1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০২:১৪ অপরাহ্ন

দানের শাশ্বত গুরুত্ব- সব যুগে সব ধর্মে

  • সময় মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৩৪১ বার দেখা হয়েছে

দান জীবনকে কীভাবে বরকতময় করে সেটা কোয়ান্টাম সাফল্যের পঞ্চসূত্রে আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি। কোয়ান্টাম কণিকা যারা পড়েছেন, কণিকাতে সাফল্যের পঞ্চসূত্র রয়েছে।

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

কষ্টের উপার্জন খাবে ঔষধ কোম্পানি বা উকিল যদি…

আমরা খুব সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা আমাদের ধর্মীয় শিক্ষক যারা, ধর্মগুরু যারা, তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছি যে, দান-

এক হচ্ছে, উপার্জনকে শুদ্ধ করে।

দুই হচ্ছে, দান পাপ মোচন করে।

তিন হচ্ছে, দান বালা মুসিবত এবং রোগব্যাধি দূর করে।

চার হচ্ছে, দান দারিদ্র্য বিমোচন করে এবং দাতার অন্তরে তৃপ্তি দেয়, অন্তরে প্রশান্তি দেয়।

এবং পাঁচ হচ্ছে, সম্পদে বরকত দেয়।

আপনি অনেক উপার্জন করতে পারেন কিন্তু যদি ঝামেলা বেশি থাকে, মামলা মোকদ্দমা থাকে, তারপরে অসুখ বিসুখ লেগে থাকে তাহলে যা আপনি উপার্জন করলেন পরিশ্রম করে, কষ্ট করে, আপনার টাকাগুলো খাবে ঔষধ কোম্পানি।

মামলা মোকদ্দমা করলে আদালত আর উকিলের পেছনে সব টাকা ব্যয় হয়ে গেল তার অর্থ কী? আপনার কোনো বরকত থাকল না।

তো দান উপার্জনকে যেরকম শুদ্ধ করে, সেরকম বালা মুসিবত দূর করে, পাপ মোচন করে এবং উপার্জনে বরকত দেয়। এইজন্যে দান করা দরকার।

সূরা বাকারার ২৭৪ নাম্বার আয়াত- “নিশ্চয়ই যারা তাদের উপার্জন থেকে রাতে বা দিনে, প্রকাশ্যে বা গোপনে, সচ্ছল বা অসচ্ছল অবস্থায় দান করে, তাদের জন্যে তাদের প্রতিপালকের কাছে পুরস্কার রয়েছে। তাদের কোনো ভয় বা পেরেশানি থাকবে না”।

অর্থাৎ দান করলে পরম করুণাময় তাকে ভয় এবং পেরেশানি থেকে মুক্ত করে দেন। যে দান করে তার কোনো ভয় থাকে না কখনো। নির্ভাবনায় সে চলতে পারে।

সব ধর্মেই দানের উল্লেখ রয়েছে কল্যাণ এবং উপকারের জন্যে…

এবং এই দানের কথা প্রত্যেক ধর্মের মহামানবরা বলেছেন।

ঋগবেদে বলা হয়েছে যে, নিঃশর্ত দানের জন্যে রয়েছে চমৎকার পুরস্কার। তারা লাভ করে আশীর্বাদধন্য দীর্ঘ জীবন ও অমরত্ব।

পবিত্র বাইবেলে বলা হয়েছে, অভাবীদের সাহায্য করো, ঈশ্বরের সন্তুষ্টিমূলক কাজে অগ্রগামী থাকো।

মহামতি বুদ্ধ বলেছেন যে, দানের অনন্ত কল্যাণ সম্পর্কে আমি যা জানি যদি মানুষ তা জানত, তাহলে কাউকে না দিয়ে সে অন্ন গ্রহণ করত না।

অর্থাৎ সব মহামানবরাই দানকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন কল্যাণের জন্যে এবং উপকারের জন্যে।

কাদের দান করা যাবে?

কাদের দান করা যাবে এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে স্পষ্টভাবে তাদের তালিকা দেয়া হয়েছে। যথা,

إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ ۖ فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ 

‘যাকাত হলো কেবল ফকির, মিসকীন, যাকাত আদায় কারী ও যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন তাদে হক এবং তা দাস-মুক্তির জন্যে-ঋণ গ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে জেহাদকারীদের জন্যে এবং মুসাফিরদের জন্যে, এই হলো আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।’ (সূরা: তাওবা, আয়াত: ৬০)

এ আয়াত দ্বারা ফকিহগণ মোট আট শ্রেণির লোকদের দান করার কথা বলেছেন।

(১) গরীব। যার সম্পদ আছে কিন্তু নেসাব পরিমাণ মালের মালিক নয়।

(২) মিসকিন। যার একদমই কোন সম্পদ নেই।

(৩) ইসলামী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় কোষাগারের জন্য শরীয়ত নির্দিষ্ট যাকাত আদায়কারী আমেল। এটা ইসলামী রাষ্ট্রপ্রধান দ্বারা নিযুক্ত হতে হবে। নিজে নিজে মনে করে নিলে হবে না। (জাওয়াহিরুল ফিক্বহ-৬/৬৯)

(৪) নব মুসলিমদের ইসলামের প্রতি মোহাব্বত বাড়ানোর জন্য উৎসাহমূলক যাকাত প্রদান। এ বিধানটি রহিত হয়ে গেছে। তাই বর্তমানে কোনো ধনী নওমুসলিমকে জাকাত প্রদান জায়েজ নয়। (হিদায়া-১/১৮৪, মাআরিফুল কুরআন-৪/১৭১, তাফসীরে মাযহারী-৪/২৩৫)

(৫) দাসমুক্তির জন্য। যেহেতু বর্তমানে দাসপ্রথা নেই। তাই এ খাতটি বাকি নেই।

(৬) ঋণগ্রস্তের জন্য।

(৭) ফী সাবিলিল্লাহ। তথা আল্লাহর রাস্তায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য। এখন প্রশ্ন হলো আল্লাহর রাস্তায় কারা আছে? ফুক্বাহায়ে কেরাম বলেন এতে রয়েছেন, জিহাদরত মুজাহিদরা। তাদের জিহাদের অস্ত্র ও পাথেয় ক্রয় করার জন্য জাকাতের টাকা গ্রহণ করবে। হজের সফরে থাকা দরিদ্র ব্যক্তির জন্য। ইলমে দ্বীন অর্জনকারী দরিদ্র ব্যক্তির জন্য। (আদ দুররুল মুখতার-৩৪৩, হিদায়া-১/১৮৫, রূহুল মাআনী-৬/৩১৩)

(৮) সফররত ব্যক্তিকে। যার টাকা পয়সা আছে বাড়িতে। কোনো সফর অবস্থায় অসহায়। তাকে যাকাতের টাকা দেয়া জায়েজ।

মহান আল্লাহ আমাদের এ আলোচনার ওপর আমল করার তাওফীক দারু করুক। আল্লাহুম্মা আমিন।

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM
Translate »