হচ্ছে, লবিস্টরা এমন সব বক্তব্য তুলে ধরেছেন, যেগুলো দেশের মানুষ জানলে ধিক্কার দেবে। লবিস্ট চিঠি দিয়ে বাংলাদেশে সাহায্য-সহায়তা বন্ধ করে দিতে বলেছে। উন্নয়ন যাতে ব্যাহত হয়, তার জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে বলেছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাঠে-ময়দানে যাঁরা বিএনপির কর্মী আছেন, তাঁরা কেউ চাইবেন না, দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাক। তাঁদের কিছু নেতৃস্থানীয় মানুষ, তাঁদের অগোচরে এমন কাজ করেছেন। বিএনপি সদস্যরাও নিশ্চয়ই চান না, দেশ রসাতলে যাক। তাঁদের নেতারা কীভাবে এভাবে লিখতে পারেন, এ বিষয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদেরই প্রশ্ন তোলা উচিত।

আব্দুল মোমেন বলেন, সরকার লবিস্ট নিয়োগ করেনি। পিআর ফার্ম নিয়োগ করেছে। লবিস্টরা সিনেট, স্টেট ডিপার্টমেন্টে গিয়ে লবি করে, তদবির করে। সরকার সে ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করেনি। সরকার যেটা করেছে, অপপ্রচার-মিথ্যা তথ্য—যেগুলো ছড়ানো হয়, তার বিপরীতে সত্য তথ্যগুলো জানানোর জন্য বিজিআর নামের একটি প্রতিষ্ঠান ২০১৪-২০১৫ সালে নিয়োগ দেওয়া হয়। সে সময় যুদ্ধাপারাধীদের বিচার বন্ধে বানোয়াট তথ্যের বিরুদ্ধে যাতে তারা লিখতে পারে। বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা বন্ধের জন্য বিজিআরকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের জন্য, দেশের জনগণের জন্য, দেশের মঙ্গলের জন্য, বিদেশে দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধের জন্য, অপপ্রচারের বদলে সত্য কথা বলার জন্য বাংলাদেশ সরকার জনগণের মঙ্গলের জন্য যে ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন, সেটা নেবে। তার একটি নমুনা হচ্ছে বিজিআর। তারা (বিরোধীরা) যখন অসত্য তথ্য দিচ্ছেন, তখন বিজিআরকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

আব্দুল মোমেন বলেন, বিএনপির কিছু কিছু লোক জাতিসংঘের মহাসচিবকে চিঠি দিয়েছেন, বাংলাদেশের সংসদকে অবৈধ ঘোষণা করার জন্য। এ ধরনের কাজ যাঁরা করেন, তাঁদের প্রতি ধিক্কার। বিএনপি যে এতগুলো ফার্মে, রাষ্ট্রবিরোধী কাজে এত টাকা ব্যয় করল, তারা কি তাদের দলের আয়-ব্যয়ের হিসাবে দেখিয়েছে? তারা কি তাদের সব নেতার সঙ্গে আলোচনা করে এই কাজগুলো করেছে?

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও তাঁর পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে কোথায় যান, কী করেন, সে খোঁজ নেওয়ার জন্য এফবিআইয়ের প্রতি অ্যাপ্রোচ করেন বিএনপি নেতার ছেলে সিজার। তারা জয়কে অপহরণের ষড়যন্ত্র করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে সিজার ও তাঁর সহযোগীদের সাজা হয়েছে।

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM
Translate »