1. [email protected] : আরএমজি বিডি নিউজ ডেস্ক :
রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৩১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
ইফতার বিতরণ করলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা বাংলাদেশ আরএমজি প্রফেশনালস্ এর উদ্যোগে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষদের মাঝে ঈদ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ- গাজীপুরে এতিম শিশুদের সাথে বিডিআরএমজিপি এফএনএফ ফাউন্ডেশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল গ্রীষ্মকাল আসছে : তীব্র গরমে সুস্থ থাকতে যা করবেন ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল তাইওয়ান, সুনামি সতর্কতা ঈদের আগে সব সেক্টরের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবি এবি পার্টির সালমান খান এবার কি বচ্চন পরিবার নিয়ে মুখ খুলতে যাচ্ছেন ঐশ্বরিয়া? আমার ও দেশের ওপর অনেক বালা মুসিবত : ইউনূস লম্বা ঈদের ছুটিতে কতজন ঢাকা ছাড়তে চান, কতজন পারবেন?

বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পের পাইওনিয়ার ও প্রথম নারী শ্রমিকের ইতিহাস

  • সময় বুধবার, ৫ অক্টোবর, ২০২২
  • ৮৯৮ বার দেখা হয়েছে
বাংলাদেশে প্রধান যে  কয়েকটি কারণে সারা বিশ্বে পরিচিত লাভ করেছে, তার মধ্য পোষাক শিল্প অন্যতম সেরা। পোষাক রপ্তানীর মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদিশিক মুদ্রা আয় করে। বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ পরিবারের জীবন নির্ভর করে এই গার্মেন্টস শিল্পের উপর। কিন্তু বাংলাদেশের এই পোশাক শিল্পের শুরুর ইতিহাস আমরা কয়জন জানি?  ঢাকা,গাজিপুর,নারায়নগঞ্জ সহ দেশের বিভিন্ন শহরে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ নারী শ্রমিক দেখেন, এত গার্মেন্টস দেখেন, এই শিল্পের সঙ্গে রিলেটেড কত কাজ কর্ম দেখেন, কিন্তু এর শুরুর ইতিহাস কতজন  জানেন? আপনি কি জানেন বাংলাদেশের প্রথম গার্মেন্টস কোনটি? অথবা এই শিল্প শুরু করতে গিয়ে একজন মানুষকে কি পরিমাণ ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।  আজ আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব এমনই একটি অসাধারণ ঘটনা। বাংলাদেশের প্রথম গার্মেন্টস সম্পর্কে দুই রকম তথ্য পাওয়া যায়। কোথাও পাওয়া যায় রিয়াজ গার্মেন্টস, আবার কোথাও দেশ গার্মেন্টস।
বাংলাদেশ থেকে প্রথম দেশের বাইরে পোশাক রপ্তানী করে রিয়াজ গার্মেন্টস।  ১৯৭৮ সালে পোশাক রপ্তানী করে দেশে এক হুলস্থুল ব্যাপার ঘটিয়ে ফেলেছিল। কিন্তু দেশ গার্মেন্টসকে প্রথম গার্মেন্টস বলা হয় কেননা দেশ গার্মেন্টস প্রথম ১০০% এক্সপোর্ট অরিয়েন্টেড গার্মেন্টস। রিয়াজ গার্মেন্টস তখন দেশের চাহিদাও মেটাত, সেই সাথে বিদেশেও রপ্তানী করত। এই কারণে প্রথম গার্মেন্টস সম্পর্কে দুই রকম তথ্য পাওয়া যায়। যাই হোক, আমরা আজ প্রথম-দ্বিতীয়র প্রতিযোগিতাই না যায়, আজ আমরা  ইতিহাস জানি। ১৯৬৩ সালে পুরোন ঢাকার উর্দূ রোডে রিয়াজ ষ্টোর নামে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশের প্রথম গার্মেন্টস। ১৯৬৫ সালে রিয়াজ ষ্টোর এর মালিক রিয়াজ উদ্দিন করাচি ভ্রমণকালে একটি গার্মেন্টসকে মাসে ১লক্ষ পিস পোশাক রপ্তানী করতে দেখে।  তখন থেকেই প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার বিদেশে পোষাক রপ্তানীর স্বপ্ন দেখতে থাকেন। শুরুতে তাঁরা শুধু দেশের চাহিদাই পুরণ করত। এরপর ১৯৭৩ সালে রিয়াজ ষ্টোর এর নাম পরিবর্তন করে  রাখেন রিয়াজ গার্মেন্টস এবং বিদেশে পোষাক রপ্তানীর জন্য কাজ শুরু করেন। অবশেষে আসে সেই স্বপ্ন পূরণ  করার দিন। ১৯৭৮ সালের ২৫শে জুলাই টিসিবির সহায়তায় বাংলাদেশ থেকে সর্বপ্রথম ৪ লক্ষ টাকা মূল্যের পুরুষদের শার্ট রপ্তানী করা হয় ফ্রান্সে।

 

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!

                      ১৯৭৮ সালের ২৫শে জুলাই টিসিবির সহায়তায় বাংলাদেশ থেকে সর্বপ্রথম  রিয়াজ গার্মেন্টস                                          ৪ লক্ষ টাকা মূল্যের পুরুষদের শার্ট ফ্রান্সে রপ্তানী করে।  

 

শুরুর সেই  সময় নারী শ্রমিকের কথা ভাবাই যেতনা। তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠানে নারী শ্রমিক নিয়োগের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এরপর রিয়াজ গার্মেন্টস এর মালিক রিয়াজ উদ্দিন সর্বপ্রথম নিজের মেয়েকেই  কাজে লাগিয়ে দেন। তাঁর মেয়েকে দেখে আরও কিছু নারী এই পেশায় আসতে আগ্রহী হন এবং আস্তে আস্তে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। আর বাংলাদেশের বর্তমানে পেক্ষাপটে গার্মেন্টেসের নারী শ্রমিকরা  ইতিহাসের অংশ। যতই দিন যাচ্ছে   পোশাক শিল্পে ততই নারীদের কদর বাড়ছে।

 

                             বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্প ইতিহাসের প্রথম নারী শ্রমিক  ফাতেমা বেগম মুক্তা

 

  আমরা যদি এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইতিহাস দেখি তাহলে ফিরে যেতে হবে ১৯৭৪ সালে। তখনকার সমাজের নারীরা শুধুমাত্র গৃহস্থালির কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতো।ঠিক সে সময়ে  রিয়াজ উদ্দিন ,( রিয়াজ গার্মেন্টস এর মালিক)   যিনি দেশের প্রথম এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড গার্মেন্টসের প্রতিষ্ঠাতা। তার সাহসী উদ্দ্যোগের কারনেই নারীদেরকে পোষাক শিল্পে আনা সম্ভব হয়েছিলো।  রিয়াজ উদ্দিন তার দূরদর্শী  নেতৃত্বের মাধ্যমে তৈরী পোষাক শিল্পে নারী শ্রমশক্তিকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর জন্য গভীর ভাবে আশাবাদী ছিলেন। ১৯৬০-১৯৭৪ সালের দিকে  তৈরী পোষাক শিল্পে প্রায় ৯৮% পুরুষ শ্রমিক কাজ করতো। রিয়াজ উদ্দিন সাহেব প্রতিটি পরিবারের দুয়ারে দুয়ারে গিয়েছেন শুধু মাত্র নারী শ্রম শক্তিকে কাজে লাগিয়ে, তাদের পরিবারকে আর্থিক ভাবে সহযোগীতা করার উদ্দেশ্যে। যেহুতু এটা ছিলো কঠিন প্রত্যয়।  যেখানে পরিবারের মেয়ে, বোন,বউদেরকে পরিবারের বাহিরে গিয়ে কাজ করতে হবে। যা নারীদেরকে ভবিষ্যত জীবনে বাধার সম্মুখীন করতে পারে , তাই বেশির ভাগ পরিবার তার উদ্যোগকে সম্মতি দেয়নি। ১৯৭৭ সালে রিয়াজ উদ্দিন সাহেব অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ এবং সাহসী  সিদ্ধান্ত নেন। , তার কন্যা ফাতেমা বেগম মুক্তা কে তিনি তার নিজস্ব ফ্যাক্টরিতে কাজে নিযুক্ত করেন ।এটা দেখে  যাতে নারীরা এই শিল্পে এগিয়ে নিয়ে। তাদের সাহস জোগানোর জন্য তিনি এই সাহসী  সিদ্ধান্ত নেন। ফাতেমা বেগম বাংলাদেশের পোষাক শিল্পের সর্ব প্রথম নারী শ্রমিকের স্বীকৃতি পান।  রিয়াজ উদ্দিনের এই সাহসী উদ্দ্যোগের মাধ্যমে তিনি নারীদের পোষাক শিল্পে আসার সাহস যুগিয়ে পরিপূর্ণ ভাবে সফল হয়েছেন ।

                              বাং লাদেশে গার্মেন্টস শিল্পের পাইওনিয়ার জনাব রিয়াজ উদ্দিনের স্মরণীয় কিছু স্মৃতি

         

       

তৎকালীন সময়ে রিয়াজ গার্মেন্টসের তৈরি পোষাক খুবই বিখ্যাত ছিল। বিশ্বের কিছু প্রখ্যাত মানুষ তাদের তৈরি পোষাক পড়ে ধন্যবাদ জ্ঞাপন পর্যন্ত করেছে। এর মধ্য ১৯৬৯ সালে যখন ৩ জন নভোচারী নীল আমর্ষ্ট্রং, এডউইন অলড্রিন ও মাইকেল কলিন্স তাদের পোষাক পেয়ে লিখেছিল, We wish to thank you for your thoughtful gift of three shirts which was presented to us during our visit to Dacca. We will long cherish the memory of the enthusiasm, hospitality end goodwill accorded us by the citizens of Pakistan.

রিয়াজ উদ্দিন দেখতেন পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানকে নানাভাবে হেয় করত। পূর্ব পাকিস্তানের পোশাক শিল্পে সহায়তা করত না। তখন থেকেই তাঁর মনে এক প্রকার জেদ চেপে উঠে। তারা যদি বাইরে পোষাক রপ্তানি করতে পারে, তাহলে আমরা কেন পারবনা? সেই জেদ থেকেই শুরু করেন রিয়াজ গার্মেন্টস এবং দেশের বাইরে প্রথম পোষাক রপ্তানি করেন।  ভদ্রলোক সেই সময় প্রচুর পেপার এ্যাড দিতেন। তখনকার এ্যাড এতটা ক্রিয়েটিভ ছিলনা, তবে বিজ্ঞাপন দিতেন। নায়ক রাজ্জাক  এক সময় তাদের ব্রান্ড এ্যাম্বাসিডর ছিলেন। ৮০ দশকে তাদের এ্যাড বিটিভিতে সম্প্রচারিত হতো। 

 

 

                             রিয়াজ গার্মেন্টসের  ব্রান্ড এ্যাম্বাসিডর আশির দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক রাজ্জাক

 

 

তিনি ছিলেন স্বাধীনচেতা মানুষ। দেশের যেকোনো ধরনের উৎসবে তিনি নিজেকে সঁপে দিতেন। মাঝেমাঝে তিনি বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রামের আয়োজন করতেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর তিনি সাইকেল রেসের আয়োজন করেন।রিয়াজ গার্মেন্টসের সামনে থেকে শুরু হয় এই সাইকেল রেস।বিজয়ীদেরকে তিনি পুরস্কৃত করেন।

                     স্বাধীনতা যুদ্ধ জয়লাভ করার পর রিয়াজ গার্মেন্টস এর মালিক  রিয়াজ উদ্দিন বিজয়ের                                                   খুশিতে সাইকেল রেসের আয়োজন করেন।

 

পরবর্তীতে দেশের অনেক উদ্যোক্তাদের  প্রচেষ্টায় গার্মেন্টস শিল্প মাথা উচুঁ করে দাড়িয়েছে। গার্মেন্টস শিল্পের কারণে সারা বিশ্বের  মানুষ আজ বাংলাদেশকে চিনে।বাংলাদেশের গার্মেন্টস পণ্য এখন পৃথিবীর অন্যতম সেরা। এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা মহাদেশ সহ পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে বাংলাদেশী গার্মেন্টস পণ্যের অনেক কদর। যা একদিনে তৈরি হয়নি। লক্ষ- কোটি শ্রমিকের গায়ের ঘাম এখানে মিশ্রিত আছে। রিয়াজ উদ্দিনদের মতো সফল উদ্যোক্তাদের কারণে বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টর আজ সারা পৃথিবীর মানুষের মুখে প্রশংসিত। গার্মেন্টস  সেক্টরের পাইওনিয়ার হিসেবে রিয়াজ গার্মেন্টস এর কর্ণধার রিয়াজ উদ্দিনের নাম বাংলাদেশের মানুষের  হৃদয়ে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।আগামীর সোনার বাংলাদেশ গড়তে এবং বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের অবস্থানকে সূদৃড় করতে গার্মেন্টস সেক্টরের ভূমিকা থাকবে সবচেয়ে বেশি।

কবির আহমেদ লিন্জু

সম্পাদক: RMGBDNEWS24.COM

শেয়ার করুন

এই শাখার আরো সংবাদ পড়ুন
All rights reserved © RMGBDNEWS24.COM
Translate »